Skip to main content

Posts

Showing posts from February, 2026

‘বিপ্লব চত্বরে’ হাজারো প্রাণের মিলনমেলা

  ইথিওপিয়ার আমহারা অঞ্চলের ঐতিহাসিক শহর দেসি। আসরের নামাজ শেষ হতেই দেখা গেল এক অদ্ভুত ব্যস্ততা। একদল তরুণ হলুদ জ্যাকেট গায়ে দিয়ে রাজপথ পরিষ্কার করছেন। কেউ বিছিয়ে দিচ্ছেন প্লাস্টিকের লম্বা দস্তরখান, কেউবা দূর থেকে বয়ে আনছেন বড় বড় খাবারের পাত্র। কোনো রেস্তোরাঁ বা বাড়ির আঙিনা নয়, ইফতারের তোড়জোড় চলছে খোদ পিচঢালা রাজপথে। গত কয়েক বছরে ইথিওপিয়ার শহরগুলোতে ‘স্ট্রিট ইফতার’ বা রাজপথের ইফতার এক নতুন ও শক্তিশালী সামাজিক বিপ্লব হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। প্রথম হিজরতের স্মৃতি প্রাচীন আবিসিনিয়ার সঙ্গে ইসলামের সম্পর্ক নাড়ির। যখন মক্কায় নবদীক্ষিত মুসলিমদের ওপর নির্যাতন চলছিল, তখন মহানবী (সা.) তাঁর সাহাবিদের বলেছিলেন লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে আবিসিনিয়ায় চলে যেতে। সেই আবিসিনিয়াই আজকের ইথিওপিয়া। সেখানকার ন্যায়পরায়ণ রাজা নাজ্জাশির আশ্রয় লাভের সেই ঘটনা ইসলামের ইতিহাসে ‘প্রথম হিজরত’ হিসেবে অমর হয়ে আছে। ইথিওপিয়ার মুসলিমরা গর্ব করে বলেন, “আমরাই সেই জাতি যারা সংকটের সময়ে ইসলামের প্রথম সন্তানদের আগলে রেখেছিলাম।” বর্তমানে দেশটির প্রায় ৩৫ শতাংশ মানুষ মুসলিম, যদিও বেসরকারি হিসেবে এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি। মঞ্চ যখন রাজপথ ...

উইন্ডসর ক্যাসেলের আজান ও লন্ডনের রাজকীয় ইফতার

  টেমস নদীর তীরের শহর লন্ডন। ভিক্টোরিয়ান স্থাপত্য আর আধুনিক নব্য-সভ্যতার এই শহরে রমজান এখন কেবল মুসলিমদের একান্ত বিষয় নয়, বরং এটি ব্রিটিশ সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। লন্ডনের রমজান মানে এখন রাজকীয় প্রাসাদে আজান, ফুটবল স্টেডিয়ামে গণ-ইফতার আর পরিবেশবান্ধব এক আধ্যাত্মিক আবহ। উইন্ডসর ক্যাসেলের ঐতিহাসিক ইফতার লন্ডনের রমজান ইতিহাসের পাতায় ২০২৫ সালটি স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। প্রথমবারের মতো ব্রিটিশ রাজপরিবারের ঐতিহ্যবাহী ‘উইন্ডসর ক্যাসেল’-এর সেন্ট জর্জ হলে আয়োজিত হয়েছে রাজকীয় ইফতার। প্রায় এক হাজার বছরের ইতিহাসে এই প্রথম প্রাসাদের ভেতরে মাগরিবের আজান ধ্বনিত হয়েছে। ৩৫০ জন ভিন্ন ধর্মাবলম্বী ও সংস্কৃতির মানুষের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই ইফতার অনুষ্ঠানটি ছিল ধর্মীয় সহাবস্থান ও ব্রিটিশ রাজপরিবারের উদারতার এক অনন্য প্রতীক। এমনকি রাজা চার্লস এবং রানী কামিলাও নিজ হাতে খেজুর প্যাকেট করে মুসলিমদের ইফতার আয়োজনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। ‘ইফতার স্ট্রিট’ ও ফিনসবারি পার্কের সম্প্রীতি লন্ডনের আরেকটি জনপ্রিয় ইফতার আয়োজন হলো ‘ইফতার স্ট্রিট’। লন্ডনের ফিনসবারি পার্ক মসজিদের সামনের রাস্তাটি ইফতারে...

