Skip to main content

Posts

Showing posts from January, 2023

ক্যামেরার কাজ!

  আমি আপনাদের রুপান্তরের শেষ একটি উদাহরণ দিতে চাই। রুপান্তরের দৃশ্যমান উদাহরণ। দৃশ্যমান উদাহরণ। এটার ক্ষেত্রে আপনি কল্পনা করুন যে আয়াতটির সাথে একটি ক্যামেরা আছে।هُوَ الَّذِى يُسَيِّرُكُمْ فِى الْبَرِّ وَالْبَحْرِ - তিনি আল্লাহ, যিনি তোমাদের জন্য স্থলে সফর করা সহজ করে দেন, আর সমুদ্রেও। ( 10:22 ) তো যখন আপনি পড়লেন “স্থলে ও সমুদ্রে” তখন কী কল্পনা করলেন? মূলত কল্পনা করলেন কোনো তীর, কিংবা বন্দর বা সমুদ্রসৈকত। কেন? কারণ আপনি স্থল দেখতে চান আর সমুদ্রও দেখতে চান একইসাথে। حَتّٰىٓ إِذَا كُنتُمْ فِى الْفُلْكِ - যতক্ষণ না আপনি জাহাজে উঠে চড়েন। আপনি যখন জাহাজে ওঠেন তখন আপনি জাহাজ-ঘাট থেকে বন্দরে যান, এরপর জাহাজে উঠে যান। তো জাহাজটি মোটামুটি এখনো স্থলের সাথে সংযুক্ত। وَجَرَيْنَ بِهِم - এরপর জাহাজটি, তাদের নিয়ে পাল তুলে ভেসে চলে যায় بِرِيحٍ طَيِّبَةٍ - অনুকূল হাওয়াতে। তো আপনি কি কল্পনা করছেন? একটি বন্দর, আলোকিত দিন! মানুষজন জাহাজে চড়ছে। জাহাজ ভেসে যাচ্ছে। বাতাসও অনুকূল। সেই বাতাস পালে আটকে জাহাজগুলো দ্রুত চলে যাচ্ছে। খুব সুন্দর দৃশ্য। আর তাদের গতিও ভালো সুন্দর বাতাসের কারণে। بِرِيحٍ طَيِّبَةٍ...

সেরা ১০টি উপদেশ

  সেরা ১০টি উপদেশ। ১. এক আল্লাহর দাস হয়ে যান, গোটা পৃথিবী আপনার দাস হয়ে যাবে। ২. "অতীত নিয়ে আক্ষেপ করবেন না, ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা করবেন না, রাগ হবেন না, আল্লাহর কোন সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হবেন না। জীবনে সুখী হওয়ার এই ৪ মন্ত্র"। (আইদ আল কারনি নামে একজন আরব আলেম তার ৬০ বছর জীবন থেকে এই ৪ টি উপদেশ দিয়েছিলেন) ৩. আপনি আপনার জীবনে যা চান, তার জন্য সবটুকু চেষ্টা করুন, আল্লাহর উপর ভরসা করুন, ফলাফল আপনার কাছে ভালো হোক বা মন্দ হোক, সন্তুষ্ট থাকুন। অবশ্যই অবশ্যই তা থেকে ভালো কিছু আপনি পাবেন। জীবনের বিচ্ছিন্ন ডটগুলো মিলে যেদিন একটি পূর্ণ রেখায় পরিণত হবে, সেইদিন উপলব্ধি করতে পারবেন, কোনটা ভালো ছিলো কোনটা মন্দ। সব ভালোমন্দ আগেই বোঝা যায়না। (আমার সব আশা পূরণ হয়না বলেই বুঝতে পারি, আমার একজন রব আছেন, সিদ্ধান্ত তারই হাতে- আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু) ৪. একপক্ষের কথা শুনে কক্ষনো পুরো বিষয় জাজ করবেন না। একপক্ষের কাছে যা শুনবেন, তার ৫০% সত্য ধরে নিয়ে অন্যপক্ষের অনুভূতিরও ৫০% যদি আন্দাজ করে নিতে পারেন, সেইদিনই সুবিচারের কাছাকাছি যেতে পারবেন। তা যদি না পারেন, তাহলে কারও ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দিতে যাবে...

জান্নাতবাসী

  জান্নাতে সর্ব প্রথম গান শোনাবেন হুরেরা, তাতে কেটে যাবে ৭০ বছর, জান্নাতি বাতাসে গাছের পাতার সাথে মিলিয়ে অপূর্ব এক বাজনা সৃষ্টি করবে, আর জান্নাতের হুরদের সাথে সুর মিলাবে সুরের মুর্ছনায় গোটা জান্নাত মুখরিত হয়ে যাবে, আল্লাহ্ তখন জান্নাতবাসীদের কাছে জানতে চাইবেন,, ----"কেমন লাগলো? ----"সকলেই জবাব দিবে, খুব ভালো, ----"আল্লাহ্ বলবেন," এর চেয়েও ভালো শোনো। জান্নাতবাসী বলবে "হে আল্লাহ্ এর চেয়ে ভালো কি, তখন আল্লাহ্ হযরত দাউদ (আঃ) কে ডাক দিয়ে বলবেন, ---- "হে দাউদ এবার তুমি শুনাও" দাউদ (আঃ) বলবেন, ----"হে আল্লাহ্ আমার কন্ঠ তো দুনিয়াতে ছিল যবুর শরীফে, আল্লাহ্ বলবেন, ----তোমার কন্ঠ ফিরিয়ে দিলাম কোরআন মাজিদ শোনাও। ❣️হযরত দাউদ (আঃ) কোরআনের " একটি সুরা শোনাবেন! জান্নাতবাসী মুগ্ধ হয়ে যাবে। আল্লাহ্ আবার বলবেন,---"কেমন লাগলো? "জান্নাতিরা বলবে,--- মারহাবা, খুব ভালো লাগলো। আল্লাহ্ বলবেন, এর চেয়ে ভালো শোনো, জান্নাত বাসীরা, বলবে "হে আল্লাহ্ এর চেয়ে ভালো কি হতে পারে, আল্লাহ্ পাক রাসুলুল্লাহ্ (সাঃ) কে বলবেন, ----হে আমার প্রিয় হাবিব এবার আপনি ওদের ...

