Skip to main content

Posts

Showing posts from November, 2025

“টাকা বাঁচানো”

  এখনকার সময়ে “টাকা রোজগার” যতটা কঠিন, “টাকা বাঁচানো” তার চেয়েও কঠিন। সবাই বলছে “এটা হালাল”, “রিস্ক নাই”, “রিটার্ন গ্যারান্টিড!” কারন তারা আপনার আমার ইমোশনের জায়গাটা বুঝে গেছে। এই ব্যাপারে কোন সন্দেহ নাই যে ঢাকা শহরে এখন মানুষের জীবন অর্থনৈতিকভাবে ভীষণ কঠিন হয়ে গেছে। জিনিসপত্রের দাম প্রতিদিন বাড়তেছে, প্রচুর মানুষ চাকরি হারাইছে, অনেকের পরিবারে হঠাৎ করে অসুখ-বিসুখ যেমন ক্যান্সার, ডায়াবেটিস এসব খরচে সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে। মানুষের জীবনযাত্রার খরচ এমনভাবে বেড়েছে যে স্কুলের বেতন থেকে শুরু করে বাজারের ঝুড়ি সবকিছুর দাম এখন অনেক বেশি। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে, এই সময়েই মানুষ সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক ভুল করে। প্রতিদিনই নতুন নতুন ইনভেস্টমেন্ট স্কিম, হালাল বিজনেস”, রিয়েল এস্টেট অফার বা ক্রিপ্টো প্রজেক্ট এর কথা শুনছেন নিশ্চয়ই? কিন্তু, প্রশ্ন হলো আপনার টাকা সত্যিই নিরাপদ তো? বাংলাদেশে তো চোর-বাটপাড়ের অভাব নাই আপনার টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যাবে এমন লোকের ভিড় লেগে আছে। এই সুযোগটাই নেয় তারা। একদিকে হতাশ মানুষ মুক্তির পথ খোঁজে, আরেকদিকে কিছু “শিয়াল” আর “হায়েনা” নকল ব্যবসার নামে ফাঁদ পাতে। যেমনঃ ...

বেসিক মালয়ালাম শব্দতালিকা (বাংলা হরফে)

  বেসিক মালয়ালাম শব্দতালিকা (বাংলা হরফে) আমি – নিয়ান আমরা – (নাম্মাল ) তুমি – (নী) তোমরা – (নাঙ্গল) আপনি –( নিঙ্গল/ তাঙ্গাল ) আপনারা – (নিঙ্গল এল্লা) সে – (আবেন – ছেলে / আবল – মেয়ে) তারা – (আবর ) আমাকে – (এনিকে) তাকে – (ছেলে - অবনে/ মেয়ে - অবলে) এটা - ইদ ওটা - আদে এইগুলো - ইদ এল্লাম ঐগুলো - আদে এল্লাম

শুধু কেয়ারগিভার ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে

  বাজারে প্রতিদিন দাম ওঠানামা করে, কিন্তু পাঙ্গাস মাছের দাম কেন তুলনামূলকভাবে স্থির থাকে? কারণ এখানে মিডিলম্যান নেই বা কম। লাখ লাখ মুদি দোকান আমাদের অর্থনীতির শ্বাস-প্রশ্বাস, কিন্তু তাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা একটাই: পণ্য আছে, দোকান আছে, ক্রেতা আছে, কিন্তু নির্ভরযোগ্য সাপ্লাই চেইন নেই। হাতে হাত বদল হতে হতে পণ্যের দাম বাড়ে, এবং সেই অতিরিক্ত খরচ গুনতে হয় ভোক্তাকে। আমাদের ১৮ কোটি জনসংখ্যা, কিন্তু ফিলিপাইনের ১০ কোটি মানুষ মিলেও আমাদের অর্ধেকের বেশি রেমিটেন্স আনে। কারণ আমরা এখনও দক্ষ জনশক্তি তৈরি করি না। অপ্রয়োজনীয় ডিগ্রির প্রতিযোগিতায় স্কিল বাড়ছেনা। ট্রেনড কেয়ারগিভার, কম্পিউটার মেকানিক, অটোমোবাইল মেকানিক এই ধরনের দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে। শুধু কেয়ারগিভার ইন্ডাস্ট্রি নিয়েই কয়েক লাখ লোককে বিশ্বব্যাপী পাঠানো সম্ভব, যা এক বিলিয়ন ডলারের আইডিয়া! যদি উদ্যোক্তারা পণ্য ও ভোক্তার মাঝের মিডিলম্যান কমাতে পারে, ঠিক যেমন পাঙ্গাস মাছের দাম স্থির থাকে, তাহলে অনেক প্রোডাক্টের দামও সাশ্রয়ী রাখা সম্ভব। একই সাথে, Sequoia Capital-এর Surge, Accelerating Asia, Antler এর মতো এক্সিলারেটর প্রোগ্রামে...

