Skip to main content

Posts

Showing posts from June, 2024

এক ফালি কাগজের সার্টিফিকেট

  কেউ ছাব্বিশ বছর লেখাপড়া করে বেকার বসে আছে আর কেউ এই বয়সে বাবা মায়ের জন্য কোটি টাকার গাড়ি কিনে আনে। মানুষ বাঁচে কয় দিন। বাবা মা আর থাকবে কয় বছর। লেখাপড়া করে বাবা মা কে একটা সেকেন্ড হ্যান্ড Toyota গাড়ি কিনে দিতে দিতে আয়ু শেষ হয়ে যায়। লেখাপড়া করতে করতে ছেলে মেয়েদের বিয়ের বয়স পার হয়ে যায়। চাকরি খুঁজতে খুঁজতে নিজের প্রতি নিজের সম্মান হারিয়ে যায়। কেবল এক ফালি কাগজের সার্টিফিকেট ছাড়া আর কিছুই থাকে না গর্ব করার মত। যেই সার্টিফিকেট দিয়ে কোনো চাকরি হয় না। কেউ দাম দেয় না। পৃথিবীর সবচেয়ে ঋণাত্মক বিনিয়োগ হচ্ছে সার্টিফিকেট এর পিছে বিনিয়োগ। যে পরিমাণ শ্রম আপনি লেখাপড়ার দিয়েছেন তার সিকিভাগ যদি অন্য কোন ক্ষেত্রে দিতেন আজ আরও অনেক বেশি সফল হয়ে আপনি সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে পারতেন ইনশাআল্লাহ। কেউ কেউ দাবি করতে পারে লেখাপড়া হচ্ছে কেবল জ্ঞানের জন্য। কিন্তু বাস্তব হচ্ছে আমাদেরকে স্বপ্ন দেখানো হতো একটি সুন্দর চাকরি, সুন্দর জীবন, সম্মাজনক বেতন এবং সাজানো গোছানো সংসার দিবে এই পড়াশোনা। কিন্তু বাস্তবে যখন আমরা সম্পূর্ণ বিপরীতটা দেখি তখন নিজেকে সান্ত্বনা দিতে নিজের সাথে মিথ...

মিসকিনদের খাওয়ানো

  ইসলাম আমাদেরকে ক্ষুধামুক্ত সমাজ উপহার দিবে। কোরানের পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে মিসকিনদের খাওয়ানোর কথা। এমনকি কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভঙ্গ করে তার প্রায়শ্চিত্ত হচ্ছে ৬০ জন মিসকিনকে পেট ভরে এক বেলা খাওয়ানো। আবার কেউ যদি কসম ভঙ্গ করে তার শাস্তি হচ্ছে ১০ জন মিসকিনকে পেট ভরে খাওয়ানো। আল্লাহ কিন্তু বলেন নাই যে রোজা না রাখলে তোমরা মসজিদে কিছু টাকা দান করো কিংবা মসজিদের মিনার উঁচু কর বা হুজুর ডেকে খাওয়াও। অন্যান্য ধর্ম্যার ক্ষেত্রে আমরা সাধারণত এমন দেখি না। বরং দেখি যে পাপের প্রায়শ্চিত্তের ব্যয় যায় মন্দিরে, গির্জায় অথবা পুরোহিতদের কাছে। এখানেই ইসলাম ধর্মের সৌন্দর্য। কেবল তাই না। সূরা ইয়াসিনে বলা যারা কাফের, তারা বলে আমরা কি তাদেরকে খাওয়াবো যাদেরকে আল্লাহ চাইলে নিজেই খাওয়াতে পারতেন? একই ধরণের বর্ণনা আমরা পাই সুরা মাউনে। বিচার দিবস অস্বীকারকারীর পরিচয় দিতে গিয়ে বলা হয়েছে এমন ব্যক্তি মিসকিনদেরকে খাওয়ানোর ব্যাপারে উৎসাহিত করে না। কেবল তাই না। জাকাতের মাধ্যমে সরাসরি ধনীদের টাকা গরিবদেরকে দিতে বলা হয়েছে। আবার বলা হয়েছে এটা গরিবের হক। ধনীর দয়া না। তার পাশাপাশি মুসলিমদের ব্যাপক সদক...

