Skip to main content

Posts

Showing posts from December, 2025

জুয়াড়ি কেন জুয়া খেলে?

  আমরা অনেক মানুষই জুয়া খেলি কিন্তু আমরা বুঝি না যে আমরা জুয়া খেলতেছি আমরা ভাবি আমরা ইনভেস্ট করছি, সুযোগ কাজে লাগাচ্ছি, স্মার্ট ডিসিশন নিচ্ছি। অথচ বাস্তবে আমরা লোভের কাছে নিজেকে ছেড়ে দিচ্ছি। এই জুয়া একদিকে হারাম, আরেকদিকে সরাসরি ক্ষতিকর। খুব সিম্পল একটা উদাহরণ ধরেন অনলাইনে বাইক। কোনো একটা ওয়েবসাইট বলছে, দুই টাকার জিনিস চার টাকায় রিটার্ন দেবে। আমি এক মুহূর্তও ভাবছি না, ঝাঁপিয়ে পড়ছি। তখন আমি নিজেকে বলছি না যে আমি জুয়া খেলছি, আমি বলছি আমি সুযোগ নিচ্ছি। আমি যতক্ষণ লাভ পাচ্ছি, ততক্ষণ সব ঠিক। আমি খুশি, আমি অন্যদেরও বলছি, দেখো কত ভালো। কিন্তু যেই মুহূর্তে লাভ বন্ধ হয়, আমি তখনই বলছি, ও চোর, ও প্রতারক। তখন প্রশ্ন আসে, ও যদি চোর হয়, আমি কে? আমি আসলে একজন লোভী, যে ঝুঁকি বুঝেও চোখ বন্ধ করে খেলেছে। এই লোভের প্যাটার্ন শুধু অনলাইনে না, বাস্তব জীবনেও একই। ফাইনান্সিয়াল ডিসিশনের একটা বড় অংশ আসলে টাকার অঙ্ক না, মানুষের আবেগ। মানুষ যতটা না ভুল করে অংকে, তার চেয়েও বেশি ভুল করে নিজের অনুভূতিকে নিয়ন্ত্রণ না করতে পেরে। শেয়ার মার্কেট থেকে শুরু করে অনলাইন ইনভেস্টমেন্ট, লোন, কেনাকাটা...

স্ট্র্যাটেজিক রিয়ালিটি

  একটা কঠিন সত্য স্বীকার করতে হবে। ইসরাইল এখনও শক্তিশালী। কিন্তু গত ৫০ বছর ধরে যে একচেটিয়া আধিপত্য তারা ভোগ করেছে, সেই যুগ প্রায় শেষের দিকে। এটা আবেগ না, এটা স্ট্র্যাটেজিক রিয়ালিটি। এক সময় দৃশ্যটা ছিল ভিন্ন ইসরাইল ছিল আকাশের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রক শক্তি সিরিয়ার আকাশ যেন ছিল “ফ্রি এয়ারস্পেস।” প্রতিবেশীরা দেখত, বুঝত, কিন্তু থামাতে পারত না। এখন সেই চিত্র বদলাচ্ছে। ✔ তুরস্কের ড্রোন সুপিরিয়রিটি তুরস্ক এখন আর শুধু বক্তৃতার দেশ নয়। তারা ড্রোন ওয়ারফেয়ারের বাস্তব মাস্টার। লিবিয়া, নাগোর্নো-কারাবাখ, ইউক্রেন সব জায়গায় তুর্কি ড্রোন প্রমাণ করেছে যে কম খরচে, নির্ভরযোগ্য এবং নেটওয়ার্কড যুদ্ধ কৌশলে এগুলো অত্যন্ত কার্যকর। আজ ড্রোন মানে শুধু নজরদারি নয়, ড্রোন মানেই কৌশলগত শক্তি। এই জায়গায় তুরস্ক ইসরাইলের একচেটিয়া অবস্থান ভেঙে দিয়েছে। ✔ সিরিয়ায় তুরস্কের রাডার: অদৃশ্য আকাশযুদ্ধের সমাপ্তি তুরস্ক সিরিয়ায় রাডার স্থাপন করছে। এর ফলে কে আকাশে কোথা দিয়ে উড়ছে, কোন রুট ব্যবহার করছে, কখন অপারেশন চলছে এগুলো আর আগের মতো অদৃশ্য থাকছে না। এটাই ইসরাইলের বড় অস্বস্তির জায়গা। ✔ GCC দেশগুলোর আধুনিক এয়ার ফোর্স ...