সম্প্রতি ভূমিকম্প নিয়ে

  ঘুমিয়ে আছেন, হঠাৎ পুরো পৃথিবী কেঁপে উঠলো। বিল্ডিং, আলো, শহর সব কিছুর নিচে থেকে শুধুই একটাই প্রশ্ন বেরিয়ে আসছে: “এটা কী হচ্ছে? সম্প্রতি ভূমিকম্প নিয়ে আমাদের সবার মাঝেই কম-বেশী অস্থিরতা কাজ করছে। বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিচ্ছি। কিন্তু কোরআনে আল্লাহ্‌ আমাদের এ সম্পর্কে কি বলে? চলেন সুরা যিলযালের মধ্য দিয়ে আমরা বুঝার চেষ্টা করি। আয়াত ১ “যখন পৃথিবী তার প্রচণ্ড কাঁপনে কেঁপে উঠবে।” যিলযাল শব্দটা মানে শুধু সাধারণ ভূমিকম্প না। কেয়ামতের আগের সেই দিনটা এমন হবে যেখানে বিজ্ঞান আর ব্যাখ্যা কিছুই কাজ করবে না। মানুষ একে আর “প্রাকৃতিক দুর্যোগ” বলতে পারবে না। আমরা পৃথিবীর যত ভূমিকম্পের দিকে তাকাই রিকটার স্কেলে আমরা কি দেখি, পৃথিবী খুব একটা অল্প অংশ কাঁপলে আমরা দেখি কত মানুষ মারা যায়, কত বিল্ডিং ভেঙে যায় কিন্তু যখন পুরা পৃথিবী তার প্রচন্ডতা নিয়ে কাঁপবে আমরা শুধু কল্পনা করতে পারি সেটা কতটা তীব্র হইতে পারে। আয়াত ২ “আর যখন পৃথিবী তার ভারসমূহ বের করে দেবে।” মুফাসসিরগণ বলছেন, এখানে “ভার” বলতে এমন মানুষদের বোঝানো হয়েছে যাদের দাফন করা হইছে। আবার অনেকে বলছেন ভার বলতে পৃথিবীর ভেতরের স্ব...

একটা ন্যারেটিভ

  ক্ষমতার যা আপনি দেখেন, সেটাই আসল নয়। আমরা প্রতিদিন যেটাকে “ক্ষমতা” বলে দেখি, সেটা আসলে একটা ন্যারেটিভ। আর সেই ন্যারেটিভের কাজই হচ্ছে বাস্তবতাকে আড়াল করা। যাদের হাতে প্রকৃত ক্ষমতা আছে, তারা কখনো সবার সামনে আসে না। তারা ন্যারেটিভ তৈরি করে যাতে আমরা মঞ্চের দিকে তাকিয়ে থাকি, কিন্তু যারা পেছনে থেকে নাটকের চিত্রনাট্য লেখে, তাদের আমরা দেখি না। ক্ষমতার আসল খেলা এখানেই। মানুষের মনোযোগ সরায় রাখা, যাতে প্রশ্নটা কখনো সঠিক জায়গায় পৌঁছাইতেই না পারে। আমরা সাধারণত দেখি একজন রাজনীতিবিদ, একজন নেতা বা একজন রাষ্ট্রপ্রধানকে। আমরা ভাবি, তারাই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতেছে। কিন্তু বাস্তবটা অনেক গভীর। এই নেতারা অনেক সময় কেবল প্রতীকমাত্র। তাদের পেছনে থাকে এমন এক Structure যেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় কারা উপরে উঠবে, কারা নিচে নামবে, কোন নীতি “জনগণের জন্য” হবে আর কোনটা হবে বিনিয়োগকারীর জন্য। এই কাঠামো কখনো নির্বাচনে পড়ে না, ক্ষমতা হারায় না, এমনকি বিপ্লবেও পুরোপুরি বদলায় না। এটাই “True Power Structure” বা TPS যেটা থাকে অপরিবর্তিত। এই TPS টিকে থাকে কারণ তারা জানে কীভাবে বর্ণনা তৈরি করতে হয়। তারা জানে মান...

প্রতিদিন স্ক্রিনের সামনে

  আমরা প্রতিদিন স্ক্রিনের সামনে কত সময় কাটাই ভেবে দেখেছেন কখনও? Facebook, Netflix, YouTube, Instagram এগুলা এখন আমাদের চিন্তার অংশ হয়ে গেছে। আমরা ভাবি, আমরা এগুলা কন্ট্রোল করছি, কিন্তু আসলে এগুলাই আমাদের কন্ট্রোল করছে। কেনিয়ার চলচ্চিত্র নির্মাতা Judy Kaben একটা কথা বলেছেন: “You are what you watch.” মানে, আপনি যা দেখেন, সেটাই ধীরে ধীরে আপনার চিন্তা, রুচি, এমনকি ভালো লাগার জিনিস পর্যন্ত নির্ধারণ করে ফেলে। Decolonizing media consumption মানে হলো আপনি বুঝে শুনে ঠিক করবেন, আপনি কী দেখবেন, কার গল্প শুনবেন, কাদের দৃষ্টিভঙ্গি আপনাকে প্রভাবিত করবে। কারণ, মিডিয়া শুধুই বিনোদন না; এটা একটা psychological বিষয়। যদি আমরা শুধু Netflix বা Amazon Prime যা সাজেস্ট করে তাই দেখি, তাহলে আমরা বুঝতেও পারব না কখন এমন একটা জীবনে বিশ্বাস করতে শুরু করব যেখানে সুখ মানে ধনী হওয়া, নতুন পোশাক বা সুন্দর বাড়ি করা। ধীরে ধীরে আমরা ভুলে যাব, সুখ মানে আসলে কি – সম্পর্ক, ভালোবাসা, বা এক কাপ চা হাতে নিজের সাথে একটু সময় কাটানো। এই জায়গাটা থেকেই decolonization শুরু হয়। আমাদের নিজেদের curiosity দিয়ে খুঁজে নিতে হবে...