রমজানে সোমালিয়ার সংস্কৃতি ও সংহতি

  উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার দেশ সোমালিয়ায় ইসলাম এসেছে ৭ম শতকেই। মহানবী (সা.) জীবদ্দশায় প্রথম উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জেইলাতে মুসলিমগণ নির্মাণ করেছিলেন মসজিদ আল-কিবলাতাইন। আজ সোমালিয়া একটি মুসলিম প্রধান দেশ, যেখানে প্রায় ৯৯% জনগণ ইসলামের অনুসারী। ফলে রমজান এ-দেশে আসে মহাসমারোহে, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে। রমজান মাস আসার আগেই সোমালিয়ার সর্বস্তরে শুরু হয় প্রস্তুতি। ঘরবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে রাখা এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রমজানের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করা তাদের রেওয়াজ। বাজারেও এর প্রভাব স্পষ্ট, রমজানের আগে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের চাহিদা বেড়ে যায়।সোমালিরা প্রতিদিন মাগরিবের পর উল্লাসের সঙ্গে উচ্চ গলায় পরদিনের রোজার নিয়ত করেন। রাতের প্রধান খাবার গ্রহণ করেন এশা ও তারাবির পর। ইসলামি শিক্ষার প্রতি তাদের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে, বিশেষ করে কোরআন মুখস্থকরণের ক্ষেত্রে। গ্রামাঞ্চলে বহু কোরআনের হাফেজ পরিবার দেখা যায়। মসজিদ ছাড়াও ঘরে পরিবারের সবাই মিলে তারাবির নামাজ পড়ার চল প্রায় সর্বত্রই দেখা যায়। তারাবির পাশাপাশি সোমালিয়ার মসজিদগুলোতে রমজান মাসে কোরআন ত...

উজবেকদের রমজান উদ্‌যাপন

  উজবেকিস্তান মধ্য এশিয়ার একটি মুসলিম রাষ্ট্র। ইতিহাস ঐতিহ্য আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর একটি স্বাধীন দেশ। ইমাম বুখারি ও ইমাম তিরমিজি (রহ.)–সহ জগদ্বিখ্যাত হাজারো মুসলিম মনীষীর জন্মস্থান। ঐতিহ্যগতভাবেই দেশের সংস্কৃতি জুড়ে আছে ইসলাম। রোজায় পুরো উজবেকিস্থান জুড়ে শুরু হয় ধর্মীয় উৎসব উচ্ছ্বাস। মসজিদগুলোকে নতুন করে ধোয়া-মোছা করা হয়। নতুন কাপড় বাহারি রঙের কার্পেট ও নান্দনিক ক্যালিগ্রাফিতে সেজে উঠে শহরের মসজিদগুলো। সঙ্গে থাকে নানান ঘ্রাণের সুগন্ধি আতর। উজবেকরা সাধারণত খতমে তারাবি পড়ে থাকে এবং খতমে তারাবিকেই গুরুত্ব দিয়ে থাকে। সাধারণত শহর ও প্রধানতম মসজিদগুলোতে খতমে তারাবিই হয়। তবে তুলনামূলক ছোট মসজিদ ও বাসা বাড়িতে সুরা তারাবিও পড়া হয়। শহরের একাধিক স্থানে দুই খতমের তারাবির ব্যবস্থাও আছে। ইফতার নিয়ে উজবেকদের মধ্যে একধরনের প্রতিযোগিতা লক্ষ করা যায়। কে কীভাবে ইফতারের দরস্তরখান সাজাবে এই নিয়ে তাদের মধ্যে একটি প্রতিযোগিতা চলে। তাদের ইফতার আয়োজনগুলো ঘরেও হয় আবার উৎসবের সঙ্গে রাস্তায় সম্মিলিতভাবেও হয়। উজবেকরা ইফতার মুহূর্তটাকে একটা উৎসব আয়োজন মনে করে।তাদের ইফতার আয়োজনগুলো সাজে সুনসাহ ও নাসতু নামে...