নিকটবর্তী মানসিক রোগ

  ১. অস্বাভাবিক আচরণ ও কথাবার্তা ২. খাবারে ও পানিতে কিছু মেশানোর সন্দেহ ৩. ভাংচুর, সন্দেহ প্রবনতা ৪. গায়েবী কথা শোনা ৫. একা হাসা ও কথা বলা ৬. টেনশন, অস্থিরতা, উদ্বেগ, বিষন্নতা, হতাশা, একই চিন্তা ও কাজ বারে বারে করা ৭. খিটখিটে মেজাজ ৮. দীর্ঘমেয়াদী মাথাব্যথা, ঘাড় ও বুক সহ শরীরে বিভিন্ন স্থানে ব্যথা ও জ্বালাপোড়া মাথা ঘোরা, বুক ধরফর, হাত-পা ঝিনঝিন ৯. অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, হিস্টিরিয়া, কথা বন্ধ ১০. অসামাজিক আচরণ মাদকাসক্তি সহিংসতা ও নিজের শরীরে আঘাত করা উপরের সমস্যাগুলোর যেকোন একটা হলে আপনি দ্রুত সময়ের মাঝে নিকটবর্তী মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। ========================================= বিয়ের পর প্রত্যেক পুরুষের semen fluid analysis করা উচিত। ‌ এটা একটা বেসিক infertility টেস্ট যাতে দেখা হয় পুরুষ‌ মানুষটি বাবা হওয়ার যোগ্য কিনা। বিয়ের আগে করলে আরো ভালো। এটি করতে খরচ হয় স্থানভেদে মাত্র এক থেকে দেড় হাজার টাকা।সরকারি হাসপাতালে করলে ১০০ টাকায় করতে পারবেন। আমাদের দেশে কোন দম্পতির বাচ্চা না হলে এখনো অনেক জায়গায় মেয়েদেরকে ব্লেইম করা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যাটা থাকে ...

একজন ভদ্র মহিলার প্রশ্ন

  একজন ৩২ বছর বয়স্ক ভদ্র মহিলার প্রশ্ন : আমার স্বামী এবং আমি সেপারেশনে যাচ্ছি । আমি আমার ৮ বছর বয়সী ছেলেকে এটি কীভাবে বুঝিয়ে বলব? উত্তর : ৮ বছর বয়সী শিশুকে বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ বোঝানো সহজ নয়, তবে সঠিকভাবে উপস্থাপন করলে সে ধীরে ধীরে মানিয়ে নিতে পারবে। এজন্য কিছু বিষয় খেয়াল রাখা দরকার : 1. কোনো ঘোরপ্যাঁচ না রেখে স্পষ্টভাবে তাকে বুঝিয়ে বলুন যে, আপনি এবং তার বাবা আলাদা হয়ে যাচ্ছেন। তাকে সরাসরি জানিয়ে দিন যে কবে থেকে বা কীভাবে পরিবর্তন আসবে। 2. সন্তানকে তার অনুভূতি প্রকাশের এবং প্রশ্ন করার যথেষ্ট সুযোগ দিন। তাকে বারবার আশ্বস্ত করুন যে এটি তার কোনো দোষে হয়নি। অনেক সময় শিশুরা ভাবতে পারে যে বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের জন্য সে দায়ী। এটি নিয়ে মনে মনে দুশ্চিন্তা করলেও জিজ্ঞাসা করতে সাহস পায় না। 3. বিচ্ছেদের পরেও তার দৈনন্দিন জীবনের অন্যান্য দিক যেন যতটা সম্ভব একই থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন। যেমন, আগের মতোই একই এলাকায় থাকা, একই স্কুলে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া ইত্যাদি। এতে সে মানসিকভাবে স্বস্তি পাবে। 4. আপনিও এই সময়ে কঠিন মানসিক অবস্থার মধ্য দিয়ে যাবেন। তবে যতটা সম্ভব সন্তানের সামনে এই আবেগ ...

