Skip to main content

Posts

Showing posts from November, 2024

বিটিভির একটা ইন্টারভিউতে

  বিটিভির একটা ইন্টারভিউতে যখন আনিসুল হক গুলতেকিন আহমেদকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আপনি কি আপনার মেয়েদের বিয়ে কোনো লেখকের সাথে দেবেন? আমি তাকিয়ে ছিলাম স্যারের দিকে । খেয়াল করেছিলাম, ঐ মুহূর্তে হুমায়ূন আহমেদ বেশ নার্ভাসনেস এবং এক্সাইটমেন্ট এর সাথে গুলতেকিনের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। গুলতেকিন নেগেটিভ উত্তর দেওয়ার সাথে সাথেই হুমায়ূন স্যারের চেহারা কেমন যেন ম্লান হয়ে গেল। গুলতেকিনকে যখন আনিসুল হক প্রশ্ন করলেন, এখন হলে আপনি হুমায়ূনকে বিয়ে করতেন কি না? গুলতেকিন ম্যাম ক্যামেরার সামনে ঠাস কইরা বইলা দিলো, না, এখন হলে সে হুমায়ূনরে বিয়ে করতো না। আমি হুমায়ূন স্যারের মাথা আরেকবার নিচু হয়ে যাইতে দেখলাম ক্যামেরার সামনে। ঠিক ঐ মুহূর্তেই আমার মনে হয়েছিলো , শেষ বয়সে পরিবার, সমাজ সবকিছুর বিরুদ্ধে যাইয়া হুমায়ূন কেন শাওনকে বিয়ে করলেন। প্লিজ বইলেন না যে হুমায়ূন আহমেদ নারীলোভী ছিলেন। নারীলোভী হলে হুমায়ূনের বিয়ে করার কোনো প্রয়োজন ছিলো না। বাংলাদেশের সবচেয়ে পপুলার ফিল্ম ডাইরেক্টর ছিলেন। নারী প্রীতির জন্য তাকে আলাদা করে বিয়ে করতে হবে, এই কথা বিশ্বাসযোগ্য না। পার্সোনালি আমার যেইটা মনে ...

ডিভোর্সের অন্যতম প্রধান কারণ

  ডিভোর্সের অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে "না বলা আকাঙ্ক্ষা" আপনি আপনার স্বামী বা স্ত্রীকে বলছেনই না যে আপনি আসলে কিসে কষ্ট পাচ্ছেন, কি আপনি চান এবং আপনি মনেই করে নিয়েছেন যে তাকে বলে কোন লাভ নাই- তখনই সেখান থেকে কষ্ট বাড়তে থাকে সেই কষ্ট থেকে দূরত্ব, পরকীয়া অনেক কিছু চলে আসে অনেক ক্ষেত্রে আপনি কেন এত ভয় পাচ্ছেন বলতে আপনার স্বামী বা স্ত্রীকে যে বিষয়গুলা আপনার কাছে খুব প্রয়োজনীয় অথবা আপনি তার মধ্যে যে পরিবর্তন চাই কেন বলছেন না! হ্যাঁ হতে পারে বললে হয়তো একবার ঝগড়া হবে হয়তো একবার উত্তেজনা হবে কিন্তু সে তো শুনবে পরিবর্তনের সুযোগ পাবে কিন্তু অনেক পরে অনেক অনেক বছর পরে হঠাৎ করে যদি একদিন আপনার আবেগের বিস্ফোরণ হয় অথবা আপনি যদি অন্য কোন সম্পর্কের চিন্তা করে থাকেন অথবা আপনি না বলে হঠাৎ ডিভোর্স দিয়ে দেন তখন হয়তো উনি পরিবর্তন করতে চাইলেও আপনাদের মধ্যে অদৃশ্য দেয়াল তৈরি হয়ে গেছে তাই সমাধান হচ্ছে আপনার যা কিছু আকাঙ্ক্ষা আপনি স্পষ্ট ভাবে আপনার স্বামীর বা স্ত্রীকে শান্তভাবে বলুন আগেই মনে করবেন না যে উনি শুধরাবে না অথবা উনি ইমপ্রুভ করবে না অথবা উনি...

"স্যার", "স্যার", "স্যার"