তুর্কমেনিস্তানে ইফতারির টেবিল

  তুর্কমেনিস্তানের রাজধানী আশগাবাত। রমজানকে বরণ করে নিতে তুর্কমেনদের রয়েছে নিজস্ব সংস্কৃতি। ‘আল মিসরিল ইয়াওমি’ পত্রিকায় বলা হয়েছে, তাঁদের বড় আয়োজন হলো রমজানের জন্য বিশেষ বাজারসদাই। রমজানের আগে মসজিদ ও বাসাবাড়ি পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন করা হয়। রমজানে সব আত্মীয়স্বজন একত্র হয়। তুর্কমেনদের ঐতিহ্য পরিবারের সবাই একসঙ্গে রোজা রাখা এবং একসঙ্গে ইফতার করা। তুর্কমেনি নারীরা সাজতে খুব পছন্দ করেন। রমজান আসার আগে নিজেদের বাসা, দোকানপাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদে শোভা বাড়াতে তাঁরা নতুন কার্পেট কেনেন। কারুকাজখচিত কাপড় বুনতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। রমজানের জোহরের নামাজের পরই মসজিদগুলোতে নানা অনুষ্ঠান শুরু হয়। সেখানে কোরআন–হাদিসের মজলিসের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিযোগিতারও আয়োজন থাকে। প্রতিযোগিতার বিষয় হয় ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য। তাতে অংশ নেয় তুর্কমেনি শিশু–কিশোরেরা। রমজান এলে পরস্পর দান–সদকারও প্রতিযোগিতা করে।তুর্কমেনিস্তানে ইফতারির টেবিল সেজে ওঠে প্রকার বাহারি সব খাবার দিয়ে। এর মধ্যে আছে দাগরামা সমুচা ও তুর্কমেন পানীয়। সঙ্গে খেজুর ও বিভিন্ন শাকসবজি। ইফতার ও সাহ্‌রিতে উট বা ভেড়ার গোশতের তৈরি বিভিন্ন খাবার থাকে। তাতে...

তুষারশুভ্র মস্কোয় সংহতির ইফতার

  আকাশ থেকে ঝরছে তুলার মতো সাদা তুষার। কনকনে হিমেল হাওয়া আর হিমাঙ্কের নিচে থাকা তাপমাত্রায় যখন পুরো মস্কো শহর স্থবির হওয়ার উপক্রম, ঠিক তখনই রাশিয়ার মুসলিম হৃদয়ে বইছে উষ্ণ প্রশান্তি। এই প্রশান্তির নাম রমজান। বিশ্বের বৃহত্তম দেশ রাশিয়ায় রমজান মানেই প্রতিকূল আবহাওয়ার সঙ্গে আধ্যাত্মিকতার এক অপূর্ব লড়াই। যেখানে তুষারপাতের শুভ্রতা আর ইফতারের আগ মুহূর্তের নীরবতা মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। ইতিহাসের শেকড় যেখানে অনেক পশ্চিমা দেশের মতো এখানে মুসলিমরা কেবল অভিবাসী নন, বরং তারা এখানকারই সন্তান। প্রায় এক হাজার বছর আগে, ৯২২ খ্রিষ্টাব্দে প্রাচীন ভলগা বুলগেরিয়া অঞ্চলে ইসলাম রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত হয়েছে। এমনকি রাশিয়ার বর্তমান প্রধান ধর্ম অর্থোডক্স খ্রিষ্টধর্মের প্রসারেরও ৬৬ বছর আগে এই অঞ্চলে ইসলামের আলো পৌঁছেছে। ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, কিয়েভ রাজকুমার ভ্লাদিমির যখন নিজের রাজ্যের জন্য একটি ঐশ্বরিক ধর্মের সন্ধান করছিলেন, তখন তিনি মুসলিম প্রতিনিধিদের কাছ থেকে ইসলামের সুশৃঙ্খল জীবনবিধান দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন। যদিও ব্যক্তিগত কিছু কারণে তিনি শেষ পর্যন্ত খ্রিষ্টধর্ম বেছে নেন। রাশিয়ার জনসংখ্যার প্রায় ১৫ শতাংশ অর...