আমাদের স্বপ্ন আসলে ফেরাউনের

আমাদের স্বপ্ন আসলে ফেরাউনের। আমরা চাই তার মত বিলাসিতায় থাকবো, ক্ষমতাবান হবো, কথায় কথায় হুকুম করবো। থাকবে এক গাদা কর্মচারী ও অনেক গুলো সুন্দরী স্ত্রী। মুখে বলি সুন্নত পালন করতে বেশী বিয়ে করবো কিন্তু বাস্তবে কোন অসহায় নারী বিয়ে করতে চাই না। যেই নারী বৃদ্ধা ও বিধবা তাকে বিয়ে করতে চায় না কোন যুবক, যেই নারীর মুখে এসিড নিক্ষেপ করা হয়েছে, যে দারিদ্র্যের সর্ব নিম্ন সীমায় বসবাস করছে কিংবা তালাক প্রাপ্ত হয়ে একাধিক সন্তান নিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে তাদেরকে বিয়ে করার স্বপ্ন নিয়ে আমরা সুন্নতের কথা বলি না। বরং ফেরাউনের মত এক ঝাঁক কচি সুন্দরী রমণী নিয়ে ভোগ বিলাস করবো সেই স্বপ্ন লালন করি, মাঝখানে সুন্নতের নামে নিজের স্বপ্নের উপর পবিত্রতা প্রদান করি। সেজন্যই দেখি তরুণী নারী প্রতারিত হচ্ছে কিংবা সে এসে বয়স্ক নারীর অধিকার হরণ করছে। এর নাম কি ইসলাম? সেজন্যই আজ অমুসলিমরা ইসলামের সৌন্দর্য দেখতে পায় না। পারবে কীভাবে? আমরা তো আসলে ইসলাম পালন করতে চাই না, ব্যবহার করতে চাই। কখনও ব্যবসা করতে, কখনও নারী ভোগ করতে, কখনও সম্মান কুড়াতে। সেজন্য ইনসাফের গুরুত্ব নেই, অসহায়ের প্রতি ভালবাসা নেই, বর...

ডিজিটাল মুদ্রা কীভাবে কাজ করে

  ডিজিটাল মুদ্রা কীভাবে কাজ করে জানেন? তাহলে ক্যাশলেস ইকোনমি ব্যাখ্যা করবেন কীভাবে? আপনি কি জানেন যে আইএমএফের নিজস্ব মুদ্রা আছে। এর নাম এসডিআর। এটি কেবল কেন্দ্রীয় ব্যাংক গুলো ব্যবহার করতে পারে। একে বলা হয় মানব সৃষ্ট সোনা। কেন এমনটি বলা হয় তা যদি না বুঝেন ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হবেন কীভাবে? আরও অবাক করা তথ্য দেই? সোনার মুদ্রাও সুদের সাথে যুক্ত হতে পারে। একেবারে বর্তমান কাগুজে মুদ্রার মত সুদের মেশিন বানানো সম্ভব সোনাকে একটি বিশেষ উপায়ে। সেই উপায়টি ব্যাখ্যা করছি। মনে করেন বর্তমানের সব প্রচলিত কাগজের টাকা সরিয়ে আমরা গোল্ড কয়েন আনলাম কিন্তু সিস্টেম বদলালাম না। অর্থাৎ এখনকার মত সিস্টেমে আমরা ব্যাংকে সোনা জমা রাখলাম এবং ব্যাংক সেগুলো ঋণ দিয়ে সুদে আসলে ফেরত নিতে থাকলো। অল্প কিছু বছরের মধ্যেই সব সোনা ব্যাংকের হয়ে যাবে কারণ সুদ একটি চক্র বৃদ্ধি হিসেব। চক্রবৃদ্ধি কতটা ভয়ঙ্কর জানেন? একটি কাগজ ৩০ বার ভাঁজ করলে তার উচ্চতা এভারেস্টের চেয়েও বেশী হয়ে যায়। বিশ্বাস হচ্ছে না? ইন্টারনেটে সার্চ করে দেখুন। এবার চিন্তা করুন, ১০ শতাংশ সুদে কত বছরে টাকা দ্বিগুণ হবে? উত্তর হচ্ছে প্রায় সাত বছরে। আচ্ছ...

শেয়ার বাজার কী?

  গল্পে গল্পে জেনে নিন শেয়ার কী?  আপনারা অনেকে জানতে চান শেয়ার বাজার কী? তো চলুন, গল্পে গল্পে বিষয়টি আলোচনা করা যাক। অনেক দিন আগের কথা, এক স্বপ্নবাজ দরিদ্র তরুণ রুপাই আশা করল সে স্বাবলম্বী গৃহস্ত হবে। কিন্তু ভাবনা মোতাবেক কাজ করতে গিয়ে প্রথম বিপত্তি লাগলো টাকা সংগ্রহ নিয়ে। গ্রামের দুই একজন ধনী ব্যক্তির কাছে ঋণ চেয়ে কোন সুবিধা করতে পারল না। তাই রাগ করে গ্রামের চাচা-চাচী, ছাত্র-শিক্ষক সকলের থেকে ১০০ টাকা করে চাঁদা তুলে রুপাই ব্যবসা করার সিদ্ধান্ত নিল। সব মিলিয়ে তার উদ্যোগে মোট ৮০ জন ব্যাক্তি অংশগ্রহণ করলেন। প্রত্যেকে ১০০ টাকা করে তারা দিলেন মোট ৮,০০০ টাকা। আর রুপাই নিজ থেকে দিল ২,০০০ টাকা। এভাবে সর্বমোট ১০,০০০ টাকা দিয়ে রুপাই একটি মাছের প্রজেক্ট শুরু করল। যেহেতু প্রজেক্টের অংশীদার ৮১ জন, প্রত্যেকেই লাভের অংশ পাবে। রুপাই পাবে ২০ শতাংশ, বাকি সকলে পাবে ১ শতাংশ করে। এই হল শেয়ারে ব্যাবসা। আপনারা সকলেই বোঝেন। কিন্তু স্টক মার্কেট বা শেরায় বাজারটা কি? গ্রামের ছাত্র ছোটন তার বন্ধুদের সাথে শহরে ঘুরতে যাবে। কিন্তু হাতে কোন টাকা পয়সা নেই। উপায়ান্তর না দেখে সে ঠিক করল তার হাতের শেয়...

