Skip to main content

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

 


প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু।

প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, তাহলে সেই জীবনেই আমরা আল্লাহর সাক্ষাৎ পাবো। সেখানে থাকবে না কোনো দুঃখ, কষ্ট বা অপূর্ণতা। এই দৃষ্টিকোণ থেকে ভাবলে মৃত্যু কি আসলেই পুরস্কার নয়? কিন্তু যারা মুমিন নয়, যারা দুনিয়াকেই তাদের জীবনের সবকিছু মনে করেছে, যাদের কাছে দুনিয়ার সাফল্যই সবচেয়ে বড় সাফল্য, তাদের জন্য মৃত্যু কোনো পুরস্কার নয়। বরং তা এক কঠিন আযাব, যার থেকে তাদের মুক্তি নেই। এখন কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে কল্পনা করুন। আপনি মারা গেছেন, এবং আপনার মৃত্যুর কয়েক মাস পেরিয়ে গেছে। আপনি রুহ বা আত্মিক সত্তা হিসেবে নিজের বাসায় ফিরে এলেন। দেখলেন আপনার স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা সবাই যে যার মতো ব্যস্ত। যে কোম্পানিটা আপনি মনে করতেন আপনার ছাড়া চলবে না, সেটি দিব্যি চলছে। আপনি না থাকলেও ঘরের কাজ কেউ না কেউ ঠিকই করছে। সবাই নিজেদের মতো করে জীবন গুছিয়ে নিয়েছে। আপনার জায়গা, আপনার দায়িত্ব সবই অন্য কেউ পালন করছে। কিছুই থেমে নেই। এই কল্পনাটা যখন আপনি সত্যি করে ভাববেন, তখন নিজের অজান্তেই একটি প্রশ্ন সামনে আসবে। আসলে আমার কোন বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পাওয়া উচিত? দুনিয়ার চিন্তা, নাকি আল্লাহর ইবাদত? এই কারণেই বলা হয়, মরার আগেই মৃত্যু নিয়ে ভাবা উচিত। কারণ মৃত্যুর পরে শতবার ভাবলেও তখন আর কোনো লাভ হবে না। আল্লাহ বলেন: “যখন তাদের নির্ধারিত সময় এসে যাবে, তখন তারা এক মুহূর্তও দেরি বা আগ-পিছ করতে পারবে না।” (সূরা ইউনুস, আয়াত ৪৯) মৃত্যু নিয়ে মাঝে মাঝে ভাবুন। নিজের আনন্দের জন্য যখন দামি কিছু কিনতে যাবেন, তখন একবার ভেবে দেখুন। কবরের বাস্তবতায় আপনি কেমন অবস্থায় থাকবেন। এই দুনিয়ায় কিছু সময়ের বিলাসিতা হয়তো আপনাকে খুব আনন্দ দিচ্ছে, কিন্তু সেই আনন্দ যে ক্ষণিক, তা খুব শীঘ্রই স্পষ্ট হয়ে যাবে। তাই সময় থাকতে নিজেকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করুন। যেটা সঠিক, সেটাই করার চেষ্টা করুন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে জান্নাতে যাওয়ার তৌফিক দিন। আমিন। আল্লাহ বলেন: “অতঃপর তোমাদের প্রভুর কাছেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।” (সূরা আস-সাজদাহ, আয়াত ১১)

Comments

Popular posts from this blog

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...