Skip to main content

প্যারেন্টিং

 


১. সন্তানের মানসিক সুস্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অভিভাবকের মানসিক সুস্থতা। তাই সবার আগে নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিন।

২. সন্তানের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন। তাকে আশ্বস্ত করুন যে, আপনি তাকে বিশ্বাস করেন, এবং সে নির্ভয়ে যেকোনো কথা আপনার সাথে শেয়ার করতে পারে। ৩. নিজস্ব দাম্পত্যের যত্ন নিন। সুখী দাম্পত্য সাহসী, আত্মবিশ্বাসী এবং আত্মনির্ভরশীল সন্তান গড়ে তোলার মূলমন্ত্র! ৪. শিশুর মানসিক সুস্বাস্থ্যের জন্য সঙ্গতিপূর্ণ প্যারেন্টিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একজন শিশু সবসময় মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে চায় - কোনটি সঠিক, কোনটি সঠিক নয়, ভুল করলে তার কি শাস্তি হতে পারে এসব বিষয়ে। তাই অভিভাবকত্বের ক্ষেত্রে, এসব বিষয়ে পরিবারের সবার সামঞ্জস্য থাকা উচিত। ৫. যেহেতু জীবনে স্ট্রেস অবশ্যম্ভাবী, বাচ্চাকে শৈশব কাল থেকেই স্ট্রেস ম্যানেজমেন্টের বিভিন্ন কৌশল শেখান। এতে ছোটখাটো দুশ্চিন্তা নিজে থেকেই সে মোকাবেলা করতে পারবে। ৬. সন্তানের মাঝে প্রতিটি ঘটনাকে দেখার ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ফুটিয়ে তুলুন। জীবনে খারাপ সময় আসবে এবং তা ধীরে ধীরে কেটে যাবে - এই মানসিকতাকে উৎসাহিত করুন। ৭. শৈশব কাল থেকেই শিশুকে নিজের অনুভূতিগুলো সাথে পরিচিত হতে সাহায্য করুন এবং তা নিয়ন্ত্রণ করতে শেখান। ৮. ব্যর্থতা মেনে নিয়ে, নতুন করে পথচলা শুরু চলার গল্প করুন। ৯.সন্তানকে যতটুকু সম্ভব সময় দিন; তাদের সাথে খেলুন, হাসুন, গল্প করুন, শেখান। ১০. সুস্থ মনের গুরুত্ব বলুন এবং প্রয়োজনে সাহায্য চাইতে উৎসাহিত করুন। Positive Parenting এর মাধ্যমে আপনি বুঝতে পারবেন কখন আপনার সন্তানের মন খারাপ, কতটুকু সমস্যায় সাহায্য দরকার, আর কতখানি অভিভাবক হিসাবে আমাদের হাতে আছে! সুস্থ সন্তান গড়ে তুলুক সুস্থ সমাজ । প্যারেন্টিং এর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে কম আলোচিত প্রসঙ্গ সম্ভবত, আদৌ কি আমরা প্যারেন্ট হওয়ার জন্য প্রস্তুত কিনা!? অভিভাবকত্বের পরিকল্পনার জন্য অনেকগুলো বিষয় জরুরি, তার মাঝে কিছু জিনিস সবসময় মাথায় রাখা দরকার - ১. সন্তানের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার সময়, লাইফ পার্টনারের সাথে কথা বলে নিন। শুধুমাত্র সমাজ বা পরিবারের সদস্যদের চাপে পড়ে সন্তান গ্রহণে সিদ্ধান্ত নেবেন না। তাদের চেয়ে আপনাদের তৈরি থাকা জরুরি।। ২. স্বামী-স্ত্রীর নিজেদের মাঝে সমস্যা থাকলে তার সমাধান করে, এরপর সন্তান পরিকল্পনা বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ অধিকাংশ সময়েই, সন্তানকে সব সমস্যার সমাধান মনে করা হলেও, সন্তানকে সমস্যার ভাগিদার হতে দেখা যায়! ৩. সব সময় মনে রাখবেন, সন্তান জন্মদানের মাধ্যমে আপনি সন্তানের উপর কোন অনুগ্রহ করছেন না; বরং শিশু আপনার জীবনে আসার মাধ্যমে আপনার জীবনকে সুন্দর করে তুলছে! ৪. সন্তান পরিকল্পনার ক্ষেত্রে,নিজেদের মানসিক, শারীরিক, আর্থিক পরিবর্তনের ব্যাপারে নিজেরা কথা বলে নিন। ৫. অভিভাবক হিসাবে, আপনার হতাশা, আফসোস, নিজ জীবনে ব্যর্থতার ভিকটিম যাতে সন্তান না হয়, সেটি খেয়াল রাখা আপনার দায়িত্ব। ৬. পরিবারে নতুন শিশু এলে, দাম্পত্যের যে বাস্তব পরিবর্তন ঘটবে, তার ব্যাপারে আলোচনা করে নিন। ৭. সন্তানকে বিলাসিতা নয়, বরং নীতিবোধ শিক্ষা দেয়ার জন্য আপনারা কতটুকু প্রস্তুত? ৮. সবশেষে, কেউই আসলে সন্তানের বিষয়ে সবকিছু আগে পরিকল্পনা করে নিতে পারে না! তাই, অভিভাবকত্বকে উপভোগ করার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চিন্তা রাখুন। পরিকল্পনায় আনন্দের হোক প্যারেন্টিং!
**********************
যদি প্রশ্ন করা হয়, জীবন থেকে আপনি কি চান? অথবা জীবন আপনার থেকে কি কি অর্জনের অধিকার রাখে? উত্তর দিতে পারবেন? আমরা প্রতিদিন এমন বহু মানুষের মুখোমুখি হই, যাদের ভাল না থাকার আসল কারণ হল- তারা জানেন না, তাদের লক্ষ্য কি! ধরুন,আপনি একটি জাহাজে আছেন, আপনি জানেন না এর গন্তব্য কোথায়! জাহাজ স্রোতের সাথে চলছে, আপনার ভালই লাগছে।এখন যাত্রাপথে ঝড় উঠল,আপনি ভড়কে গেলেন! যেহেতু আল্টিমেট লক্ষ্য আপনারা জানা নেই, আপনি এর সাথে মোকাবিলা করার সাহস কোথায় পাবেন!? আমাদের জীবনও এই জাহাজের মত।চড়াই -উৎরাই আমাদের প্রতিদিনের সঙ্গী! সবকিছু মোকাবেলা করে সামনে যাওয়ার সাহস আমাদের তখনই থাকবে, যখন জানা থাকবে আমি কি চাই, কেন চাই, কিসের বিনিময়ে চাই। এই প্রশ্নের উত্তর হবে চিরন্তন! আমাদের শত ব্যস্ততার কোনই অর্থ থাকে না, যদি না আমরা জীবনকে ভাল রাখতে পারি, হাজারো ছোট- বড় অর্জন অর্থহীন হয়ে যায়, যদি আমরা দীর্ঘমেয়াদি যন্ত্রণায় থাকি। এই মানুষেরা কখনো পথচলায় আমাদের মুখাপেক্ষী হন,কখনো বা নিজেদের কষ্ট নিয়ে বসবাসকেই নিয়তি হিসাবে গ্রহণ করে নেন! আসুন, একটু সময় নেই। একটু থমকে দাঁড়াই। একটু ভাবি, আমি কি আসলে এটাই চেয়েছিলাম? জীবনকেও প্রশ্ন করি," জীবন,তুমি ভাল আছ তো? আমি তোমার প্রতি সুবিচার করছি তো?"

source-lifespring limited/youtube

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...