এই মুহূর্তে আপনাদের কি করা উচিত

  আপনারা অনেকে প্রশ্ন করেন এই মুহূর্তে আপনাদের কি করা উচিত। এই সমাধানের একটা গাইড লাইন দিয়ে দিচ্ছি। প্রথমত, শেয়ার বাজার থেকে ব্যাংকের শেয়ার কিনবেন না। কারণ এক্ষেত্রে আপনার বিরুদ্ধে আল্লাহর পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা (বাকারা ২৭৯) দ্বিতীয়ত, ঋণ নেওয়া থেকে বিরত থাকবেন। একবার এই চক্রে পড়ে গেলে সাধারণত বের হওয়া যায় না। তৃতীয়ত, ব্যাংকে deposit করা থেকে দূরে থাকবেন। যতো টা পারেন। একদম অল্প কিছু টাকা হাতে রেখে বাকিটা দিয়ে কিছু সোনা, কিছু ব্যবসা, কিছু জমি, কিছু বিনিয়োগ এভাবে ছড়িয়ে রাখবেন। তিন ভাগের এক ভাগ ফিক্সড asset (দোকান, কৃষি ভূমি, শিল্প ভূমি) এক ভাগ বিনিয়োগ (ফল বাগান, নতুন কোন software বা mobile app, কারখানা) এবং এক ভাগ current asset (সোনা, গরু, সাইকেল, বই, ক্যাশ টাকা) এভাবে রাখতে পারেন। আর দান করতে হবে বেশি বেশি। কারণ সেক্ষেত্রে আপনি পরকালের ব্যাংকে সঞ্চয় করছেন। ইসলাম আখিরাতের সঞ্চয়কেই উৎসাহিত করে, দুনিয়ার সঞ্চয় না। এবার চিন্তা করে দেখুন, আমরা যদি ব্যাংকের শেয়ার না কিনি, সেখান থেকে ঋণ না নেই এবং টাকা না রাখি, ব্যাংক কি এখনকার মত শক্তিশালী থাকবে? একটু হলেও দুর্বল হবে না? জি, আসুন, ভাল...

আমরা যখন ব্যাংকে টাকা রাখি

  আমরা যখন ব্যাংকে টাকা রাখি তখন আমরা ১০০ টাকায় ৯ টাকা সুদ পাই। কিন্তু ব্যাংক যখন ঋণ দেয় তখন সে ১০০ টাকায় ১২ টাকা সুদ নেয়। অর্থাৎ, ব্যাংকের মার্জিন ১০০ টাকায় ৩ টাকা। কিন্তু ব্যাংক ঋণ বিফলের হার ১০০ টাকায় ৮ টাকা। তার মানে ব্যাংক প্রতি একশ টাকায় ৫ টাকা লোকসান করে? এর উপর আছে কর্মচারী বেতন, বাড়ি ভাড়া, বিজ্ঞাপন সহ কর লাইসেন্স খরচ। উপরের সবগুলো সংখ্যা সঠিক। ৩ শতাংশ মার্জিন ও৮ শতাংশ ঋণ বিফল। তাহলে কি ব্যাংক দেওয়া একটা লসের ব্যবসা? নিশ্চয়ই হিসেবে কোন একটা ঘাপলা আছে। সেই ঘাপলা টা কি? দেখি কে বলতে পারে? answer-ফ্রাকশনাল রিজার্ভ।যেখান থেকে 100 টাকায় ব্যাংক 1000 টাকা পর্যন্ত ৠণ দিতে পারে। 100 টাকা কে ব্যাংক 1000 টাকা হিসেব করে loan দেয় তার লাভ এখানে যে— সে শূণ্য থেকে টাকা তৈরী করতে পারে। ফ্র্যাকশনাল রিজার্ভ হারাম হলে ইসলামি ব্যাংকিং হালাল হওয়ার যুক্তিটা কী? ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহ. কে কারাবন্দী জিজ্ঞেস করলো, "আপনি তো বলেছেন যারা জালিমকে সাহায্য করে তারাও জুলুমের সহযোগী। এই যে আমরা চাকরির জন্য শাসকের হুকুম মেনে আপনাকে পিটাচ্ছি আমরা কি জালিমের সহযোগী।" উত্তরে তিনি বললেন, ...

পেট্রো ডলার ব্যবস্থা কী?

