এক লোকের অনেকগুলো ভেড়া ছিল।প্রতিদিন সে একটি করে ভেড়া জ'বাই করত। এই দৃশ্য দেখে বাকি ভেড়াগুলোর বুক কাঁপত— ভয়, শঙ্কা আর অনিশ্চয়তায়। একদিন তারা নিজেদের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিল— যেদিন মাঠে চরাতে নেওয়া হবে, সেদিন সবাই একসাথে পালিয়ে যাবে। পরদিন মাঠে পৌঁছাতেই তারা ছড়িয়ে পড়ল, পালানোর চেষ্টা শুরু করল। লোকটি বুঝে ফেলল—ভেড়াগুলো ভয় পেয়েছে। সে তখন শান্ত কণ্ঠে বলল, “তোমাদের পালানোর দরকার নেই। আমি তো শুধু সেই ভেড়াগুলোকেই জ'বাই করি যারা ঠকবাজ, বিশ্বাসঘাতক, যারা বাকিদের ক্ষতি করার ষড়যন্ত্র করে। তোমাদের নিরাপত্তার জন্যই আমি এই কাজ করি। এতে কি আমার কোনো অন্যায় আছে?” ভেড়াগুলো নিজেদের মধ্যে আলোচনা শুরু করল। এক বয়স্ক ভেড়া বলল, “কথা তো মন্দ না, মালিক তো আমাদের ভালোর কথাই ভাবেন।” আরেক মাতব্বর ভেড়া বলল, “আমরা মালিককে ভুল বুঝেছি। তিনি কখনো আমাদের ক্ষতি করবেন না।” এইভাবেই তারা আশ্বস্ত হয়ে ফিরে গেল। পরদিন লোকটি আবার একটি ভেড়া জবাই করল— কিন্তু এবার আর কেউ প্রশ্ন তুলল না। বরং মনে মনে ভাবল, “ভালোই হয়েছে, দুষ্ট ভেড়াটা শাস্তি পেয়েছে।” ঠিক এভাবেই যুগের পর যুগ ধরে কিছু মানুষ সাধারণ জনগণকে বিভ্রান্ত করে। নিজেদের অন্যায়কে তারা “ন্যায়” বানায়, মিথ্যাকে সাজায় সত্যের মুখোশে। ক্ষমতার মোহে কেড়ে নেয় মানুষের অধিকার। আর আমরা? আমরা ভেড়াগুলোর মতোই— নিজেদের ভাইয়ের মৃ'ত্যুতেও প্রশ্ন না তুলে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যে মেতে উঠি। সবচেয়ে ভ'য়ংকর সত্য হলো— আমরা বুঝতেই পারি না, একজনের পর একজনের পরে একদিন আমাদের পালাটাও এসে যাবে

Comments
Post a Comment