জার্মানিতে রমজান: বৈচিত্র্যে খাপ খাইয়ে নেওয়া

  প্রতিটি দেশে রমজান নিজস্ব ঐতিহ্য ও পরিবেশ নিয়ে আসে। তবে জার্মানির মতো বহু সাংস্কৃতিক সমাজে এটি এক অনন্য রূপ ধারণ করে। মুসলিমরা তাদের ধর্মীয় পরিচয়ের সঙ্গে আধুনিক ইউরোপীয় জীবনের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করে নেন। জার্মানিতে মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশ গঠিত হয়েছে আরব, তুর্কি, পাকিস্তানি, আফ্রিকানসহ নানা জাতিগোষ্ঠী থেকে। তাই রমজানের সময় বার্লিন, কোলোন, মিউনিখসহ বড় শহরগুলোর মসজিদগুলো হয়ে ওঠে কমিউনিটির হৃৎস্পন্দন। বিভিন্ন পটভূমি থেকে আসা মানুষ একত্রিত হয়ে ইবাদত এবং আত্ম-অনুসন্ধানের মাধ্যমে সময় অতিবাহিত করেন। তারাবির সময় মসজিদগুলো ভরে যায় মুসল্লিদের কণ্ঠে। আরবি, তুর্কি ও অন্যান্য ভাষায় খুতবা দেওয়া হয়, ফলে বহুজাতিক মুসলিম সমাজের চিত্র ফুটে ওঠে। রোজার মাসে মানিয়ে নেওয়ার কৌশল জার্মানিতে মুসলিমরা নিজেদের জীবনযাত্রার সঙ্গে রোজার সময়সূচিকে মানিয়ে নেওয়ার বিভিন্ন উপায় খুঁজে নেন। অনেকেই হালকা সাহরি গ্রহণ করেন, যাতে সারা দিন কাজ বা পড়াশোনার জন্য পর্যাপ্ত শক্তি বজায় থাকে। তবে রমজান শুধুমাত্র একটি ক্যালেন্ডারের মাস নয়, বরং এটি একটি আত্ম-অনুসন্ধানের অভিজ্ঞতা, যেখানে মানুষ নিজের দৈনন্দিন অভ্যাসকে পুনর্গ...

আটলান্টিকের বাতাসে ভাসে হারিরার সুবাস

  মাগরিবের আজান হতে তখনও কিছুক্ষণ বাকি। কাসাব্লাঙ্কা কিংবা রাবাতের সরু গলিগুলোতে এখন তিল ধারণের জায়গা নেই। চারদিকে ভাজা মিষ্টি আর মশলাদার স্যুপের ম ম ঘ্রাণ। আটপৌরে দোকান থেকে শুরু করে অভিজাত রেস্তোরাঁ—সবখানেই ব্যস্ততা মরক্কোর মানুষের কাছে রমজান মানে এক দীর্ঘ সামাজিক উৎসব, যেখানে প্রতিটি মুহূর্ত সাজানো থাকে হাজার বছরের পুরনো ঐতিহ্যের কারুকাজে। উত্তর আফ্রিকার এই দেশটির পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত জুড়ে রয়েছে সুবিস্তৃত আটলান্টিক মহাসাগর। এছাড়া এর উত্তর দিকে ভূমধ্যসাগর রয়েছে, যা একে আটলান্টিক ও ভূমধ্যসাগর—উভয় উপকূলে অবস্থিত একটি অনন্য দেশ হিসেবে গড়ে তুলেছে। হারিরা: মরক্কোর ইফতারের প্রাণ মরক্কোর ইফতার টেবিলের কথা উঠলেই সবার আগে আসে ‘হারিরা’র নাম। এটি মরক্কোর ইফতারের অবিচ্ছেদ্য অংশ। টমেটো, ডাল, ছোলা আর বিশেষ মশলার মিশ্রণে তৈরি এই ঘন স্যুপটি সারাদিনের রোজার পর শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায়। হারিরার সঙ্গে পাতে থাকে ‘শুবাকিয়া’—তিল আর মধু দিয়ে তৈরি এক ধরনের বিশেষ ভাজা মিষ্টি, যা দেখতে অনেকটা গোলাপ ফুলের মতো। লবণাক্ত হারিরার সঙ্গে মিষ্টি শুবাকিয়ার এই যুগলবন্দি মরক্কোর ইফতারকে বিশ্বের অন্য সব দেশে...