  "স্যার", "স্যার", "স্যার"... আচ্ছা, বাঙালির স্যার শব্দটা শুনতে এতো ভালো লাগে কেন? স্যার সম্বোধন শোনার জন্য এত পাগল হয়ে যায় কেন! আসলে, এর পেছনে মনস্তাত্ত্বিক কারণটা কী? ভাবুন তো, প্রায় ২০০ বছর ধরে এই অঞ্চলের মানুষ শোষিত হয়ে আসছে। তারা দেখেছে, যারা তাদের শোষণ করছে, তারা বেশ উন্নত, আরামদায়ক জীবনযাপন করছে। এই শোষণ আর বৈষম্য আমাদের মনোজগতে গভীর একটা সংকট তৈরি করেছে। আমরা প্রায় অজান্তেই বিশ্বাস করে ফেলেছি যে- ব্রিটিশদের জীবনযাপন, তাদের ব্যবহার, আচার-আচরণ সব যেন এক অসাধ্য স্বপ্নের মতো। শুধু আমাদের মধ্যেই নয়, আফ্রিকার মানুষও এই একই সমস্যায় ভুগছে। প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ইবনে খালদুন তাঁর বিখ্যাত বই "The Muqaddimah"-এ বলেছিলেন, “পরাজিতরা সব সময় বিজয়ীদের আচরণ, পোশাক-পরিচ্ছদ, জীবনধারা অনুকরণ করতে চায়।” আমাদের মধ্যেও এ ধারণা ঢুকে গেছে—আমরা নিজেদের মনে মনে ‘নিচু জাত’ ভাবি, আর এই ভাবনা থেকেই নিজেকে উঁচুতে তোলার এক ধরনের সংগ্রাম চালাই। আর এই সংগ্রামে "স্যার" শব্দটার গুরুত্ব তো বুঝতেই পারছেন! যদিও আমরা "ছোটলোকি" থেকে আসছি, কিন্তু আমাদ...

৩ বছর আগের কথা

  ৩ বছর আগের কথা । তখন খুব ক্রাইসিস সময় পার করছি , পকেটে টাকা পয়সা তেমন নাই । দুপুর ২ টা , এক বুড়া চাচা এসে বললো - " বাবা কিছু খেতে দাও , খিদা লাগছে । চাচা মিয়াকে দেখে মায়া লাগলো , বাসার পাশের হোটেলে বসতে বললাম , বললাম " চাচা খাক, আমি এসে বিল দিয়ে যাবো । " বিকালে গিয়ে দেখি চাচা মিয়া ১৫০ টাকা বিল তুলছেন , মেজাজটা তিরিক্ষি হয়া গেলো ! হুর্র , ১০০ টাকার মধ্যে খেতে পারতো না চাচা মিয়া ! নিজেকে গাইল দিলাম মনে মনে ! একটু পর মোবাইলের ভাইব্রেশন , দেখলাম ব্যাংকের মেসেজ, ২০০০০ টাকা ঢুকেছে একাউন্টে ! আমি মাথা চুলকাতে শুরু করলাম , কিরে ! কাহিনী কি ? তার নিচেই এক বাটপার বন্ধুর মেসেজ " তোর টাকাটা আজ চার বছর আটকে রাখলাম , পাঠিয়ে দিলাম , মাফ করে দিস আমাকে পারলে । " আমি ভোদাই আরও ভোদাই হয়া গেলাম , টাকাটা ফেরত পাবো কল্পনা করিনি কখোনো ! এরাম বহু ঘটনার সাক্ষী হয়া এরপর থেকে মুসাফির ক্ষুধার্তদের জন্য যা পারি , যতোটুকু পারি খরচ করি । কারণ আমি এটা বুঝে গেছি - আল্লাহ এক মুহূর্তের জন্যও তাঁর বান্দার কাছে ঋণী থাকেন না , থাকবেন না । এই বুদ্দি আপনিও ইউজ করতে পারেন , চেষ্টা করে দেখেন...

চার্লি চাপলিন

  শিক্ষক ক্লাসে ঢুকে একটি ছাত্রকে জিজ্ঞেস করলেন,,,, আমাদের শরীরে ক'টা কিডনি আছে ? ছেলেটি চটজলদি উত্তর দিলো,,,, চারটে কিডনি স্যার। ছাত্রটির উত্তর শুনে ক্লাসের বাকি ছাত্ররা হো হো করে হেসে উঠলো। শিক্ষক বললেন তোমরা হাসি থামাও। তারপর অপর একটি ছাত্রকে বললেন,,,, এবার দাঁড়াও। ছাত্রটি জিজ্ঞেস করলো,,,, স্যার ক'টা কিডনি আছে বলবো, নাকি বেত আনবো? শিক্ষক বললেন,,,, না ক'টা কিডনি আছে বলতে হবে না, বেতও আনতে হবে না, তুমি কিছু ঘাস নিয়ে আসো। একদম তাজা ঘাস। ছাত্র,,,, ঘাস দিয়ে কি হবে স্যার? শিক্ষক,,,, ক্লাসে একটা গাধা আছে তাকে খাওয়াবো। এই কথা শুনে আগের ছাত্রটি বললো,,,, যাও ঘাস নিয়ে এসো, সেই সঙ্গে এক কাপ কফি ও আনবে। শিক্ষক রেগে বললো কফি আনবে কেন, কফি কে খাবে? ছাত্রটির উত্তর,,,, স্যার! কফি খাবো আমি, আর যে গাধা সে ঘাস খাবে। শিক্ষক,,,, তাহলে গাধাকে ? ছাত্র,,,, স্যার আপনি জিজ্ঞেস করেছিলেন আমাদের ক'টা কিডনি আছে ? আমার আর আপনার মিলিয়ে তো চারটেই কিডনি আছে। তাহলে আমি নিশ্চয়ই গাধা নই। শিক্ষক রেগে বললেন,,,, তুই খুব বেশি বুঝিস, যারা বেশি বোঝে পরীক্ষায় তাদের আম...

