Skip to main content

Posts

Showing posts from June, 2026

আশরাফ হাকিমি এত এত ব্যায়াম করেন

  স্পেনের বিখ্যাত রিয়াল মাদ্রিদের যুব একাডেমি ‘লা ফাব্রিকা’ থেকে উঠে আসা এই ফুটবলার আজ বিশ্বমঞ্চের অন্যতম তারকা। জার্মানির বরুশিয়া ডর্টমুন্ড ও ইতালির ইন্টার মিলান ঘুরে ফ্রান্সের পিএসজি দলের অন্যতম কান্ডারি। তরুণদের আইকন হয়ে ওঠা হাকিমির এই অতিমানবীয় গতি ও স্ট্যামিনার পেছনে আছে কঠোর পরিশ্রম, সুনির্দিষ্ট ব্যায়াম এবং নিয়মতান্ত্রিক খাদ্যাভ্যাস। হাকিমির সেই ফিটনেস–রহস্য জানুন। মাঠ কাঁপানোর আগের প্রস্তুতি যেকোনো ম্যাচ বা কঠিন অনুশীলনের আগে শরীর প্রস্তুত করা এবং ইনজুরি এড়ানো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। হাকিমি শুরুতেই হালকা জগিং ও দৌড় দিয়ে শরীর গরম করেন। এরপর শুরু হয় ‘ডাইনামিক স্ট্রেচিং’। এর মধ্যে থাকে— লেগ সুইং হিপ সার্কেল হাই নিস ওয়াকিং লাঞ্জেস মাঠের মূল অনুশীলনে নামার আগে তিনি বল নিয়ে ড্রিবলিং, এক পায়ে হার্ডল জাম্প এবং হেডিংয়ের অনুশীলনও সেরে নেন। এই ডাইনামিক মুভমেন্টগুলো তাঁর শরীরের নমনীয়তা বাড়াতে এবং পেশির সচলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। গতি ও ক্ষিপ্রতার মূলমন্ত্র স্পেনে জন্ম নেওয়া অভিবাসী মা–বাবার সন্তান হাকিমির খেলার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো মুহূর্তের মধ্যে গতি বাড়িয়ে দিক পরিবর্তন করার ক্ষমতা। এই...

গভীর নিদ্রায় মগ্ন

  ~গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গভীর নিদ্রায় মগ্ন~ ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট, ইন্ডিয়ান লেখক ও গণমাধ্যম পরামর্শক সুদীপ চক্রবর্তী গণঅভ্যুত্থানের বিপ্লবী রূপান্তরের চূড়ান্ত পর্বে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যান। তখন তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ইউল্যাব-এ সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। তবে তাঁর আসল উদ্দেশ্য যে শিক্ষকতা নয়, গোয়েন্দাবৃত্তি তা পর্যবেক্ষকমলে অনেকেরই জানা ছিল। ঢাকায় ফ্যাসিবাদের যুগে দায়িত্বপালনকারী ইন্ডিয়ান হাইকমিশন হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার কথা ভুলে যাবার নয়। যিনি সেদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয় থেকে অবসরের পর হিন্দু মৌলবাদী ক্ষমতাসীন বিজেপি’র নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন এবং ইন্ডিয়ার রাজ্যসভার সদস্যও মনোনীত হয়েছেন। তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু এই সুদীপ চক্রবর্তী। মেয়ো কলেজে পড়ার সময়কার শৈশবের বন্ধু, দু’জনের মধ্যে মতাদর্শ, রাজনীতি এবং সাংস্কৃতিক বন্ধন দীর্ঘদিনের। পর্যবেক্ষক মহল মনে করে, ঢাকায় সুদীপ চক্রবর্তীর উপস্থিতি ছিল কৌশলগত। বিজেপিপন্থী কূটনীতিক হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যাবার পর তার তৈরি করা অ্যাসেটদের (এজেন্টদের) দেখভালের দায়িত্ব ছিল এই শিক্ষকের ছদ্মবেশধা...