  পেট্রো ডলার ব্যবস্থা কী? পেট্রো ডলার শব্দটি হচ্ছে পেট্রোলিয়াম ডলারের সংক্ষিপ্ত রূপ। মাটির গভীর থেকে উত্তোলিত খনিজ তেল (petroleuml) হচ্ছে পেট্রোল, অকটেন, কেরোসিন ও প্লাস্টিক সহ অনেক নিত্য প্রয়জনীয় পণ্যের কাঁচামাল। এর সাথে ডলারের সাথে এর সম্পর্ক বুঝতে ইতিহাসের পাতা থেকে ঘুরে আসা যাক। ১৯৭১ সালে রিচার্ড নিক্সন যখন স্বর্ণ ভিত্তিক মুদ্রা ব্যবস্থা বাতিল ঘোষণা করে, সেই সময় ডলার স্রেফ কাগুজে মুদ্রা হয়ে যায়। এর আগ পর্যন্ত ডলারের বিপরীতে স্বর্ণ মজুদ থাকতো। হুট করে এমন সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের মুল্যমান কমে যেতে থাকে। তাই ডলারের বাজার মূল্য ধরে রাখতে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ডলারের চাহিদা টিকিয়ে রাখতে কালো সোনা বা খনিজ তেলকে সামনে আনা হয়। পরবর্তী কালে মার্কিন রাষ্ট্রপতি রিচার্ড নিক্সন সৌদি আরবকে সকল পেট্রোলিয়াম পণ্য একমাত্র মার্কিন ডলারে বিক্রি করার প্রস্তাব দেয়। এর বিনিময়ে মার্কিন সেনাবাহিনী সৌদি সরকারকে (রাজ পরিবারকে) পূর্ণ নিরাপত্তা প্রদান করবে এবং শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে সহায়তা করবে। আর চুক্তিতে স্বাক্ষর না করা হবে আমেরিকার বিরোধিতা করার সমিল। তৎকালীন সম্রাট ফয়সা...

মুদ্রা ও অর্থ ব্যবস্থার জাল

  আমি জাদুকর না! চার শতাব্দী ধরে গড়ে উঠা মুদ্রা ও অর্থ ব্যবস্থার যেই জাল আমাদের বন্দী করে ফেলেছে তার থেকে জাতিকে এক রাতে আমি উদ্ধার করে ফেলতে পারবো না। যারা আমার বিরোধিতা করে তারা কোন যুক্তি খন্ডন না করতে পেরে কেবল বলে "আরও পড়ুন, আরও জানুন ইত্যাদি" কিন্তু বাস্তবে ১। আধুনিক মুদ্রা ব্যবস্থা এমন এক জোঁকের মতন যা আমাদের সব সম্পদ ধীরে ধীরে চুষে খাচ্ছে। এই ব্যাপারে একটু পড়ুন, একটু জানুন। না বুঝলে আমার কাছে এসে শিখে নিন। আমি খুশি মনে বিনা পারিশ্রমিকে শেখাতে রাজি আছি। ২। ডলার ভিত্তিক যেই শক্তি তারা চায় না পৃথিবীর কোন দেশের অর্থ ও মুদ্রা ব্যবস্থা ন্যায্য হোক। তাই যেই দেশে ও ব্যক্তি সেই জাতীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করে তাদের অবস্থা কি হয় ইতিহাসের পাতা ঘুরলেই দেখবেন। আমি এক কথায় গিলোটিনে মাথা রেখে আছি। ৩। সুদ যদি উচ্ছেদ না করা হয়, কেবল মুদ্রা বদল করে লাভ হবে না কোন। ৪। সুদ সকল মুদ্রা কেন্দ্রীভূত করে ফেলে এবং তার পরবর্তীতে সুদের প্রভাবে অর্থনৈতিক বৈষম্য নিশ্চিত রূপে বৃদ্ধি করে। ব্যবসা দ্বারা তা সম্ভব না কারণ ব্যবসা মুদ্রা পুঞ্জিভূত করতে পারে না। এখানেই সুদ ও ব্যবসার মূল পার্থক্য। ব...

সোনা, রুপা দিয়ে ডিজিটাল যুগে আন্তর্জাতিক লেনদেন

  সোনা, রুপা দিয়ে কি ডিজিটাল যুগে আন্তর্জাতিক লেনদেন করা সম্ভব? লক্ষ্য করুন, বর্তমানে আমরা যেই টাকা ব্যবহার করছি তা একটি বস্তুগত দ্রব্য (কাগজ)। আমরা কাগজ ধরতে পারি, দেখতে পারি, কিন্তু এর বিপরীতে তৈরিকৃত ডিজিটাল মুদ্রা আমরা ধরতে বা দেখতে পারি না। তারপরেও ডিজিটাল মুদ্রাতে কাগজের টাকার মতোই আমরা লেনদেন করি। একইভাবে সোনার বিপরীতে আমরা ডিজিটাল সোনার মুদ্রা ইস্যু করতে পারব। সোনা দেখতে বা ছুঁতে পারলেও সোনার বিপরীতে তৈরিকৃত ডিজিটাল মুদ্রা আমরা দেখতে বা ছুঁতে পারবো না। এক্ষেত্রে একটি নিয়ম অবশ্যই মেনে চলতে হবে। তা হচ্ছে, যতগুলো সোনা সিন্দুকে সংরক্ষিত আছে কেবল তার বিপরীতেই একেবারে সমান সংখ্যক ডিজিটাল মুদ্রা তৈরি করতে হবে। যখন কেউ লেনদেন করবে তখন ডিজিটগুলো এক একাউন্ট থেকে আরেক একাউন্টে ট্রান্সফার হবে এবং যেকেউ চাইলে ডিজিটগুলো ভেঙ্গে সোনা তুলে আনতে পারবে। কেউ যদি সোনা না রেখে মিথ্যা কিছু ডিজিট লিখে দেয় তখন কি হবে? একটি বিষয় লক্ষ্য করুন, বর্তমানেও টাকা ছাড়া মিথ্যা ডিজিট লিখে দিতে পারি আমরা। কিন্তু বাস্তবে কি সবাই তা করতে পারছে? না, তা পারছে না। তার কারণ এই ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি...