ছা-পোষা নিম্নমধ্যবিত্ত

  টাকা-পয়সা মানুষ এর ভিতরে এক অদম্য আত্মবিশ্বাস তৈরী করে। এই আত্মবিশ্বাস এমন ই প্রখর যে, টাকাওয়ালা মানুষ লুংগি আর স্যান্ডোগেঞ্জি পরে শো-ডাউন দিলেও ব্যাপারটায় একটা রক্ত গরম করা ভাব থাকে। নবম শ্রেণীতে যখন পড়তাম তখন আমাদের সাথে ফারদিন (ছদ্ম নাম) নামের এক ছেলে পড়ত। বিশাল ধনীর ছেলে এবং বিশাল বড় তার মন। তাকে দেখলেই মনে হত কোন কিছুই তাকে আটকানোর শক্তি রাখে না। আমরা ছিলাম ছা-পোষা নিম্নমধ্যবিত্ত ফ্যামিলির সন্তান। মধ্যবিত্ত বলব না কেননা আমাদের দেশের মধ্যবিত্তের সংজ্ঞায় গলদ আছে। আমাদের বাবা-মা ছিল অসফল আর ব্যর্থ। তাদের না ছিল আত্মবিশ্বাস না ছিল অনেক বড় কিছু পাবার বাসনা। আমরা লেখাপড়া করে চাকুরি জুটিয়ে সংসারের হাল ধরব এটাই আমাদের নিয়তি। আমাদের সেভাবেই নারচারিং করা হচ্ছিল। আমরা মেয়েদের পিছে ঘুরতাম না স্যারদের ভয়ে। অবশ্য ঘুরলেও তারা পাত্তা দিত না নিশ্চিত। তখন অনেক মেয়েকে দেখলেই ভাল লাগত - তবে তাদের রোমিওরা সব ছিল বাইক আর গাড়িওয়ালা ছেলেরা। ফেয়ার এনাফ। নিজেদের কাছেই ছোট ছোট লাগত। আমাদের ডানা অনেক আগেই কেটে দেওয়া হয়েছিল। মিডিওক্রিটিই যাদের নিয়তি, তাদের জন্য উড়ে বেড়ানোর চেষ্টা হয়তো বৃথা। একদ...

হান্নাননামা

  হান্নাননামা পর্ব : ৫.১ - (ক'ট্টর ইসলাম বি'দ্বেষ) --------------- ১। শেখ আব্দুল হান্নানের ইসলামি/ধর্মপ্রাণ মুসলিম বিমানসেনা এবং অফিসারদের প্রতি বি'দ্বেষমূলক আচরণ এবং দাঁড়ি-হিজাবের প্রতি চুল'কানি উনার শাসনামলের সবচাইতে উল্লেখযোগ্য ও আলোচিত একটা বিষয়। দাঁড়িওয়ালা লোক তো পারতপক্ষে উনি সহ্য করতে পারতেন না বললেই চলে। বিমান বাহিনীতে ইসলাম পালনে বড়সড় একটা বাধা আসে ২০২১/২২ সালের একটা খুবই তুচ্ছ, সাধারণ ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ফেসবুকে জনৈক আলেম তার মাদ্রাসার জন্য সাহায্য-আর্থিক অনুদান চেয়ে একটি পোস্ট করেন যেখানে বিমান বাহিনীর বেশ কিছু সদস্য ব্যক্তিগতভাবে কিছু আর্থিক সাহায্য সহযোগিতা করেন। কোনভাবে এ ব্যাপারটা বিমান বাহিনী গোয়েন্দাদের নজরে পড়ে যায়। সেসময়ে আওয়ামী ফ্যা'সিবাদী আমলের জ'ঙ্গি নাটক ও মৌ'লবাদ নি'ধনের রমরমা ব্যবসা ছিল তুংগে। ভারতপন্থী আওয়ামী প্রভুদের সন্তুষ্ট করার প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে সদ্যনিযুক্ত 'র' ক্লিয়ারেন্স পাওয়া হান্নান সাহেব এই সুযোগটা তুখোড়ভাবে কাজে লাগান। ২। ২০২১ সালের ১৮ অক্টোবর কুর্মিটোলা বিমান ঘাঁটি থেকে এক এক করে ১৫ জন বিমান বাহিনীর ...