প্রকৃত ইসলাম

  বৃক্ষ তোমার নাম কি, ফলে পরিচয়। জাহেলী যুগ কে পরিবর্তিত করে কোন ইসলাম আল্লাহ রাসুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এই তেরোশো বছর পরে এসে কোন ইসলাম দেখছি। একটি উদাহরণ নিম্নে দেয়া হল বিচারের ভার সাধারণ মানুষের উপরে ছেড়ে দেয়া হলো। কবে বুঝবে ধর্ম ব্যবসার কারণে আজ প্রকৃত ইসলাম থেকে সাধারন মানুষ বহু দূরে সরে গেছে...💔 "এই যুবক আমাদের পিতাকে হত্যা করেছে। আমরা এর বিচার চাই।" দোষী যুবককে টেনে-হিঁচড়ে খলীফার দরবারে নিয়ে এসেছেন দুই ব্যক্তি। তারা তাদের পিতার হত্যার বিচার চান। . খলীফা হযরত উমর (রা) সেই যুবককে জিজ্ঞেস করলেন যে তার বিপক্ষে করা অভিযোগ সত্য কিনা। অভিযোগ স্বীকার করল যুবক। দোষী যুবক সেই ঘটনার বর্ণনা দিলঃ . "অনেক পরিশ্রমের কাজ করে আমি বিশ্রামের জন্য একটি খেজুর গাছের ছায়ায় বসলাম। ক্লান্ত শরীরে অল্প সময়েই ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম। ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার একমাত্র বাহন উটটি পাশে নেই। খুঁজতে খুঁজতে কিছু দূর গিয়ে পেলাম, তবে তা ছিল মৃত। অভিযোগকারী এই দুই ব্যক্তির বাবাকে আমার মৃত উটের পাশে পেলাম। সে আমার উটকে তার বাগানে প্রবেশের অপরাধে পাথর মেরে হত্যা করেছে। এই কারণে আমি হঠাৎ করে রাগান্বিত হ...

পবিত্র কাবা শরীফে

  আমার পুত্রের কাবা শরীফের প্রতি একধরনের অমোচনীয় আগ্রহ আছে। সে অনেক ছোটবেলা থেকেই সেখানে যেতে চায়। তাকে কথা দেয়া ছিলো যে একসময় তাকে মক্কাহ ও মদিনায় নিয়ে যাওয়া হবে। সে গত দশ বছর এরও বেশি সময় রোজ জানতে চাইতো সে কবে কাবাঘরে যাবে। যেহেতু সে একজন বিশেষ শিশু তাকে এতদুর নিয়ে যাওয়ার জন‍্য ও সে যাতে পবিত্র স্থানে আদবের সাথে ভ্রমন সম্পন্ন করতে পারে সেজন‍্য তাকে প্রস্তুত করতে হয়েছে। একসময় সে উড়োজাহাজ ও শব্দকে তীব্র ভয় পেতো। তাকে নিয়ে বহুবার উড়োজাহাজ এ উঠে এই ভয় মোচন করতে হয়েছে। উড়োজাহাজের প্রসাধন ও প্রক্ষালনকক্ষে বিকট শব্দে ফ্লাশ হয়। ইমিগ্রেশনের ছবি ও আঙুলের ছাপ লাগে। এরকম বহু কিছুতে তাকে অভ‍্যস্ত করিয়ে নিতে হয়েছে। আমার পুত্র কোরআন শরীফের একটি বড় অংশ মুখস্থ করেছে। এসবই মহান স্রষ্টার করুণা। আমি এর আগে মোট এগারোবার উমরাহ সম্পন্ন করেছি। সবই বয়স ছত্রিশ হবার আগে। এরপর দীর্ঘদিন আমি সেখানে যাই নাই কারণ আমি আমার পুত্রের সাথে সেখানে যাবো বলে মনস্থ করেছিলাম। এরমাঝে আমি বেশ কয়েকবার সৌদি আরবে প্রভাবশালি কিছু নিকটজনকে আমার পুত্রের উমরাহকে সহজ করার জন‍্য সেখানে অবস্থানরত কোন সাহায‍্যকারি দিয়ে সহায়তা...

অনুপ্রেরণামূলক পোস্ট

  অনুপ্রেরণামূলক পোস্টঃ ১। ঘর ঝাড়ু দিতে হলেও এতো ভালো করে ঝাড়ু দিবে যাতে তোমার চেয়ে ঐ কাজ বেটার কেউ করতে না পারে। ২। নিজের জীবনটা এমন ভাবে গড় যাতে তুমি ইতিহাস গড়তে পারো। ইতিহাস পড়া আর গড়া এক না। ৩। জীবনে ডিসিপ্লিনের চেয়ে বড় আর কিছু নাই। ডিসিপ্লিনের বাইরে গেলেই জীবন যুদ্ধ ও জীবন যাত্রা থেকে ছিটকে পড়ে যেতে হবে। ৪। আর ১০ জনের মতো হতে যেও না, নিজের মতো থেকো, অনুসরন করো, অনুকরন করো না। ৫। কথা কম বলো, কম লিখে সব কিছু বুঝানোর চেষ্টা করো। কোটি টাকার প্রস্তাবনাও ১ পেজে লিখো, বুলেট করে লিখো। কারো সময় নাই, দুই পেজ পড়ার। ৬। প্রত্যেকদিন পড়াশুনা করবে, নিজের ক্ষেত্রে নতুন কিছু শিখবে। নিজের সাথে কম্পিটিশন করবে। ৭। চাকরি করা মানেই দাসত্ব না, চাকরি তোমার নিজের সাথে প্রতিষ্ঠানের একটা ডিল। তুমি চুক্তিমতো কাজ করবে, নিজের সেরাটা দিবে। কেউ তোমাকে মনিটর করবে না, ফাকি দিলে নিজেই ঠকবে। ৮। চাকরি করবো না, চাকরি দিবো, বিষয়টা অহংকারের নয়, কারন চাকরি যেমন দিতে পারতে হবে, তেমনি ভালোভাবে চাকরি করতেও পারতে হবে। এগুলো নিয়ে উদ্ধত কথা বলা কেউ সফল হতে পারে না। পরস্পর পরস্পরকে সম্মান করতে হবে। ৯। বিনয় মানুষকে ব...