যখন আমরা “সুদান” নামটা শুনি

  আজকের পৃথিবীতে যখন আমরা “সুদান” নামটা শুনি তখন আমাদের চোখে ভেসে ওঠে ধ্বংস, অনাহার, শরণার্থী, আর যুদ্ধ। মিডিয়া দেখায় ধ্বংস হওয়া খার্তুম শহরকে যেখানে পড়ে আছে মানুষের লাশ, ভাঙা ঘর বাড়ি। কিন্তু এসবের পরেও কেউ প্রশ্ন করে না এই জায়গাটা এমন হলো কীভাবে? সুদান কি সবসময় এমন দুর্বল আর বিভক্ত দেশ ছিল? নাকি এর পিছনে এমন কোন ঘটনা আছে যা আমরা জানি না? বাস্তবতা হলো, সুদান কোনো ব্যর্থ রাষ্ট্র না বরং ইতিহাসে এই রাজ্য ছিল অনেক উন্নত আর সমৃদ্ধ। আফ্রিকা মানেই দারিদ্র্য, যুদ্ধ, বা অনুন্নয়ন এটা ভুল ধারণা। নীলনদের উপত্যকার এই অঞ্চলে মানবসভ্যতার বহু প্রাচীন অধ্যায় লেখা হইছিল। প্রায় সাড়ে চার হাজার বছর আগে, কেরমা নামের এক রাজ্য গড়ে ওঠে নীলনদের তীরে। এটি আফ্রিকার প্রথম দিকের নগররাষ্ট্রগুলোর একটি, যেখানে গড়ে ওঠে প্রাসাদ, সমাধি, শিল্প, ও প্রশাসন। পরবর্তীতে জন্ম নেয় কুশ সাম্রাজ্য; এক শক্তিশালী রাষ্ট্র, যার রাজারা মিশরের সিংহাসন দখল করে ২৫তম রাজবংশের ফেরাউন হন। এরপর আসে মেরোই সভ্যতা, যা খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতক থেকে খ্রিষ্টীয় চতুর্থ শতক পর্যন্ত টিকে ছিল। এখানেই দেখা যায় লৌহশিল্পের চূড়ান্ত বিকাশ...

এআই কি কৃষককে রিপ্লেস করতে পারবে?

  এআই কি কৃষককে রিপ্লেস করতে পারবে? ধরা যাক, আপনি বাংলাদেশের একজন কৃষক। আপনি সারাদিন মাঠে কাজ করতেছেন, পানি দিচ্ছেন, ফসলের যত্ন নিচ্ছেন। আপনি কি ভাবছেন এআই কখনো আপনাকে রিপ্লেস করতে পারবে কি না? উত্তর হইলো না, পারবে না। এআই আপনাকে সহায়তা করতে পারে, আপনার কাজকে আরও এফিশিয়েন্ট করতে পারে। কিন্তু মাটি উর্বর করা, ফসল চাষ করা, মাছ ধরা এসব কাজ মানুষের "হাত" ছাড়া সম্ভব না। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম বলছে, ২০২৭ সালের মধ্যে প্রায় ৮ কোটি চাকরি হারিয়ে যাবে। ৮ কোটি পরিবার, ৮ কোটি মানুষের জীবনে ফ্রাস্ট্রেশন, মেন্টাল হেলথ প্রবলেম, সোশ্যাল ক্রাইসিস সবই বেড়ে যাবে। কিন্তু এই হিসাব শুধু টেক সেক্টরেরই। বাস্তবতা হলো, মাটির কাজ, মাছ ধরা, হিউম্যান টাচের কাজ এসব ক্ষেত্র এখনও মানুষকেই প্রয়োজন। মানুষ এখনও চিন্তা করছে স্কুল-কলেজ, ইউনিভার্সিটি, বিসিএস, সিএসসি এই রুটেই। কিন্তু পৃথিবী একই সাথে সামনের দিকে এবং পিছনের দিকে যাচ্ছে। যেমনঃ মানুষ আবার স্বর্ণ কিনছে, ফার্মল্যান্ড কিনছে, রিয়েল এস্টেটে ইনভেস্ট করতেছে। এআই দ্রুত কাজ করতেছে, কিন্তু রোবট সেই তুলনায় upgrade হচ্ছে না । ইলন মাস্ক বলেছেন, ...