হাইপারসনিক মিসাইল

  প্রতিবেশী দেশ গতকালকে হাইপারসনিক মিসাইলের সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে? হাইপারসনিক মিসাইল হচ্ছে এমন মিসাইল যা শব্দের চেয়ে পাঁচ গুণ দ্রুত ছুটতে পারে এবং এর গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বর্তমান বিশ্বে মিসাইল প্রযুক্তির ফ্রন্ট লাইন হচ্ছে এই হাইপারসনিক। ভারতের আগে চীন এবং রাশিয়া সফল ভাবে এই মিসাইল টেস্ট করতে সক্ষম হয়েছে। আমেরিকাতে কাজ চলমান। ভারতের ছোড়া মিসাইলের গুরুত্বপূর্ণ দুইটি বিষয়ের একটি হচ্ছে তারা নিজেরা এটি তৈরি করেছে। দ্বিতীয়ত এই মিসাইল তৈরি করা হয়েছে এপিজে আবদুল কালাম কমপ্লেক্সে। একদা airospace প্রযুক্তিতে দেশটি পিছিয়ে ছিলো। সেই জায়গা থেকে যেই ব্যাক্তির নিরলস পরিশ্রম তাদেরকে এখানে এনে দিয়েছে তিনি হচ্ছেন এপিজে আবদুল কালাম। ওনার সম্মানার্থে অত্যাধুনিক মিসাইল কমপ্লেক্স এবং উৎক্ষেপণের দীপ তার নামে করা হয়। এবং গতকাল সেই দ্বীপ থেকেই সেই গবেষণাগারের মিসাইল ছোড়া হয়েছে। এর থেকে আমরা বুঝতে পারি, ১.তুলনামূলক দরিদ্র দেশের থেকেও জগদ্বিখ্যাত প্রযুক্তি নির্মাণ করা সম্ভব। এবং ২.একজন ব্যাক্তি প্রতিকূল পরিবেশে নিজের চেষ্টায় অনেক কিছু করতে পারে। আমাদের নিজেদেরকে নিয়ে আপনারা সেই স্ব...

👉উত্তরাধিকার সুত্রে সম্পত্তি প্রাপ্তির পর

  👉উত্তরাধিকার সুত্রে সম্পত্তি প্রাপ্তির পর আপনার মালিকানা স্বত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য নিম্নলিখিত কাজগুলো করতে হবেঃ ১) দলিল রেজিস্ট্রির পর আমিন দ্বারা জমি মেপে সীমানা নির্ধারণ করে পূর্বের মালিকের কাছ থেকে দখল বুঝে নিন। ২) জমিতে আপনার দখল প্রতিষ্ঠার জন্য জমির প্রকৃত ব্যবহার তথা চাষাবাদ, গাছপালা রোপন, ঘরবাড়ি নির্মাণ ইত্যাদি করুন। ৩) রেজিস্ট্রি অফিস থেকে মূল দলিল পেতে দেরি হলে মূল দলিলের নকল বা সার্টিফাইড কপি সংগ্রহ করুন। ৪) দলিলের নকল প্রাপ্তির পর দ্রুত সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে আবেদন করে নিজ নামে নামজারি/খারিজ (মিউটেশন) করুন, কারন দখল এবং নামজারি করতে দেরি করলে অসাধু বিক্রেতা আপনার ক্রয়কৃত জমি অন্যত্র বিক্রয় করতে পারে। ৫) সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে নামজারি হলে, নামজারি খতিয়ান এবং ডি.সি,আর, সংগ্রহ করুন এবং নতুন হোল্ডিং এ ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধ করে দাখিলার কপি সংগ্রহপূর্বক সংরক্ষণ করুন। ৬। নিয়মিতভাবে প্রতিবছর ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধ করুন। ৭। সম্পত্তির মূল মালিক মারাগেলে মৃত ব্যক্তির জীবিত ওয়ারিশগণ সম্পত্তির নিজ নিজ অংশ পৃথকীকরনের জন্য নিজেদের মধ্যে...

ঝগড়া

  টিউশনিতে গিয়ে দেখলাম ছাত্রের মা-বাবা তুমুলঝগড়া। আমার কাছে ব্যাপারটা কেমন অস্বস্তিকর মনে হলো। তবুও ঝগড়ার মাঝে যেহেতু ঢুকেই পড়েছি বিষয়টা খতিয়ে না দেখলেই নয়৷ এদিকে আমার ছাত্র খুব মনোযোগ দিয়ে বাবা-মায়ের ঝগড়ার মাঝে কথা গিলছেন। ফাঁকিবাজ ছেলেটার চেহারা দেখেই বুঝা যাচ্ছে, সে আজ পড়ার মোডে নেই৷ যাইহোক আমি নিচু গলায় আন্টিকে জিজ্ঞেস করলাম, -কি হয়েছে আন্টি? কোনো সমস্যা? আন্টি কিছু বলার আগেই ছাত্রের বাবা বলে উঠলো, -কি আবার হবে? তোমরা তো সবই বুঝো?বর্তমান যুগে কাউকে বিশ্বাস করাটা কত ভয়ানক ব্যাপার! আর সে বিশ্বাস যদি নিজের ঘরের বউ ভেঙে দেয়। তাহলে আর বেঁচে থাকার ইচ্ছেটাই মরে যায়। আংকেলের কথাটা মাথার উপরে দিয়ে গেল। এই বয়সে আন্টি কি এমন করে বসলো? যে তার বিশ্বাস ভেঙে গেছে? তাদের বড় ছেলে এবার অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্র। যাইহোক,নিজের মনকে প্রশ্ন করলে উলটাপালটা উত্তর আসবে। তাই আংকেলকে আবার জিজ্ঞেস করলাম, -কি করেছে আন্টি? ব্যস,এখন গড়গড় করে সব বলতে লাগলো আংকেল। -দ্যাখো না মা! আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ৷ এতো ছলচাতুরী কি আমাদের মানায়? তুমি আমার ছেলেকে পড়ানো বাবদ কতো টাকা সম্মানী পাও? -আমি তো ২০০০ ...