কুকুরের মুখে বাজার করার ব্যাগ

  -একটি শিক্ষণীয় ঘটনা- রাতের বেলা এক দোকানদার নিজের দোকান বন্ধ করতে যাচ্ছিল । এমন সময় একটি কুকুর দোকানে আসল। কুকুরের মুখে একটা বাজার করার ব্যাগ ছিল, যার মধ্যে জিনিসের লিস্ট আর টাকা ছিল। দোকানদার টাকা নিয়ে জিনিসপত্র ব্যাগ ভরে দিল, কুকুর ব্যাগ পিঠে উঠিয়ে নিল আর চলে যাচ্ছিল ।দোকানদার আশ্চর্য হয়ে কুকুরের পিছনে গেল এটা দেখার জন্য যে এতো বুঝদার কুকুরের মালিক কে? কুকুর বাসের জন্য দাঁড়িয়ে ছিল, একটা বাস এলো আর কুকুর এতে চড়ে গেল। কন্ডাক্টরের কাছে আসতেই কুকুর ঘাড় বাড়িয়ে দিল তার গলার বেল্টে টাকা আর ঠিকানা লিখা ছিল । কন্ডাক্টর টাকা নিয়ে টিকিট কুকুরের গলায় বেল্টে রেখে দিল। নিজের স্টপেজ এ আসতেই কুকুর সামনের দরজার সামনে এগিয়ে এলো আর লেজ নাড়িয়ে কন্ডাক্টর কে ইশারা দিল আর বাস থামাতে নেমে চলতে আরম্ভ করল। দোকানদার পিছে পিছে গেল। কুকুর ঘরের সামনে এসে নিজের পা দিয়ে দরজায় দুই তিন বার নক করল।ভেতর থেকে তাঁর মালিক এল, আর লাঠি দিয়ে কুকুরের পিঠে কয়েক ঘা বসিয়ে দিল। দোকানদার ঘরের মালিককে এর কারণ জিজ্ঞাসা করল। মালিক বলল শালা আমার কাঁচা ঘুমটা ভেঙে দিয়েছে। চাবি সাথে নিয়ে যেতে পারত গাধাটা।...

৭০০ গুন সওয়াব

  দেড় বছর হল সংসার পেতেছি। এখন তো নতুন বউ আর নতুন নেই। তবু বাসর রাতের সেই ঘটনাটা নতুন! অনন্য! অতুলনীয়। অবিস্মরণীয়!🌹 বাসর রাতে আহলিয়াকে সারপ্রাইজ করতে তার হাতে একটা খাম দিয়ে বললাম- "এখানে একটা 'মুদারাবা' ফরম আছে। তোমার নামেই পূরণ করা। তুমি যাস্ট সইটা করে দিবে। প্রতি মাসে আমার বেতন থেকে এক হাজার করে জমা হবে তোমার একাউন্টে। ১২ বছর পর তা ফিরে আসবে দ্বিগুন লাভ নিয়ে।" ভেবেছিলাম আহলিয়া খুব খুশি হবে। ধন্যবাদ জানাবে। কিন্তু না। তার চেহারা দেখে এমন কিছুই মনে হল না। একটু পর বলল, বারো বছর পর আমাদের জমানো ১লাখ ৪৪ হাজার টাকা ২লাখ ৮৮+ হাজার হয়ে যাবে। তাই তো? : হুম! : আচ্ছা আমি একটা ব্যাংকের ব্যাপারে জানি। যেখানে এরচেয়েও বেশি মুনাফা দেয়। : কোন ব্যাংক? সে উঠে গিয়ে কুর'আন শরীফ নিয়ে এলো। সূরা বাকারার ২৬১ নং আয়াতটি বের করে বলল তরজমাটি পড়ুন। : আমি পড়তে লাগলামঃ مَثَلُ الَّذِیۡنَ یُنۡفِقُوۡنَ اَمۡوَالَہُمۡ فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ کَمَثَلِ حَبَّۃٍ اَنۡۢبَتَتۡ سَبۡعَ سَنَابِلَ فِیۡ کُلِّ سُنۡۢبُلَۃٍ مِّائَۃُ حَبَّۃٍ ؕ وَ اللّٰہُ یُضٰعِفُ لِمَنۡ یَّشَآءُ ؕ وَ اللّٰہُ وَاسِعٌ عَلِیۡمٌ...

কিয়ামতের দিন

  কিয়ামতের দিন আল্লাহ একজন ব্যক্তিকে ডেকে এনে তার গুনাহ গুলো স্মরন করাবেন। একের পর এক তার গুনাহগুলো যখন তিনি মনে করাতে থাকবেন, লোকটি চেহারা কালো করে মাথা নীচু করে থাকবে। সে নিশ্চিত হয়ে যাবে তার জন্য জাহান্নাম অবধারিত। এরপর আল্লাহ বলবেন, তোমার সবগুলো গুনাহকে সাওয়াবে পরিবর্তন করে দেয়া হল। তুমি জান্নাতে চলে যাও। লোকটি তখন খুশিতে বলে উঠবে, আল্লাহ আমার তো আরও গুনাহ আছে, ওগুলোতো বলা হলো না। ওগুলোও সাওয়াব দিয়ে পাল্টে দিন না ! বান্দা আর রবের এই কথোপকথনের বর্ননা দিতে আল্লাহর রাসুল (ﷺ) হেসে দিলেন। - সুনান তিরমিযি দুনিয়ার জিন্দেগীতেও আমার আপনার সামনে এরকম অনেক নিরাশ হতাশ মানুষ আসে, যারা হয়তো অসুস্থ চিকিৎসা করার টাকা নেই, হয়তো বেকার চাকরী পাচ্ছে না, ঋনগ্রস্থ ঋন শোধের উপায় নেই। এই মানুষগুলোর কষ্টগুলো পারলে দুর করে দিন। তার জন্য যেটা অসম্ভব ছিল, হয়তো আপনার জন্য খুব সহজ। আপনি ইচ্ছে করলেই হয়তো তার চাকুরীর ব্যবস্থা করতে পারবেন। আপনার নিজের বা সম্মিলিত উদ্যোগে হয়তো কারো লোন পরিশোধ বা চিকিৎসার ব্যবস্থা হয়ে যাবে। এর বিনিময়ে আপনি সম্ভবত কিছুই পাবেন না তাদের কাছ থেকে। কেবল আনন্দাশ্রু মিশ্রিত একখান...

