Skip to main content

Posts

Showing posts from August, 2022

গাধার সাথে তর্ক

  শিক্ষনীয় গল্পঃ একদিন গাধা বাঘকে বলল — "ঘাসের রং নীল। " বাঘ উত্তর দিল — "না, ঘাসের রং সবুজ। " কিছুক্ষনের মধ্যেই দু'জনের আলোচনা তুমুল তর্কে পরিণত হলে, তারা জঙ্গলের রাজা সিংহের কাছে বিচারের জন্য উপস্থিত হল। রাজদরবারে সিংহের কাছে পৌঁছানোর আগেই গাধা ডাক ছাড়তে শুরু করে দিল — " মহারাজ, আপনিই বলুন ঘাসের রং নীল কি না?" সিংহ উত্তর দিল -- " হ্যাঁ, ঘাসের রং নীল।" গাধা তাড়াতাড়ি সিংহের কাছে পৌঁছালো এবং বলতে থাকল —" বাঘ আমার কথা মানছে না, তর্ক করছে এবং আমাকে বিরক্ত করছে। ওকে শাস্তি দিন।" সিংহ তখন ঘোষণা করল --" বাঘকে ৫ বছরের জন্য মৌন থাকার শাস্তি দেওয়া হল।" গাধা খুশিতে লাফাতে লাগল এবং বলতে বলতে চলে গেল — " ঘাসের রং নীল, ঘাসের রং নীল।" বাঘ শাস্তি মেনে নিল, কিন্তু সিংহকে জিজ্ঞাসা করল —" মহারাজ, আপনি আমায় শাস্তি দিলেন কেন যখন ঘাসের রং সত্যিই সবুজ।" সিংহ বলল —" ঠিক, ঘাসের রং সবুজ।" বাঘ জিজ্ঞাসা করল —" তাহলে আপনি আমায় শাস্তি দিলেন কেন?" সিংহ উত্তর দিল —" তোমাকে শাস্তি দেওয়ার সাথে ঘাসের...

ওয়েটিং রুম

  একলোক ট্রেন থেকে নামলো, আরেক ট্রেনে উঠবে ২ ঘন্টা পর। এর মাঝখানে সে ওয়েটিং রুমে অপেক্ষা করার জন্য বসল। ওয়েটিং রুমে ঢুকে তার চোখ পড়ল রুমের লাইট টি নষ্ট। তাই সে একটি এনার্জি বাল্ব কিনে লাগালো। তারপর খেয়াল করলো রুমের ফ্লোরে ময়লা, তাই একটি ঝাড়ু কিনলো তখন সে রুম ঝাড়ু দিলো। তারপর সে খেয়াল করলো রুমের বসার চেয়ারগুলো বেশি একটা আরাম দায়ক নয়, তাই সে একটি আরাম দায়ক চেয়ার কিনলো। এখন সে রুমটি সাজানোর জন্য কিছু জিনিস কিনে রুমটি সাজালো। এখন সে অনেক ক্লান্ত হয়ে গেল এবং তার আরাম দায়ক চেয়ারে বসতে যাচ্ছে এই মূহুর্তে হঠাৎ করেই ট্রেনের হর্ন শুনতে পেল এবং সে ট্রেনে উঠার জন্য রুম থেকে চলে গেল এবং ট্রেনে বসে তার গন্তব্য স্থানে চলে গেল....... আপনি ভাবছেন এই লোকের চেয়ে বোকা লোক আর পৃথিবীতে নেই। কিন্ত আপনি কি জানেন এই লোকটি কে? এই লোক টি আর কেউ নয় আপনি - আমি!!! অবাক হলে ও এটাই সত্য আমরাও দুনিয়াতে এসেছি সামান্য সময়ের জন্য। ১ম ট্রেন আমাদের জন্ম.... ২য় ট্রেন আমাদের মৃত্যু এবং আমাদের গন্তব্য (জান্নাত অথবা জাহান্নাম)। আর দুনিয়ার জীবন হচ্ছে ওয়েটিং রুম।। যেখানে আমরা মাত্র কয়েকটা মিনিট থাকবো। অথ...

ভ্যান চালিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াচ্ছেন..

