Skip to main content

Posts

Showing posts from December, 2024

প্রথম আলো পত্রিকা

  সারাজীবন শুইনা আসলাম জজ মিয়া নাটক বিএনপির তৈরি করা। অথচ সেই নাটকের বিল পরিশোধ করেছে প্রথম আলো নিজে। জজ মিয়াকে ২ লাখ টাকা দিয়েছে। অথচ গত ১৫ বছর প্রথম আলো লিখে গেছে, জজ মিয়া নাটক নাকি বিএনপি সরকারের বানানো ছিলো। এই জঘন্য মিথ্যাচারের জন্য প্রথম আলোকে অবশ্যই কাঠগড়াতে দাড় করাতে হবে। একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার সিম্প্যাথি কাজে লাগাইয়াই তৎকালীন জোট সরকারকে সবার কাছে অজনপ্রিয় করা হয়েছিলো। মামলার সাক্ষীকে টাকা দেওয়ার পেছনে যেহেতু প্রথম আলোর হাত আছে, অর্থাৎ, প্রথম আলোই চায় নাই, এই হামলার মূল আগামী বের হোক। কাজেই, প্রথম আলোকে ঠিকঠাকভাবে চাপ দিলেই একুশে আগস্ট হামলার পেছনে কে ছিলো, সেটা বের করে ফেলা সম্ভব। ৬৪ জেলায় সিরিজ বোমা হামলা আর একুশে আগস্ট হামলার পরেই আমেরিকা বিএনপি আর জামায়াত সরকারকে মাইনাসের প্ল্যান হাতে নেয়। এই দুই হামলায় বিএনপি আর জামায়াতের এক পয়সার লাভ হয় নাই, বরং এই দুই হামলাই জোট সরকারকে একেবারে শেষ করে দিয়ে গেছে। লাভ হয়েছে কার? ভারত, হাসিনা আর প্রথম আলোর। গতকালের ilias hossain r ভিডিওটার পর থেকে প্রথম আলোকে আর পত্রিকা বা মিডিয়া হিসেবে দেখ...

গণবিপ্লব সফল হতে পারে?

  আমার খুব আফসোস হয় আহত এবং নিহতের পরিবারের জন্য। দীর্ঘশ্বাস ফেলি আর ভাবি শহীদ আসাদের বাবার কথা যার একমাত্র কর্মক্ষম ছেলে সপ্তাহের ছুটিতে জীবন দিলো। মনে পড়ে সেই স্বামী হারা মহিলার কথা যার একমাত্র ছেলে মারা গেছে শত বাধা উপেক্ষা করে। এখন দুই মেয়ে নিয়ে কষ্টে সংসার চালাচ্ছে। আমাদের যেই সুন্দর একটা দেশ উপহার দিতে তারা জীবন দিলো সেইটা আমরা পাই নাই। তবে পেয়েছি পাগল হয়ে যাওয়া কিছু বাবা মায়ের সন্ধান যারা তাদের সন্তান হারানোর কষ্ট ভুলতে পারেন নাই। লাশ এখন পর্যন্ত খুঁজে পান নাই। বিচার পান নাই। খুনিদের ভারত গমন রুখতে পারেন নাই। দুর্নীতির থেকে রেহাই পান নাই এবং গুপ্ত হত্যা থেকে নিরাপদ একটি জীবন পান নাই। কথা গুলো ভাবতে নিজের ভিতরটা জর্জরিত হয়ে পড়ে। ================================================================= ২০১৬ সালে তুরস্কে এরদোগানের বিরুদ্ধে মাত্র ১২ ঘণ্টার অভ্যুত্থান চেষ্টার পরের প্রতিক্রিয়া ছিল ভয়াবহ। এর মধ্যে ১,২৫,০০০ সরকারি কর্মচারী বরখাস্ত করা হয়েছিল। ৪৫,০০০ সামরিক ও পুলিশ সদস্য অপসারিত হয়েছিল। ৪,০০০ বিচারক ও প্রসিকিউটর চাকরিচ্যুত হয়েছিল এবং বহু সংবাদমাধ্যম নিষিদ্ধ হয়েছিল।...

বলির পাঁঠা বানিয়ে ..

  মাহমুদুর রহমান দেশে ফিরলেন। আমার দেশ আবারও প্রকাশ করার ঘোষণা দিলেন। তারপর নানা মহল থেকে নানা সমালোচনার জন্ম নিতে দেখলাম। এর মধ্যে একটা গুরুতর সমালোচনা হচ্ছে, মাহমুদুর রহমান ব্লগার হত্যাকাণ্ডের বৈধতা উৎপাদন করেছেন। যুক্তি হিসেবে তারা বলে যে, কিছু ব্লগারের ধর্ম নিয়ে বিদ্বেষপূর্ণ রচনা আমার দেশ পত্রিকায় প্রকাশের মাধ্যমে ব্লগার হত্যার পটভূমি তৈরি করা হয়েছে এবং শাহবাগকে নাস্তিক-আস্তিক বিতর্কে বিভাজিত করা হয়েছে, যা কোনোভাবেই শাহবাগের মূল স্পিরিট ছিল না। যেই ব্লগ একটা ক্ষুদ্র সার্কেলে পঠিত ছিল, সেটা ব্যাপক মানুষের কাছে তুলে ধরার মাধ্যমে আমার দেশ এই নাস্তিক ব্লগারদের বিরুদ্ধে ঘৃণা উৎপাদন করে তাদের ধারাবাহিক হত্যার পটভূমি তৈরি করে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, আমার দেশ কি প্রথম ধর্মবিদ্বেষী ব্লগ নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা শুরু করে? উত্তর হচ্ছে ‘না’। ধর্মবিদ্বেষী ব্লগ নিয়ে প্রথম আলাপ শুরু হাইকোর্টে একটা রিটের মাধ্যমে। রিটটা হয় ২৬ জানুয়ারি ২০১২ সালে। শাহবাগীদের আন্দোলন শুরু হওয়ার এক বছরের বেশি আগে। মামলাটি স্টেইট ভার্সেস বাটুল সারোয়ার নামে পরিচিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক বাটুল সর...