ছোটবেলা

  ছোটবেলায় আমিও অনেক ধনী ছিলাম। হালকা বৃষ্টির জমে থাকা জলে, আমারও তিন-চারটে নৌকা, জাহাজ জলে ভেসে বেড়াতো। কাগজের হলে কি হবে? আকাশে আমারও বিমান উড়ে বেড়াতো। ছোটখাটো দূরত্বগুলো সুপারি পাতায় একজন আরেকজনকে টেনেই যাত্রা করতাম। প্রাসাদ,অট্টালিকা আমিও বানিয়েছিলাম। হয়তো সেগুলো মাটি বা পাটকাঠি দিয়ে তৈরি ছিল, কিন্তু একেবারেই আমার ছিল। ব্যবসা আমারও ছিল। বাড়ির উঠানে পাট কাঠি বা বাশের কঞ্চি দিয়ে খাম গেরে,উপরে মায়ের ওড়না দিয়ে ঢেকে মুদি দোকান বসাতাম। মাটি দিয়ে বাসন,কই মাছ,হাড়ি পাতিল বানিয়ে রোদে শুকাতাম। সুইমিংপুল ছিলো আমাদের বিশাল বড়ো ঘাট বাধানো পুকুর। সরু রাস্তা দিয়ে হাটার সময় লাল পোনা দেখলে পেনি জাল নিয়ে পানিতে নেমে যেতাম। তখন, আমিও বিজ্ঞানী ছিলাম। ফেলে দেওয়া পুরনো ইনজেকশনের সিরিঞ্জে জল ভরে বিভিন্ন গাছের শাখা-প্রশাখায় ইনজেকশন দিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করতাম। বিটিভিতে দুপুরে আমি বাবা মায়ের শত আদরের মেয়ে গান শুনলেই ভনভনিয়ে দৌড়ে এসে টিভির সামনে বসতাম মিনা কার্টুন দেখতে। চিকন গোলাকার লোহার রিং আর টায়ার গুলো চালিয়ে পিছে পিছে দৌড়ে বেড়াতাম সারা গ্রামে। শপিংয়ে আমিও যেতাম, মেলা থেকে এটা ওট...

'দাদা খেয়ে এসচেন না খাবেন'

  পাপ বাপেরেও ছাড়েনা। আগেও 'দাদা খেয়ে এসচেন না খাবেন'/ একটা ইলিশ মাছ ১৬ পিস করে কাটুন দাদা' নিয়ে ট্রল করা হতো। আর এখন ১৬০টাকা দিয়ে ১০ পিস মাংসের টুকরা থেকে শুরু করে ১০০ টাকায় মাছের শুধু মাথা আর লেজ কেনার প্যাকেজ চালু হয়েছে। পুরো ঢাকা শহর ভর্তি অদক্ষ চাকরিজীবি। বারো মাস পর পর দুই আনা ইনক্রিমেন্ট, অথচ ষোল আনা মুদ্রাস্ফীতি। সুতরাং কেরানীদের এই শহরে লাইফস্টাইল দিন দিন পেছাবে। আসলে যুগ যুগ ধরেই স্লোলি পিছিয়েছে, সেটা এখন দিনকে দিন প্রকটভাবে চোখে ধরা পড়বে। যেমন একশ বছর আগে কেরানীভিত্তিক যে কলকাতা শুরু হয়েছিলো - কালচার আছে, ভাব আছে, শিক্ষা আছে কিন্তু বেতন ছাড়া আর কোন পয়সা নেই, হিসেব করে চলা (কিপটামি) ছাড়া গতি নেই - ধীরে ধীরে ঢাকাও সেই শহরে পরিনত হবে। ত্রিশ বছর আগেও গ্রামের সবচেয়ে গরীব ঘরেও হুটহাট মেহমান এলে উঠানে হেঁটে বেড়ানো যেকোন একটা রাতা মোরগ জবাই করা হতো। সাথে পুকুরের মাছ, হাঁস, গাছের ডাব, তাল, খেজুরের রস, চালের পিঠা। জিরো কস্টিং এ মেহমানদারী। ৯০'স এ কাজের বুয়ারাও নিয়মিত স্বর্নের গয়না কিনতো। সবচেয়ে গরীব কেরানীটাও শহরের শেষ সীমায় চার কাঠা জমি কিনে ফেলতো। আর এখন এক ...