যাকাত বিষয়ে কম ধারণা

  যাকাত বিষয়ে আমাদের অনেকের খুব কম ধারণা আছে। আমার কমেন্ট বক্স ও ইনবক্স ভর্তি হয়ে যাচ্ছে প্রশ্ন দিয়ে। যেমন জমির উপর যাকাত আছে কিনা, বাড়ি ভাড়ার যাকাত আছে কিনা, লিজ নিলে যাকাত দিতে হবে কিনা , মুসলিম ব্যক্তি জিজিয়া দিবে কিনা, মাসে ৫৫ হাজার টাকা আয় হলে যাকাত দিতে হবে কিনা, কাপড়ের যাকাত আছে কিনা ইত্যাদি। যাকাত ইসলামের একটি ফরজ বিধান। একেবারে পাঁচ খুঁটির একটি।এইটা নিয়ে জানতে হবে আপনাদেরকে। একটু পড়াশোনা করুন। এই পেইজে অনেক সৎ ও বিজ্ঞ আলেম আছেন। আপনার জিজ্ঞাসা কমেন্ট বক্সে করুন তারা উত্তর দিবে ইনশাআল্লাহ। এর ফলে আপনি যেমন জানলেন আরও দশ জন মানুষ জানবে ইনশাআল্লাহ। এখানে কিছু কম প্রশ্নের উত্তর দেই (ভুল থাকলে আমাকে জানাবেন) ১। স্থাবর সম্পত্তি যেমন জমি, ফ্ল্যাট বা গাড়ির উপর যাকাত নেই। তবে আপনি যদি জমি ব্যবসায়ী, গাড়ি ব্যবসায়ী বা ফ্ল্যাট ব্যবসায়ী হয়ে থাকেন এবং নিয়মিত এগুলো কেনা বেচা করেন সেক্ষেত্রে আপনাকে এর উপর যাকাত দিতে হবে। ২। কাপড়, আসবাব সহ অন্যান্য ব্যবহার্য বস্তুর উপর জাকাত নেই তবে আপনি এগুলোর ব্যবসায়ী হয়ে থাকলে যাকাত দিতে হবে। ৩। আয়ের উপর কোন যাকাত নেই (চাকরির বেতন বা বাড়ি ভ...

ফেরাউনের মডেল

  মসজিদের উন্নয়নের দিকে আমরা যত ব্যস্ত হয়ে পড়ি মুসল্লির উন্নয়নের প্রতি হয়ে পড়ি তত উদাসীন। আর গরিবের হকের ব্যাপারে কথা বলা তো হয়ে পড়ে অন্যায়। দান খয়রাতের যত বয়ান হয় সব হয় মসজিদ কেন্দ্রিক, মদ্রাসা কেন্দ্রিক আর ওয়াজ মাহফিল কেন্দ্রিক। কিন্তু কুরআন আমাদের কি শিক্ষা দেয়? আপনি কি জানেন, পবিত্র কুরআনে মসজিদে দানের ব্যাপারে একটা আয়াতও নাই। একেবারে একটাও না। তাহলে কুরআন কাদেরকে দান করতে বলেছে? জি, অনেক বার কুরআনে দান করতে বলা হয়েছে ক্ষুধার্তদেরকে, ধূলি মলিন মিসকিনদেরকে, এতিমদেরকে, যারা অভাবী হয়েও লজ্জায় চাইতে পারে না তাদেরকে, প্রতিবেশী, আত্মীয় এবং মুসাফিরদেরকে, যারা আল্লাহর রাস্তায় লড়াই করছে তাদেরকে। একবার দুইবার না। অনেক অনেক বার এই খ্যাঁট গুলোর উল্লেখ আছে একের পড় এক সুরায়। কিন্তু বিশ্বাস করেন, মসজিদে জুমার নামাজে এই বয়ান গুলো আমি পাই না। আপনারা আপনাদের মসজিদে পান কি? অথচ মসজিদের উন্নয়নের অভাবে ইসলাম কোনদিন পিছিয়ে যায় নাই। মুমিনদের উন্নয়নের অভাবে ইসলাম পিছিয়ে গেছে। যেই মুসলিম জাতি গরিব, বেকার, অভাবী ও ক্ষুদার্তদের হক নিয়ে কথা বলে না এবং মুসল্লিদের উন্নয়নের চেয়ে বরং অবকাঠামোগত উন্নয়ন নি...

কেবল ব্যক্তিগতভাবে যাকাত আদায় করলে....

