Skip to main content

রোজার মাসে বিড়ালের খাবার

 আর মাত্র এক–দুই দিন পরই শুরু হচ্ছে রোজা। আমাদের ঘরবাড়িতে বদলে যাবে সময়ের হিসাব, খাবারের রুটিন, ব্যস্ততার ধরণ। সেহরি আর ইফতারের প্রস্তুতিতে রাত জেগে থাকবে পরিবার। এই পরিবর্তনের ভেতরে আমরা মানুষ যেমন মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করি, ঠিক তেমনি আমাদের বাসার বিড়ালগুলোও হঠাৎ এই পরিবর্তনের প্রভাব অনুভব করে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, সেহরির টেবিলে রাখা গরম গরম মুরগির দিকে কৌতূহলী চোখে তাকিয়ে আছে একটি বিড়াল। এটি খুব স্বাভাবিক দৃশ্য। কারণ খাবারের গন্ধ, বিশেষ করে মাংসের গন্ধ বিড়ালের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয়। কিন্তু রোজার সময় আমাদের সচেতন হতে হবে কারণ মানুষ যা খায়, সবকিছুই বিড়ালের জন্য নিরাপদ নয়।

সেহরির সময় অনেকেই তাড়াহুড়া করেন। টেবিলে খাবার রেখে নামাজে যান বা অন্য কাজে ব্যস্ত হন। এই ফাঁকে বাসার বিড়াল খাবারের কাছে চলে আসতে পারে। মশলাযুক্ত, ঝাল, লবণাক্ত বা ভাজা খাবার বিড়ালের শরীরের জন্য ক্ষতিকর। অতিরিক্ত লবণ তাদের কিডনির ওপর চাপ ফেলে, হাড়সহ মাছ বা মুরগি গলায় আটকে যেতে পারে আর পেঁয়াজ–রসুন মিশ্রিত খাবার তাদের জন্য বিষাক্তও হতে পারে। তাই রোজার এই সময়টায় বিড়ালের খাবার আলাদা করে নির্ধারিত সময়ে দেওয়া জরুরি। আপনি যদি সেহরির আগে ও ইফতারের পর নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে দেন তাহলে বিড়ালও ধীরে ধীরে সেই রুটিনে অভ্যস্ত হয়ে যাবে। রোজার মাসে মানুষের খাওয়ার সময় কমে আসে কিন্তু অনেক বাসায় খাবারের পরিমাণ বরং বেড়ে যায়। ইফতারে নানা পদ, ভাজাপোড়া, মাংস.. এসবের গন্ধে বাসার বিড়াল অস্থির হয়ে ওঠে। অনেকে মায়া করে প্লেট থেকে এক টুকরো মাংস দিয়ে দেন। ভালোবাসা থেকেই দেন কিন্তু সেটি যেন হয় নিরাপদ ও সঠিকভাবে প্রস্তুত করা খাবার। সিদ্ধ, লবণহীন ও হাড়ছাড়া মাংস সামান্য পরিমাণে দেওয়া যেতে পারে। তবে মানুষের রান্না করা ঝাল-মশলাদার খাবার নিয়মিত দিলে হজমের সমস্যা, বমি বা ডায়রিয়া হতে পারে। রোজার সময় ভেট ক্লিনিকের সময়সূচিও অনেক জায়গায় পরিবর্তিত থাকে তাই অসুস্থতা এড়াতে আগে থেকেই সতর্ক থাকা ভালো। এবার আসি রাস্তার বিড়াল-কুকুরদের কথায়। রোজার মাসে দিনের বেলায় অধিকাংশ হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও চায়ের দোকান বন্ধ থাকে। স্বাভাবিক সময়ে যেসব দোকানের আশেপাশে খাবারের উচ্ছিষ্ট পড়ে থাকে, রোজায় তা কমে যায়। ফলে রাস্তার বিড়াল-কুকুরদের খাবারের উৎস হঠাৎ করেই কমে যায়। বিশেষ করে দুপুরের দিকে তারা বেশি কষ্টে পড়ে। অনেকে ভাবেন, রোজায় দান–সদকা করলে সওয়াব বেশি কিন্তু শুধু মানুষের জন্য নয়... এই অবলা প্রাণীগুলোর প্রতিও দায়িত্ব রয়েছে। আপনি চাইলে খুব সহজভাবে সাহায্য করতে পারেন। ইফতারের পর বা তারাবির আগে বাড়ির আশেপাশে পরিষ্কার একটি স্থানে কিছু শুকনো খাবার বা ভাত বা মাংসের ছোট অংশ রেখে দিতে পারেন। অবশ্যই প্লাস্টিক বা পলিথিনে নয়, এমন পাত্রে রাখবেন যা পরিবেশের ক্ষতি করবে না। পানি দেওয়াটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। গরমে পানি দ্রুত শুকিয়ে যায় তাই সম্ভব হলে দিনে একবার পরিষ্কার পানি রেখে দিন। এতে শুধু বিড়াল নয়, পাখি ও অন্য প্রাণীরাও উপকৃত হবে। আরেকটি বিষয় মনে রাখা দরকার, রোজার সময় মানুষের ব্যস্ততা বেড়ে যায় ফলে অনেক সময় বাসার বিড়াল একাকিত্ব বোধ করে। দিনের বেলায় আপনি হয়তো ঘুমাচ্ছেন, রাতে ব্যস্ত। তাদের সাথে কিছু সময় কাটানো, আদর করা, খেলাধুলা করা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও জরুরি। আচমকা রুটিন পরিবর্তনে কিছু বিড়াল খাওয়া কমিয়ে দেয় বা আচরণে পরিবর্তন আনে। এমন কিছু লক্ষ্য করলে ধৈর্য ধরুন, জোর করে খাবার পরিবর্তন করবেন না, ধীরে ধীরে অভ্যস্ত করুন। রোজা ইবাদতের মাস। শুধু নিজের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ নয়, নিজের দায়িত্বও বোঝার সময়। সেহরির টেবিলে বসে যখন আমরা খাবার গ্রহণ করি, তখন হয়তো পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বা বাড়ির বাহিরে থাকা একটি বিড়াল-কুকুরও সেই গন্ধে আকুল হয়ে তাকিয়ে থাকে। ইফতারের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার সময় মনে রাখা উচিত, আশেপাশে এমন প্রাণীও আছে যারা সারাদিন খাবার পায়নি। সামান্য সচেতনতা, সামান্য দায়িত্ববোধ... এগুলোই পারে একটি প্রাণীর কষ্ট কমাতে। এই রমজানে আমরা যদি নিজের পরিবার, নিজের ইবাদত আর নিজের খাবারের পাশাপাশি বাসার ও রাস্তার বিড়াল-কুকুরগুলোর দিকেও একটু নজর দিই তাহলে সেটিই হবে সত্যিকারের মানবিকতা। ইবাদতের মাসে দয়া আর যত্নই হোক আমাদের সবচেয়ে বড় আমল।

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...