‘বিষাদ-সিন্ধু’: কারবালার ইতিহাস না সাহিত্যিক কল্পনা

   বাংলা সাহিত্যে কারবালার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রচিত সবচেয়ে প্রভাবশালী গ্রন্থ নিঃসন্দেহে বিষাদ-সিন্ধু । ১৮৮৫ থেকে ১৮৯১ সালের মধ্যে তিন খণ্ডে প্রকাশিত মীর মশাররফ হোসেনের এই উপন্যাস বাঙালি মুসলিম সমাজে কেবল একটি সাহিত্যকর্ম হিসেবে থাকেনি, বরং মহররম ও কারবালার মূল বয়ানে পরিণত হয়েছে। কিন্তু ইতিহাসের সাপেক্ষে পড়লে একটি স্বাভাবিক প্রশ্ন ওঠে: মীর মশাররফ হোসেন কি ইতিহাস লিখেছিলেন, নাকি ইতিহাসের পটভূমিতে দাঁড়িয়ে একটি সাহিত্যিক কল্পনা গড়ে তুলেছিলেন? ইমাম হাসান (রা.) সেই জয়নবকে বিয়ে করেন এবং এখান থেকেই উমাইয়াদের সঙ্গে রাসুল পরিবারের শত্রুতা চূড়ান্ত রূপ নেয়—ঐতিহাসিক দলিলে এই আখ্যানের কোনো ভিত্তি পাওয়া যায় না। সাহিত্য ও ইতিহাসের মধ্যকার দূরত্ব ইতিহাস আর উপন্যাসের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য আছে। ইতিহাস নির্ভর করে প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ ও প্রামাণিক দলিলের ওপর; উপন্যাস নির্ভর করে লেখকের কল্পনা ও জীবনদর্শনের ওপর। মীর মশাররফ হোসেন নিজেই ‘বিষাদ-সিন্ধু’র ভূমিকায় স্বীকার করেছেন যে উপন্যাসের প্রয়োজনে তাঁকে কল্পনার সহায় নিতে হয়েছে। সমস্যাটি অন্যত্র। সাধারণ পাঠক যখন ঘরে ঘরে এই বই পড়তে শুরু...

সংকট মোকাবিলায় হোসাইন (রা.)-এর জীবন থেকে ৭ শিক্ষা

  ইতিহাসের কিছু ঘটনা সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে চিরন্তন শিক্ষায় পরিণত হয়। কারবালা তেমনই একটি ঘটনা। এর কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন নবীজি (সা.)-এর দৌহিত্র হোসাইন (রা.), যিনি অবিচল ইমান, নৈতিক দৃঢ়তা, আত্মমর্যাদা ও ত্যাগের এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, যা যুগে যুগে মানুষের সংকট মোকাবিলার অনুপ্রেরণা হয়ে আছে। ১. নৈতিক দৃঢ়তা ৬১ হিজরির ১০ মহররম কারবালার প্রান্তরে হোসাইন (রা.) এমন কঠিন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হন, যেখানে দৃশ্যমান বাস্তবতায় বিজয়ের সব পথ রুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবু নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে তিনি আপস করেননি। সংখ্যায় অল্প হওয়া কিংবা পার্থিব ক্ষতির আশঙ্কা তাঁকে সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। শিক্ষা: নৈতিক মূল্যবোধের প্রশ্নে দৃঢ় থাকা একজন মুমিনের মৌলিক বৈশিষ্ট্য। ব্যক্তি ও সমাজজীবনে নানা চাপ, ভয় ও প্রলোভনের মুখেও নীতিগত অবস্থান অটুট রাখতে পারলেই প্রকৃত চরিত্রের পরিচয় দেওয়া সম্ভব। ২. সংকটকালে ধৈর্য ও সহনশীলতা কারবালা প্রান্তরে পানির সরবরাহ বন্ধ, পরিবার ও সঙ্গীদের অবরুদ্ধ অবস্থা এবং মৃত্যুর অবশ্যম্ভাবী আশঙ্কার মধ্যেও হোসাইন (রা.) ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। প্রতিকূলতার চাপে তিনি...

হালাল ক্যারিয়ার গঠনে ইসলামের ৫ নীতি

  জীবিকা নির্বাহের জন্য চাকরি, ফ্রিল্যান্সিং বা যেকোনো পেশা বেছে নেওয়া মানুষের জীবনের একটি বড় অংশ। অনেকেই মনে করেন ইসলাম কেবল ব্যবসা–বাণিজ্যের নিয়ম নির্ধারণ করেছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে চাকরিজীবী, করপোরেট কর্মী ও নিয়োগকর্তাদের জন্যও শরিয়ত দিয়েছে অমোঘ কিছু নীতিমালা। কর্মক্ষেত্রে সততা বজায় রাখা ও কর্মীর অধিকার নিশ্চিত করা ইসলামের দৃষ্টিতে কেবল পেশাগত দায়িত্ব নয়; বরং এটি একটি বড় ইবাদত। কর্মক্ষেত্রে সততা ও হালাল ক্যারিয়ার গড়ে তোলার এমন পাঁচটি সোনালি ইসলামি নীতি নিচে আলোচনা করা হলো। ১. শর্তের প্রতি শতভাগ অনুগত থাকা যেকোনো সংস্থায় যোগ দেওয়ার সময় যে কাজের বিবরণ (জব ডেসক্রিপশন) ও শর্তাবলি নির্ধারণ করা হয়, তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা প্রত্যেক কর্মীর ধর্মীয় দায়িত্ব। কোনো ব্যক্তি যদি নির্দিষ্ট বেতনের বিনিময়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়, তবে অলসতা বা অবহেলার কারণে কাজের সময় নষ্ট করলে তার বেতন থেকে বরকত কমে যায় এবং সে আমানতের খেয়ানতকারী হিসেবে গণ্য হয়। (ইবনে কুদামাহ, আল–মুগনি, ৬/৪৩, মাকতাবাতুল কাহেরা, কায়রো, ১৯৬৮) নিয়োগকর্তা বা বসের জন্য সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো কর্মীর কাজের মূল্যায়ন করা এবং ত...

