Skip to main content

রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন

 


ভবিষ্যতে যারাই বাংলাদেশে সরকার গঠন করবেন, তাঁদের সামনে সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ হবে দুর্নীতি ও রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন মোকাবিলা। বাংলাদেশের যে কোন ধরনের অগ্রগতিতে সবচাইতে বড় বাঁধা হলো দুর্নীতি, যা রাষ্ট্র এবং সমাজের প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করেছে। এবং যুগের পর যুগ ঘুণপোকার মতো আমাদের ঝাঁঝরা করছে। আর তারপরই রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন, যা বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজে ব্যাপকভাবে নিরুৎসাহিত করে। কারণ যোগ্য ব্যক্তিটি যোগ্য পদটি থেকে বঞ্চিত হন অথবা তাঁকে বঞ্চিত করা হয় বা হতে হয়।

যেহেতু এখনো অনেক সময় বাকী এবং একটি অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পরিচালনা করছে। রাজনৈতিক দলগুলোর হাতে কিছুটা সময় আছে তাঁদের দলগুলোর ভেতরের দুর্নীতিবাজ ও রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নে জড়িতদের চিহ্নিত করে চিরতরের জন্যে তাদের সাথে সম্পর্ক ছেদ করা। এবং এটা করা তেমন কষ্টসাধ্য নয়, যদি দলগুলোর সর্বোচ্চ মহলের সদিচ্ছা এ পূর্ণ সমর্থন থাকে। অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং পরীক্ষিত ক্লীন ইমেজের সিনিয়র নেতা-কর্মীদের দিয়ে গোপন একটি কমিটি গঠন করা যেতে পারে, যারা দলের বিভিন্ন পর্যায় নিজ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে এসবের গোঁড়া সহজেই চিহ্নিত করতে পারবেন। এটা তেমন কঠিন কিছু নয়। প্রমাণ সহ হাতেনাতে কয়েকজনকে পাকড়াও করুন এবং আজীবনের জন্যে বহিস্কার করে দিন। দেখুন তারপরে কি হয়। এখানে মায়া-মমতার কোন স্থান নেই, আপনার শরীরে ক্যান্সারাস টিউমারের সৃষ্টি হলে সেটা তো কেটে বাদ দিতেই হবে, তা যত গুরুত্বপূর্ণ স্থানেই হোক না কেন, তাই না? দুর্নীতিবাজ ও রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নে জড়িত নেতা-কর্মীরাও ঠিক এমন ক্যান্সারাস। এদের যত পুষবেন তত ছড়াবে এবং একটা সময় আপনার নিজ অস্তিত্বের জন্যেই হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। যদি প্রয়োজন হয় এ ধরনের নেটওয়ার্ক সেটাপে সকল রকমের সহযোগিতা প্রদান করতেও কোন আপত্তি নেই, কিন্তু কিছু একটা আপনাদের করতেই হবে। আগামীর বাংলাদেশে দুর্নীতি আর রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের ছায়াও দেখতে চাইনা। -জুলকারনাইন সায়ের খাঁন।

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...