Skip to main content

Posts

Showing posts from February, 2021

খ্যাতির মোহাবিষ্ট সমাজব্যবস্থা

  বর্তমানে আমরা এমন এক সমাজে বাস করি যেখানে বাহ্যিক সাফল্যগুলোই মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু। এই সমাজে তুলনামূলক কম দৃশ্যমান, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ও আন্তরিক প্রচেষ্টাগুলোকে অধিকাংশ সময়ই সেভাবে উৎসাহিত বা মূল্যায়ন করা হয় না, যা আসলে আমাদের সমাজ ব্যবস্থার একটি দুমুখো চরিত্রকে ফুটিয়ে তোলে। তাই স্বাভাবিকভাবেই, যারা এই সমাজের পরিবর্তনের জন্য আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছেন এবং ব্যক্তিগত জীবনে নানা চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করে যাচ্ছেন( যা অধিকাংশ সময়ই লোকচক্ষুর আড়ালেই থাকে), তারা মনে করেন তাদের প্রচেষ্টা নানা খ্যাতি সম্পন্ন ব্যক্তি হতে কম, এবং তারা এই ভালো কাজ করে কখনই সেলিব্রেটিদের মতন সম্মানের অংশীদার হতে পারবেন না! স্বভাবতই তাই তারা ধীরে ধীরে এসব কাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন, এবং কখনো কখনো বিষণ্নতায় আক্রান্ত হন। এদের মাঝে অনেকেই আবার নৈতিক অবক্ষয় এবং পারিবারিক ও সামাজিক দায়িত্বজ্ঞান বিসর্জন দিয়ে, সমাজের চোখে সফল ব্যক্তি হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেন! মজার বিষয় হলো, আমরা অনেকেই লক্ষ করি না যে, বাহিরে যাকে এত আকর্ষণীয় মনে হচ্ছে, আদৌ তার ভেতরে আত্মিক দীনতা ব্যতীত আর কিছু আছে কি!? এমন খ্যাতির মোহাব...

প্যারেন্টিং

  ১. সন্তানের মানসিক সুস্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অভিভাবকের মানসিক সুস্থতা। তাই সবার আগে নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিন। ২. সন্তানের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন। তাকে আশ্বস্ত করুন যে, আপনি তাকে বিশ্বাস করেন, এবং সে নির্ভয়ে যেকোনো কথা আপনার সাথে শেয়ার করতে পারে। ৩. নিজস্ব দাম্পত্যের যত্ন নিন। সুখী দাম্পত্য সাহসী, আত্মবিশ্বাসী এবং আত্মনির্ভরশীল সন্তান গড়ে তোলার মূলমন্ত্র! ৪. শিশুর মানসিক সুস্বাস্থ্যের জন্য সঙ্গতিপূর্ণ প্যারেন্টিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একজন শিশু সবসময় মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে চায় - কোনটি সঠিক, কোনটি সঠিক নয়, ভুল করলে তার কি শাস্তি হতে পারে এসব বিষয়ে। তাই অভিভাবকত্বের ক্ষেত্রে, এসব বিষয়ে পরিবারের সবার সামঞ্জস্য থাকা উচিত। ৫. যেহেতু জীবনে স্ট্রেস অবশ্যম্ভাবী, বাচ্চাকে শৈশব কাল থেকেই স্ট্রেস ম্যানেজমেন্টের বিভিন্ন কৌশল শেখান। এতে ছোটখাটো দুশ্চিন্তা নিজে থেকেই সে মোকাবেলা করতে পারবে। ৬. সন্তানের মাঝে প্রতিটি ঘটনাকে দেখার ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ফুটিয়ে তুলুন। জীবনে খারাপ সময় আসবে এবং তা ধীরে ধীরে কেটে যাবে - এই মানসিকতাকে উৎসাহিত করুন। ৭. শৈশব কা...

ব্যক্তিত্বকে শক্তিশালী করতে...

  ১. ব্যক্তিত্বকে শক্তিশালী করতে প্রথমেই যে জিনিসটা আপনার মধ্যে প্রয়োজন তা হলো মানুষের কথা মনোযোগ সহকারে শোনার ক্ষমতা। সামনের মানুষটার থেকে প্রতি মুহূর্তে যে কত কিছু শেখার আছে, আপনি কখনোই বুঝবেন যদি না তার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন! ২. প্রতিদিন অন্তত ১ জন নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হওয়ার চেষ্টা করুন। মানুষ কত বৈচিত্র্যময় আপনার এখনো কোনো ধারনাই নাই এবং সম্ভবত শেষ বয়স পর্যন্ত আমাদের সে বিষয়ে আসলেই কোনো ধারণা হওয়া সম্ভবও না! ৩. আপনার চালচলনের ও ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিন। মোট কমিউনিকেশনের ৯৩% হয়ে থাকে আচার-আচরণের মাধ্যমে। তাই আপনি কীভাবে হাঁটছেন, কিভাবে হাত নাড়ছেন -এগুলো আপনার ব্যক্তিত্বের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ৪. অনেক সময় দেখবেন, অনেকে মতামতের সাথে আমরা শতভাগ একমত নই, কিন্তু তার বাচনভঙ্গি এতই চমৎকার যে কথাগুলো শুনতে ভালো লাগছে। তাই ব্যক্তিত্বের জন্য বাচনভঙ্গি খুব গুরুত্বপূর্ণ। ৫. প্রতিদিন অবশ্যই নিজের জন্য কিছু সময় রাখুন। আপনি যা পছন্দ করেন, সেই কাজটুকু নিজের জন্য রাখা সময়টিতে করুন। এর ফলাফল আপনি নিজেই দেখতে পাবেন। ৬. সপ্তাহে অন্তত ১ টি নতুন বই পড়ার অভ্যাস করুন। সম্পূর্ণ...