বিডিআর হ ত্যা কাণ্ডের কমিশন গঠন

  প্রথমেই বুঝতে হবে, বিডিআর হ ত্যা কাণ্ডের কমিশন গঠন হওয়ার মাধ্যমে সুষ্ঠু তদন্ত হলে মেজর সাফার করবে কে? এক কথায় ‛ভারত’ কিন্তু প্রশ্ন উঠতে পারে, ভারত তো এর আগেও নানান দেশে তাদের কাভার্ট অপারেশন চালিয়েছে এবং ধরাও খেয়েছে। তাহলে বাংলাদেশে তাদের সমস্যাটা হচ্ছে কোথায়? সমস্যাটা বুঝতে গেলে আমাদেরকে বিগত দুইদিন সহ কয়েক মাসের সিগনিফিকেন্ট কয়েকটি ইনসিডেন্ট খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে বিগত দুইদিনে দুটো মেজর ইনসিডেন্ট ঘটেছে। প্রথমত― যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে ‛অসহযোগী’ দেশ হিসেবে সাব্যস্ত করেছে। ডিপ্লোম্যাসির ভাষায় অসহযোগী মানে শত্রুর কাছাকাছি; তাও আবার যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ভারতের মত দেশ। চাট্টিখানি কথা নয়। রেড লাইন কনসিডারেশনে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরান যদি 20 হয়ে থাকে, তবে ভারত অলরেডি 18; অর্থাৎ যেকোনো মুহূর্তে ভারতকে ধরা হবে। দ্বিতীয়ত― সুইজারল্যান্ড তাদের দেশে ইন্ডিয়ান এন্টিটির উপর ট্যাক্স বাড়িয়েছে। ইন্ডিয়ান কম্পানি গুলিকে এখন থেকে এক্সট্রা ট্যাক্স তো দিতেই হবে, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে তাদের ইনকামও লিমিট করা হয়েছে (টেকনোলজি এবং পেট্রোকেমিক্যাল সেক্টরে); যেটা ভারতীয় বিজনেজম্যানদের জন্য অনে...

বিছানায় বিড়ালের সাথে ঘুমানো

  বিড়ালপ্রেমীদের বিছানায় বিড়ালের সাথে ঘুমানোর চিত্রটা এমনই। মানুষ মনে মনে ভাবে, "এই যন্ত্রণা আর কতো!", কিন্তু সেই যন্ত্রণাও ভালবাসার অংশ হয়ে যায়। যেমন ধরুনঃ ১. "আমি তোমাকে ভালোবাসি, কিন্তু বিছানাটা আমার!" বিড়ালদের এই পজিশন দেখেই মনে হয় তারা মনে মনে বলছে: "তুমি আমার সঙ্গী, তাই আমি তোমার পাশে থাকব। কিন্তু বিছানার সবচেয়ে আরামদায়ক জায়গাটা আমার, তুমি যেখানে খুশি শুতে পার!" বিড়ালরা তাদের প্রিয় মানুষের কাছাকাছি থাকতে ভালোবাসে, কিন্তু একই সঙ্গে তাদের নিজের জায়গা এবং আরামও অগ্রাধিকার পায়। ২. "তোমার আরামের চেয়ে আমার আরাম বড়!" বিড়ালেরা একেবারে সেলফিশ হতে পারে, কিন্তু সেটা খুবই কিউট ভাবে। তারা বিছানায় তাদের শরীর এমনভাবে মেলে ধরে যে আপনি ঘুমানোর জন্য জায়গা খুঁজতে বাধ্য হন। এটা তাদের "নিজস্ব ক্ষমতা" প্রদর্শনের মতো। ৩. "তোমার গায়ের গন্ধ আমাকে শান্তি দেয়" বিড়ালরা তাদের মালিকের গায়ের গন্ধকে সুরক্ষার প্রতীক মনে করে। তাই তারা এমন জায়গায় শোয় যেখানে আপনার গায়ের গন্ধ বেশি থাকে—যেমন আপনার বালিশ বা পা। এটা তাদের কাছে খুবই আরামদায়ক মনে হয়। ৪. ...