বিয়ে বাড়ীতে

  বিয়ে বাড়ীতে খেতে বসেছি! খাবার সামনে আসতেই মনে পড়লো গিফট এনেছি ৬০০/গাড়ি ভাড়া দিয়েছি ৬০/সবমিলিয়ে এই বিয়েতে খরচ করেছি ৬৬০/সুতরাং এই খরচ খাওয়ার টেবিলেই তুলতে হবে ⚠️ এমন মনোভাব নিয়ে চিন্তা নিয়ে কয়েক জনের খাবার একা খাবো ভেবে সব আইটেম প্লেটে নিলাম। খাওয়া শেষে দেখলাম প্লেটে ৬০ ভাগ খাবারই খেতে পারিনি। এতে আমার কোন আফসোস নেই, কারণ খরচের পয়সা তো উসুল করতে পেরেছি !! এমনটা ভেবে হাসিমুখে বিজয়ীর বেশে যখন খাবার টেবিল ছেড়ে আসছি, তখন পেছনে একজন পিতার বহু বছরের শ্রমে তিল তিল করে জমানো টাকায় মেয়ের বিয়ে উপলক্ষে আয়োজন করা খাবার। এখানে যখন আমি বিজয়ীর হাসি হাসছি , তখন হয়তো সেই পিতা হিসাব করছেন, দুশ্চিন্তা করছেন, এই খাবার আয়োজন করতে গিয়ে হওয়া দেনা নিয়ে। যে মুহুর্তে আমি অপচয় করে সগৌরবে অট্টহাসি দিচ্ছি , সে মুহুর্তেই হয়তো বিশ্বের নানান প্রান্তে খাবারের অভাবে বুকফাটা আর্তনাদ করছে আমারই মতো রক্তমাংসের কোন অসহায় মানুষ । সুতরাং , সামর্থ্য থাকলে গিফট দেবেন, না থাকলে দেবেন না। কিন্ত গিফটের পয়সা উসুলের অজুহাতে বিয়ে বাড়িতে খাবার অপচয় করবেন না প্লিজ <<<<< !!🙏 ...

একেকজনের ধাক্কাটা একেকরকম

  জীবনের কোন না কোন সময়ে একটা বড় ধাক্কা আসে। একেকজনের ধাক্কাটা একেকরকম। কারো পরীক্ষায় ফেল করার ধাক্কা! কারো বেকারত্বের ধাক্কা! কারো মনের মানুষটিকে না পাওয়ার ধাক্কা! কারো ডিভোর্সের ধাক্কা! কারো জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার ধাক্কা! কারো আর্থিক ক্ষতির ধাক্কা! কারো প্রিয় কোন মানুষের মৃত্যুর ধাক্কা! 🌹 কারো জীবনে যখন এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ধাক্কাটা আসে, তখন তার মধ্যে চরম একটা হতাশা কাজ করে। মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে সে। দিশেহারা হয়ে পড়ে, কী করবে বুঝে ওঠতে পারে না। সবমিলিয়ে জীবনের প্রতি অনেকটা অনীহা চলে আসে। আর তখনই কিন্তু সে নেতিবাচক চিন্তা করে, ভুল কাজ করে। পূর্বে যেটিকে সে ঘৃণা করত, এখন সেটাকে সে আকড়ে ধরে স্বস্তি খোঁজে। জীবনে হাত দিয়ে ছুঁয়ে না দেখা ছেলেটিও সিগারেট-মদে আসক্ত হয়ে পড়ে, নানা ধরনের অবৈধ কাজে নিজেকে জড়িয়ে ফেলে। কেউ কেউ তো আত্মাহুতি দেয়! 🌹 আমাদের জীবনটা সুখ-দুঃখের সমষ্টি। এ জীবনে শুধু দুঃখ থাকবে, তা নয়। শুধুই সুখ থাকবে, তাও নয়। সুখ-দুঃখের সমন্বয়েই আমাদের জীবনটা গড়া। জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে একটার পর একটা ধাক্কা আসবে। এসব ধাক্কায় আমরা কষ্ট পাব, তীব্র যন্ত্রণা ভোগ করব, টপটপ করে চোখের...

ভালোবাসি বাবা, ভালোবাসি মা

  এই জগত সংসারটা বড় স্বার্থপর। প্রতিটা সম্পর্কে কেমন একটা স্বার্থের গন্ধ থাকে। নিঃস্বার্থ সম্পর্ক বলতে কেবল, বাবা-মা। যখন কোন বিপদে পরবেন, কাউকে পাশে না পেলেও আপনার বাবা-মা কে পাবেনই। 🌹 প্রেমিক-প্রেমিকা মূহুর্তে বদলাইয়া যায়। স্বামী স্ত্রী সম্পর্কেও ভাটা পরে। প্রিয় বন্ধুটা একদিন নতুন পেয়ে ভুলে যায়। 🌹 সেই ছোট্টবেলা থেকে আপনাকে আমাকে কুলে পিঠে করে মানুষ করা আমাদের বাবা-মায়েরা তাদের পুরো জীবন উৎসর্গ করে দেয় আমাদের পিছনে। 🌹 পৃথিবীতে কেউ আপনারে মূল্যায়ন/দাম না দিলেও আপনার জনম দুখী মায়ের চোখে আপনি ভরা পূর্ণিমার চাঁদ। হাজারটা অন্যায় করেন, দুনিয়ার কেউ ক্ষমা করবেনা। কিন্তু বাবা বা মাকে জড়ায়ে ধরে একবার ডাক দিয়ে দেখেন আপনাকে ক্ষমা তো করবেই। সাথে সাথে দেখবেন চোখের কোনে মুক্তোর মতো অশ্রুকণা জমে গেছে। 🌹 বাবা-মায়ের কাছে সন্তান কোনদিন বড় হয়না। আপনার বয়স যতই হোক তাদের চোখে সেই ছোট্টবেলার আপনিটাই থেকে যাবেন। 🌹 যারা আপনার আমার পিছনে নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছে। তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করিয়েন না। একটু কোমলস্বরে কথা বলুন। কি লাগবে কিনা মাঝেমধ্যে জানতে চান। দেখবেন, আপনার থেকে তারা কিচ্ছু চাইব...

