Skip to main content

একটু থেমে যদি চিন্তা করি

 


পরিচিত বেশ কয়েকজন বয়ষ্ক মানুষ মারা গিয়েছেন সাম্প্রতিক সময়ে। বন্ধু-বান্ধবদের বাবা-মা মারা গেয়েছেন এমন খবরও প্রচুর।

মানুষ মারা গেলে সে আর আমল করতে পারে না। সলাত, সিয়াম, দান-সদাকা, কুরআন তিলাওয়াত - আখেরাতের সব পাথেয় অর্জনের পথ বন্ধ হয়ে যায়। আমরা যারা স্ত্রী-সন্তান বেষ্টিত হয়ে একটা সুন্দর সময় কাটাচ্ছি - আমরা একটু থেমে যদি চিন্তা করি - আমরাও তো আমাদের বাবা-মায়ের সাথে ছোট বেলায় এভাবে সময় কাটাতাম। এখন তারা অনেকাংশেই একা। কেউ বাসায় একা। কেউ দেশে একা। কেউ কবরে একা। আমাদের কী কিছু করা উচিত না আমাদের বাবা-মায়ের জন্য? ন্যুনতম যেটা করা উচিত - পাঁচ ওয়াক্ত সলাত সময় মতো পড়া এবং সলাত শেষে বাবা-মায়ের জন্য দু'আ করা। এটা একটা পথ যাতে সন্তান ভালো আমল করলে, বাবা-মা কিছু সাওয়াব পান। আর বাড়তি হিসেবে বাবা-মায়ের যেসব সম্পত্তি সন্তানেরা পেয়েছে, ভোগ করছে সেখান থেকে কিছু সম্পদ বাবা-মায়ের নামে দান করা উচিত। মাসজিদ বানানো যায় - যত মানুষ সলাত পড়বে তার একটা সাওয়াব বাবা মা পাবেন। মাদ্রাসা বানানো যায় বা ভালো মাদ্রাসা যেখানে ভালোভাবে ইসলাম শেখানো হয় সেখানে আর্থিক সাহায্য করা যায়। কিছু জমি ওয়াকফ করে সেখানে ফলের গাছ লাগানো যায় - এই ফল সবাই খাবে। পুকুর খুড়ে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া যায়। জমি কিনে কবরস্থানের জন্য ওয়াকফ করে দেওয়া যায়, দেশে বহু জায়গা আছে যেখানে গৃহহীন মানুষ কবর দেয় নদীর ধারে কিংবা জঙ্গলের মধ্যে। বিশ্বাসী কারো ব্যবসায় কিছু টাকা বিনিয়োগ করে ক্যাশ ওয়াকফ করা যায় - যে আয় আসবে এই টাকা থেকে তা থেকে মৃত বাবা-মায়ের নাম দান করে দেবে যে ব্যবসা করছে সে - নিজ দায়িত্বে। আদ দ্বীন হাসপাতালের মতো ভালো কিছু হাসপাতালে বেড বা যন্ত্রপাতি কিনে দেওয়া যায়। পরিচিত কোনো শিল্পপতি থাকলে তাকে কিছু টাকা দিয়ে বলা যায় - এটা দিয়ে এমন একটা ফান্ড করতে যেটা থেকে ফ্যাকটরির কর্মচারীদের সত্যিকারের বিপদে কারদে হাসানা দেওয়া হবে। তাহলে অনেক গরীব মানুষকে ক্ষুদ্র ঋণের সুদের জালে জড়িয়ে পড়া থেকে বাঁচানো যাবে। বাবা-মায়ের পেছনে যে খরচটা হতো, কিংবা যে ফ্ল্যাটটা তারা থাকতেন - এখন সেটার ভাড়া দিয়ে একজন মেধাবী আলিমকে মাসিক বেতনে দায়িত্ব দেওয়া যায় তিনি বিনা বেতনে মাসজিদে বাচ্চাদের কুরআন শেখাবেন। যাকে মানুষ ফোন করে তাদের পারিবারিক, সামাজিক সমস্যার কথা বলবে - তিনি ইসলামের আলোকে সেই সমস্যার সমাধান করে দেবেন। বিভিন্ন মাদ্রাসাতে ডকটর খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীরের বই সমগ্র দান করেন - একটা শেলফ সহ। মাদ্রাসার ছোট বাচ্চারা যেন মজা করে পড়তে শেখে এজন্য সিয়ান-সমর্পণ-গার্ডিয়ানের ছোটদের বইগুলো কিনে দেন। আরো অনেক কিছু ভালো কাজ যা আল্লাহ পছন্দ করবেন - সেটা করেন বা করান। এগুলো আপনার বাবা-মায়ের জন্য সাদাকায়ে জারিয়া হিসেবে থাকবে। আপনি যে আজ একটা সুখী-সুন্দর জীবন কাটাচ্ছেন - এর পেছনে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার দয়ার পরেই আপনার কৃতজ্ঞতার দাবীদার আপনার-আমার বাবা-মা। যদি বাবা-মা বেঁচে থাকে, তাদের উদ্বুদ্ধ করুন তারা যেন কবরে গিয়েও প্রতিদান পান এমন কিছু করেন। আর যদি বাবা-মা মারা গিয়ে থাকেন তাদের পক্ষ থেকে আপনি কিছু করুন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা আমাদের তৌফিক দিন।

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...

নিকটবর্তী মানসিক রোগ

  ১. অস্বাভাবিক আচরণ ও কথাবার্তা ২. খাবারে ও পানিতে কিছু মেশানোর সন্দেহ ৩. ভাংচুর, সন্দেহ প্রবনতা ৪. গায়েবী কথা শোনা ৫. একা হাসা ও কথা বলা ৬. টেনশন, অস্থিরতা, উদ্বেগ, বিষন্নতা, হতাশা, একই চিন্তা ও কাজ বারে বারে করা ৭. খিটখিটে মেজাজ ৮. দীর্ঘমেয়াদী মাথাব্যথা, ঘাড় ও বুক সহ শরীরে বিভিন্ন স্থানে ব্যথা ও জ্বালাপোড়া মাথা ঘোরা, বুক ধরফর, হাত-পা ঝিনঝিন ৯. অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, হিস্টিরিয়া, কথা বন্ধ ১০. অসামাজিক আচরণ মাদকাসক্তি সহিংসতা ও নিজের শরীরে আঘাত করা উপরের সমস্যাগুলোর যেকোন একটা হলে আপনি দ্রুত সময়ের মাঝে নিকটবর্তী মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। ========================================= বিয়ের পর প্রত্যেক পুরুষের semen fluid analysis করা উচিত। ‌ এটা একটা বেসিক infertility টেস্ট যাতে দেখা হয় পুরুষ‌ মানুষটি বাবা হওয়ার যোগ্য কিনা। বিয়ের আগে করলে আরো ভালো। এটি করতে খরচ হয় স্থানভেদে মাত্র এক থেকে দেড় হাজার টাকা।সরকারি হাসপাতালে করলে ১০০ টাকায় করতে পারবেন। আমাদের দেশে কোন দম্পতির বাচ্চা না হলে এখনো অনেক জায়গায় মেয়েদেরকে ব্লেইম করা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যাটা থাকে ...