ফাইন্যান্স নিয়ে যত দুশ্চিন্তা

  আপনি কি সত্যিই জানেন কত টাকা থাকলে আপনার জীবন “নিরাপদ”? বাংলাদেশে ১০ জনের মধ্যে ৮ জনই জানে না। কিন্তু এই প্রশ্নটা যে এতবার শুনেছি- টাকা কি করবো, কোথায় রাখবো? মানুষ তার ফাইন্যান্স নিয়ে যত দুশ্চিন্তা করে, তার যেন শেষ নাই। কেউ বলে এক লাখ টাকা কোথায় ইনভেস্ট করবো, কেউ বলে দশ লাখ কোথায় রাখবো, আবার প্রবাসীরা হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠায় তাদের টাকার দুশ্চিন্তা নিয়ে। কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপার হইলো, যখনই কাউকে জিজ্ঞেস করেন তার ফাইনান্সিয়াল টার্গেট কত, বেশিরভাগই বলতে পারে না। আর যারা পারে, তারাও জাস্টিফাই করতে পারে না কেন তাদের সেই টার্গেট। তারা জানে না কত সেভ করবে, কিভাবে সেভ করবে, আর তার সারভাইভালের জন্য হাতে কত টাকা থাকা জরুরি। আজকে ঠিক এই জায়গায় আমি তিনটা এক্স্যাক্ট ফর্মুলা নিয়ে কথা বলব। এই তিনটা ফর্মুলা আপনি কৃষক হন, চাকরিজীবী হন বা চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হন, যে-ই হন, যদি ফলো করেন ইনশাআল্লাহ আপনি ফাইন্যান্সিয়ালি সাউন্ড থাকবেন। আর এই ফর্মুলার বেসিস হলো “হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের হার্ড রিটায়ারমেন্ট প্ল্যান”। কারও মনে সন্দেহ থাকলে আপনি নিজেও রিসার্চটা পড়ে নিতে পারেন। ফর্...

আমেরিকায় একটা নতুন অভিজাত শ্রেণি

  আমেরিকায় একটা নতুন অভিজাত শ্রেণি তৈরি হইতেছে, যারা সম্পদ বাড়ায়… কিন্তু কর দেয় না Ray Matto, বোস্টন কলেজ ল’ স্কুলের অধ্যাপকের মতে- আজকের যুক্তরাষ্ট্র এমন এক পথে হাঁটছে, যা প্রাক-বিপ্লবী ফ্রান্সের “Second Estate” অর্থাৎ করমুক্ত রাজকীয় অভিজাত শ্রেণির মতোই বিপজ্জনক। তার ভাষায়: “রাষ্ট্র ঋণে ডুবছে, আর কিছু মানুষ কর না দিয়ে অকল্পনীয় সম্পদের পাহাড় গড়ছে” ঠিক এই জায়গা থেকেই আজকের বড় প্রশ্ন উঠে আসে- কে আসলে দেশের খরচ চালায়? সাধারণ মানুষ? নাকি ধনীরা? ২০২৪ সালে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার মোট ৫ ট্রিলিয়ন ডলার রাজস্ব তুলছিল। যার মধ্যে পড়ে আয়কর ট্যাক্স (ব্যক্তির উপার্জনের উপর সরকার যে কর নেয়), পেরোল ট্যাক্স (কর্মীর বেতন থেকে সোশ্যাল সিকিউরিটি ও মেডিকেয়ারের জন্য কাটা কর), করপোরেট ট্যাক্স (কোম্পানির লাভের উপর সরকার যে কর নেয়), এস্টেট ট্যাক্স (কেউ মারা গেলে তার রেখে যাওয়া সম্পদের উপর ধার্য করা কর) আর গিফট ট্যাক্স (জীবিত অবস্থায় বড় অংকের সম্পদ/টাকা উপহার দিলে যে কর লাগে।) ইত্যাদি। কিন্তু ব্যয় হয়েছিল ৬.৮ ট্রিলিয়ন ডলার। মানে, ১.৮ ট্রিলিয়ন ডলারের ঘাটতি যা সরাসরি জাতীয় ঋণে যোগ হইছে। এখন এই প্রেক্ষাপটে...

একজন ছেলে তার বাবার চেয়ে শক্তিশালী হওয়ার দুইটা পথ

  আমি অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় প্যারেন্টিং কোচ ও লেখক Sharny and Julius Kieser–এর কিছু ধারণা, টেকনিক খুব কার্যকর পেয়েছি। তারা মূলত gentle parenting, mindful discipline এবং kids' behaviour নিয়ে কাজ করেন। তাদের মতে, একজন ছেলে তার বাবার চেয়ে শক্তিশালী হওয়ার দুইটা পথ আছে। প্রথম পথটা শুরু হয় প্রায় ১৪ বছর বয়সে। এই বয়সে ছেলে দরজা জোরে ধাক্কা দেয়, কথা শোনে না, আপনার বলা সীমা একের পর এক ভেঙে চলে। আপনি বলেন, চলো বাইরে যাই বা একটু দৌড়াই, মাথা ঠান্ডা হবে। সে সাথে সাথে বলে, যাবো না। এখানেই পুরো খেলাটা বদলায়। কারণ তার “যাবো না” বলার পর আপনি থেমে যান। ভাবেন এখন জোর করলে ঝামেলা হবে, অশান্তি বাড়বে, আজকে বাদই দেই। আর আপনি না চাইতেই আপনার বাবাসুলভ কর্তৃত্ব তার হাতে দিয়ে দিলেন। সে মনে মনে ভাবতে শুরু করে, "বাবা আমাকে থামাইতে পারে না। বাবা আমাকে ভয় পায়।" এই চিন্তাটা ছেলের মাথায় খুব গভীরভাবে ঢুকে যায়। তারপর সে দুইভাবে বড় হতে পারে। এক ধরনের ছেলে সারাজীবন “শক্ত” হওয়ার অভিনয় করে। রাগী, আক্রমণাত্মক, সবকিছুতেই চেঁচামেচি করে। কারণ এসব করে সে নিজেকে বোঝায়, আমি দুর্বল না। আরেক ধরনের ...