নিরাপদ থাকার উপায়

  "নিরাপদ থাকার উপায়" ✅১. কথা হজম করতে শিখুন। এইটা অনেক বড় গুণ। আপনাকে জীবনে জিততে সহায়তা করবে। ✅২. কখনও তর্কে জিততে যাবেন না। এটা সময়ের অপচয়। ✅৩.আপনার প্রতিপক্ষকে জিতিয়ে দিন। আপনার প্রতিপক্ষ যদি খুশী হয় সে জিতে গেছে ভেবে। আপনি একটু হাসুন। ✅৪. মনে রাখবেন, কখনও কখনও জিততে হলে হারতে হবে। আর আপনার আজকের এই হারই আপনাকে বড় জয় এনে দিবে। ✅৫. হারতে শিখুন। সব জায়গায় জিততে নেই। এটা বোকামি। ✅৬. মনে রাখবেন, কথায় কাজ হবে না। তাই কাজ শুরু করুন নিরবে। আপনার কাজই কথা বলবে। ✅৭. আপনাকে যারা বিশ্বাস করে না, তাদের চিন্তা বাদ দিন। নিজেকে বিশ্বাস করুন। নিজের প্রতি বিশ্বাস আপনাকে সবার মাঝে বিশ্বাসী করে তুলবে। ✅৮. আপনি অনেক কিছু পারেন। কি দরকার বলে বেড়ানোর। কাজ করুন। যার প্রয়োজন সে আপনাকে এমনেতেই খুজে বের করবে। ✅৯. মনে রাখবেন, চিতা বাঘ কখনও কুকুরের সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করে না। কুকুরদের জিততে দিন। আপনি যে চিতা বাঘ তা বোঝানোর জন্য সঠিক সময়ের অপেক্ষায় থাকুন। ✅১০. নিজের প্রয়োজনেই তর্ক এড়িয়ে চলুন। আর নিরবে কাজ করুন। আপনার কাজই কথা বলবে।

স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক

  স্বামী হচ্ছে এমন একজন মানুষ, যার সাথে রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও, তার প্রাধান্য ইসলামে জন্মদাতা বাবারও আগে। একমাত্র তিনিই এমন একজন মানুষ, যার কাছে সবকিছুই শেয়ার করা যায়। যার কাছে কোনো গোপনীয়তার প্রয়োজন নেই। সর্বপ্রথম স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক এসেছে তারপর বাকিসব। স্বামী যতটা আপন, আবার স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক ততটাই ঠুনকো। রাগে হোক কিংবা হাসিঠাট্টায়, তিন তালাকেই সম্পর্কের শেষ। মুহুর্তেই হালাল থেকে হারামে পরিণত হয়ে যায়। অথচ রক্তের সম্পর্কে যত যাই হোক কখনো সম্পর্ক হারাম হয়না। সম্পর্কের আগে ‘এক্স' শব্দ টা যোগ হয়না। বাবা খারাপ হোক কিংবা মা, তারা সারাজীবন বাবা-মা-ই থাকে। পর হয়ে যায় না। পর হয় শুধু স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক। এই মহৎ সম্পর্কের যত্ন নিতে হয় সবচেয়ে বেশি। একটু ভুলে রাগের মাথায় যেন সম্পর্ক শেষ ‘না' হয়ে যায়। সম্পর্কের যত্ন নিন।যাকে ছাড়া ভালো থাকতে পারবেন না, তাকে রাগের মাথায় পর করে দিতে নেই। রাগ চলে গেলেও স্ত্রী একবার হারাম হয়ে গেলে সহজেই তাকে হালাল করা সম্ভব নয়। এই একটা সম্পর্কেই, যদি সম্পর্ক টা টিকে যায় তবে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দুজন দুজনকে ছেড়ে যায় না। পাশে থেকে যায় সারাজীবন। সন...

ইবলিশ শয়তান

  ❝ইবলিশ শয়তান ৬ লক্ষ বছর আল্লাহর ইবাদত করেছিল আর তাকে যখন শয়তান বলে আরশ থেকে নিক্ষিপ্ত করা হচ্ছিল তখন সে বলেছিল আমি যত বছর আপনার ইবাদত করেছি এর পরিবর্তে আমি যা চাই তাই দিতে হবে❞......... ❝আল্লাহ বলেন,, কি চাও❞?? ❝উওরে শয়তান বলল,, হে আল্লাহ আপনি আমাকে পৃথিবীতে মারদুদ হিসেবে নিক্ষেপ করেছেন আমার জন্য একটি ঘর বানিয়ে দিন❞,,,,,,,, ❝আল্লাহ পাক বলেনঃ তোমার ঘর হাম্মাম খানা❞,,,,, ❝শয়তানঃ একটি বসার জায়গা দিন❞.. ❝আল্লাহ পাক বলেন,, তোমার বসার জায়গা বাজার ও রাস্তা❞,,,,,,, ❝শয়তানঃ আমার খাওয়ার প্রয়োজন❞ ❝আল্লাহ পাক বলেন,, তোমার খাওয়া ঐ সব জিনিস যাতে আল্লাহর নাম নেয়া হয় না❞,,,,,, ❝শয়তানঃ আমার পানীয় প্রয়োজন❞ ❝আল্লাহ পাক বলেন,, নেশাদ্রব তোমার পানি❞ ❝শয়তানঃ আমার দিকে আহবান করার কোন মাধ্যম দিন❞.......... ❝আল্লাহ পাক বলেনঃ নাচ-গান, বাদ্য-বাজনা তোমার দিকে আহবান করার মাধ্যম❞..... ❝শয়তানঃ আমাকে লিখার কিছু দিন❞ ❝আল্লাহ পাক বলেনঃ শরীরে দাগ দেওয়া উল্কি ট্যাটু অংকন করা❞,,,,,, ❝শয়তান: আমাকে কিছু কথা দিন❞...... ❝আল্লাহ পাক বলেন,, মিথ্যা বলা তোমার কথা❞,,,😌, ❝শয়তানঃ মানুষকে বন্দি করার জন্য এক...