বাবা মার দেওয়া অভিশাপ

  বাবা মার দেওয়া অভিশাপকে সবসময় ভয় করতে নেই.. বাবা মার সব কথা আমাদের শুনতে হবে এমন কোন কথা নেই.. আপনার বাবা-মা আপনাকে চুরি করতে বললে কি চুরি করবেন ? আপনার বাবা-মা আপনাকে নামাজ পড়তে না করলে আপনি কি নামাজ পড়া ছেড়ে দিবেন? আপনার বাবা-মা আপনার কোন আত্মীয় বা প্রতিবেশীকে জুলুম করতে বলে আপনি কি তা করবেন ? আমাদের সমাজে যেন একটা প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছে যে বাবা-মার সব কথা যেন‌শুনতে হবে.. বরং কিছু কিছু সময় বাবা মার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হয়.. প্রয়োজনে বাবা মাকে ভদ্রভাবে শাসনও করতে হয়.. বৃদ্ধ বয়সে অনেক বাবা-মা তার সন্তানদেরকে প্রচুর কষ্ট দিয়ে থাকে.. অনেক বাবা আমায় সম্পত্তি ঠিকমত ভাগ করে না.. অনেক বাবা মা যে কোন একজন সন্তানকে অন্য সন্তানের উপর প্রায়োরিটি দিয়ে থাকে.. অনেক বাবা আমায় তার সন্তানের স্ত্রী বা স্বামীর সাথে খুবই পক্ষপাত দুষ্ট আচরণ করে থাকে।। এসব বৃদ্ধ বাবা মাকে‌‌ প্রয়োজনে ভদ্রভাবে শাসন করতে হয়.. তারা আপনাকে অভিশাপ দিলেও শাসন করতে হবে.. বাবা মার সাথে আমাদের সম্পর্কের মূলনীতি হলো তাদের ভালো চাওয়া.. আর আল্লাহর সাথে আমাদের দাবি হলো ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা.. যে সন...

আল্লাহর নৈকট্যের দরজা

  আপনি কি খেয়াল করে দেখেছেন যে আমরা সবাই কোনো না কোনোভাবে রোগী? এই পৃথিবীতে এমন মানুষ পাওয়া খুব কঠিন, যে কখনো রোগে পড়েনি। ডাক্তারও এক সময় রোগী হয়। এই বাস্তবতাটাই ইসলাম আমাদের সামনে খুব স্বাভাবিকভাবে তুলে ধরে। আমরা যখন সুপারহিরো মুভি দেখি, তখন দেখি অবাস্তব চরিত্র সুপারম্যান, স্পাইডারম্যান, ব্যাটম্যান। তারা বিপদে পড়লে অলৌকিক শক্তি দিয়ে সব ঠিক করে ফেলে। কিন্তু আমাদের জীবনে এমন কোনো সুপারহিরো আসে না। আমাদের idol আমদের super hero আমাদের নবীরা। অতচ আমরা বিপদে পড়লে কোনো নবীর জন্য অপেক্ষা করি না যে তিনি এসে আমাদের উদ্ধার করবেন। আমরা বিশ্বাস করি আল্লাহর সাথে আমাদের প্রত্যেকের সরাসরি সম্পর্ক আছে। নবীদের কাজ ছিল সেই সম্পর্কটা আমাদের বুঝায় দেওয়া, তৈরি করে দেওয়া। নবী কখনোই আল্লাহ নন। এই জায়গাটায় ইসলাম অবিশ্বাস্যভাবে বাস্তবসম্মত। আমাদের নবীরা সিনেমার নায়ক নন। তারা বনের রাজা নন, সমুদ্রের রাজা নন, কোনো রোমাঞ্চকর অভিযানের চরিত্র নন। তারা আমাদেরই মতো মানুষ। কোরআনে তাদের ঘটনাগুলো এসেছে এমনভাবে যেন আমরা নিজেদের জীবনের সাথে মিল খুঁজে পাই। এই কারণেই কোরআন এত জীবন্ত, এত প্রাসঙ্গিক। আইয়ুব আলাইহিস ...