রাইন নদীর তীরে মাগরিবের আজান

  ইউরোপের দেশ জার্মানিতে গ্রীষ্মের রমজান মানে এক দীর্ঘ ধৈর্যের পরীক্ষা। প্রায় ১৭ থেকে ১৮ ঘণ্টা না খেয়ে থাকার পর যখন ইফতারের সময় হয়, তখন ক্লান্তি ছাপিয়ে আনন্দ আর ঐক্যের এক অদ্ভুত আবহ তৈরি হয়।  জার্মানির শহরগুলোতে এখন আর ইফতার কেবল ঘরের চার দেয়ালে বা মসজিদের ভেতরে সীমাবদ্ধ নেই; তা ছড়িয়ে পড়েছে রাজপথে, এমনকি চার্চের আঙিনাতেও। রাজপথে ৭০০ প্রাণের মিলনমেলা জার্মানির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শহর পফোর্টসহাইম। এখানকার ‘আয়া সোফিয়া’ মসজিদ কর্তৃপক্ষ যখন ইয়োর্গ রাতগিব সড়কে ইফতারের আয়োজন করে, তখন তা এক উৎসবের রূপ নেয়। রাস্তার দুই পাশে সারি সারি টেবিল, ওপরে সাদা চাদর—সেখানে বসে ইফতারের অপেক্ষায় থাকেন সিরিয়া, তুরস্ক, আরবসহ বিভিন্ন দেশের শত শত মুসলিম।এই আয়োজনের বিশেষত্ব হলো, এটি কেবল মুসলিমদের জন্য নয়। জার্মান প্রতিবেশীরাও সেখানে আমন্ত্রিত হন। এটি তাদের মনে ইসলাম সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করে।  ইফতারের আগে সেখানে পরিবেশিত হয় ‘মলোভিয়া’ বা সুফি নৃত্য। চার্চ ও মসজিদের সহাবস্থান জার্মানির রাজধানী বার্লিনের ‘ওয়েডিং’ জেলাটি এক বৈচিত্র্যময় জনপদ। এখানকার ‘নাজারেথ চার্চ’-এর আঙিনায় গত কয়েক বছর ধরে আয়ো...

হিন্দুকুশের পাদদেশে ত্যাগ আর তকদিরের আয়োজন

  আফগানিস্তানের আকাশে রমজানের নতুন চাঁদ দেখা দিলে দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সংকট আর অনিশ্চয়তার মাঝেও দেশজুড়ে এক অদ্ভুত প্রশান্তি নেমে আসে। হিন্দুকুশ পর্বতের বরফঢাকা চূড়া থেকে শুরু করে কান্দাহারের ধুলোবালি ওড়ানো রাজপথ—সবখানে এক সুরে বেজে ওঠে একতার মন্ত্র। আফগানদের জাতিগত, ভাষাগত ও রাজনৈতিক বিভেদ অনেক থাকলেও, রমজান তাদের এক সুতোয় গেঁথে ফেলে। ‘বোলানি’: ইফতারের দস্তরখান আফগান ইফতারের আয়োজন যতটা সাধারণ, ততটাই আন্তরিক। সেখানে আড়ম্বর কম থাকলেও ভালোবাসার কমতি থাকে না। শুরুটা সবুজ চায়ে:  আফগানরা সাধারণত খেজুর এবং লবঙ্গ-দারুচিনি মিশ্রিত সুগন্ধি সবুজ চা   দিয়ে ইফতার শুরু করেন। বোলানি:  এটি আফগান ইফতারের প্রধান আকর্ষণ। পাতলা রুটির ভেতরে আলু, পালং শাক বা মাংসের পুর দিয়ে ভাজা এই খাবারটি ধনীর তশতরি থেকে গরিবের প্লেট—সবখানে দেখা যায়। কাবুলি পোলাও ও শুরবা:  মূল খাবারের আয়োজনে থাকে জর্দা, কিশমিশ ও গাজরের কুচি মেশানো বিখ্যাত আফগান পোলাও এবং মাংস ও সবজি দিয়ে তৈরি পুষ্টিকর স্যুপ বা শুরবা। রাজপথে ‘নুসরতের’ দৃশ্য আফগান শহরগুলোতে বর্তমানে একটি নতুন চিত্র দেখা যায়। ইফতারের সময় হলে সরকারি ক...