বিড়ালের শীতকালীন রোগের কারণ, লক্ষণ

  শীতকালে আপনার ছোট্ট বন্ধুটি কি বেশি নিস্তেজ হয়ে যায়? মানুষের মতোই ঠান্ডা আবহাওয়ায় বিড়ালও ফ্লু, হাইপোথারমিয়া বা আরথ্রাইটিসের মতো সমস্যায় ভোগে। আমরা যেমন উষ্ণতার খোঁজ করি, তেমনই আমাদের পোষা প্রাণীগুলোরও শীতে বিশেষ যত্ন প্রয়োজন। কিন্তু কীভাবে বুঝবেন আপনার বিড়ালটি কষ্ট পাচ্ছে? আর ঘরে বসে কীভাবে তাদের সাহায্য করবেন? আজকের লিখার মাধ্যমে আমি আপনাদের জানাবো বিড়ালের শীতকালীন রোগের কারণ, লক্ষণ এবং প্রতিকারের সহজ উপায়। থাকছে ঘরোয়া চিকিৎসার দিকনির্দেশনাও, যা আপনার প্রিয় পোষ্যটির সুস্থতা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে। ১. ফ্লু (Flu) কারণ: * ঠান্ডা বাতাসে সংক্রমণ। * অপরিষ্কার পরিবেশ। উপসর্গ: * হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া। * চোখ লাল হওয়া বা ফোলা। প্রাথমিক ও ঘরোয়া চিকিৎসা: * নাক বন্ধ থাকলে গরম পানির বাষ্প (Steam) দিন। গরম পানি থেকে সামান্য দূরে বিড়ালকে ধরে রাখুন। * নাক ও চোখ পরিষ্কার করতে ঈষদুষ্ণ পানিতে কাপড় ভিজিয়ে আলতোভাবে মুছুন। * ভিটামিন-সমৃদ্ধ খাবার, যেমন মাংস বা স্যুপ দিন। * পরিবেশ উষ্ণ ও শুকনো রাখুন। প্রতিকার: * পশু চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিভাইরাল বা অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করুন। ২. হাইপোথ...

বিড়ালের কিছু মজার বৈশিষ্ট্য

  প্রত্যেকটা বিড়াল'ই বৈশিষ্ট্যগত দিক দিয়ে ভিন্ন হয়ে থাকে। বিড়ালের কিছু মজার বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলোঃ ✅ একটা পূর্ণবয়স্ক বিড়াল তার দিনের ৩ ভাগ সময়'ই ঘুমিয়ে কাটায় এবং মাত্র এক ভাগ সময় জেগে থাকে। অর্থাৎ একটা ৯ বছরের বিড়াল তার জীবনের ৭ বছর ঘুমিয়েই কাটিয়েছে। ✅ একটা বিড়ালের ব্রেইন সেল ও মানুষের ব্রেইন সেল ইমোশনাল এটাটচমেন্ট এর দিক দিয়ে প্রায় একিই। ✅ বিড়াল অনেক উঁচু থেকে পরে গিয়েও বেচে থাকতে পারে। প্রায় ২০০ ফিট উপর থেকে পরেও বিড়ালের বেচে যাওয়ার নজির রয়েছে। ✅ বিড়ালের যে দাড়ি বা মোচ হয় আপনারা কি তা জানেন? বিড়ালের মুখের একদিকে প্রায় ১২ টা করে মোচ থাকে। ✅ বিড়াল তার শরীরের তুলনায় ৫ গুণ বেশি উচ্চতায় লাফ দিতে পারে। ✅ বিড়াল প্রায় ১০০ টির মতন সাউন্ড করতে পারে কিন্তু অপরদিকে কুকুর পারে মাত্র ১০ ধরনের আওয়াজ করতে পারে। ✅ বিড়ালের নাকের ছাপ মানুষের আঙুলের ছাপের মতো একেবারে অনন্য। প্রতিটি বিড়ালের নাকের প্যাটার্ন একদম আলাদা। ✅ বিড়াল তার কানগুলো ১৮০ ডিগ্রি পর্যন্ত ঘুরাতে পারে এবং প্রতিটি কান ৩২টি আলাদা পেশী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। ✅ বিড়ালের হার্ট মানুষের তুলনায় অনেক দ্রুত স্পন্দিত হয়। মানুষের হার্ট প...

রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন

  ভবিষ্যতে যারাই বাংলাদেশে সরকার গঠন করবেন, তাঁদের সামনে সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ হবে দুর্নীতি ও রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন মোকাবিলা। বাংলাদেশের যে কোন ধরনের অগ্রগতিতে সবচাইতে বড় বাঁধা হলো দুর্নীতি, যা রাষ্ট্র এবং সমাজের প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করেছে। এবং যুগের পর যুগ ঘুণপোকার মতো আমাদের ঝাঁঝরা করছে। আর তারপরই রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন, যা বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজে ব্যাপকভাবে নিরুৎসাহিত করে। কারণ যোগ্য ব্যক্তিটি যোগ্য পদটি থেকে বঞ্চিত হন অথবা তাঁকে বঞ্চিত করা হয় বা হতে হয়। যেহেতু এখনো অনেক সময় বাকী এবং একটি অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পরিচালনা করছে। রাজনৈতিক দলগুলোর হাতে কিছুটা সময় আছে তাঁদের দলগুলোর ভেতরের দুর্নীতিবাজ ও রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নে জড়িতদের চিহ্নিত করে চিরতরের জন্যে তাদের সাথে সম্পর্ক ছেদ করা। এবং এটা করা তেমন কষ্টসাধ্য নয়, যদি দলগুলোর সর্বোচ্চ মহলের সদিচ্ছা এ পূর্ণ সমর্থন থাকে। অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং পরীক্ষিত ক্লীন ইমেজের সিনিয়র নেতা-কর্মীদের দিয়ে গোপন একটি কমিটি গঠন করা যেতে পারে, যারা দলের বিভিন্ন পর্যায় নিজ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে এসবের গোঁড়...

