Skip to main content

বিটিভির একটা ইন্টারভিউতে

 


বিটিভির একটা ইন্টারভিউতে যখন আনিসুল হক গুলতেকিন আহমেদকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আপনি কি আপনার মেয়েদের বিয়ে কোনো লেখকের সাথে দেবেন?

আমি তাকিয়ে ছিলাম স্যারের দিকে । খেয়াল করেছিলাম, ঐ মুহূর্তে হুমায়ূন আহমেদ বেশ নার্ভাসনেস এবং এক্সাইটমেন্ট এর সাথে গুলতেকিনের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। গুলতেকিন নেগেটিভ উত্তর দেওয়ার সাথে সাথেই হুমায়ূন স্যারের চেহারা কেমন যেন ম্লান হয়ে গেল। গুলতেকিনকে যখন আনিসুল হক প্রশ্ন করলেন, এখন হলে আপনি হুমায়ূনকে বিয়ে করতেন কি না? গুলতেকিন ম্যাম ক্যামেরার সামনে ঠাস কইরা বইলা দিলো, না, এখন হলে সে হুমায়ূনরে বিয়ে করতো না। আমি হুমায়ূন স্যারের মাথা আরেকবার নিচু হয়ে যাইতে দেখলাম ক্যামেরার সামনে। ঠিক ঐ মুহূর্তেই আমার মনে হয়েছিলো , শেষ বয়সে পরিবার, সমাজ সবকিছুর বিরুদ্ধে যাইয়া হুমায়ূন কেন শাওনকে বিয়ে করলেন। প্লিজ বইলেন না যে হুমায়ূন আহমেদ নারীলোভী ছিলেন। নারীলোভী হলে হুমায়ূনের বিয়ে করার কোনো প্রয়োজন ছিলো না। বাংলাদেশের সবচেয়ে পপুলার ফিল্ম ডাইরেক্টর ছিলেন। নারী প্রীতির জন্য তাকে আলাদা করে বিয়ে করতে হবে, এই কথা বিশ্বাসযোগ্য না। পার্সোনালি আমার যেইটা মনে হয়েছে, হুমায়ূন আহমেদ চেয়েছিলেন অ্যাপ্রিশিয়েশন। চেয়েছিলেন মুগ্ধতা। যে মুগ্ধতা তিনি পেয়েছিলেন শাওনের কাছে, গুলতেকিনের কাছে পাননি। হয়তো গুলতেকিন বিরক্তই ছিলেন স্যার কে নিয়ে। আজও শাওন যখন হুমায়ূনের কথা বলেন, স্মৃতিচারণ করেন, আমি তাঁর চোখে হুমায়ূনের জন্য প্রেমিকার উচ্ছ্বাস দেখি। বিষাদ দেখি। একজন পুরুষের কাছে স্ত্রীর এই প্রেমিকার চোখ বা মুগ্ধতার চেয়ে বড় কিছু আর নাই। লেখক আর সাধারন মানুষের চাওয়া, পাওয়া, দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন হবেই তাই সবার সাথে মিলিয়ে ফেলবেন না। ইসলামের বিপক্ষে যায় এমন কোন কথা আমি বলতে চাইনা। জন্ম, মৃত্যু , বিয়ে অখন্ডনীয় তকদীর। এটা মানুষ খন্ডাতে পারবেনা। পছন্দের লেখক, যার লেখনী আমার ভালো লাগে, যার জীবন সম্পর্কে সবসময় জানার চেষ্টা করেছি। একটা নেগেটিভ সাইড তার খুব করে সবাই প্রচার করেন বুড়ো বয়সে বিয়ে করেছেন মেয়ের বয়সী একজনকে। বিয়ে করেছেন ফস্টিনষ্টি করেন নি। আর তার বিয়ের অনেক আগেই শাওনের সাথে তার রেগুলার কাজের জন্য দুইজনকে নিয়ে মিডিয়া খুব মাতামাতি করে তখন প্রেম বলতে কিছুই ছিলোনা তখন গুলতেকিন হুমায়ূন আহমেদ কে ভরসা বিশ্বাস কোনটাই করেন নি। তিনি বাসা ছেড়ে চলে যেতে চেয়েছেন, হুমায়ূন আহমেদ তাকে যেতে দেননি। বলেছেন তুমি কেনো যাবে বাসা থেকে আমিই নেমে যাই। স্ত্রী সন্তানকে কোন কিছু থেকে বঞ্চিত রাখতে চাননি। তাকেই কোনঠাসা করা হয়েছিলো। তিনি ঈদের দিনটা পর্যন্ত না খেয়ে ছিলেন কারন হোটেল বন্ধ ছিলো, আর নিজের ঘরে যাওয়ার মুখ ছিলোনা। তারও অনেক পরে শাওনকে বিয়ে করেন। শাওনকে বিয়ের পরে তিনি গর্তবাসী হয়ে যান পুরোপুরি। গুলতেকিনকে নিয়ে তিনি জীবনের সেরা একটা সময় কাটিয়েছেন, সবসময় কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেছেন। আমাদের সেই প্রিয় গুলতেকিন কিন্তু হুমায়ূন আহমেদ এর জন্মদিনেই বুড়ো বয়সে বিয়ে করেছেন। তিনি কিন্তু হুমায়ূন আহমেদ এর থেকেও বেশি বুড়ো হয়ে বিয়ে করেছেন। তাহলে এতো ভালো মন্দের দায়ভার দেশবাসীকে কে দেয়??? হুমায়ুন আহমেদ এর মেয়ে ফ্যানের অভাব ছিলোনা। এখনও নেই। আমার মেয়ের ছোটবেলায় হুমায়ুন আহমেদ মারা গেছেন মেয়েও কিন্তু স্যারের বই পড়ে। আমাদের সংসারেও হুমায়ুন আহমেদ নিয়ে একটা ঝামেলা আছে আমি বলেছিলাম, শাওনের জায়গায় আমি হলে আমিও তাই করতাম। এটা নিয়ে খুব রাগারাগি হয় । আমিও আর স্যার নিয়ে কথা বলিনা, স্যারের বই পড়িনা। অথচ ছোটো থেকে আমাকে যদি কোন স্বপ্ন কেউ জিজ্ঞাসা করতো আমি কিন্তু একটা কথাই বলতাম আমার একটা লাইব্রেরী হবে যেটাতে হুমায়ূন আহমেদ এর সব বই থাকবে। লাগোয়া একটা বড় ওয়াশরুম থাকবে। লাইব্রেরি আর ওয়াশরুম শুধুই আমার।collected

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...