আজকে রাজশাহী যেতে গিয়ে প্লাটফর্মে হাঁটছি। এমন সময় কেউ একজন পাশের থেকে ডাক দিল, "আপনি মোহাইমিন পাটোয়ারী না?"আমি বললাম, "হ্যা।" তিনি বললেন, "চলুন একসাথে অপেক্ষা করি ট্রেনের জন্য।" বসে বসে বলতে লাগলেন, "আমি ব্যাংকে চাকরি করি। আপনার পডকাস্ট দেখার পর থেকে আপনাকে চিনি। আমি অনেক চিন্তা করে দেখেছি। এই চাকরি করবো না আর। দেড় বছরের মধ্যে ছেড়ে দিব।" আমি একটু চিন্তিত হয়ে বললাম, "কি করবেন ঠিক করেছেন?" তিনি বললেন, "না, সেজন্য দেড় বছর সময় নিচ্ছি।এর মাঝে নিজেকে গুছিয়ে নিব ইনশাআল্লাহ। বাসায় বলে দিয়েছি চাকরি ছেড়ে দিব। তারা একটু চিন্তিত হলেও বুঝিয়ে বললাম কেন। সবাই আমার সিদ্ধান্ত শ্রদ্ধা জানালো।"
আমি বললাম, "চাকরি ছেড়ে সুদের বিরুদ্ধে কাজ করবেন। অন্যথায় কেউ একজন আপনার জায়গায় কাজ করবে এবং সমাজ একই থাকবে। নিজের জীবন বদলাবে সত্য তবে নিজের পাশাপাশি সমাজকে নিয়েও চিন্তা করবেন।"
==================================================================
সত্তর লাখ টাকার বংশীয় গরুর তুলনায় এক লাখ টাকার সত্তরটা গরু কুরবানী দেওয়া উত্তম।
কারণ, এই গরুগুলো আমেরিকা থেকে আমদানি করা হয় যারা সরাসরি আমাদের ভাইবোনদের রক্তে রঞ্জিত। দ্বিতীয়ত, সত্তরটি গরু কেউ একা খাবে না। তাই আশেপাশের মানুষ এবং আত্মীয় স্বজন অধিক মাংস হাদিয়া ও সদকা পাবে যার পুরাটাই সওয়াবের কাজ। এভাবে, বাংলাদেশের খামারিরা যেমন উপকৃত হবে দেশি গরু পালনে তেমনি দরিদ্র সমাজও উপকৃত হবে অধিক মাংস পেয়ে। সবশেষে, আমাদেরকে আমাদের জীবনের প্রতিটি ব্যয়ের হিসেব আল্লাহর কাছে দিতে হবে। বংশীয় গরু কেনার নেক উদ্দেশ্য কী আদৌ আছে কী? যেই দেশের ৪ কোটী মানুষ ঋণ করে খাচ্ছে সেখানে আমেরিকা থেকে কোটি টাকার বংশীয় গরু এনে জবাই দেওয়া আমার মতে নিতান্ত অপচয় এবং বর্জনীয় কাজ। সেই তুলনায় নেক নিয়তে একাধিক গরু কুরবানি দিয়ে মানুষকে খাওয়ানো অত্যন্ত পূণ্যের কাজ।-----------------------------------------------------------------
ভারতীয় পণ্য বর্জন করূণ
ফরাসী পণ্য বর্জন করুণ
বার্মিজ পণ্য বর্জন করুণ
আমেরিকার পণ্য বর্জন করূণ
ইহুদি পণ্য বর্জন করূণ
আপনি কয়জনকে বর্জন করবেন?