তাবলীগ জামাতের মাঝে একটি পক্ষ এবং মোসাদ

  সম্প্রতি নয়াদিগন্ত একটি গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে রিপোর্ট করেছে যে- বাংলাদেশে তাবলীগ জামাতের মাঝে একটি পক্ষ ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে কাজ করছে। তাদের উদ্দেশ্য তাবলীগ জামাতের মাঝে বিভক্তি তৈরি করা এবং বাংলাদেশকে আনস্ট্যাবল করা। কিন্তু অনেকেই তাবলীগ জামাতের সাথে ইসরাইলি কানেকশন বা তাবলীগ জামাতের মাঝে মোসাদের ইনফিলট্রেশনকে ঠিক মেনে নিতে পারছে না বা বুঝে উঠতে পারছে না। কিন্তু তাবলীগ জামাতের সাথে ইসরাইলি কানেকশন বহু বছরের পুরনো। এমন একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা আপনাদের সাথে শেয়ার করি ২০০০ সালের ১২ জানুয়ারি ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা কলকাতায় ঢাকা-অভিমুখী বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট থেকে ১১ বিদেশী নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেন। বাংলাদেশী বিমান ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করছিল সন্দেহে বিমান চড়ার একটু আগে তাদের আটক করা হয়। তারা কলকাতা থেকে ঢাকা আসছিল। তবে এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান- “আমরা যখন বুঝতে পারি তারা তাবলীগের লোক, তাদের ছেড়ে দেই” টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নেয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের কিন্তু বাংলাদেশ তাদের ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে ইসরাইলি চাপের মুখে ভ...

বিষন্নতা

  বিষন্নতায় ভোগা রোগীকে যা যা বলবো না - ১. ধৈর্য ধরো সব ঠিক হয়ে যাবে ২. একটু কোথা থেকে ঘুরে আসো সব ঠিক হয়ে যাবে ৩. মাথা থেকে সব চিন্তা দূর করে ফেলো ৪. তোমার ঈমান দুর্বল তাই এমন হচ্ছে ৫. প্রতিদিন এক ঘন্টা দৌড়াও তাহলে সব ঠিক হয়ে যাবে ৬. মানুষের কত কষ্ট থাকে তোমার এমন কি কষ্ট ? ৭. গরিব মানুষদের দিকে একটু তাকাও মন খারাপ ঠিক হয়ে যাবে ৮. মনটা একটু শক্ত কর, এত নরম হলে কি হবে ? ৯. নামাজ আর কুরআন হলো সকল সমস্যার সমাধান। ১০. তোমাকে জিনে ধরেছে তাই এরকম হয়। বিষন্নতা একটি রোগ যার বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা করতে হয়। বিষন্নতায় ভোগা রোগীর কোন কিছুই করতে ভালো লাগেনা। আমরা যখন উপরের কথাগুলো বলি তখন বিষন্নতা ভোগ আর রোগী আরো বিষন্ন হয়ে যায়। এ সময় তার পাশে থাকা এবং তাকে চিকিৎসা করানো আমাদের কাজ। 'শুধু নামাজ পড়লেই ডিপ্রেশন দূর হয়ে যায়' এ ধরনের ভ্রান্ত ধারণা থেকে বেরিয়ে আসুন। নামাজ পড়া, কোরআন পড়া অবশ্যই ভালো কাজ। এগুলো করার মাধ্যমে মন হালকা হয়, সৃষ্টিকর্তার সাথে সম্পর্ক ভালো হয়। কিন্তু বিষন্নতা একটা মানসিক রোগ যার চিকিৎসা করার প্রয়োজন হয়। ডায়াবেটিসের রোগীক...

ছুটির ঘণ্টা

  ছুটির ঘণ্টা ---- ১৯৮০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি বাংলাদেশী শিশুতোষ চলচ্চিত্র। ছবিটি পরিচালনা করেছেন আজিজুর রহমান। ঈদের ছুটি ঘোষণার দিন স্কুলের বাথরুমে সকলের অজান্তে তালাবদ্ধ হয়ে আটকে পড়ে একটি ১২ বছর বয়সের ছাত্র। আর তালাবদ্ধ বাথরুমে দীর্ঘ ১১ দিনের ছুটি শেষ হওয়ার প্রতিক্ষার মধ্য দিয়ে হৃদয় বিদারক নানা ঘটনা ও মুক্তির কল্পনায় ১০ দিন অমানবিক কষ্ট সহ্য করার পর কীভাবে একটি নিষ্পাপ কচি মুখ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে এমনই একটি করুন দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে এই ছবিতে। ছবির মূল ভূমিকায় অভিনয় করেছে শিশু শিল্পী সুমন ও অন্যান্য চরিত্রে নায়ক রাজ রাজ্জাক,শাবানা, সুজাতা,শওকত আকবর এবং এ টি এম শামসুজ্জামান। কাহিনী সংক্ষেপ ---- জেলখানায় দুপুরে খাবারের জন্যে ঘণ্টা বেজে উঠল আর তখনই একজন বৃদ্ধ আব্বাস "রাজ্জাক" চিৎকার করে বলতে থাকে - আমি কতো বার বলেছি তোমরা এই ঘণ্টা বাজাইও না,আমি এই ঘণ্টার শব্দ শুনতে চাই না এই শব্দ আমাকে খোকা সাহেবের কচি মুখের কথা মনে করিয়ে দেয়। এক পুলিশ জিজ্ঞেস করে-কেন আপনি এই ঘণ্টার শব্দ শুনে প্রতিদিন পাগলের মতো চিৎকার করে উঠেন? "সে বলে আমি খুনী" আমি খোকা সাহেবকে খ...