দ্বিতীয় বিয়ে

  দ্বিতীয় বিয়ে, নিঃস্বার্থ ভালবাসা আর আবেগের গল্প! আইন পেশার সুবাদে বৈচিত্র্যময় মক্কেলের সাথে কথা বলার সুযোগ হয়েছে। এইতো সেদিন একজন নারী মক্কেল তার নিজের জীবন কথা বলল। সে কথাগুলো চিঠি আকারে লিখে আমার চেম্বারে রেখে গেল, আর বলল ‘এ চিঠি যতদিন থাকবে, আমার কথা আপনার মনে থাকবে।’ চিঠিখানা হারিয়ে গেলেও তার কথা আমি ভুলি কি করে? জানি, স্বল্প সময়ে একজন মানুষের জীবন সবটুকু জানা যায় না। একজন মানুষের হৃদয়ে লুকিয়ে থাকা অজানা কথা আরেকজন পুরোপুরি বলতে পারে না। তারপরও আমি যাঁর কথা বলতে চেষ্টা করেছি, সে ধৃষ্টতার জন্য তাঁর কাছে ক্ষমা চাই। লেখায় সামাজিক মর্যাদার কথা বিবেচনা করে ভূক্তভোগীর নাম গোপন রাখা হয়েছে। পৃথিবীতে সবচেয়ে মধুর সম্পর্ক হচ্ছে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক। স্বামী-স্ত্রী একে অপরের পরিপূরক। কিন্তু কখনও কখনও তা অভিশাপ রূপে দেখা দেয়। সুমির (ছদ্মনাম) জীবনেও এমনটি ঘটেছিল। শহরে নিজের বাড়ি, শিক্ষিত স্বামী শোভন চৌধুরী (ছদ্মনাম) আর তিন সন্তান নিয়ে সুখের পরিবার। প্রত্যাশার চাইতেও যেনো অনেক বেশী স্বপ্নবিলাস। হঠাৎ এক ঝটিকা দমকা হাওয়া এসে যেন সবকিছু তছনছ করে দেয় এ দম্পত্তির। হঠাৎ একদিন রাতে শোভন চৌধুরী...

পিতৃ ঋণ

  চোখে পানি আসার মত গল্প – “বাবা তুমি তো বলেছিলে পিতৃ ঋণ কোনদিন শোধ হয় না। তুমি ছাব্বিশ বছরে আমার পেছনে যত টাকা খরচ করেছো তুমি কি জানো আমি আগামী তিন বছরে সে টাকা তোমায় ফিরিয়ে দিতে পারবো”। বাবা : ( কিছুটা মুচকি হেসে) “একটা গল্প শুনবি?” ছেলেটা কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে গেল। নিচু স্বরে বললো “বলো বাবা শুনবো……” তোর বয়স যখন চার আমার মাসিক আয় তখন দু হাজার টাকা। ওই টাকায় সংসার চালানোর কষ্ট বাড়ির কাউকে কখোনো বুঝতে দেইনি। আমি আমার সাধ্যের মধ্যে সব সময় চেষ্টা করেছি তোর ‘মা কে ‘সুখী করতে। তোকে যেবার স্কুলে ভর্তি করলাম সেবার ই প্রথম আমরা দুজন- আমি-আর তোর মা পরিকল্পনা করেছি আমরা তোর পড়ার খরচের বিনিময়ে কি কি ত্যাগ করবো। সে বছর তোর মাকে কিছুই দিতে পারিনি আমি। তুই যখন কলেজে উঠলি আমাদের অবস্থা তখন মোটা মুটি ভাল। কিন্তু খুব কষ্ট হয়ে গেছিল যখন তোর মা খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। ঔষধ কেনার জন্য রোজ রোজ ওভারটাইম করে বাসে করে পায়ে হেটে ঘামে ভিজে বাড়ি ফিরতে খুব দুর্বিষহ লাগতো। কিন্তু কখোনো কাউকে বুঝতে দিইনি এমনকি তোর মা কেও না। একদিন শো রুম থেকে একটা বাইক দেখে আসলাম। সে রাতে আমি স্বপ্নেও দেখেছিলাম আমি বা...

মানুষের অবস্থা পাল্টায়

  তখন আন্ডারগ্রেড শেষ করে বেকার ছিলাম। ঢাকা শহরে জব খুজতাম আর কোচিং সেন্টারে পড়িয়ে পকেট খরচ চালাতাম। টাকা পয়সা, খাওয়া দাওয়ার ভীষণ কস্ট ছিল। ভালো খাবার জুটত না কপালে। একদিন দুপুরে কোচিং সেন্টারের বড় কর্তার আগমনের কল্যানে লাঞ্চের ব্যবস্থা করা হল। মুরগীর মাংসের ঘ্রান নাকে আসছিলো ফাকে ফাকে। কত দিন মুরগী খাওয়া হয়নি। সে সময়ে মুরগী নিজে কিনে খাওয়ার মতো টাকাও থাকতো না পকেটে। আমি মনে মনে বেশ খুশী। বড় কর্তা, ম্যানেজার সাহেব আর আমি লাঞ্চ করতে বসলাম। সামনে ঝরঝরে ধোয়া উঠা ভাত। যার যার ডাল আর মুরগীর মাংসের বাটি তার তার সামনে রাখা। না ভেবেই আনন্দের আতিশয্যে আমার মুরগীর মাংসের বাটির তরকারী গরম ভাতে ঢেলে খাওয়া শুরু করলাম। তা দেখে ম্যানেজার সাহেব শ্লেষ ভরা কন্ঠে উপহাস করে বললেন মুরগী দিয়েই শুরু করা ভালো। লজ্জায় কুকড়ায় গিয়েছিলাম। দেখলাম তেনারা ডাল দিয়ে খাওয়া শুরু করলেন। ক্ষুধা আল্লাহ পাকের কঠিনতম এক পরীক্ষা। যারা এই পরীক্ষা কখনো জীবনে দেননি, শুকরিয়া আদায় করবেন নিয়মিত। আলহামদুলিল্লাহ এখন আগের সেই আর্থিক বা খাওয়ার কস্ট আমার নেই। তবে কানাডাতে এখানে আমার এপার্টমেন্টে এক বাংলাদেশী স্টুডেণ্ট থাকে। সে সা...

একদিন রাতের বেলা দয়াল নবীজি (সঃ)

  একদিন রাতের বেলা দয়াল নবীজি (সঃ) আরবের গলি দিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ এক ঘর থেকে অসহায় এক কান্নার আওয়াজ শুনে নবীজি সেই ঘরে গিয়ে দেখলেন, একজন হাতে চক্কি ( হাত দিয়ে আটা তৈরির এক যন্ত্র) ঘুরাচ্ছে। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, কি হল তোমার। কান্না করছো কেন.? প্রতি উত্তরে তিনি বললেন, আমি মক্কার সর্দার উমাইয়ার ক্রয় করা গোলাম (ইসলামের প্রাথমিক সময়) । অনেক যন্ত্রণায় আছি আমি। সারাটিদিন মাঠে তার ছাগল দুম্বা চড়াই, আর রাতে সে আমাকে দিয়ে গম থেকে আটা তৈরি করায়। ভালো করে খেতে ও দেয়না, ঘুমাইতে ও দেয় না। শরীরে খুবই অসুস্থতা বোধ হচ্ছে। এই কথা শুনে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম, সেই ব্যক্তিকে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন, তুমি কিছুক্ষণ আরাম কর। আমি ই তোমার কাজ করে দিচ্ছি, এই বলে নবীজি হাতে চক্কি নিয়ে কাজ শুরু করে দিলেন। আর বড় ক্লান্ত শরীর নিয়ে সেই গোলামকে ঘুমানোর সুযোগ করে দিলেন। এইভাবে প্রতি গভীর রাতে নবীজি তার ঘরে গিয়ে তাকে সাহায্য করতেন। এবং নিজে কাজ করে তাকে ঘুমানোর সুযোগ করে দিতেন। একদিন সেই গোলাম বলে, সাবধানে থাকিয়েন, এইখানে নাকি এক মোহাম্মদ আছে। তার থেকে দুরে থ...