বুদ্ধিমত্তার সর্বোচ্চ এবং সবচেয়ে বিরল রূপ

  বুদ্ধিমত্তার সর্বোচ্চ স্তর IQ নয়, লজিক নয়, মেমোরি বা মনে রাখার ক্ষমতা নয়। নিউরোসায়েন্টিস্টদের মতে, বুদ্ধিমত্তার সর্বোচ্চ এবং সবচেয়ে বিরল রূপটি হলো মেটাকগনিশন (Metacognition) মেটাকগনিশনের অর্থ হল আপনি আপনার চিন্তাভাবনাগুলো খেয়াল করেন, নিজের প্রতিক্রিয়াগুলো নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, কোনোকিছু নিয়ে আবেগজনিত তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেন না, নিজের বিশ্বাসকে আঁকড়ে ধরে না রেখে নতুন তথ্য অনুযায়ী নিজেকে আপডেট করেন। যার মানে হল নিজের চিন্তাভাবনা সম্পর্কে চিন্তা করা। অর্থাৎ আপনি যা চিন্তা করছেন তা সঠিক কি ভুল তা সম্পর্কে নিজেকে প্রশ্ন করার ক্ষমতা অর্জন করতে পারা। বেশিরভাগ মানুষ কখনোই এটি গড়ে তুলতে পারে না। নিউরোসায়েন্টিস্ট Anil Seth এবং মনোবিজ্ঞানী Robert Sternberg দুজনেরই মতে প্রতিবার যখন আপনি বলেন “একটু থামি, আমি কেন এমন প্রতিক্রিয়া দিলাম?” বিষয়টা তো সামনের জনের দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েও দেখা উচিত ঠিক তখনই আপনার মস্তিষ্ক বদলাতে শুরু করে। নিউরোসায়েন্টিস্টরা গবেষণায় দেখেছেন, যখন আপনি নিজের চিন্তাকে পর্যবেক্ষণ করেন, তখন মস্তিষ্কের একটি অংশ সক্রিয় হয় যার নাম Anterior Prefrontal Cortex (BA10)।...

অ্যালফা মেইল ধারণা

  অ্যালফা / সিগমা মেইল মানুষের ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত কোনো সামাজিক আচরণ নয়। “অ্যালফা” বলতে বোঝায় দলের সবচেয়ে শক্তিশালী বা প্রভাবশালী পুরুষ, যে দলকে নেতৃত্ব ও সুরক্ষা দেয় এবং শারীরিক সঙ্গমে অগ্রাধিকার পায়। প্রাচীন শিকারি মানব সমাজেও অ্যালফার প্রচলন ছিল না। তখন নেতৃত্ব ছিল shared leadership অর্থাৎ সিদ্ধান্ত হত দলগত আলোচনার মাধ্যমে। কেউ এককভাবে কর্তৃত্ব করত না, পুরুষ নারী উভয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, “domination” এর চেয়ে “cooperation” বেশি মূল্যবান ছিল। অ্যালফা মেইল ধারণাটি বন্য প্রাণীদের মাঝে একটি সামাজিক আচরণের ধরন। বিশেষ করে গরিলা, চিম্পান্জি, বানর ও সিংহের মধ্যে এই ব্যাবস্থা দেখা যায়। অ্যালফা হতে হলে প্রথমত আপনাকে বনে জঙ্গলে বাস করতে হবে। আপনার একটা সুসংঘটিত দল থাকতে হবে। এবং দলের প্রত্যেক সদস্য কে সেই বন্য পরিবেশে সুরক্ষা দেবার মত শারীরিক ও আর্থিক সামর্থ্য থাকতে হবে। এরপর গিয়ে আপনি যদি নিজেকে সিংহ দাবি করেন তাহলে অপর তিনটি প্রানি🦍🦧🐒 যেমন গরিলা, চিম্পান্জি ও বানর হবার সম্ভাবনাও আপনার রয়েছে। এখন এইসব অ্যালফা মেইলের যেগুলা শহরে বাস করে সেগুলো অধিকাংশই চিড়িয়াখা...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...