তারচেয়ে আসুন, আমরা বলি “দেশেই পণ্য উৎপাদন করূন”
সারা পৃথিবীকে বর্জন করে চলা সহজসাধ্য না। একটি রাষ্ট্রকে সাময়িকভাবে বয়কট করার কিছুদিন পরেই সবকিছু আগের মত হয়ে যায়। সেই ছোটবেলা থেকেই এমনটা দেখে আসছি। কারণ, আমাদের দেশে ভালো কোন বিকল্প পণ্য উৎপাদিত হয় না। তাই, বিদেশ নির্ভরশীলতা কমাতে, বয়কট আন্দোলনকে সত্যিকার অর্থে শক্তিশালী করতে এবং বেকারদের কর্মসংস্থান করতে দেশেই উৎপাদনের উদ্যোগ নিতে হবে।
এতে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনায় ভালো কিছু পাওয়া সম্ভব ইনশাল্লাহ। উৎপাদন ও প্রযুক্তির কল্যাণেই চীন, জাপান ও কোরিয়া এত শক্তিশালী রাষ্ট্র। খনিজ সম্পদের কল্যাণে না। তাই, আসুন আমরা আজকে থেকে একটি সম্বৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখি এবং বলি, “স্বদেশে পণ্য উৎপাদন করে হই ধন্য।”
-----------------------------------------------------------------------------------------
ডলারের দাম বাড়ছে কেন??
বাংলাদেশে বর্তমানে যা হচ্ছে তা হল Balance of Payment সংকট। একটি দেশের আমদানির তুলনায় রপ্তানি কম হলে আমরা বলি দেশটিতে বাণিজ্য ঘাটতি চলছে। কিন্তু বাণিজ্য ঘাটতিই সব কিছু নয়। রেমিট্যান্স, ঋণ, অর্থ পাচার, বৈদেশিক বিনিয়োগ সহ যত প্রকার আন্তর্জাতিক লেনদেন আছে তাদের সকলকে একত্রে বলে ব্যালেন্স অফ পেমেন্ট যা ডলারের দাম বাড়া কমার পিছে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।
Balance শব্দটির অর্থ দাঁড়িপাল্লা। আর payment শব্দটির অর্থ হচ্ছে প্রদান। একটি দাঁড়িপাল্লার উভয় পাশ যেমন সমান হয়, তেমনি বৈদেশিক মুদ্রার আদান প্রদানের উভয় পাশও সমান হতে হয়। কোন কারণে অর্জন বেশি হলে তা রিজার্ভ হিসেবে সঞ্চিত থাকে আর ব্যয় বেশি হলে কী হয় তা ব্যখ্যা করতে একটি প্রশ্ন করি। আপনার পরিবারের আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হলে আপনি কি করেন?
১ সঞ্চয় ভেঙে খরচ করেন। অথবা
২ ঋণ নেন।
ঠিক তেমনি করে বর্তমান বিশ্বের কোন দেশের অর্জন করা বৈদেশিক মুদ্রা অপেক্ষা ব্যয় বেশি হলে দেশটি বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় (ফোরেক্স রিজার্ভ) থেকে খরচ করে অথবা বৈদেশিক ঋণ নেয় (আই এম এফ বা বিদেশি রাষ্ট্র থেকে)
কিন্তু যদি কোন দেশের রিজার্ভ না থাকে বা ইচ্ছা করেই রিজার্ভ খরচ না করে? সেক্ষেত্রে ঋণ নিতে হবে অথবা মুদ্রার মান পড়ে যাবে। ঠিক এই ঘটনাই ঘটছে বাংলাদেশে।
-----------------------------------------
জ্ঞানের জগতে, প্রযুক্তির জগতে এবং অর্থনৈতিক ইনসাফে বাংলাদেশ হবে সারা বিশ্বের ঈর্ষার বস্তু। বিদেশ থেকে মানুষ বলবে, "ইশ যদি বাংলাদেশের নাগরিক হতে পারতাম, যেখানে ধনীর সম্পদ গরিবের বাড়িতে এসে এসে পৌঁছে দেওয়া হয়, যেখানে জ্ঞানীর সম্মান ধনীর চেয়ে বেশী, যেখানের প্রযুক্তিগত জ্ঞান সারা বিশ্বকে ছাড়িয়ে গেছে। সারা বিশ্বের মানুষ স্বপ্ন দেখবে বাংলাদেশে পাড়ি জমানোর। কানে বাঁধছে কথা গুলো। কানে না বাঁধিয়ে এই স্বপ্ন বুকে ধারণ করেন। ১৭ কোটি মানুষকে আর কেউ আদর করে ঘরে তুলবে না।
তাই এই দেশকে সুন্দর করে গড়েই আমাদের এবং আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জীবন সুন্দর করতে হবে।
মোহাইমিন পাটোয়ারী

Comments
Post a Comment