চরিত্রহীন

  পরকীয়া একটা দীর্ঘ মেয়াদি প্রসেস। হুট করে প্রথম দেখায় ভালবাসা হলেও, পরকীয়া কিন্তু হুট করে হয় না। যখন দেখবেন হায় হ্যালো থেকে আপনার কনভারসেশন মিড নাইট অব্দি চলে যাচ্চে, তখন আপনাকে বুঝতে হবে আপনি ভুল। যখন দেখবেন দরকারের বাইরেই কাউকে অযথা নক দিচ্ছেন, কল দিচ্ছেন বা কেয়ার করছেন তখন আপনাকে বুঝতে হবে শয়তান আপনার উপর ভর করেছে। কিন্তু ভুল জানার পরেও ,বুঝার পরেও আপনি যখন সেটা কন্টিনিউ করবেন, তখন সেটা কে ঠান্ডা মাথার সিদ্ধান্ত বলে যেতে পারে। পরকীয়া যারা করে তারা ঠান্ডা মাথায় বুঝে শুনেই করে। একজন সমাজ পরিবার তোয়াক্কা না করে পরকীয়া করে আবার অপর জন সমাজ এবং পরিবারের স্বার্থে সব জেনে বুঝেও মেনে নেয়। তার মানে দায়ভার আপনাদের উভয়ের। ফেসবুক কখনো পরকীয়া, ডিভোর্স সমাধানের প্ল্যাটফর্ম হতে পারে না। ফেসবুকে মানুষ আপনাকে জাজ করবে, কয়েকদিন সমালোচনা করবে, আলোচনা করবে এবং একটা মুখ ররোচক টপিক হিসেবে দেখবে। তার পর যে যার মত ব্যস্ত হয়ে যাবে। আপনার জীবন আপনাকেই মেইনটেইন করতে হবে। তাই এই ধরনের বিষয় গুলা পরিবার কে সাথে নিয়ে সমাধান করুন বা করা উচিত। চারদিকে যেভাবে পরকীয়া, চিটিং এসব হচ্ছে এতে করে ইয়াং জেনারেশন এর ...

কাতারের দোহা থেকে বাংলাদেশের ঢাকা

  [আমি কাউকে ছোট-হেয় করার জন্য এই পোস্টটি করি নাই। কাউকে কামলাও বলি নাই। কারো ঘামের গন্ধ কিংবা কারো লুংগি পড়াতেও আমার আপত্তি নাই। আমি শুধুমাত্র আমার অভিজ্ঞতা সবার সাথে শেয়ার করেছি। পোস্ট পড়া শুরু করার আগে শেষ প্যারাটি পড়ার অনুরোধ থাকলো।] আজকে দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে সাত সকাল বেলায় যাত্রা শুরু করি বলোনিয়া, ইটালি থেকে। বলোনিয়া থেকে রোম মাত্র ২ ঘন্টায় চলে আসি হাই স্পিড ট্রেনে। সেখান থেকে সরাসরি চলে যাই রোমের FCO এয়ারপোর্টে। আমার ফ্লাইট ছিলো কাতার এয়ারওয়েজে। চেক-ইন শুরু হলে আমি আমার লাগেজ কার্গোতে দিয়ে বোর্ডিং পাস সংগ্রহ করি। আমার দেশে আসা পর্যন্ত ১ টি ট্রান্সফার ছিলো। প্রথমে রোম থেকে দোহা। এরপর দোহা থেকে ঢাকা। রোম থেকে দোহা পর্যন্ত ফ্লাইট টাইম ছিলো ৫ ঘন্টা। আমি সিট পেয়েছিলাম শুরুর দিকে। তার উপর আবার পাশের সিটে যাত্রী না থাকায়, বেশ আরামেই এই ৫ ঘন্টা যাত্রা সম্পন্ন করি। বিপত্তি শুরু হয় পরের ফ্লাইটে এসে। পরের ফ্লাইট ছিলো কাতারের দোহা থেকে বাংলাদেশের ঢাকা পর্যন্ত। পরের ফ্লাইটে আমার সিট পড়ে বিমানের প্রায় শেষের দিকে। আমার সাথে সহযাত্রী হয় আরো প্রায় 100-150 বাংলাদেশী। ভাগ্যক্রমে এবারও আমার স...

সততার পুরস্কার।

  রিকশা করে যাচ্ছেন। একজন ভিক্ষুক আপনার সামনে চলে‌ আসলো। তাকে ৫০ টাকা দিলেন। রিক্সা ভাড়াও ৫০ টাকা। রিক্সাওয়ালা ভাই এবং ভিক্ষুক ভাই দুজনই কি শিখল ? পরিশ্রম সহ এবং পরিশ্রম ছাড়া একই উপার্জন করা যায়। …......................................... কায়িক ‌পরিশ্রম করেন‌‌ এমন কারো সামনে ভিক্ষুককে টাকা দেবেন না। এতে তাদের কষ্ট হয়। মানুষ কাজ করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। যদি ভিক্ষুককে টাকা দিতেই হয়, একটু আড়ালে যেয়ে দিবেন। ........................................... যে মানুষগুলো রাস্তায় পরিশ্রম করেন,‌ তাদেরকে বরং মাঝে মাঝে পুরস্কৃত করুন। একটা বাচ্চা মেয়ে ফুল বিক্রি করছে। বেলি ফুলের মালাটি ১০ টাকায় না কিনে তাকে ৫০ টাকা দিন। টাকা দেওয়ার সময় বলে দিন, বেশি দিচ্ছি তোমার পরিশ্রমের জন্য। এটা তোমার সততার পুরস্কার। ==================================================================== তোমারে হতাশায় মরে যাওয়ার জন্য তোমার বাপ-মা জন্ম দিয়েছে? বর্তমান তরুণ প্রজন্মের হতাশা ব্যাধিকে সরদার ফজলুল করিম জন্ম-ঋণ শোধ প্রচেষ্টার অস্বীকার হিসাবে বর্ণনা করেন। তাঁর মতে, আমরা অমুক-তমুক ক...