আবেগ এক জিনিস অধ্যবসায় আরেক জিনিস

  ছেলেটাকে অনেক সময় বালিশ ছাড়া ঘুমাতো হতো। দুই একটা থাকলে গুজে দিত সহকর্মীদের মাথার নিচে। একদা জাবির বালিশের থেকে মাথা তুলে দেখলো অদূরে সে ঘুমাচ্ছে ফ্লোরে। আস্তে করে তার মাথার নিচে নিজের বালিশ দিয়ে এসে শুয়ে পড়লো। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলো জাবিরের মাথার নিচে বালিশ। হাদি ফ্লোরে ঘুমাচ্ছে। আরেক দিন জাবির ধোয়ার জন্য সারা সপ্তাহের কাপড় বালতিতে রেখে ছিল। হাদি ঢোকার পর আধা ঘন্টা বের হয় না। যখন বের হলো সব ধুয়ে রাখলো এবং কাপড় শুকাতে নিজে নিয়ে গেল। একটা কথা অনেকে বলেছে যে তারা হাদি হতে চায় কিন্তু ইনকিলাব মঞ্চের কেউ এই কথা বলেনি। কারণ চাইলেই সবাই সব হতে পারে না। তার উপর যেই পড়াশোনা তার করা ছিল। সেইটা কত জন ধৈর্য নিয়ে করতে পারে? আবেগ এক জিনিস অধ্যবসায় আরেক জিনিস। আমি নিজের যাত্রা যদি বলি এর পিছে দশ বছর লাইব্রেরীতে এক টানা পড়াশোনা ছিল। তার উপর এত রকম সার্কেলে আলোচনা। এত প্রশ্নের উত্তর মোকাবেলা করা, কত জায়গায় স্পিচ। কিন্তু আমি হাদি হতে পারি নাই। সে একজনই। এগুলো যুগের উপহার । খুব দুঃখজনক যে এমন রত্ন আমরা হারিয়েছি..m patwary =================================================== ব...

একদিন আমাদের পালাটাও এসে যাবে

  এক লোকের অনেকগুলো ভেড়া ছিল। প্রতিদিন সে একটি করে ভেড়া জ'বাই করত। এই দৃশ্য দেখে বাকি ভেড়াগুলোর বুক কাঁপত— ভয়, শঙ্কা আর অনিশ্চয়তায়। একদিন তারা নিজেদের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিল— যেদিন মাঠে চরাতে নেওয়া হবে, সেদিন সবাই একসাথে পালিয়ে যাবে। পরদিন মাঠে পৌঁছাতেই তারা ছড়িয়ে পড়ল, পালানোর চেষ্টা শুরু করল। লোকটি বুঝে ফেলল—ভেড়াগুলো ভয় পেয়েছে। সে তখন শান্ত কণ্ঠে বলল, “তোমাদের পালানোর দরকার নেই। আমি তো শুধু সেই ভেড়াগুলোকেই জ'বাই করি যারা ঠকবাজ, বিশ্বাসঘাতক, যারা বাকিদের ক্ষতি করার ষড়যন্ত্র করে। তোমাদের নিরাপত্তার জন্যই আমি এই কাজ করি। এতে কি আমার কোনো অন্যায় আছে?” ভেড়াগুলো নিজেদের মধ্যে আলোচনা শুরু করল। এক বয়স্ক ভেড়া বলল, “কথা তো মন্দ না, মালিক তো আমাদের ভালোর কথাই ভাবেন।” আরেক মাতব্বর ভেড়া বলল, “আমরা মালিককে ভুল বুঝেছি। তিনি কখনো আমাদের ক্ষতি করবেন না।” এইভাবেই তারা আশ্বস্ত হয়ে ফিরে গেল। পরদিন লোকটি আবার একটি ভেড়া জবাই করল— কিন্তু এবার আর কেউ প্রশ্ন তুলল না। বরং মনে মনে ভাবল, “ভালোই হয়েছে, দুষ্ট ভেড়াটা শাস্তি পেয়েছে।” ঠিক এভাবেই যুগের পর যুগ ধরে কিছু মানুষ সাধারণ জনগণকে বিভ্রান্ত করে। নিজ...

আমেরিকাতে সুবিচার আছে ?

