~গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ও স্বরাষ্ট্র
মন্ত্রণালয় গভীর নিদ্রায় মগ্ন~ ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট, ইন্ডিয়ান লেখক ও গণমাধ্যম পরামর্শক সুদীপ চক্রবর্তী গণঅভ্যুত্থানের বিপ্লবী রূপান্তরের চূড়ান্ত পর্বে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যান। তখন তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ইউল্যাব-এ সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। তবে তাঁর আসল উদ্দেশ্য যে শিক্ষকতা নয়, গোয়েন্দাবৃত্তি তা পর্যবেক্ষকমলে অনেকেরই জানা ছিল। ঢাকায় ফ্যাসিবাদের যুগে দায়িত্বপালনকারী ইন্ডিয়ান হাইকমিশন হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার কথা ভুলে যাবার নয়। যিনি সেদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয় থেকে অবসরের পর হিন্দু মৌলবাদী ক্ষমতাসীন বিজেপি’র নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন এবং ইন্ডিয়ার রাজ্যসভার সদস্যও মনোনীত হয়েছেন। তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু এই সুদীপ চক্রবর্তী। মেয়ো কলেজে পড়ার সময়কার শৈশবের বন্ধু, দু’জনের মধ্যে মতাদর্শ, রাজনীতি এবং সাংস্কৃতিক বন্ধন দীর্ঘদিনের। পর্যবেক্ষক মহল মনে করে, ঢাকায় সুদীপ চক্রবর্তীর উপস্থিতি ছিল কৌশলগত। বিজেপিপন্থী কূটনীতিক হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যাবার পর তার তৈরি করা অ্যাসেটদের (এজেন্টদের) দেখভালের দায়িত্ব ছিল এই শিক্ষকের ছদ্মবেশধারই ‘র’-এর (ইন্ডিয়ার কুখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থা) কর্মকর্তার। তার কাজ ছিল বাংলাদেশের খুনি হাসিনার অনুসারী চেতনাপন্থী শিক্ষক, সাংবাদিক ও কবি-সাহিত্যিকদের ইন্ডিয়ার প্রভাববলয়ে সংগঠিত রাখা। ফ্যাসিবাদের দুঃশাসনকালে বাংলাদেশবিরোধী ইন্ডিয়ার গোয়েন্দাদের এই নির্দিষ্ট চ্যানেলটির পৃষ্ঠপোষকতা করত বাটপার কর্নেল কাজী শাহেদ আহমেদের পরিবার, তাদের ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস (ইউল্যাব), ঢাকা ট্রিবিউন, বাংলা ট্রিবিউনসহ জেমকন গ্রুপের বিভিন্ন কোম্পানির মাধ্যমে। দুর্বৃত্ত শাহেদের মেঝ ছেলে কাজী আনিস আহমেদ (দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত ও পলাতক) সেই সময় এই সুদীপ চক্রবর্তীকে উদারভাবে পুরস্কৃত করেছিল। ইন্ডিয়ান এস্টাবলিশমেন্টের সঙ্গে কাজী পরিবারের ও জেমকন গ্রুপের বিশেষ সম্পর্কের কারণে এরা ঐতিহাসিকভাবে ব্যাপক মুনাফা লুটে কয়েক হাজার কোটি টাকার মালিক বনেছে। স্বৈরাচারী ও দুর্নীতিগ্রস্ত পচা জেনারেলের এরশাদের আমল থেকেই বড় বড় সরকারি কন্ট্রাক্ট বাগানো শুরু করে বাটপার কর্নেল কাজী শাহেদ আহমেদ। যে ধারা পরবর্তীকালে দুইটি বিএনপি সরকার (যদিও লোকটি শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়া, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-বিদ্বেষী ছিল), খুনি হাসিনার প্রথম সরকার, এক এগারোর মিলিটারি-ব্যাকড তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং ফ্যাসিবাদের ১৫ বছর অব্যাহত ছিল। এই কর্নেল শাহেদের অর্থে পুষ্ট হয়ে “আজকের কাগজ” নামক ইন্ডিয়ার স্বার্থ অনুকূলে