রোজার মাসে বিড়ালের খাবার

  আর মাত্র এক–দুই দিন পরই শুরু হচ্ছে রোজা। আমাদের ঘরবাড়িতে বদলে যাবে সময়ের হিসাব, খাবারের রুটিন, ব্যস্ততার ধরণ। সেহরি আর ইফতারের প্রস্তুতিতে রাত জেগে থাকবে পরিবার। এই পরিবর্তনের ভেতরে আমরা মানুষ যেমন মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করি, ঠিক তেমনি আমাদের বাসার বিড়ালগুলোও হঠাৎ এই পরিবর্তনের প্রভাব অনুভব করে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, সেহরির টেবিলে রাখা গরম গরম মুরগির দিকে কৌতূহলী চোখে তাকিয়ে আছে একটি বিড়াল। এটি খুব স্বাভাবিক দৃশ্য। কারণ খাবারের গন্ধ, বিশেষ করে মাংসের গন্ধ বিড়ালের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয়। কিন্তু রোজার সময় আমাদের সচেতন হতে হবে কারণ মানুষ যা খায়, সবকিছুই বিড়ালের জন্য নিরাপদ নয়। সেহরির সময় অনেকেই তাড়াহুড়া করেন। টেবিলে খাবার রেখে নামাজে যান বা অন্য কাজে ব্যস্ত হন। এই ফাঁকে বাসার বিড়াল খাবারের কাছে চলে আসতে পারে। মশলাযুক্ত, ঝাল, লবণাক্ত বা ভাজা খাবার বিড়ালের শরীরের জন্য ক্ষতিকর। অতিরিক্ত লবণ তাদের কিডনির ওপর চাপ ফেলে, হাড়সহ মাছ বা মুরগি গলায় আটকে যেতে পারে আর পেঁয়াজ–রসুন মিশ্রিত খাবার তাদের জন্য বিষাক্তও হতে পারে। তাই রোজার এই সময়টায় বিড়ালের খাবার আলাদা করে নির্ধারিত সময়ে দেওয়া জরুরি। আপনি য...

শান্তি বিষয়টা সবার কপালে নাই

  সিরিয়ার হাসাকা প্রদেশের কাসরাক ঘাঁটি থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের বাহিনী প্রত্যাহার শুরু করেছে। আর এই প্রত্যাহার করা বাহিনীকে ইরাকে মোতায়েন করছে। একই সাথে ইজরাইলে এসেছে রি ফুয়েলিং বিমান যা আকাশ থেকে আকাশে তেল ভর্তি করে দিবে। নতুন আরো একটি বিমান বাহী রণতরী যাচ্ছে। ভারত সব নাগরিককে দেশ ত্যাগ করতে বলেছে। ইরান সেনাবাহিনীকে বলছে যেই কোন মুহূর্তের জন্য প্রস্তুত থেকে জবাব দিতে কঠিন ভাবে। একটি বিষয় নিশ্চিত. ইরান যদি চুক্তি করেও তার সামনে শান্তি নাই। একদিন না একদিন এই যুদ্ধ করতেই হবে। যদি না সে প্রকাশ্য গোলামে পরিণত হয়। শান্তি বিষয়টা সবার কপালে নাই যদি না আপনি গোলাম হন। "শরণার্থী ঠেকাতে প্রস্তুত তুর্কি বাহিনী!" জি ঠিকই পড়েছেন। মার্কিন নেতৃত্বাধীন ইরান হামলার আশঙ্কায় তুরস্ক ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে, আমেরিকার বিরুদ্ধে না। বরং জীবন রক্ষা করতে চাওয়া নিরীহ ইরানি নাগরিকদের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি ন্যাটোর বন্ধু হিসেবে তার আকাশ নজরদারির প্রধান মনোযোগ রাশিয়া থেকে সরে এখন ইরানের দিকে গেছে। মুসলিমদের অবস্থা দেখলে হাসি পায় আবার কান্নাও আসে। গাজর ক্ষেত্রে মিশর এমন আচরণ করেছে যেন উত্তপ্ত ...