  ভ্যান চালিয়ে দুই ছেলেকে চীনে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াচ্ছেন মুকিম উদ্দিন। জীবনের গল্প হরেক রকমের হলেও সেই গল্পের নায়ক হন বাবা। এমনি এক জীবন গল্পের নায়ক ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার জোতপাড়া গ্রামের মুকিম উদ্দিন। ভ্যান চালিয়ে দুই ছেলেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াচ্ছেন সুদূর চীনে। দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে ভ্যান চালান মুকিম উদ্দিন। শিক্ষিত হওয়ার স্বপ্ন থাকলেও অভাবের কারণে তা পূরণ করতে পারেনি। নাম দস্তখত ছাড়া কোনো অক্ষর জ্ঞান নেই তার। তাই নিজের স্বপ্নকে সন্তানদের মাধ্যমে পূরণ করার অদম্য ইচ্ছা তার। তাই শেষ সম্বল জমিটুকু বিক্রি করে ও ভ্যান চালানো আয়ের টাকা দিয়ে দুই ছেলেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে পাঠিয়েছেন সুদূর চীনে। চার সন্তানের মধ্যে বড় দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। বড় ছেলে হাবিবুর রহমান চীনের জিয়াংসু ইউনিভার্সিটিতে মেকানিক্যাল ডিজাইনার অ্যন্ড মেনুফ্যাকচার অটোমেশন বিভাগে পড়াশোনা করছেন। ছোট ছেলে আবুল হাসিম একই ইউনিভার্সিটির মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পড়াশোনা করছেন। ভ্যান চালানোর আয় থেকে নিজেদের চলার জন্য কিছু রেখে বাকি সবটুকুই পাঠিয়ে দেন ছেলেদের। এখনো প্রতি মাসে ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা পাঠাতে হয়। যার একমাত্র আয়ের...

বিচারহীনতা এবং জবাবদিহিতা

  "২০১২ সালে চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের গার্ডার ধ্বসে পড়ে ১৩ জন নিহত হয়েছিল ... সে সময় সিডিএ এর নির্বাহী প্রকৌশলীসহ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল ... ১০ বছর কেটে গেছে ... বিচার হয় নাই ... এটা জেনে নিশ্চয়ই অবাক লাগছে না? তাই না? ... এটাই !! আজকে বিআরটির যে প্রকল্পের গার্ডার পড়ে একটা পরিবারের ৪ জন মারা গেল - যতটুকু জানি, সেই প্রকল্প শুরু হয়েছিল ২০১২ সালে, শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৬ সালে ... ১০ বছরেও সেই প্রকল্পের কাজ অর্ধেকও শেষ হয় নি ... ঠিকাদারী চলছে, খরচ বাড়ছে, কাজ শেষ হচ্ছে না ... আবারো, এটা জেনেও নিশ্চয়ই অবাক লাগছে না? ... আরেহ! এটাই তো স্বাভাবিক এই দেশে !! দুটো মানুষ গত শনিবার বিয়ে করেছে ... সেই দম্পতি, ছেলের বাবাসহ পরিবারের সদস্য দুই শিশুকে নিয়ে প্রাইভেট কারে করে উত্তরার ব্যস্ত রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলো তারা ... ক্রেন থেকে গার্ডার পড়ে গাড়িটা শেষ, মূহুর্তে চারটা মানুষ নাই, একটা পরিবার নাই ... কি নির্লিপ্তভাবে লিখে ফেললাম ... লেখার মধ্যে ঐ পরিবারের বাকিদের আহাজারির শব্দ নাই যে !! কেন একটা ব্যস্ত রাস্তায় কোন রকম সেফটি প্রোটোকল ছাড়া প্রজেক্টের কাজ চলছিল?...

শিক্ষার্থী সন্তোষ রবিদাস

  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সন্তোষ রবিদাস তার চা শ্রমিক 'মা' কে নিয়ে আবেগঘন এই লেখাটি লিখেছেন ... পড়তে পড়তে নিজের অজান্তেই চোখে জল চলে এলো! -------------------------------------------------- মৌলভীবাজার জেলার শমসেরনগরে ফাঁড়ি কানিহাটি চা-বাগানের এক চা শ্রমিক পরিবারের ছেলে আমি। জন্মের ছয় মাসের মাথায় বাবাকে হারিয়েছি। মা চা-বাগানের শ্রমিক। তখন মজুরি পেতেন দৈনিক ১৮ টাকা। সেই সময় আমাকে পটের দুধ খাইয়ে, অন্যের বাসায় রেখে মা যেতেন বাগানে কাজ করতে। ২০০৭ সালে আমি ক্লাস ফাইভে পড়ি। মায়ের মজুরি তখন ৮৮ টাকা। এক দিন বললেন, ‘বাজারে গিয়ে পাঁচ কেজি চাল নিয়ে আয়।’ সেই চাল দিয়ে এক মাস চলেছে আমাদের। পরদিন সকালে স্কুলে যাওয়ার আগে দেখি মা চাল ভাজলেন। পলিথিনে সেই ভাজা চাল, আটার রুটি আর লাল চা একটা বোতলে ভরে গামছায় প্যাঁচালেন। আর আমাকে আটার রুটি ও লাল চা দিলেন। দুপুরে খেতে গিয়ে দেখি শুধু পেঁয়াজ, শুকনা ভাত, তেল আর লবণ আছে। তা দিয়ে মেখে খেলাম। রাতেও কোনো তরকারি ছিল না। তখন পাশের বাসার কাকু আমাকে ডেকে কুমড়া আর আলু দিয়েছিলেন, যা দিয়ে আমরা দুইটা দিন পার করেছিলাম। তখন কুপি বাতির আলোয় পড়তাম। মা আগেই ...