‘ওয়াক্ফ’ যেভাবে গড়ে তুলেছিল মুসলিম নগরসভ্যতা

  প্রাচীন ইসলামি নগরীগুলোর দিকে তাকালে স্থাপত্যকে শুধু পাথরের স্তূপ মনে হয় না—মনে হয় প্রতিটি দেয়াল, প্রতিটি তোরণ যেন একটা করে গল্প বলছে। প্রতিটি ইমারতের পেছনে আছেন এক দানশীল মানুষ, যিনি আজ বেঁচে নেই, কিন্তু রয়ে গেছে তাঁর একটা স্থায়ী সৎকাজ—একটা ওয়াক্‌ফ। আর তার ফল ভোগ করছে আজকের জীবন্ত শহরটা। মিসরীয় ভূগোলবিদ জামাল হামদান একবার বলেছিলেন, ভূগোলের কাজ কোনো অঞ্চলের শুধু বাহ্যিক রূপটা দেখা নয়, বরং তার আত্মাকে খোঁজা। (জামাল হামদান, শাখসিয়্যাতু মিসর: দিরাসা ফি আবকারিয়্যাতিল মাকান, কায়রো: দারুল হিলাল, ১৯৯৩) ইসলামি শহরের ক্ষেত্রে এই খোঁজ চালালে দেখা যায়, তার আত্মাটা হলো ওয়াক্‌ফ—মানুষের কল্যাণে উৎসর্গ করা সম্পদ। আমাদের কাছে ওয়াক্‌ফ মানে সাধারণত মসজিদের পাশে একটু জমি দান করা বা এতিমখানায় কিছু সদকা করা। কিন্তু নগর পরিকল্পনার দৃষ্টিতে দেখলে বোঝা যায়, ওয়াক্‌ফ আসলে একটা শহর গড়ে তোলার মূল শক্তি ছিল। ফিকহের ভাষায় ওয়াক্ফ মানে—মূল সম্পত্তিটা চিরতরে আটকে রেখে তার থেকে আসা লাভ জনকল্যাণে খুলে দেওয়া। (কামিল আবু সাকর, আল-আওলামাতুত তিজারিয়্যা ওয়াল ইদারিয়্যা ওয়াল কানুনিয়্যা: রুইয়া ...

প্রথম খলিফা আবু বকর (রা.)-এর বেতন-ভাতা কত ছিল

  খলিফা হয়েই আবু বকর (রা.) একটি ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। তাতে তিনি বলেন, ‘লোক সকল, আপনাদের মধ্যকার সবচেয়ে উত্তম ব্যক্তি যদিও আমি নই, তবু আমাকে আপনাদের দায়িত্বশীল নির্বাচিত করা হয়েছে। যদি এ ক্ষেত্রে আমি কল্যাণের দিকে এগোই, তবে আপনারা আমাকে সহযোগিতা করবেন; আর বিপথে গেলে আপনারাই আমাকে সঠিক পথে নিয়ে আসবেন।’ (ইবনে জারির তাবারি, তারিখুল উমামি ওয়াল মুলুক, ৩/২১০, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, ১৯৮৭) খলিফার বেতনের উদ্যোগ আবু বকর (রা.) খলিফা হয়েছেন; বলা যায় একরকম পিড়াপিড়ি করেই তাঁকে এই মহান দায়িত্বে বসানো হয়। পরদিনই তিনি কাপড়ের গাট্টি মাথায় নিয়ে সাধারণ মানুষের মতো বাজারের দিকে রওনা হন। তিনি মূলত কাপড় ব্যবসায়ী ছিলেন এবং এতেই তাঁর সংসার চলত। হজরত ওমর (রা.) বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি। তিনি খলিফাকে আবু উবায়দা (রা.)-এর কাছে নিয়ে যান। খলিফাকে যৎসামান্য বেতন-ভাতা নিতে রাজি করানো হয়। মৃত্যুর সময় তিনি পরবর্তী খলিফার জন্য যা রেখে গিয়েছিলেন, তা হচ্ছে স্রেফ একটি দাস, একটি গামলা ও একটি সাধারণ চাদর। বেতন–ভাতা নির্ধারণ হয় প্রথম অবস্থায় রাষ্ট্রীয় কোষাগার (বায়তুল মাল) থেকে তাঁর জন্য প্রতিদিন অর্ধেক ভেড়া, বার্ষিক ...