একটি ডিভোর্স

  একটি ডিভোর্স 💔 তাহমিনা তানি😔 এইমাত্র একটা চিঠি এলো আমার হাতে। টিউশনি করে বাসায় ফিরছিলাম, গেটে ঢুকতেই সিকিউরিটি চিঠিটা হাতে ধরিয়ে দিলো। হ্যা আমার নামই স্পষ্ট করে লিখা আছে। এর আগে কখনো আমার নামে চিঠি আসেনি, তাই একটা উত্তেজনা কাজ করছিলো। ঘরে ঢুকে তড়িঘড়ি করে রুমে গিয়ে চিঠির খামটা এক টানে ছিঁড়ে ফেললাম। একটা ডিভোর্স লেটার। প্রথমে ভেবেছি ভুল করে এসেছে, পরে ডিটেইল পড়ে হাত পা অবশ হতে শুরু করলো। সোহেলের কাছ থেকে আসা এটা। এক ছাঁদের নিচে থেকেও কখনো বুঝতে পারিনি এতটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সোহেল মনে মনে! গতরাতে ঝগড়া হয়েছে সোহেলের সাথে, তাতে তো আজই ডিভোর্স লেটার আসার কথা নয়, মানে আগে থেকেই পরিকল্পনা করা ছিলো! স্বাভাবিক থাকার আপ্রাণ চেষ্টাটা ব্যর্থ করে বারবার আমার চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে। কোলে বড় বাচ্চাটা, যার বয়স সাড়ে ৩ বছর। অনেকক্ষণ ধরে বাবা, বাবা করছে। ছোটটার বয়স সাড়ে ৭ মাস। কি করবো আমি, কিভাবে এতবড় ঝড় সামাল দিবো! কাকে বলবো, কি বলবো, এর কি কোনো সমাধান আছে? শাশুড়ীকে ফোন দিতেই ফোনটা কেটে দিলেন। হয়তো শ্বশুর কিছুটা পক্ষে কথা বলবে ভেবে তাঁকেও ফোন দিয়েছিলাম। তিনিও কিছু বলতে পারবেন না বলে রে...

তাৎক্ষণিক কিছু আমল

  কখনো মানসিকভাবে যন্ত্রণা অনুভব করলে তাৎক্ষণিক কিছু আমল করা যেতে পারে। ইনশাআল্লাহ, কিছুটা হলেও ভালো লাগবে। ✨✨✨ (১) কেঁদেকেটে আল্লাহর কাছে দু‘আ করা✨ (২) নিরবে-নিভৃতে আবেগ ও ভালোবাসার সাথে কুরআন মাজিদ তিলাওয়াত করা✨ (৩) নিরিবিলি পরিবেশে কিছু সময় অর্থের দিকে লক্ষ্য রেখে আল্লাহর যিকর করা✨ (৪) জনমানবহীন স্থানে বসে আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনায় মগ্ন হওয়া✨ (৫) বেশি পরিমাণে ‘ইয়া হাইয়ু ইয়া কাইয়ুমু বিরাহমাতিকা আস্তাগিস’ পড়তে থাকা✨ (৬) দু‘আ ইউনুস (লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনায যলিমিন) পড়া✨ (৭) কোনো ইয়াতিম-মিসকিনের সাথে কিছু সময় কাটানো, তাদের খোঁজ নেওয়া, খাবার দেওয়া, মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করা✨ (৮) কবরস্থানে গিয়ে কিছু সময় কাটানো✨ (৯) মৃত্যু নিয়ে খুব গভীরভাবে চিন্তা করা✨ এগুলো করলে মন প্রশান্ত হয়, স্থির হয়, দুনিয়ার বাস্তবতা বুঝে আসে, আল্লাহর দিকে মন ধাবিত হয় এবং আখিরাতমুখী জীবনযাপনে আগ্রহ সৃষ্টি হয়। প্রায় প্রতিটি পয়েন্টের পক্ষে কুরআন-সুন্নাহর দলিল আছে। আজ আর দলিল উল্লেখ করছি না। আমল করুন, উপকৃত হবেন, ইনশাআল্লাহ🫶✨

স্বামীকে হত্যা

  🌿 একটি মেয়ে বিবাহিত জীবনে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলো এবং তার স্বামীকে হত্যা করতে চাচ্ছিলো। একদিন সকালে সে তার মায়ের কাছে দৌড়ে গিয়ে বললো- “আমি আমার স্বামীকে নিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি, আমি আর তার বাজে কথা সমর্থন করতে পারছি না। আমি তাকে হত্যা করতে চাই, তবে আমি ভয়‌ও পাচ্ছি যে দেশের আইন আমাকে দায়ী করবে। তুমি কি দয়া করে এ বিষয়ে সাহায্য করতে পারো, মা?” মা উত্তর দিলেন- “হ্যাঁ, আমি তোমাকে সাহায্য করতে পারি। তবে তার আগে কয়েকটি কাজ আছে যা তোমাকে করতে হবে।” মেয়ে জিজ্ঞাসা করলো- “কি কাজ মা? আমি তাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য যে কোনো কাজ করতে প্রস্তুত আছি।” মা বললেন- “ঠিক আছে, তাহলে শোনো:- ১. তোমাকে প্রথমেই তার সাথে শান্তি স্থাপন করতে হবে, যাতে সে মারা যাওয়ার পর কেউ তোমাকে সন্দেহ করতে না পারে। ২. তার কাছে তরুণ এবং আকর্ষণীয়া দেখাবার জন্য তোমাকে সুন্দর করে সেজে থাকতে হবে। ৩. ভালো করে যত্ন নিতে হবে এবং তার প্রতি সদয় ও কৃতজ্ঞ হতে হবে। ৪. তোমাকে হিংসা কমিয়ে ধৈর্য ধরতে হবে; বেশি মনোযোগী হতে হবে, আরও শ্রদ্ধাশীল এবং বাধ্য হতে হবে। ৫. প্রয়োজনে নিজের টাকা তার জন্য ব্যয় করবে এবং র...