বিশ্বাস আধিপত্যবাদের সূক্ষ্মতম হাতিয়ার

  বিশ্বাস আধিপত্যবাদের সূক্ষ্মতম হাতিয়ার। একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। রাশিয়ার অফিসিয়াল ধর্ম হচ্ছে অর্থডক্স খ্রিস্টান। সে যদি দুনিয়াতে এই ধর্মের অনুসারী বাড়াতে পারে, তার ক্ষমতাই বৃদ্ধি পাবে। আবার শিয়াদের কথা চিন্তা করেন। ইরানের অফিসিয়াল ধর্ম শিয়া। তাই সারা দুনিয়ার যত শিয়া আছে সে ইরানকে রক্ষা করতে চাইবে। খ্রিস্টান ধর্মের ধারক বাহক যেই রাষ্ট্র সে সব সময় লাভবান হবে যদি সে সারা দুনিয়ার মানুষকে খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত করা যায়। আবার মক্কা ও মদিনা যার হাতে থাকবে, সে যত বেশী মানুষকে ইসলামের দিকে আনতে পারবে তা সরাসরি অর্থনীতিতে সুফল বয়ে আনবে। যদি কোন দেশের ধর্ম না থাকে তাহলে সে কি করবে? সে সেকুলারিজমের ধারক বাহক হবে। একটি বিষয় মাথায় রাখা প্রয়োজন যে একটি রাষ্ট্রের নেতা বা জনগণের জন্য কেবলমাত্র মুসলিম, হিন্দু, নাস্তিক বা ক্যাথলিক হওয়াটাই যথেষ্ট না। ক্ষমতায়নের জন্য আপনাকে রক্ষক হতে লাগে। মূল রাজনৈতিক স্তম্ভ ও রাষ্ট্রের অস্তিত্ব সেই ভিত্তিক চলতে লাগে। উদাহরণস্বরূপ, চীনের অফিসিয়াল ধর্ম হচ্ছে নাস্তিকতা। সেই দেশের প্রায় সবাই ধর্ম হীন। কিন্তু সে এই নীতি বিশ্বব্যাপী সে প্রচার করে বেড়ায় ...

আমেরিকা গৃহযুদ্ধের দিকে যাচ্ছে

  আমেরিকা যে গৃহযুদ্ধের দিকে যাচ্ছে এটা অনেকেই মানতে চায় না। কেউ বলে অতিরঞ্জন করে বলতেছি , কেউ বলে এতো সহজে আমেরিকা পতন হবে না। কিন্তু ব্যাপারটা শুধু আমার মতামত না; যেসব প্রমাণ এখন তৈরি হচ্ছে, সেগুলো এই গৃহ যুদ্ধকেই নির্দেশ করতেছে। এই লিখায় পতনের কিছু প্রমাণ আর এই পতন কেন মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সেটা নিয়ে আলোচনা করবো। অনেকে প্রশ্ন করেন, ইয়াহিয়া ভাই আপনি বারবার আমেরিকার পতন নিয়ে কেন কথা বলেন? বাংলাদেশের সমস্যা নিয়ে বলেন না কেন? উত্তর খুব সহজ। দেখেন আমাদের অনেক সমস্যা আছে, ঠিক আছে। কিন্তু এই সমস্যাগুলোর একটা বড় অংশের শিকড় যুক্ত সেই আমেরিকার নীতির সাথে। তারা মিডল ইস্ট, আফ্রিকা থেকে ট্রিলিয়ন ডলার নিয়ে গেছে, মানসিকতা নিয়ে গেছে, narrative নিয়ে গেছে। আমাদের মেরুদণ্ড ভেঙেছে তারপর থেকে আমরা নিজেদের সমস্যাও আর ঠিকভাবে দেখতে পারি না। তাই বড় ছবিটা বুঝতে হইলে, আপনার বুঝতে হবে আমেরিকা এখন কোন পথের দিকে যাচ্ছে। সবচেয়ে সহজ জিনিসটা দিয়ে শুরু করি গ্রোসারি। আমেরিকায় গ্রোসারির দাম ২০১৭ সালের পর থেকে এখন সবচেয়ে বেশি। মিডল ক্লাস পরিবার একটা সাধারণ বাজার করতেই এখন মাসে ১০০০ ডলারের বেশি...