  কেবল ব্যক্তিগতভাবে আদায় করলে আমরা যাকাতের পরিপূর্ণ সুফল পাবো না। কারণটা ব্যাখ্যা করা যাক। মনে করেন, আপনার মসজিদের সামনে একজন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে আছে। সে তার পায়ে প্লাস্টার করে এসে বলল তার টাকা প্রয়োজন চিকিৎসা করাতে। আপনারা এলাকার সবাই মিলে তাকে কিছু টাকা দিলেন। সাথে সাথে সে পাশের এলাকার মসজিদে চলে গেল। সেখান থেকে আরও পাঁচ হাজার টাকা জোগাড় করে চলে গেল পরের মসজিদে। এভাবে সে শিকার শেষে বাসায় ঢুকে প্লাস্টার খুলে একটু দামী রেস্টুরেন্টে খেতে গেল। কীভাবে সম্ভব যে আপনি তাকে ডিটেক্ট করবেন? হয়তো সে একজন নাট্যকলার ছাত্র। নাটক বা অভিনয় খুব ভালো পারে। একজন দশ জায়গা থেকে টাকা তুলবে, আবার লাইনে দাঁড়াতে লজ্জা পায় দেখে আরেকজন না খেয়ে থাকবে, এই সমস্যার তো কোন সমাধান তো ব্যক্তি পর্যায়ে নেই। যেই ব্যক্তি বয়সের ভারে জর্জরিত, যেই ব্যক্তি অসুস্থ, যেই ছেলে অনাথ সে কীভাবে যাকাতের টাকা হাতে পাবে? আপনি কি মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নিবেন? সেই সময় কী সবার আছে? বিশেষ করে ব্যাস্ত ও ধনী ব্যক্তিদের? রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা থাকলে সুবিধা হয় কী জানেন? এক জন ব্যক্তি দুইবার যাকাত খেতে পারবে না আবার কাউকে খুঁজতেও হয় না। ক...

সুদের সমাধান কী?

  একজন বিজ্ঞানী খাদ্যে ভেজাল বের করলে কী তাকে আমরা বলি, "পারলে ভেজাল বিহীন খাদ্য উৎপাদন করুন? নয়তো চুপ করুন?" কিন্তু আমি যখন বিভিন্ন অর্থনৈতিক ফাঁকি বের করে দেই অনেকে এই প্রশ্নই করে। প্রশ্নটা তো তাদেরকে করা উচিত ছিল যারা খাবারে ভেজাল মেশাচ্ছে। সে যাই হোক, এখন সমাধান বাতলে দিচ্ছি। ১ সুদের সমাধান কী? - সুদের সমাধান হচ্ছে ব্যবসা বিনিয়োগ, সাদাকা, যাকাত এবং ক্ষুদ্র পর্যায়ে কর্জে হাসানা। ২ ইসলামি রাষ্ট্র ছাড়া সত্যিকারের ইসলামি ব্যাংক বানানো সম্ভব কিনা। উত্তর শুনলে অবাক হবেন যে সম্ভব। এর জন্য প্রথমত আপনাকে ব্যবসা বাহানা না করে বরং ব্যবসা বিনিয়োগ করতে হবে। অর্থাৎ, লাভ ও লোকসানের অংশীদার হতে হবে। দ্বিতীয়ত, আপনাকে ফ্র্যাকশনাল রিজার্ভ সিস্টেম পরিত্যাগ করতে হবে। বাংলাদেশের বা কোন দেশের আইনে এগুলো অবৈধ না। অর্থাৎ, কেউ জোর পূর্বক আপনাকে বাহানা করতে বলে না এবং ফ্র্যাকশনাল রিজার্ভ করতে কেউ চাপ প্রয়োগ করে না। বিশ্ব জুড়ে অসংখ্য মুসলিম ও অমুসলিম দেশে এমন প্রতিষ্ঠান আছে যারা মানুষের থেকে টাকা নিয়ে এক্সপার্টদের দিয়ে সম্মিলিত ভাবে বিনিয়োগ করাচ্ছে। আমার থিসিস ছিল এই ফান্ডগুলো নিয়ে।...

ডলারের খেলা বিষয়টি কেমন?

  ডলারের খেলা বিষয়টি কেমন? মনে করেন, বাংলাদেশ টাকা ছাপিয়ে কিছু জাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিল। এখন সমস্যা হচ্ছে বাংলা টাকা আন্তর্জাতিক বাজারে চলে না। তাই বাংলাদেশকে টাকা ভাঙ্গিয়ে ডলার কিনতে হবে। কিন্তু টাকা ছাপিয়ে ডলার কিনতে গেলেই বাজারে টাকার মান পড়ে যাবে। এক্ষেত্রে আমেরিকার হিসেব ভিন্ন। যেহেতু আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ডলারে হয়, সে টাকা ছাপিয়ে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরাসরি আমদানি করে ফেলতে পারে। এর জন্য আমেরিকাকে বিশেষ বেগ পোহাতে হয় না। তবে হ্যাঁ, অত্যাধিক ডলার ছাপালে আমেরিকাকেও মূল্যস্ফীতির মুখে পড়তে হয় বা ডলারের মান পড়ে যায়। তবে এর প্রভাব বাজার থেকে বিদেশী মুদ্রা কেনার মত প্রকট না। উদাহরণস্বরূপ ধরা যাক, বাংলাদেশ প্রতি মাসে ৩০০ কোটি ডলার আয় করে এবং ২৭০ কোটি ডলার খরচ করে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ মাসে ৩০ কোটি ডলার সঞ্চয় করতে পারবে যা বিপদের দিনে কাজে লাগবে। কিন্তু যদি এমন হয় যে বাংলাদেশ প্রতি মাসে ২৭০ কোটি ডলার আয় করছে কিন্তু ৩০০ কোটি ডলার খরচ করছে? সেক্ষেত্রে বাংলাদেশকে মাসে ৩০ কোটি ডলার কিনতে হবে। কিন্তু কে বাংলা টাকা কিনবে? আপনি যদি চীনের একজন নাগরিককে বলেন, “আমার কাছে কিছু...