বাইপোলারে 3S Rule

  *3S Rule for Bipolar Prevention* বাইপোলারে 3S Rule সবসময় মনে রাখতে হবে, যদি ভবিষ্যতে বাইপোলারের ম্যানিক এপিসোড প্রতিরোধ (prevent) করতে চান। 1. *Sleep (ঘুম):* ঘুম সবসময় ঠিক রাখা অত্যন্ত জরুরি। কোনোভাবেই ঘুমের সাথে আপস করা যাবে না। বিয়েবাড়ি বা যেকোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে গেলেও, রাত ১১টার মধ্যে অবশ্যই ঘুমাতে হবে। আরও ভালো হয় যদি ১০টার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়া যায়। 2. *Substance (নেশা):* কোনো ধরনের নেশায় জড়ানো যাবে না। এখনকার দিনে নেশা বলতে শুধু হেরোইন বা ফেনসিডিলই নয়, প*র্নোগ্রাফি বা অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের মতো নেশাগুলোও এড়িয়ে চলতে হবে। 3. *Stress (চাপ):* জীবনে কিছুটা স্ট্রেস থাকবেই, কিন্তু অতিরিক্ত স্ট্রেস নেওয়া যাবে না। যেসব জিনিস আপনার নিয়ন্ত্রণে নেই বা যা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, সেগুলো নিয়ে বেশি চিন্তা না করাই ভালো। শুধুমাত্র যেসব বিষয় আপনার নিয়ন্ত্রণে আছে, সেগুলোর ওপর মনোযোগ দিতে হবে। ওষুধের পাশাপাশি যদি আমরা এই 3S Rule মেনে চলতে পারি, তাহলে বাইপোলার আমাদের জীবনে কষ্ট দিবে না। ==================================================...

ভালো বাবা-মা হওয়া

  একজন ভালো বাবা-মা হওয়া অনেকটা একজন ভালো Coach হওয়ার মতো। একজন ভালো Coach কী করেন? ভালো Coach প্রথমে তাঁর খেলোয়াড়ের ভালো দিকগুলো খুঁজে বের করেন এবং সেগুলো নিয়ে তাকে উৎসাহ দেন। এরপর তিনি স্নেহের সাথে খেলোয়াড়কে আরও ভালো হওয়ার জন্য ভুলগুলো ধরিয়ে দেন। কিন্তু যিনি ভালো Coach নন, তিনি কী করেন? তিনি শুধুই খেলোয়াড়ের ভুলগুলো ধরেন এবং বারবার খেলোয়াড়কে সেগুলো নিয়ে ছোট করেন। আমরা বাবা-মারাও অনেক সময় আমাদের সন্তানদের ক্ষেত্রে একই কাজ করি—শুধু সন্তানের ভুলগুলো খুঁজি এবং সেগুলো নিয়ে তিরস্কার করি। তবে একজন ভালো বাবা-মা হতে চাইলে সন্তানের ভালো দিকগুলো আগে দেখতে হবে। এতে সন্তানের আত্মবিশ্বাস বাড়বে এবং সে আপনার প্রতি বিশ্বাস রাখতে শিখবে। তখন সে আপনার পরামর্শ বা কথা শুনতে আরও আগ্রহী হবে। এরপর তাকে বলুন, “বাবা, তোমার অনেক ভালো দিক আছে। তবে এই (ভুল) জায়গাগুলো একটু ইম্প্রুভ করলে তুমি আরও ভালো করতে পারবে।”collected

চীনা ভদ্রলোকের সাথে

  নেপাল থেকে বাংলাদেশে আসছিলাম একজন চীনা ভদ্রলোকের সাথে বিমানের বোর্ডিং এ দেখা। তিনি দেখালেন তার পাসপোর্টে পাতার পর পাতা বাংলাদেশের ভিসাতে ভর্তি। আমি অবাক হয়ে গেলাম। এতগুলো ভিসা কেনো? সে বলল চীনের নাগরিকরা বাংলাদেশে এক মাসের ফ্রি ট্যুরিস্ট ভিসা পায়। সে বাংলাদেশে থাকে। যেই মুহুর্তে এক মাস হতে লাগে তার আগে নেপালে এসে আবার বাংলাদেশে যায়। এভাবে কয়েক বছর বাংলাদেশে আছে। কিন্তু বাংলাদেশে থাকা এতটা জরুরী কেনো? সে বলল সে একজন ব্যবসায়ী বাংলাদেশে ব্যবসা করে সেই জন্যে থাকা। মাসের শেষে একদিন নেপালে এসে পরের দিনই চলে যায় বাংলাদেশে। আমি চোখ কপালে তুলে বললাম কি ব্যবসা করেন আপনি যে প্রতি মাসে একদিনের জন্যে বিমানে করে নেপালে আসেন কেবল ভিসা রিনিউ করতে। ভেবেছিলাম বিরাট কিছু শুনবো কিন্তু আমাকে অবাক করে বলল আমি রিকশার ব্যাটারি সাপ্লাই করি। এবার আরও অবাক আমি। রিকশার ব্যাটারি বিক্রি করে এত ধনী হওয়া যায়? এত লেখাপড়া করে আমি বছরে একবার বিদেশে যেতে পারলেই খুশি। পরে অনেক চিন্তা করে দুইটা জিনিস শিখলাম - ১ কোন কাজকে ছোট করে দেখতে নাই। আমি যদি রিকশার ব্যাটারি বেচি যত বড় ব্যবসায়ী হই না কেন মানুষ অনেক...