মুসলমানদের জন্য এমন বড় সুযোগ

  গত একশো বছরে মুসলমানদের জন্য এমন বড় সুযোগ আর কখনো আসেনি। ইউরোপ-আমেরিকার ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে, আফ্রিকার উথান, মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনৈতিক শক্তি ও মুসলিম দেশের দ্রুত উন্নয়ন এই সব মিলিয়ে মুসলিম উম্মাহর জন্য তিনটা বড় সুযোগ তৈরি হইছে। এগুলো বুঝতে না পারলে আমরা ঐ সুযোগ হারাবো। প্রথমে জিও-পলিটিক্যাল শিফট। আফ্রিকার উথান হইতেছে, জনসংখ্যা বাড়তেছে এমনকি অনেক জায়গায় মুসলিম জনগোষ্ঠী দ্রুত বাড়তেছে; নাইজেরিয়ার মতো দেশ ভবিষ্যতে গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক প্লেয়ারে পরিণত হইতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে কাতার, সৌদি আরব আর ইউএই তিনটাই নিজেদের আলাদা পথ ধরে আগাচ্ছে। অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক লক্ষ্য ঠিক রেখে তারা এমন এক অবস্থান তৈরি করতেছে, যেখানে প্রত্যেকেরই নিজস্ব পরিচয় ও প্রভাব স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। সিরিয়ার পরিপ্রেক্ষিতে মিশ্র বাহ্যিক প্রভাবের পরও এক ধরনের মুসলিম এজেন্ডা উঠে আসতেছে। এসব মুসলমানদের জন্য নতুন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থান খুলে দিয়েছে। দ্বিতীয়ত- অর্থনীতি ও উৎপাদন অর্থাৎ ফাইন্যান্স নিয়ন্ত্রণ। ইতিহাস আমাদের বার বার দেখাইছে বিদেশি কোলোনিয়াল-ইনস্টিটিউশন আর ঋণ কিভাবে দেশের অর্থনীতিকে ভেঙে দিতে পারে। (উদ...

“জৈব উপনিবেশবাদ”

  মার্কিন অর্থনীতিবিদ টোবি রজার্স ও জেফ্রি টাকারের এক আলোচনায় উঠে আসে এমন কিছু বিষয় যার সাথে আমি একমত না, কিন্তু তাদের এই কনসার্ন নিয়ে আলোচনাও হওয়া দরকার। তারা মনে করেন আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা বিশ্বে এক নতুন ধরণের অর্থনৈতিক শোষণব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। যেটাকে তারা বলেন “জৈব উপনিবেশবাদ” (Biological Colonialism) উনাদের মতে, অতীতের উপনিবেশ দখল এখন রূপ নিয়েছে মানবদেহ, চিকিৎসা ও টিকার মাধ্যমে অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণে। গত প্রায় ৫০০ বছর ধরে যেসব দেশ ধনী হয়েছে, তাদের পদ্ধতি ছিল মোটামুটি একই। তারা জাহাজ বানাত, সৈন্য আর অস্ত্র নিয়ে নতুন মহাদেশে যেত আর সেসব দেশের সম্পদ নিয়ন্ত্রণে নিত। সোনা লুট করত, মানুষকে দাস বানিয়ে জোরপূর্বক কাজ করা তো। এইভাবেই ইউরোপ ধনী হলো, যুক্তরাজ্য ধনী হলো। এটাই ছিল দীর্ঘ উপনিবেশ শোষণের ধারাবাহিকতা। এরপর শুরু হলো নতুন ধরনের শোষণনীতি। অন্যায্য বাণিজ্য চুক্তি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ আর আমেরিকার রাজনৈতিক–সামরিক প্রভাব ব্যবহার করে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে কম দামে শ্রম দিতে বাধ্য করা। অর্থাৎ ৫০০ বছর ধরে ধনী হওয়ার প্রধান পথ ছিল অন্যকে শোষণ করা।সমস্যা হলো, একসময় এ...

প্রতিদিন একটু সময় বের করে হাঁটুন

  হাঁটা একদম সহজ একটি একটিভিটি, কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে শক্তিশালী একটা অভ্যাস। কোনো জিম মেম্বারশিপ লাগে না, কোনো বিশেষ সরঞ্জামও না, শুধু একটু সময় আর নিজের ইচ্ছা। গবেষণাগুলো বারবার বলছে, নিয়মিত হাঁটা শরীর আর মনের জন্য দারুণ এক ওষুধের মতো কাজ করে। এটা রক্তচাপ কমায়, ঘুম ভালো করে, মুড ঠিক রাখে, এমনকি হৃদরোগ, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস বা ডিমেনশিয়ার মতো জটিল রোগের ঝুঁকিও কমায়। মানুষ তার বয়সের সাথে সাথে অনেক কিছু ভুলতে শুরু করে কিন্তু মানুষ যখন নিজের পায়ের পেশিগুলো সতেজ রাখে দৈনিক হাঁটার মাধ্যমে তখন ব্রেন স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে ভালো কাজ করে। আরও মজার ব্যাপার হলো নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, একবারে দীর্ঘ সময় হাঁটা শরীরের জন্য ছোট ছোট ভাগে হাঁটার চেয়ে বেশি উপকার আনে। হয়তো সেই সময়টাতে শরীর পুরোপুরি রিল্যাক্স হয়, মন গভীরভাবে মনোযোগী থাকে, বা হয়তো একটানা হাঁটায় শরীর নিজের ভারসাম্য খুঁজে পায়। যেভাবেই হোক, বিষয়টা পরিষ্কার, যত বেশি নড়াচড়া করবেন, যতটা পারব হাঁটবেন, ততটাই শরীর ও মন ভালো থাকবে। তাই প্রতিদিন একটু সময় বের করে হাঁটুন। হয়তো সকালবেলার বাতাসে, হয়তো বিকেলের আলোয়। ==========================...