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায়নের পিছে মার্কিন ডলার

  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায়নের পিছে মার্কিন ডলার মার্কিন সেনাবাহিনীর মতই গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে ইরান, রাশিয়া, ভেনেজুয়েলা সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের এবং প্রতিষ্ঠানের উপরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক নিষেধাজ্ঞা আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে বিষয়টি দেখিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু এই ক্ষমতার উত্থান একদিনের হয়নি। সেই গল্প শুরু করতে হলে ফিরে যেতে হবে অনেক অতীতে যখন টাকার বিপরীতে স্বর্ণ মজুত থাকতো কেন্দ্রীয় ব্যাংকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও অন্যান্য ইওরোপীয় রাষ্ট্র যুদ্ধের ব্যয়ভার বহন করতে গিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের থেকে বিপুল অংকে ঋণ গ্রহণ করে এবং সেই ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে মুদ্রার বিপরীতে স্বর্ণের মজুদ অনেক কমে যায়। ফলে স্বর্ণ ভিত্তিক মুদ্রা ব্যাবস্থা ধরে রাখা তাদের জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।এর ধারাবাহিকতায় ১৯৪৪ সালে আমেরিকার নিউ হ্যাম্পশায়ার এর ব্রেটন উড এ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তি অনুযায়ী একমাত্র মার্কিন ডলারের বিপরীতে স্বর্ণ মজুদ থাকবে (প্রতি আউন্সে ৩৫ ডলার) এবং বাকি সকল মুদ্রার মান মার্কিন ডলার এর বিপরীতে নির্ধারিত হবে। এই চুক্তির ফলে আমেরিকা ব্যাতি...

বিটকয়েন কী?

  বিটকয়েন কী? এক কথায় বিট কয়েন হচ্ছে টাকা, ডলার বা পাউন্ডের মত একটি মুদ্রা। তবে পার্থক্য হচ্ছে এটি ইলেকট্রনিক বা ডিজিটাল মুদ্রা; টাকা পয়সার মত হাতে হাতে লেনদেন করা যাবে না, কেবল একাউন্ট থেকে একাউন্ট এ লেনদেন করা যায়। বিট কয়েন বা যেকোন ডিজিটাল মুদ্রা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে একটি সাধারণ প্রশ্ন শোনা যায়, আর তা হচ্ছে বিটকয়েনের বিপরীতে গচ্ছিত সম্পদ কি? বিটকয়েন এর বিপরীতে কোন সম্পদ গচ্ছিত নাই। এ নিজেই এর মুল্যমান। সেই ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠতে পারে যে যার বিপরীতে কোন সম্পদ নাই তা মানুষ এত টাকা খরচ করে কিনে কেন? বিভিন্ন কারণেই কিনে তবে সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে রাতারাতি ধনী হবার জন্য। তবে গল্পটি এমন ছিল না। একদা একটি বিটকয়েনের মুল্য এক টাকা থেকে কম ছিল। বিটকয়েন এর একটি সুবিধা হল এটি সরকারের ধরা ছোঁয়ার বাহিরে। ফলে এই লেনদেন অনুসরণ করা যায় না। তাই সরকার বিরোধী কার্যকলাপ এই মুদ্রার মাধ্যমে নিরাপদে করা যায়। অপর একটি সুবিধা হচ্ছে যে বিটকয়েন এর লেনদেনে কোন ট্যাক্স দিতে হয় না। এর ফলে কর এড়াতে অনেকে এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক লেনদেন, এমনকি বেতন গ্রহণ পর্যন্ত শুরু করে। এইভাবে বিটকয়েন এর চাহি...