যে পত্রিকাটি ৯০-এর দশকে প্রকাশিত হয়েছিল, সেটির মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ও ইসলামবিরোধী কুৎসা রটনা করে জনমনের প্রকৃত দেশপ্রেমিক শক্তির বিরুদ্ধে বৈরী মনোভাব তৈরি করা। “আজকের কাগজ” প্রজেক্টের মাধ্যমে তখন কয়েকশত তরুণ, তরুণীকে সাংবাদিকতা পেশায় নিয়ে এসে নাঈমুল ইসলাম খান (খুনি হাসিনার প্রেস সচিব) ও মতিউর রহমানসহ (সম্পাদক, প্রথম আলো) আরও কিছু ঝানু অপারেটর মিলে প্রশিক্ষিত করেছিল ইন্ডিয়া অনুরাগ সৃষ্টির পাশাপাশি স্বদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিরোধিতার শিক্ষা-দীক্ষায়। সাংবাদিকতার নামে দেশ-বিধ্বংসী এই ধারা আজও প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ঢাকা ট্রিবিউন, বাংলা ট্রিবিউন, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডাড-সহ আরো কিছু গণমাধ্যম তাদের সাংবাদিকতার ছদ্মাবেশে অব্যাহতভাবেই চালাচ্ছে। সেজন্যেই কাজী নাবিল আহমেদকে দেওয়া ইন্ডিয়ান গোয়েন্দাদের কাজ তার অবর্তমানে এখন সম্পন্ন করার দায়িত্ব নিয়েছেন ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম। কখনও দেখা যাবে অন্য কোনো ক্ষেত্রে এই দায়িত্ব পালন করছেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান অথবা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর সম্পাদক এনাম আহমেদ আর ঢাকা ট্রিবিউন ও বাংলা ট্রিবিউনের মতো আরো অনেক গণমাধ্যম তো আছেই! “পলাশীর যুদ্ধ এবং স্বাধীন বাংলার পতন একটি পুনর্মূল্যায়ন” নামে আজ দ্য ডেইলি স্টার তাদের ইতিহাস আড্ডায় (২০ জুন, শনিবার, বিকেল ৫:৩০ টায়) ইন্ডিয়া থেকে আমন্ত্রণ জানিয়ে ঢাকায় ডেকে এনেছে কুখ্যাত এই ‘র’ অপারেটর সুদীপ চক্রবর্তীকে। এভাবেই মাহফুজ আনামরা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ, খুনি হাসিনা এবং ইন্ডিয়ার স্বার্থানুকূল কবি, লেখক, সাহিত্যিক, সাংবাদিকদের পুনঃপ্রতিষ্ঠার কাজে তৎপর হয়ে উঠেছেন। দেশবিরোধী এই অপকর্ম কে, কারা, কখন, কিভাবে এবং কোন বিদেশি সংস্থার অর্থ ও পৃষ্ঠপোষকতায় সম্পন্ন বা সম্পাদন করছে সে বিষয়ে ডিজিএফআই, এনএসআই এবং এসবি’র কোন সার্ভেলেন্স বা মনোযোগ আছে বলে তাদের কাজ কোন প্রমাণ বহন করে না। এই সুদীপ চক্রবর্তীকে ধরে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে জানা যাবে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া কাজী আনিস আহমেদ ও তার দুই ভাই কাজী নাবিল আহমেদ ও কাজী ইনাম আহমেদ এখন কোথায়, কোন দেশে আছে এবং খুন, গুম ও দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত হয়ে দেশ ছেড়ে ইন্ডিয়ায় আশ্রয় নেওয়া অন্যান্য কুখ্যাত অপরাধী সম্পর্কে তার কাছ থেকে বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। দেশের অভ্যন্তরে সদাসক্রিয় সার্বভৌমত্ববিরোধী সফট পাওয়ারের নানান তৎপরতার বিষয়ে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো আগ্রহ আছে বলে মনে হয় না। উপরন্ত সেখানে যখন দায়িত্বে আছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শিলং সালাউদ্দিন তখন তেমন কিছু আশা করাই বৃথা।
প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...
Comments
Post a Comment