নিজের সাথে নিজেই প্রতারণা

  আমি হাটে গেলাম গরু কিনতে। কিন্তু গরু কেনার টাকা হাতে নেই। তাই প্রতিবেশী সুদ ব্যবসায়ী জালিমের কাছে গিয়ে বললাম, “জীবনে অনেক সুদ খেয়েছ, এবারে আমাকে বিনা সুদে ১ লাখ টাকা ধার দাও।” জালিম এক লাখ বের করে বলল, "সুদ দরকার নেই। আমি এক লাখের ব্যবস্থা করছি, সামনের বছরে এক লাখ তিরিশ দিও।” আমি বললাম, “সুদে জড়াতে পারব না।” জালিম বলল,”এইটাতো ব্যবসা।" “কেমনে?” আমার তো চক্ষু চড়ক গাছ। জালিম বলল, “আমি তো গরুর মালিককে ১ লাখ টাকা দিব আর তোমার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার নিব।” আমি বললাম, "রসিকতা করছেন?' জালিম বলল "ব্যবসায়ীকে ১ লাখ টাকা দিলে এবং তোমার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নিলে একজন আলেম বলেছে শরিয়ার মারপ্যাঁচে সব হালাল হয়ে যাবে। আমার কোনটাতেই আপত্তি নেই। দিন শেষে বছরে বিনা ঝুঁকিতে ৩০ হাজার টাকা বাড়তি থাকলেই হলো। তুমি কোন সিস্টেমে নিবে বল? নিজ হাতে নিবে নাকি ব্যবসায়ীর হাতে দিলেই হবে?" বিরক্ত হয়ে আমি বললাম, আল্লাহর আইন নিয়ে তামাশা করেন? শনিবারে বাঁধ দিয়ে রবিবারে মাছ ধরার কাহিনী কি জানেন না? জালিম বলল, "আরে শোন মুর্খ, ইসলাম বিষয়ে তুই কিছু জানিস? আলেমের হাতে দায়িত্ব ছেড়...

ঢাকার ধানমন্ডি লেকের পাশে

  আপনি কি জানেন, আমাদের শহরের ঠিক মাঝখানে "ধানমন্ডি লেকের পাশে" দুটি নিরীহ গৃহপালিত বিড়ালকে এমনভাবে নির্যাতন করা হয়েছে যে তাদের চোখ উপড়ে ফেলে ফেলে দেওয়া হয়েছে? ভাবুন তো, যেই বিড়ালটি একসময় মালিকের কোলে ঘুমাত, যার গলায় এখনও বেল্ট আছে তার চোখ দুটো কেউ নিষ্ঠুরভাবে ছিঁড়ে ফেলেছে! এই ঘটনার ভয়াবহতা শুধু প্রাণীর নয়, এটি আমাদের সমাজ, আমাদের মানবতার ওপর এক গভীর কলঙ্ক। ঢাকার ধানমন্ডি লেকের পাশে এই ভয়াবহ দৃশ্য চোখে পড়ে পথচারীদের। দুইটি গৃহপালিত বিড়াল যাদের দু’জনেরই গলায় বেল্ট বাঁধা অর্থাৎ কারো ভালোবাসার, কারো ঘরের প্রাণ উদ্ধার হয় চোখ উপড়ে ফেলা অবস্থায়। ঘটনাটি শুধু নৃশংস নয়, এটি মানবতার এক ভয়াবহ ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, গত দুই দিন ধরে একের পর এক একই রকম অবস্থায় দুইটি বিড়ালকে লেকের পাশে ফেলে যেতে দেখা গেছে। দু’টিরই চোখ উপড়ে ফেলা, রক্তাক্ত মুখ এবং দেহে আঘাতের চিহ্ন। উদ্ধারকারীরা ধারণা করছেন, কেউ পরিকল্পিতভাবে এই নিরীহ প্রাণীগুলোর ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয়, দু’টি বিড়ালের গলায় কলার বা বেল্ট ছিল। অর্থাৎ তারা রাস্তার নয়, কোনো ঘরের প্রিয় সদস্য ছিল। কেউ একসময়...

“উপদ্রব”