রাজশাহী যেতে গিয়ে

  আজকে রাজশাহী যেতে গিয়ে প্লাটফর্মে হাঁটছি। এমন সময় কেউ একজন পাশের থেকে ডাক দিল, "আপনি মোহাইমিন পাটোয়ারী না?" আমি বললাম, "হ্যা।" তিনি বললেন, "চলুন একসাথে অপেক্ষা করি ট্রেনের জন্য।" বসে বসে বলতে লাগলেন, "আমি ব্যাংকে চাকরি করি। আপনার পডকাস্ট দেখার পর থেকে আপনাকে চিনি। আমি অনেক চিন্তা করে দেখেছি। এই চাকরি করবো না আর। দেড় বছরের মধ্যে ছেড়ে দিব।" আমি একটু চিন্তিত হয়ে বললাম, "কি করবেন ঠিক করেছেন?" তিনি বললেন, "না, সেজন্য দেড় বছর সময় নিচ্ছি।এর মাঝে নিজেকে গুছিয়ে নিব ইনশাআল্লাহ। বাসায় বলে দিয়েছি চাকরি ছেড়ে দিব। তারা একটু চিন্তিত হলেও বুঝিয়ে বললাম কেন। সবাই আমার সিদ্ধান্ত শ্রদ্ধা জানালো।" আমি বললাম, "চাকরি ছেড়ে সুদের বিরুদ্ধে কাজ করবেন। অন্যথায় কেউ একজন আপনার জায়গায় কাজ করবে এবং সমাজ একই থাকবে। নিজের জীবন বদলাবে সত্য তবে নিজের পাশাপাশি সমাজকে নিয়েও চিন্তা করবেন।" ================================================================== সত্তর লাখ টাকার বংশীয় গরুর তুলনায় এক লাখ টাকার সত্তরটা গরু কুরবানী দেওয়া উত্তম।...

প্রজনন ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে কোমল পানীয়

  কোমল পানীয় জিনিসটাই বর্জনীয়। এর মধ্যে কোন ভ্যালু নেই। বিশ্ব জুড়ে বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হয় কোমল পানীয়র বিজ্ঞাপনের পিছনে। তার কারণ একটাই। চাহিদা তৈরি করা। সেজন্যই দেখবেন অল্প কয় টাকায় উৎপাদন করে এগুলো মোটা অংকের লাভে বিক্রি করা সম্ভব হয়। আমি ১৮ বছর যাবত এগুলো বাদে ভালো আছি। আপনিও থাকবেন। সবাই থাকবে। সত্যি কথা বলতে আমাদের দেশের শরবর, ফলের রস, লাচ্ছি, মাঠা, দই বহু গুণ পরিবেশ বান্ধব, পুষ্টিকর এবং দেশের অর্থনীতির জন্য কল্যাণকর। আপনি গাছের ফল খেলে প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয় না। গরুর দুধ, ডাবের পানি বা লেবুর শরবতে কোন ক্ষতিকারক কেমিক্যাল নেই। নদী নালার পানি বা বাতাস নষ্ট হয় না এর দ্বারা। আপনার শরীর থাকে ভালো, অতিরিক্ত মেদ চর্বি জমে না, নেশা লাগে না, পৌরষত্ব হরমোন কমে না। অর্থনৈতিকভাবে দেশের কৃষকরা উপকৃত হয়। এর জন্য মডেলদের নাচানাচি করতে হয় না, বাদ্য বাজাতে হয় না, ক্রিকেট ফুটবল ম্যাচ নিয়ে মাতামাতি করতে হয় না। সবশেষে এগুলো বিক্রি করে কেউ হাজার কোটি টাকা পুঞ্জিভূত করে না। অল্প কথায় সুন্দর সুন্দর মডেল দেখিয়ে, বাদ্য বাজিয়ে ও খেলাধুলা স্পন্সর করিয়ে আমাদের ছাগল বানানো হচ্ছে। তাই ঘাস খাইয়ে আমাদ...

একটি ভালো দিন.

  একটি ভালো দিন...আপনি সকালে উঠে মসজিদে গেলেন। কিছু কুরআন তিলাওয়াত করলেন। অন্তর বিগলিত করে অকৃত্রিম কিছু দোয়া করলেন। কিছু খারাপ কাজ আপনার অভ্যাসের অংশ হয়ে গিয়েছে কিন্তু আজ সেগুলো থেকেও দূরে থাকলেন। মানুষকে কষ্ট দিয়ে কোনো কথা বললেন না। কোনোভাবে কারো কোনো ক্ষতি করলেন না। এভাবে যোহর পর্যন্ত পৌঁছে গেলেন। এখন, অনুভব করছেন আপনি আগের চেয়ে আল্লাহর অনেক কাছাকাছি আছেন। অন্তরে এক ধরণের স্বর্গীয় প্রশান্তি অনুভব করছেন। নিজের উদ্বেগ উৎকণ্ঠাগুলো কোথায় যেন হারিয়ে গেছে। এরপর... কেমন করে যেন মনোবল কমে গেল। ভাবলেন, আমার হাতে কিছুটা ফ্রি সময় আছে। মুভি বা কিছু একটা দেখে একটু বিনোদন করি এবং শুরু করলেন। ব্যাস! সিরাতল মুস্তাকিম থেকে অন্যদিকে মোড় নিলেন। শয়তান বিশাল এক সুযোগ পেয়ে গেলো। শয়তান সাথে সাথে আপনাকে অনুসরণ করা শুরু করে, পথভ্রষ্ট করার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাতে থাকে। আপনি হয়ে পড়েন তার এক নম্বর প্রজেক্ট। সে সবকিছু ছেড়ে আপনার পেছনে লাগে। এতক্ষণ সে কিন্তু পারেনি। কারণ, আমাদের রাসূল (স) বলেছেন— "আল্লাহর জিকির হলো 'হিসনুল হাসিন' একটি সংরক্ষিত দুর্গ যা তোমাদেরকে বিতাড়িত শয়তান থেকে রক্ষা করবে।...