রাজনৈতিক প্রচারণায় প্রাণী

  কল্পনা করুন, নির্দোষ একটা বিড়াল বা কুকুর... যার পৃথিবীটা সীমাবদ্ধ খেলা, ভালোবাসা আর খাবারের মধ্যে। হঠাৎ করে তাকে ঠেলে দেওয়া হলো রাজনৈতিক শোরগোল, স্লোগান আর জনসমুদ্রের ভিড়ে। কেমন লাগবে প্রাণীর জন্য? ভয়, আতঙ্ক আর অস্বস্তি। অথচ আমাদের সমাজে আজও রাজনীতির কাজে প্রাণীদের ব্যবহার করা হয়, যেটা শুধু অনৈতিকই নয়, আইনগতভাবেও প্রশ্নবিদ্ধ। ২০১৮ সালে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী প্রচারণায় লাইভ প্রাণী ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। কারণ, রাস্তায় মিছিল, মাইকিং আর জনসমাবেশে প্রাণীরা ভয় পায়, মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয় এমনকি অনেক সময় আঘাতেরও শিকার হয়। প্রাণী অধিকারকর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল যে রাজনৈতিক প্রচারণা মানুষের কাজ, প্রাণীর নয়। কমিশনের সেই সিদ্ধান্ত মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত প্রশংসনীয় ছিল। বাংলাদেশের মতো ভারতেও একই ধরণের পদক্ষেপ দেখা গেছে। ২০১৯ সালের নির্বাচনে ভারতের নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করে, জীবন্ত প্রাণী রোডশো বা প্রচারণায় ব্যবহার করা যাবে না এমনকি কোনো দলের প্রতীক যদি প্রাণীও হয়, তবুও লাইভ প্রাণীকে টেনে আনা যাবে না। এই সিদ্ধান্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে প্রতীকী ব্যবহার আর বাস্তবে প্রা...

ইফতারের পর ঘুম পায় কেন

  রমজানে দীর্ঘ সময় না-খেয়ে থাকার পর ইফতার শরীরকে পুনরায় শক্তি ও উদ্যম ফিরিয়ে দেওয়ার একটি সুযোগ নিয়ে আসে। তবে ইফতারের পরপরই অনেকে ক্লান্তি, মাথাব্যথা বা ঘুম ঘুম ভাব অনুভব করেন এবং জেগে থাকতে রীতিমতো লড়াই করতে হয়। কেন ইফতারের পর হঠাৎ করে ঘুম পায়? কারণগুলো কী এবং কীভাবে এই ঘুম এড়ানো সম্ভব—তা নিয়ে আজ কথা বলব। ইফতারের পর ঘুম আসার কারণ খাবার খাওয়ার পর কিছুটা ক্লান্তি অনুভব করা স্বাভাবিক এবং এতে উদ্বেগের কিছু নেই। চিকিৎসা পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ইমান জামাল ব্যাখ্যা করেন, ‘ইফতারের পর শরীর আরাম অনুভব করে এবং অলসতা বেড়ে যায়, এর মূল কারণ অন্ত্রের হজম প্রক্রিয়া।’ তিনি বলেন, ‘ইফতারে হঠাৎ বেশি পরিমাণে খাবার গ্রহণের ফলে আমাদের হজমের গতি দ্রুত বেড়ে যায়। তাই মস্তিষ্ক অন্ত্রের দিকে বেশি পরিমাণে রক্ত সরবরাহ করে, যাতে হজম প্রক্রিয়াটি সহজ হয়। ফলে শরীরের অন্যান্য অংশ, বিশেষ করে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ কিছুটা কমে যায়। এ কারণেই ইফতারের পর আমরা ক্লান্তি ও তন্দ্রাচ্ছন্ন অনুভব করি।’যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘মেডিকেল নিউজ টুডে’র তথ্য অনুযায়ী, ইফতারের পর শরীরে ক্লান্তির অন্যতম কারণ হলো ‘সেরোটোনিন’ নামক ...