গভীর চিন্তা ভাবনা

  সূরা আল-আরাফে একটি সুন্দর আয়াত আছে আর আমি চাই আপনারা এটি খুব মনোযোগ সহকারে পড়ুন। "তারা কি কখনো আসমান ও পৃথিবীর বিস্ময় আর আল্লাহ যা কিছু সৃষ্টি করেছেন সে সবকিছুর প্রতি চিন্তা ভাবনা করেনি?" (আল-আরাফ 7:185) আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কোন ধরনের চিন্তাভাবনা করার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন? --- আমি আপনাদিকে একটি উদাহরণ দিচ্ছি। সূরা নমলের একটি আয়াত আছে এবং বাই-দ্য-ওয়ে নমল অর্থ "একটি পিঁপড়া"। কারণ আন-নমলের মধ্যে; একটি পিঁপড়ার গল্প আছে যে অন্য পিঁপড়াদের চিৎকার করে বলে -- "হে পিঁপড়া! তাড়াতাড়ি তোমাদের ঘরে যাও যাতে সোলায়মান ও তার বাহিনী অজান্তে তোমাদের পিষ্ট না করে।" আপনি কিভাবে এরূপ একটি আয়াত নিয়ে গভীর ভাবনা চিন্তা করতে পারেন? এই আয়াতটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন এবং এটি আরবীতে পড়ুন -- কারণ এই আয়াতে লুকিয়ে থাকা অবিশ্বাস্য, আশ্চর্য ইনফর্মেশন এর প্রতি কোনো অনুবাদই সুবিচার করতে পারে না। "قَالَتْ نَمْلَةٌ" এর থেকে আমরা জানতে পারি যে এটি ছিল এক স্ত্রী পিঁপড়া "أَدْخُلُواْ مَسَاكِنَكُمْ" যার অর্থ "তোমরা ঘরে ফিরে যাও" দ্বারা...

পৃথিবীতেই 'বেহেশতের বাগান'

  ইসলামে ফজিলত লাভের উদ্দেশে্য তিন মসজিদে ভ্রমণ করার অনুমোদন আছে। এর মধ্যে প্রথমটি হলো সৌদি আরবের মক্কার মসজিদুল হারাম বা কাবা শরিফ। দ্বিতীয়টি হচ্ছে জেরুজালেমের মসজিদ আল আকসা বা বায়তুল মুকাদ্দাস: ইসলামের প্রথম কিবলা মসজিদ। তৃতীয়টি হলো মদিনার মসজিদে নববি, মদিনা নবীর শহর, একে আরবিতে বলা হয় ‘মদিনাতুন নবী’। আর মদিনার প্রাণকেন্দ্র হলো ‘মসজিদে নববি’। মসজিদে নববির ভেতরে একটা জায়গা আছে, তার নাম রিয়াজুল জান্নাত। রিয়াজুল জান্নাত বলতে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সময়ে তৈরি করা মসজিদকে বোঝায়। মিম্বর ও হুজরাহর মধ্যবর্তী স্থান। মসজিদে নববিতে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারক এবং তাঁর জমানার মূল মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থানকে নবীজি বেহেশতের বাগানসমূহের একটি বাগান বলেছেন। এটাই রিয়াজুল জান্নাত। রিয়াজুল জান্নাতে প্রবেশের জন্য অ্যাপে নিবন্ধন করতে হয়। নারীদের প্রবেশের সময়সূচি সকাল ৭টা থেকে ১১.৩০টা, দুপুর ১টা থেকে বেলা ৩টা, রাত ৮টা থেকে ১২টা পর্যন্ত। এই জায়গায় সবুজ-সাদা রঙের কার্পেট বিছানো আছে। মসজিদের অন্য কার্পেটগুলো লাল রঙের। ভিন্ন রঙের কার্পেট দেখে বুঝতে অসুবিধা হয় না রিয়াজুল জান্নাতের সীমানা। এ স্থানে নামা...

সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াতের ফজিলত

  সুরা হাশর পবিত্র কোরআনের ৫৯তম সুরা। এটি মদিনায় অবতীর্ণ। এর ৩ রুকু, ২৪ আয়াত। এই সুরায় ইহুদিদের নির্বাসনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মদিনা থেকে দুই মাইল দূরে বনু নাজিরের বসবাস। তারা নবী করিম (সা.)-এর সঙ্গে শান্তিচুক্তিতে আবদ্ধ ছিল। এ অবস্থায় নবী করিম (সা.) তাদের মহল্লায় গেলে তারা তাঁকে একটি ছাদের নিচে বসতে দেয়। পরে ছাদ থেকে পাথর গড়িয়ে তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে। আল্লাহ তাআলা ওহির মাধ্যমে তাঁকে এ বিষয়ে জানানো হলে তিনি জায়গাটি থেকে সরে যান। তাদের জানিয়ে দেন, ‘তোমরা চুক্তি ভঙ্গ করেছ। তোমাদের যেখানে ইচ্ছা চলে যাওয়ার জন্য ১০ দিন সময় দেওয়া হলো। এরপর তোমাদের কাউকে পাওয়া গেলে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে।’ সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াতের বাংলা উচ্চারণ উচ্চারণ :  হুআল্লা হুল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়া, আলিমুল গাইবী ওয়াশ শাহাদাদি, হুয়ার রাহমানুর রাহিম। হুআল্লা হুল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল মালিকুল কুদ্দুসুস সালামুল মু’মিনুল মুহাইমিনুল আজিজুল জাব্বারুল মুতাকাব্বির। ছুবহানাল্লাহি আম্মা য়ুশরিকুন। হুআল্লাহুল খালিকুল বা-রিউল মুছাওয়িরু লাহুল আসমাউল হুসনা। ইউছাব্বিহু লাহু মা ফিস-সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্; ওয়া হুয়াল আজ...

সিরিয়ার সংবিধান কি বিদ্রোহীরা স্থগিত করে নাই ?

  জাহেদ'স টেকের জাহেদ বলছে, সিরিয়ার পি এম সিরিয়ার বিদ্রোহীদের কাছে ক্ষমতার হস্তান্তর করতেছে। এইটা নাকি বাংলাদেশের ক্ষমতা হস্তান্তরের সাথে তুলনা করা যায়। আর সেই কারণেই সাংবিধানের ধারাবাহিকতা, চুপ্পু ইত্যাদিরে মাইনা নেয়া উচিৎ। খাড়ান এট্টু হাইস্যা নেই। বাঙ্গু এলিটদের পিও জাহেদ রাষ্ট্র কী এইডা বুঝে? ক্ষমতা বুঝে? পোথম আলো আর ইন্ডিয়ার কাছে মগজ বন্ধক দিলে এই হয়। সিরিয়ার হেড অব স্টেট কে? আসাদ। পলাইছে কে? হেড অব স্টেট। বাংলাদেশে হেড অব স্টেট কে? চুপ্পু। পলাইছে কে প্রধান নির্বাহী হাসিনা। বাংলাদেশের হেড অব স্টেট কে বানাইছিলো। হাসিনা। সিরিয়ার পি এম কি সিরিয়ার হেড অব স্টেট? সে কি সিরিয়ার বিদ্রোহীদের মাথার উপরে নাকি নিচে আজ্ঞাবহ? আসাদের আর্মি চিফ কি এখনো সিরিয়ার আর্মি চিফ? সিরিয়ার পি এম রে বিদ্রোহীরা যা কইবে সেইটাই করবে। প্রফেসর ইউনুস কার উপদেষ্টা? চুপ্পুর উপদেষ্টা। আইনত প্রফেসর ইউনুস চুপ্পুর অধীনস্থ। দুইটা কী এক? সিরিয়ার সংবিধান কি বিদ্রোহীরা স্থগিত করে নাই তিন মাসের জন্য? এইটা কয় নাই কেন জাহেদ? পিও জাহেদ, হাসিনার বিরুদ্ধে থাকায় কখনো চ্যালেঞ্জ করি নাই। আপনি এস্টাব্লিশমেন্টের লোক। আমাগে...

মহাভারতের চরিত্র কর্ণ

  মহাভারতের চরিত্র কর্ণ ছিলো অঙ্গ, বঙ্গ আর কলিঙ্গের রাজা। অঙ্গ → বিহার ও বাংলাদেশের রাজশাহী অঞ্চল। বঙ্গ → বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ। কলিঙ্গ → ওড়িশা এবং অন্ধ্রপ্রদেশের উত্তর অংশ। মুলত এটাই সেই ঐতিহাসিক বাংলা বিহার উড়িষ্যা। কর্ণের স্থান হয়নি মহাভারতে। বীর ন্যায়বান হাই মরালের এক যোদ্ধা হয়েও সে বঞ্চিত, লাঞ্ছিত, অপমানিত ও শেষে অন্যায় যুদ্ধে নিহত। তাকে পক্ষ ত্যাগের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিলো। সে জন্মসুত্রেই বিজয়ী পক্ষে থাকতে পারতো প্রস্তাব গ্রহণ করলে। সে সেই প্রস্তাব গ্রহণ করে নাই। এইটাই বাংলার ভাগ্য সেই অনাদিকাল থেকে। ক্ষুদ্র কিন্তু আত্মমর্যাদায় বলিয়ান। বারেবারে পরাস্ত হয়েছে বৃহৎ শক্তির কাছে আবার উঠে দাড়িয়েছে। আবার লড়াই করেছে। এতো বিদ্রোহ পৃথিবীর কোন জাতি করেনি যা আমরা করেছি সেই অনাদিকাল থেকে। আমাদের রক্তে বিদ্রোহ। আমাদের যা হয়ে উঠতে পারার কথা ছিলো তা না হয়ে ওঠার বেদনা আমাদের জাতির ডি এন এ। বাংলাদেশ শান্তির দেশ না। বাংলাদেশ বিদ্রোহ বিপ্লবের দেশ। বাংলাদেশ যতোদিন বিশ্ব সংসারে নিজের রাইটফুল প্লেস না পাবে ততোদিন বিদ্রোহ আর বিপ্লবের ডাক নাম হবে বাংলাদেশ। আর এটাই আমাদের গর্ব। ইনকিলাব জিন্দা...