  মানুষ অনেক সময় মনে করেন শুধু আমেরিকাতে সুবিচার আছে। সব অবিচার বাংলাদেশে। কিন্তু সত্যটা হলো, আমেরিকাতে সব সময় সুবিচার হয় না। একজন ইমাম কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত নন। কোনো রায় হয়নি। কোনো সাজা হয়নি। তবুও তাকে ২১৫ দিন আটকে রাখা হলো ইমিগ্রেশন ডিটেনশনে শুধু কোর্ট হিয়ারিংয়ের অপেক্ষায়। কিন্তু সেই হিয়ারিং আর হলো না। তিনি মারা গেলেন কোর্টে পৌঁছানোর আগেই। তার নাম Sheikh Fouad Saeed Abdulkadir বুকে তীব্র ব্যথার অভিযোগ জানানোর পর ‘মেডিক্যাল ইমার্জেন্সি’-তে নেওয়া হয়, কিন্তু জীবিত ফিরতে পারেননি। এই মৃত্যু কোনো “দুর্ঘটনা” নয় এটা একটি সিস্টেমিক ব্যর্থতা। একটা তুলনা করি- এই ঘটনাটা যদি বাংলাদেশে ঘটত, যদি কোনো বাংলাদেশি ইমাম এভাবে বিচার ছাড়াই, রায় ছাড়াই মারা যেতেন কিছু মানুষ হয়তো রাস্তায় নামত কিছু প্রতিবাদ হতো কিছু মিডিয়া প্রশ্ন তুলত কিছু মানুষ রাষ্ট্রকে জবাবদিহির জন্য আঙ্গুল তুলতো কিন্তু আমেরিকাতে? একজন মানুষ নীরবে মারা গেল, এরকম হুটহাট ঘটনা প্রতিনিয়তই হচ্ছে যদি চোখ কান খোলা থাকে, জানবেন কোনো জুরি ট্রায়াল ছাড়াই কোনো রায়ের আগেই, চলে যায় প্রাণ আপনি কী বলবেন? আপনার কী ক...

প্রশ্ন তোলা অপরাধ নয়

  আপনি জানেন কি— প্রথম আলো বা দ্য ডেইলি স্টারের একটি প্রিন্ট কপি আপনি যখন কিনছেন, তখন সেই নির্দিষ্ট কপিটিতে পত্রিকাটি আসলে লাভ করে না, বরং লোকসান গুনে। নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (২০২৩–২০২৪) এর তথ্য অনুযায়ী— একটি প্রিন্ট পত্রিকা বিক্রি হলেই গড়ে ১২–১৫ টাকা লোকসান হয়। ▪️ একটি কপি ছাপাতে খরচ প্রায় ২২–২৫ টাকা ▪️ বিক্রি হয় ১২–১৫ টাকায় ▪️ হকার ও পরিবেশকের অংশ বাদ দিলে ▪️ পত্রিকার হাতে আসে মাত্র ৮–১০ টাকা অর্থাৎ প্রতিটি কপিতে গড়ে ১২–১৫ টাকা ঘাটতি। তবুও বাস্তবতা হলো— ▪️ প্রথম আলো প্রতিদিন ছাপে প্রায় ৫ লক্ষ কপি ▪️ ডেইলি স্টার ছাপে প্রায় ৪৫ হাজার কপি অর্থাৎ প্রতিদিনই বিপুল অঙ্কের আর্থিক ঘাটতি নিয়ে এই পত্রিকাগুলো ছাপা হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে— এই ধারাবাহিক লোকসান কীভাবে সামাল দেওয়া হয়? আরও প্রশ্ন জাগে যখন দেখা যায়— সুউচ্চ ভবন, কর্পোরেট কাঠামো, ব্যয়বহুল জীবনধারা এবং প্রভাবশালী উপস্থিতি। পত্রিকাগুলো বলে, তারা মূলত বিজ্ঞাপন আয়ের ওপর নির্ভরশীল। এটি অযৌক্তিক নয়। কিন্তু একই সঙ্গে এটাও সত্য— 🔹 তারা প্রাইভেট কোম্পানি 🔹 ফলে প্রকৃত আর্থিক কাঠামো সাধারণ পাঠকের অজানাই থেকে যায় তাহল...