অল্পসংখ্যকই কৃতজ্ঞ

  একবার হযরত উমর রাঃ বাজারের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন। তো তিনি বাজারে যখন এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন, তখন শুনতে পেলেন সেই ব্যক্তি দো'আ করতেছে- 'হে-আল্লাহ! আমাকে আপনার অল্পসংখ্যক লোকের মধ্যে গন্য করে নিন, হে-আল্লাহ! আমাকে আপনার অল্পসংখ্যক লোকের মধ্যে গন্য করে নিন।' হযরত উমর রা. সেই ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলেন- 'তুমি এই দো'আ কোথা থেকে শিখেছো?' উত্তরে সেই ব্যক্তি বললো- 'আল্লাহর ক্বোরআন থেকে। আল্লাহ ক্বোরআনে বলেছেন, 'এবং আমার বান্দাদের মধ্যে অল্পসংখ্যকই কৃতজ্ঞ।'(৩৪:১৩) উত্তর শুনে হযরত উমর রাঃ কাঁদতে লাগলেন, এবং নিজেকে উপদেশ দিতে লাগলেন- 'হে-উমর! মানুষ তোমার থেকে অধিক জ্ঞানি।' সাথে তিনিও দো'আ করতে লাগলেন- 'হে-আল্লাহ! আমাকেও আপনার অল্পসংখ্যক লোকের মধ্যে গন্য করে নাও।' --------------------------------------------- আমরা দেখেছি, আমরা যখন কোনো ব্যক্তিকে কোনো পাপকাজ বা আল্লাহর অবাধ্যতা ছেড়ে দিতে বলি, তখন সেই ব্যক্তি যুক্তি দেখায়- 'এই কাজ তো অধিকাংশ ব্যক্তিই করে, আমি করলে কি সমস্যা?' এখন যদি আমরা ক্বোরআনে 'অধিকাংশ ব্যক্তি...

সংসারের অশান্তি দুনিয়ার জাহান্নাম

  সংসারের অশান্তি দুনিয়ার জাহান্নাম। যে জাহান্নামের অংশীদার মাত্র দুইজন। সাথে পুড়তে থাকে সন্তানেরা। কিছু অশান্তি চরম পরিণতি বা বিচ্ছেদ ছাড়া সমাধান সম্ভব নয়। অবশিষ্টগুলো চরম ধৈর্য্য বা গন্ডারের চামড়া বানালেই রোধ করা সম্ভব। সংসারে ঝগড়া বিবাদ করে কেউ কখনো জয়লাভ করতে পারেনি। প্রকারান্তরে হেরে যাওয়া ছাড়া। স্বামী স্ত্রী কখোনই কেউ কারো শত্রু হতে পারে না। এটা হওয়া মোটেই উচিৎ নয়। "আমি হারব না" এই মনোভাবই ধ্বংস নামিয়ে আনে সংসারে। সংসারে মাত্র দুটি মানুষই যদি একে অপরেকে শত্রু ভাবেন, তাহলে দুনিয়া সামলাবেন কী করে!! ভয়াবহ বিষয় হচ্ছে, দুই শত্রুর যে কোন একজনের পিছনে যদি রক্তের সম্পর্ক নামক অন্য এক বা একাদিক ইন্ধনদাতা থাকে, তবে সেখানে অশান্তির আগুনে জ্বলা ছাড়া আর কোন রাস্তা থাকে না। প্লিজ, নিজে শেষ হয়ে নিজ সন্তানদের শেষ করবেন না। এমনিতেই সামাজিক অবক্ষয়ে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে আমাদের সন্তানেরা। এর উপর বাবা মা' হয়ে আগুনে ঘি ঢালবেন না। ব্রোকেন ফ্যামিলির বাচ্চারা জানে, কষ্ট আর হাহাকার কী জিনিস!! দুই দিনের দুনিয়ায় কবরে যাওয়া পর্যন্ত স্বামী স্ত্রী, একে অপরের পাশে থাকবেন, বাচ্চারা বাবা মায়ে...

একটু থেমে যদি চিন্তা করি

  পরিচিত বেশ কয়েকজন বয়ষ্ক মানুষ মারা গিয়েছেন সাম্প্রতিক সময়ে। বন্ধু-বান্ধবদের বাবা-মা মারা গেয়েছেন এমন খবরও প্রচুর। মানুষ মারা গেলে সে আর আমল করতে পারে না। সলাত, সিয়াম, দান-সদাকা, কুরআন তিলাওয়াত - আখেরাতের সব পাথেয় অর্জনের পথ বন্ধ হয়ে যায়। আমরা যারা স্ত্রী-সন্তান বেষ্টিত হয়ে একটা সুন্দর সময় কাটাচ্ছি - আমরা একটু থেমে যদি চিন্তা করি - আমরাও তো আমাদের বাবা-মায়ের সাথে ছোট বেলায় এভাবে সময় কাটাতাম। এখন তারা অনেকাংশেই একা। কেউ বাসায় একা। কেউ দেশে একা। কেউ কবরে একা। আমাদের কী কিছু করা উচিত না আমাদের বাবা-মায়ের জন্য? ন্যুনতম যেটা করা উচিত - পাঁচ ওয়াক্ত সলাত সময় মতো পড়া এবং সলাত শেষে বাবা-মায়ের জন্য দু'আ করা। এটা একটা পথ যাতে সন্তান ভালো আমল করলে, বাবা-মা কিছু সাওয়াব পান। আর বাড়তি হিসেবে বাবা-মায়ের যেসব সম্পত্তি সন্তানেরা পেয়েছে, ভোগ করছে সেখান থেকে কিছু সম্পদ বাবা-মায়ের নামে দান করা উচিত। মাসজিদ বানানো যায় - যত মানুষ সলাত পড়বে তার একটা সাওয়াব বাবা মা পাবেন। মাদ্রাসা বানানো যায় বা ভালো মাদ্রাসা যেখানে ভালোভাবে ইসলাম শেখানো হয় সেখানে আর্থিক সাহায্য করা যায়। কিছু জমি ওয়াকফ ক...