কাজি শুরাইহ: ইসলামের বিচার বিভাগীয় ইতিহাসের উজ্জ্বল নক্ষত্র

  ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে কাজি শুরাইহ (র.) তাঁর মেধা, প্রজ্ঞা ও ন্যায়নিষ্ঠার মাধ্যমে অমর হয়ে আছেন। ‘ন্যায়বিচারের ইমাম’ হিসেবে পরিচিত এই মহান ব্যক্তি প্রায় পঁচাত্তর বছর বিচারকের আসনে আসীন ছিলেন। তাঁর বিচারকক্ষের পরিবেশ ছিল ইনসাফে পরিপূর্ণ। বিচারক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সর্বদা পবিত্র কোরআনের এই আয়াতটি তেলাওয়াত করতেন, “হে দাউদ! আমি তোমাকে পৃথিবীতে খলিফা বানিয়েছি, অতএব তুমি মানুষের মধ্যে ন্যায়ের সঙ্গে বিচার করো এবং খেয়াল-খুশির অনুসরণ করো না।” (সুরা সদ, আয়াত: ২৬) পরিচয় ও প্রারম্ভিক জীবন শুরাইহ ইবনুল হারিস ইবনে কায়েস আল-কিন্দি ছিলেন বংশগতভাবে ইয়েমেনি। তিনি আইয়ামে জাহেলিয়াত বা প্রাক-ইসলামি যুগ পেয়েছিলেন। আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর জীবদ্দশাতেই তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন, তবে সরাসরি তাঁর সাক্ষাৎ লাভের সুযোগ পাননি বলে তাঁকে ‘তাবেয়ি’ হিসেবে গণ্য করা হয়। আমল ও ইলমের গভীরতায় তিনি সমকালীন মুসলিম সমাজে অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। নিয়োগ ও বিচারিক জীবন কাজি শুরাইহের বিচারিক মেধার পরিচয় পেয়ে খলিফা ওমর (রা.) তাঁকে কুফার কাজি বা বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেন। নিয়োগের সময় ওমর (রা.) তাঁকে এক ঐতিহা...

মুসলিম সভ্যতায় প্রকাশনা শিল্প: একটি অজানা অধ্যায়

  পাশ্চাত্যের জ্ঞানতাত্ত্বিক ইতিহাসে ১৪৫০ খ্রিষ্টাব্দে জার্মান উদ্ভাবক জোহানেস গুটেনবার্গ কর্তৃক মুদ্রণযন্ত্র আবিষ্কারকে মানবসভ্যতার ইতিহাসের একটি বড় মোড় হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু এই আবিষ্কারের কয়েক শতক আগেই যখন ইউরোপে কাগজের ব্যবহার পর্যন্ত সীমিত ছিল, তখন ইসলামি সভ্যতায় গড়ে উঠেছিল এক সুবিশাল ও সুশৃঙ্খল কিতাব-প্রকাশনাশিল্প। আরবি সাহিত্যে এই পেশাকে বলা হয় ‘ওয়াররাকা’ এবং এই পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষদের বলা হতো ‘ওয়াররাক’। হিজরি দ্বিতীয় শতকে আব্বাসীয় আমলে বাগদাদে কাগজ তৈরির কারখানা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এই প্রকাশনাশিল্প দ্রুত বিস্তার লাভ করে। আজকের প্রকাশকদের অনেকটা পূর্বসূরি ছিল এই ওয়াররাক সম্প্রদায়, যারা পাণ্ডুলিপি অনুলিপি, বাঁধাই ও বিক্রির কাজে যুক্ত ছিল। আব্বাসীয় আমলে বাগদাদে কাগজ তৈরির কারখানা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এই প্রকাশনাশিল্প দ্রুত বিস্তার লাভ করে। আজকের প্রকাশকদের পূর্বসূরি ছিল এই ওয়াররাক সম্প্রদায়। ইমামদের পরিশ্রমী ‘ওয়াররাক’ বড় বড় ইমামদের অনেকের নিজস্ব ওয়াররাক বা ব্যক্তিগত অনুলিপিকার ছিলেন। ইমাম মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারির (মৃ. ২৫৬ হি.) সঙ্গী ওয়াররাক মুহাম...