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

সুন্দর থাকুন, আল্লাহ সৌন্দর্য ভালোবাসেন

  মানুষের প্রকৃতিগত প্রবণতার মধ্যে সৌন্দর্যপ্রিয়তা ও সৌন্দর্যচর্চার আকাঙ্ক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আল্লাহ তায়ালা মানুষের হৃদয়ে সৌন্দর্যের প্রতি ভালোবাসা প্রোথিত করেছেন এবং মানবজাতিকে সেই ভালোবাসাকে সঠিক পথে চালিত করার নির্দেশনা দিয়েছেন। ইসলাম শুধুমাত্র মানুষের বাহ্যিক রূপকে নয়, বরং অভ্যন্তরীণ পবিত্রতা, আচরণ ও চিন্তাভাবনার সৌন্দর্যকেও গুরুত্ব দেয়। এই দ্বিমুখী সৌন্দর্যই একজন মুমিনের পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তিত্বের পরিচায়ক। নবীজির এই বাণীই ইসলামে সৌন্দর্যের মূলনীতি, “নিশ্চয় আল্লাহ সুন্দর এবং তিনি সৌন্দর্যকে ভালোবাসেন।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৯১) নিশ্চয় আল্লাহ সুন্দর এবং তিনি সৌন্দর্যকে ভালোবাসেন। সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৯১ যখন একজন মুসলিম মহাবিশ্বের দিকে তাকান, তখন তিনি আল্লাহর সৃষ্টিতে এই সৌন্দর্যের প্রতিফলন দেখতে পান। আকাশকে আল্লাহ তারকারাজি দিয়ে সুশোভিত করেছেন (সুরা সাফফাত, আয়াত: ৬)। পৃথিবীতে তিনি সৃষ্টি করেছেন নানা আকৃতি, রঙ, স্বাদ ও ঘ্রাণের শস্য ও ফল (সুরা ক্বাফ, আয়াত: ৭)। এমনকি গৃহপালিত পশুদের মধ্যেও সৌন্দর্য রয়েছে, বিশেষত সকালে চারণভূমিতে যাওয়ার সময় এবং সন্ধ্যায় ফিরে আসার সময় (সু...

‘আল্লাহু আকবার’ এক বৈশ্বিক আত্মশুদ্ধির ডাক

  চলমান কর্মব্যস্ত জীবনে আমরা প্রায়শই নিজেদের মূল উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ি। আমাদের সমাজ এখন এমন এক সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে চলছে, যেখানে জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে ‘উৎপাদনশীল’ (প্রুডাক্টিভ) হতে হবে—হয় কিছু শিখতে হবে, না হয় ক্যারিয়ারে এক ধাপ এগোতে হবে। সামান্য বিরতি, নীরবতা বা নিছক আল্লাহর স্মরণ আমাদের কাছে প্রায়শই ‘অনুৎপাদনশীল’ বলে মনে হয়। কিন্তু আমরা যখন প্রতিনিয়ত পডকাস্ট, অডিওবুক বা কাজের মাধ্যমে আমাদের সব নীরব মুহূর্তকে পূরণ করে ফেলি, তখন আল্লাহর স্মরণের জন্য কোনো ফাঁকা জায়গা থাকে না। আমরা ভালো পেশাজীবী হওয়ার ওপর এত বেশি মনোযোগ দিই যে, আল্লাহর উন্নত বান্দা হওয়ার কথা ভুলে যাই। ইসলাম এই ভারসাম্যহীনতাকে দূর করে। তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমি তোমাদের স্মরণ করব। আর তোমরা আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হও এবং অকৃতজ্ঞ হয়ো না। কোরআন, সুরা বাকারা, আয়াত: ১৫২ ‘আল্লাহু আকবার’-এর গভীর তাৎপর্য আমরা প্রায়ই ইতিবাচক চিন্তাভাবনার জন্য ‘ইতিবাচক মন্ত্র’ পুনরাবৃত্তির কথা শুনি। কিন্তু ‘আল্লাহু আকবার’ একটি জাগতিক মন্ত্রের চেয়েও অসীম ক্ষমতাশীল। আমরা কেবল আমাদের মনকে ইতিবাচক চিন্তা দিয়ে পুনর্নির্মাণ করছি...