ড. ইউনুস

  যারা ইউনুস কে জানেন না তারা নানা কথা বলেন। ড ইউনুস এতটাই নীতিতে অটল যে উনি তার হাতে গড়া প্রতিষ্ঠানের ১ টি টাকা লাভ নেননি। যে গ্রামীন ব্যাংকের বাজার মূল্য ৯৩০০০০ কোটি টাকা!! তাহলে উনি সুদ খোর হলেন কিভাবে? উনি তার জীবন নির্বাহের জন্য সামান্য বেতনভুক্ত কর্মচারী ছিলেন মাত্র! গ্রামীণ ব্যাংকের সবটাকার মালিক দরিদ্র নারীরা। এমনকি ওনার ব্যক্তিগত কোনো সম্পত্তি নাই। উনি ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিশ্বাস করেন না। বহু অর্থ লাভের সুযোগ পেয়েও উনার জীবনযাপন অতি সাধারণ। যারা দুনিয়ায় ধন সম্পত্তির উর্ধ্বে তাকে আপনি সুদখোর বলছেন? নোবেল লরিয়েট প্রফেসর ইউনুসের একটা পরিচয়, সব না। পৃথিবীর সবচেয়ে সম্মানজনক তিনটা পুরস্কার হল: ১। নোবেল। ২। অ্যামেরিকার প্রসিডেন্সিয়াল এওয়ার্ড। ৩। মার্কিন কংগ্রেশনাল এওয়ার্ড। ইতিহাসে এই তিনটা পুরস্কারই পেয়েছেন এমন মানুষ মাত্র ১২ জন। তার মধ্যে প্রফেসর ইউনুস একজন। মেসি হলেন বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে বড় তারকার একজন, আক্ষরিক ভাবেই মেসি লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন প্রফেসর ইউনুসের সাথে ছবি তুলতে। বিশ্বের সর্ববৃহৎ এবং সর্বোচ্চ সম্মানজনক প্রতিযোগিতা হল আলিম্পক গেমস। ধনী দেশগুলো হাজার হাজার কোটি ...

প্রফেসর মবিন খান

  প্রফেসর মবিন খান আর নেই। উনার বয়স হয়েছিলো, ডাক এসেছে চলে গেছেন। কিন্তু উনার কর্ম আর জীবন কাছে থেকে দেখার এক বিরল সৌভাগ্য আমার হয়েছিলো। তরুণদের কাছে এই কর্মবীরকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার দায়িত্ব আমার। উনি এক হাতে বাংলাদেশে হেপাটোলজি সাবজেক্টকে প্রতিষ্ঠিত করে দিয়েই শুধু যান নাই, সেইটাকে বিশ্বমানের কাছে নিয়ে গেছেন। উনার যেই বিরল প্রতিভা এই অসম্ভব কাজটাকে সম্ভব করে তুলেছিলো তা হচ্ছে, উনার নেটওয়ার্কিং ক্ষমতা আর প্ল্যানিং। উনি চার বছর পরের পরিকল্পনা টায়ে টায়ে করে রাখতেন। উনি জানতেন ঠিক কোথায় সুইট স্পট, কাকে কীভাবে ডিল করতে হবে। উনি পটেনশিয়াল আইডেন্টিফাই করতে পারতেন। কে কোথায় যেতে পারে সেটা উনার তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ শক্তি দিয়ে বুঝে যেতেন। একটা উদাহরণ দেই। আমার তখন ফার্মাসিউটিক্যালসের ভেরি আর্লি ক্যারিয়ার। তখনো বি এস এম এম ইউ নাম হয়নি পিজি হাসপাতালের। উনাকে ভিজিট করতে গেছি। ওটাই আমার উনার সাথে প্রথম এনকাউন্টার। ফেরত আসার সময় খেয়াল করলাম উনি পেছন পেছন আসছেন। উনার দরজার সামনে জুতা খুলে ঢুকতে হতো। একটা ছোট টুল ছিলো বসে জুতাটা আবার পরার জন্য। আমি টুলে বসছি, এমন সময় আমাকে যুগপৎ বিস্মিত এবং হতবিহ্বল...