  গভীর এক জঙ্গল। যেখানে মাটির গন্ধে মিশে ছিল বেঁচে থাকার গল্প। সেখানে একসময় সাপেরা ছিল রাজা। তাদের পৃথিবী ছিল ভেজা মাটি, কুয়াশা, শিশির আর গাছের শিকড়ে লুকিয়ে থাকা উষ্ণতা। দাদারা থাকত, নানারা থাকত আর তাদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম বেড়ে উঠত সেই জঙ্গলের ছায়াতলে। তারা জানত না শহর কী, মানুষ কী, ইট বা সিমেন্ট কী জিনিস। তাদের কাছে প্রকৃতিই ছিল সংসার... একটা নিঃশব্দ, শান্ত কিন্তু জীবন্ত পৃথিবী। তারপর একদিন দাদারা টের পেল, মাটিতে দোপায়া প্রাণীর হাঁটার কম্পন। মানুষ এসেছে! তারা গাছ কাটছে, আগুন জ্বালাচ্ছে আর বলছে “এখানে ফসল ফলবে।” দাদি বলল “কী উপদ্রব!” দাদা বলল “এরা প্রকৃতিরই সন্তান। উপদ্রব বলার কিছু নেই। চলো, মানিয়ে নেই।” ধীরে ধীরে জঙ্গল উধাও হয়ে গেল। আমাদের পূর্বপুরুষরা ভয় পায়নি, শুধু জায়গা বদলাল। তারা ভেবে নিল, মাটি তো একই আছে! শুধু গাছটা নেই, ছায়াটা নেই। নতুন ধানিজমিতে আমাদের জীবন মোটামুটি কেটে যাচ্ছিল। ইঁদুর ছিল, ব্যাঙ ছিল, রাতে ঠান্ডা হাওয়া বইত। কিন্তু একদিন আবার তারা এল। এখন দাদারা আর নেই। আমরাই মাটিতে টের পেলাম দোপায়ার কম্পন। ওরা এবার এলো ইট, বালি, সিমেন্ট নিয়ে। বলল “এখানে বাড়ি হবে।” আমা...

আমি আলোয় দাঁড়াব

  " ছয় বছর আগে, আমি যখন প্রথমবারের মতো নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলির প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াই, তখন এক দয়ালু মুসলিম চাচা আমাকে আলাদা করে ডাকলেন। নরম হাসিতে বললেন— “বাবা, মুসলমান সেটা সবাইকে বলতে হয় না।” তার চোখে মমতা ছিল, দাড়িতে গর্ব ছিল, মুখে ছিল নীরব ইতিহাসের ভার। ইঙ্গিতটা পরিষ্কার—তিনি বারবার শিখেছেন একটাই শিক্ষা: নিরাপত্তা কেবল শহরের ছায়ায় লুকিয়ে থাকে। ছায়ার বাইরে বেরোলে, বিশ্বাসটা পিছনে ফেলে যেতে হয়। এই শিক্ষা নিউইয়র্কের হাজারো মুসলমানের রক্তে লেখা। আর গত কয়েক দিনে, সেই একই শিক্ষা আওড়াচ্ছেন অ্যান্ড্রু কুয়োমো, এরিক অ্যাডামস আর কার্টিস স্লিওয়া। কেউ বলেছেন আমি 9/11 নিয়ে আনন্দ করব, কেউ বলেছেন আমি ইউরোপের সন্ত্রাসীদের মতো, কেউ বলেছেন আমি ‘গ্লোবাল জিহাদ’-এর সমর্থক। রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনগুলো আমাকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে দেখায়, আমার খাওয়ার ভঙ্গিকে উপহাস করে, এমনকি ভোটারদের জিজ্ঞেস করে—“আপনি কি চান হালাল খাবার বাধ্যতামূলক হোক?” কিন্তু আজ আমি তাদের উদ্দেশ্যে কিছু বলব না। আজ আমি বলব নিউইয়র্কের মুসলমানদের উদ্দেশ্যে। আমি বলব সেই খালার কথা, যিনি 9/11-এর পর হিজাব পরে ট্রেনে ওঠা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। ...

টাকা সম্পর্কে ৫টি আশ্চর্যজনক সত্য

  টাকা সম্পর্কে ৫টি আশ্চর্যজনক সত্য যা আপনার চিন্তাভাবনা বদলে দেবে আর্থিক বিষয়গুলো প্রায়শই জটিল বা ভীতিজনক মনে হতে পারে। তবে আসল কথা হলো, কয়েকটি মূল এবং আশ্চর্যজনক নীতি বুঝতে পারলেই আপনার আর্থিক ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণরূপে বদলে যেতে পারে। এই আর্টিকেলে আমরা টাকা সম্পর্কে এমনই পাঁচটি শক্তিশালী সত্য তুলে ধরব, যা আপনার এতদিনের ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। ১. আপনার ক্রেডিট স্কোর আপনার আয়ের উপর নির্ভর করে না, অভ্যাসের উপর করে ক্রেডিট স্কোর হলো একটি নম্বর যা ঋণদাতাদের কাছে আপনার আর্থিক বিশ্বাসযোগ্যতা প্রমাণ করে। সোজা কথায়, এটি আপনার "আর্থিক জীবনের সিভি"। অনেকেই মনে করেন, বেশি আয় মানেই ভালো ক্রেডিট স্কোর। কিন্তু এটি একটি ভুল ধারণা। আসল সত্য হলো, একজন উচ্চ আয়ের ব্যক্তিরও খারাপ ক্রেডিট স্কোর থাকতে পারে, আবার সীমিত আয়ের কোনো ব্যক্তির ক্রেডিট স্কোর চমৎকার হতে পারে। কারণ ঋণদাতারা আপনার আয়ের চেয়ে আপনার আর্থিক অভ্যাসকে বেশি গুরুত্ব দেয়। আপনার স্কোর মূলত কয়েকটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে তৈরি হয়: * বিল পরিশোধের ইতিহাস (৩৫%): আপনি কি সময়মতো বিল পরিশোধ করেন? * ক্রেডিটের ব্যবহার (৩০%): আপনি...