লক্ষ্মীপেঁচা

  দেখিতাম সেই লক্ষ্মীপেঁচাটির মুখ যারে কোনোদিন ভালো ক’রে দেখি নাই আমি। - জীবনানন্দ দাশ পৃথিবীর বুকে আল্লাহর প্রতিটি সৃষ্টি এক একটি মনের শান্তির নিদর্শন। পেঁচার দিকে তাকালে মনে হয়, যেন এটি শুধু দেখতে নয়, অনুভব করতেও এসেছে। মাথাটি কৌতূহলী ভঙ্গিতে কাত করে, যেন আমাদের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে—"তোমরা কীভাবে আমাকে দেখছো?" পেঁচা একটি আশ্চর্যজনক প্রাণী। রাতের নীরবতা ভেঙে তার মৃদু ডানা ঝাপটানোর শব্দে প্রকৃতির গভীরতা প্রকাশ পায়। তার মায়াময় চোখ দুটি যেন রাতের আকাশে দুটি জ্বলজ্বলে তারার মতো। এই চোখগুলো শুধু অন্ধকারে দেখতে সক্ষম নয়, বরং আমাদের হৃদয়ের গভীরতাও ছুঁতে পারে। আল্লাহ পেঁচাকে কেবল সৌন্দর্য নয়, বুদ্ধিমত্তা এবং শিকারী ক্ষমতাও দান করেছেন। কিন্তু তার এই শিকার প্রবৃত্তির মধ্যেও এক ধরনের শৃঙ্খলা রয়েছে। সে শুধু নিজের প্রয়োজনেই শিকার করে, প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করে। আমাদের উচিত আল্লাহর এই অপূর্ব সৃষ্টিকে সম্মান করা, তাদের নিরাপদে বাঁচতে সাহায্য করা। পেঁচা আমাদের শেখায়, কৌতূহলী হতে, চারপাশের জগতকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে। আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষুদ্র সৌন্দর্য উপলব্ধি করতে। আল্...

প্রাণী দত্তক নেওয়া

  কালিগঞ্জ, কুড়িগ্রামের একটি সাধারণ দিনের কথা। রাস্তার ধারে দেখা মিলল একটি ছোট্ট ঘোড়ার, যার কোমল শরীরের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বিশাল ভারী পাইপের বোঝা। পাইপগুলো এতই ভারী যে, তা বহন করতে গিয়ে ঘোড়াটি কাঁপছে, ক্লান্ত হয়ে হাঁপিয়ে উঠছে। তবুও, তার মালিক নির্বিকার, যেন এই দৃশ্য তার কাছে স্বাভাবিক। আমাদের সমাজে এমন দৃশ্য নতুন কিছু নয়। যন্ত্রের যুগেও অনেক জায়গায় প্রাণীদের উপর এই অমানবিক বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়। ছোট্ট এই ঘোড়াটি কোনো প্রতিবাদ করতে পারে না, কথা বলতে পারে না। কিন্তু তার ক্লান্ত দৃষ্টি, তার নুইয়ে পড়া পা আর থেমে থেমে চলা নিঃশ্বাসগুলো যেন আর্তি জানায়—"আমাকে একটু রেহাই দিন।" আমরা মানুষ, আমাদের বিবেক আছে, হৃদয় আছে। কিন্তু সেই বিবেক আর মনুষ্যত্ব কি হারিয়ে গেছে? একজন মানুষ হয়ে কিভাবে এমন একটি দৃশ্য দেখে কেউ চোখ ফিরিয়ে নিতে পারে? এমন দৃশ্য আমাদের আত্মাকে প্রশ্ন করে—আমরা কি সত্যি মানুষ? প্রাণীদের প্রতি সদয় হওয়া শুধু মানবতার চর্চাই নয়, এটি আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তারা আমাদের জন্য কাজ করে, আমাদের বোঝা বহন করে। বিনিময়ে তাদের প্রতি আমাদের যত্নবান হওয়া উচিত। একটি নিরীহ প্রাণীর প্রতি এমন ন...

রেসকিউর গল্প

  একটি প্রাণীর চোখে লুকিয়ে থাকে এমন এক গভীর ভাষা, যা শব্দের প্রয়োজন ছাড়াই হৃদয়ের গভীরে ছুঁয়ে যায়। সেই চোখের চাহনিতে যেন জমা থাকে এক পৃথিবী ভরা অনুভূতি—কখনো আশ্রয়ের নীরব আকুতি, কখনো নিঃশর্ত ভালোবাসার উষ্ণতা, আবার কখনো অন্তরকে ভেঙে দেওয়ার মতো নিঃশব্দ কষ্টের আর্তনাদ। সেই চোখের গভীরে আপনি খুঁজে পাবেন পরম বিশ্বাস, এক অনাবিল স্নেহের আশ্বাস, যা আপনাকে মুহূর্তেই পরিবর্তন করে দিতে পারে। কখনো এই চাহনি আপনার মনকে হাসিতে ভরিয়ে তুলবে, আবার কখনো এতটাই মমতায় ভিজিয়ে দেবে যে, চোখের কোণে অশ্রু জমে উঠবে। এটা কোনো সাধারণ ভাষা নয়, বরং এমন এক নীরব সংলাপ, যেখানে প্রাণীর অনুভূতি আর মানুষের হৃদয় এক সুরে বাঁধা পড়ে। এই চোখের ভাষায় কোনো মিথ্যা নেই, নেই কোনো শর্ত বা প্রত্যাশা। এতে শুধু ভালোবাসার এক নিখুঁত রূপ দেখা যায়—যা কেবল দেওয়া হয়, কখনো চাওয়ার জন্য নয়। এমন চাহনির সামনে দাঁড়িয়ে মানুষ নিজেকে আর একা মনে করতে পারে না; বরং অনুভব করে, এই নির্ভেজাল সম্পর্কের বন্ধন পৃথিবীর যেকোনো শব্দের চেয়ে শক্তিশালী। পোষা কুকুর বা বিড়ালটিকে কখনো ফেলে যাবেন না। ওরা শুধু পোষা প্রাণী নয়, ওরা আপনার পরিবারের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ওরা আপন...

কৃতজ্ঞতাপূর্ণ চোখের চাহনি

  একটি কৃতজ্ঞ হৃদয় পৃথিবীকে আরও সুন্দর করে তোলে ❤️ 💕 কেন কৃতজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ? জীবনের ছোট ছোট জিনিসগুলো যখন আমরা মূল্যায়ন করি, তখন মনের মধ্যে জন্ম নেয় প্রশান্তি। কৃতজ্ঞতার অভ্যাস হতাশাকে দূর করে এবং মানসিক স্বাস্থ্যকে সুস্থ রাখে। 💪 কিভাবে কৃতজ্ঞতা আত্মবিশ্বাস বাড়ায়? যখন আমরা আমাদের অর্জন ও আশীর্বাদগুলোর জন্য কৃতজ্ঞ হই, তখন নিজের প্রতি সম্মান ও বিশ্বাস তৈরি হয়। 🌼সুস্থ সম্পর্কের শক্তি পরিবার, পার্টনার ও সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা একে অপরের সাথে সম্পর্ককে দৃঢ় করে। এটি ভালোবাসা ও পারস্পরিক বোঝাপড়াকে বাড়িয়ে তোলে এবং জীবনে সুখের পরিমাণ বাড়ায়। কৃতজ্ঞতা কেবল ধন্যবাদ জানানো নয়; এটি জীবনের প্রতি একটি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি 🌸 ====================================================================== কোনো রেস্টুরেন্টে বা কারো বাড়িতে খেতে গেলে আমি একটা কাজ করি, যা অনেকের কাছে নির্লজ্জের মতো মনে হতে পারে। আমি যা খেতে পারি, তা খাই। বাকি খাবারটুকু প্যাকেট করে নিয়ে আসি। বাইরে এসে যদি দেখি, সেটা কাউকে দেয়ার মতো হলে আমি তা কোনো ক্ষুধার্ত মানুষের হাতে তুলে দিই। আর যদি মানুষের উপযোগী না থাকে, সেটা রাস্তা...

কিটির গল্প

  ~কিটির গল্প~ জান্নাত জুবায়ের সময়টা ছিল ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪। হঠাৎ আমার মনে হল, একটা বিড়াল পুষি। আম্মু এতে সায় দিলেও আব্বু প্রথমে রাজি ছিল না। তবুও, সিদ্ধান্ত নিলাম যে বাসায় একটা বিড়াল নিয়ে আসব। কিছুদিন পর, আমার এক ছাত্র আমাকে একটি ছোট্ট বিড়াল উপহার দিল। তার নাম রাখলাম "কিটি"। শুরুর দিকে কিটিকে ধরতে আমার বেশ ভয় করত। আম্মু আর ভাইয়া মিলে তাকে খাওয়াত এবং ভাইয়ার সাথে সে ঘুমাতো। ধীরে ধীরে আমার ভয়টা কেটে গেল। আমি তার দেখাশোনা শুরু করলাম। এক সময় কিটির প্রতি আমার মায়া বাড়তে লাগল। কিটি খুব দ্রুত আমাদের পরিবারের সবার প্রিয় সদস্যে পরিণত হলো। প্রতিদিন বাইরে গিয়ে খেলাধুলা করত কিটি। তার নাম ধরে ডাকলেই সে দৌড়ে ফিরে আসত। সারাদিন আমার পেছনে পেছনে ঘুরত। তার সুন্দর সুন্দর ছবি আর ভিডিও মাঝে মাঝে আমি স্টোরি দিতাম। তবে মাঝে মাঝে সে আমাকে বিরক্তও করত। তখন আমি আম্মুকে ডাকতাম, কারণ আম্মুকে সে বেশ ভয় পেত। আর কিছুক্ষণ পরই তাকে কোলে নিয়ে আদর করতাম। কিটির সঙ্গে লুকোচুরি খেলা আর ছোট্ট ছোট্ট দুষ্টুমিগুলো আমার জীবনে এক অন্য রকম আনন্দ এনে দিয়েছিল। ওর প্রতি যে মায়া তৈরি হয়েছিল, তা টাকায় মাপা অসম্ভব। কিন্...