নানান রঙের মানুষ

  কেউ খাবার যোগাতে কাজের সন্ধানে দৌড়াচ্ছে। আবার কেউ অতিরিক্ত খেয়ে, খাবার হজমের জন্য দৌড়াচ্ছে। . গভীর রাতে, কারো পাজেরো গাড়ি থামছে, নিষিদ্ধ পল্লীতে, ঘরে অপেক্ষারত স্ত্রী দীর্ঘশ্বাস ফেলছে.! কেউ ভাঙা ঘরে থেকে স্ত্রীকে নিয়ে অবিরত স্বপ্নের জোয়ারে ভাসছে। . কেউ ভাবছে আর কয়েকটা দিন! ডিভোর্স পেপারে সাইন করলেই মুক্তি। কেউ একটা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য যুদ্ধ করে চলছে। . কেউ সন্তান ডাস্টবিনে ফেলে দিয়ে দায়মুক্ত হতে চাইছে। কেউ একটা সন্তানের জন্য সারাটা জীবন হাহাকার করছে! . কেউ লাখ টাকার ডাইনিং টেবিলে বসেও তৃপ্তি সহকারে ভাত খেতে পারছেনা! কেউ পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ কচলিয়ে গোগ্ৰাসে ভাত গিলছে। . কারো দামি খাটে শুয়েও আবার ঘুমের ওষুধ খেতে হচ্ছে! কেউ আবার হিমেল হাওয়ায় অঘোরে ঘুমোচ্ছে। . কারো পড়ার টেবিলে নতুন বইয়ের সমারোহ কিন্তু পড়তে ইচ্ছে করছেনা। কেউ পুরাতন বইয়ের দোকান চষে বেড়াচ্ছে, পকেট খালি বলে! . কেউ বিলাস বহুল গাড়িতে বসে চিন্তিত, সন্তানগুলো মানুষ হলোনা! এতো সম্পত্তি রাখতে পারবেতো? কেউ পায়ে হেঁটে পথ চলছে, মনে মনে ভাবছে... সন্তানতো মানুষ করতে পেরেছি! আল্লাহ চাইলে, ওরাই জীবনটা এখন ...

মৌখিক পরীক্ষা !

  এক জেলা শহরে পুলিশের এস আই পদে নিয়োগ দান চলছে। যারা লিখিত পরীক্ষায় পাশ করেছে, এস পি সাহেব নিজেই তাদের মৌখিক পরীক্ষা নিচ্ছেন। সবথেকে শেষে যে এসেছে সে লিখিত পরীক্ষায় প্রথম হয়েছে। সে M.A পাশ এস পি কয়েকটা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলেন এবং ঐ চাকুরীপ্রার্থী অকপটে সাবলীলভাবে সঠিক উত্তর দিলো। এবার এস পি জিজ্ঞেস করলেন - বলুনতো গীতাঞ্জলি কে লিখেছে? লোকটি উত্তর দিতে যাবে, ঠিক সেই মুহূর্তে তার টেবিলের ফোনটি বেজে উঠলো। সে ফোন ধরে স্যার স্যার করা শুরু করে দিল। বললো-স্যার আমি এখনই নিজে গিয়ে একশন নিচ্ছি। ফোন রেখে তাড়াহুড়ো করে বাইরে বেরিয়ে এসে সামনে ওসিকে পেয়ে বললো-আমার রুমে একজন লোককে রেখে এসেছি, গিয়ে জিজ্ঞেস করবে-গীতাঞ্জলি কে লিখেছে এবং উত্তরটা লিখে রেখে পরে আমাকে দিবে। ওসি বললো-স্যার কোন চিন্তা কইরেন না আমি এক্ষুনি জেনে নিচ্ছি। দুইঘন্টা পরে এস পি ফেরত এসে রুমের সামনে গিয়ে ভিতর থেকে কান্নাকাটি, চিৎকার চেঁচামেচি শুনতে পেলেন। তিনি একটু অবাক হয়ে নিজের রুমে ঢুকে দেখেন চাকুরীপ্রার্থী হাত-পা বাঁধা অবস্হায় মেঝেতে পড়ে গোংগাচ্ছে, নাকে মুখে রক্ত, আর ওসি এক পায়ের জুতা দিয়ে পেটে...

একজন গ্রেট মোটিভেটর

  স্কুল লাইফে একবার অংকে ১০০ তে ৩১ পেয়েছিলাম!! স্যারের চরম বেতের বাড়ি তো খেয়েছিলামই, বাসায় এসে অপেক্ষা করছিলাম বাবার মাইরের জন্য আমার বাবা এলো রাতে। এসে রিপোর্ট কার্ড দেখতে চাইলো। আমার খুব কান্না পাচ্ছিলো। আমি তখন ক্লাস সেভেনে। আমার বাবা কতো আগ্রহ করেই না রিপোর্ট কার্ড চেয়েছে। মাথা নিচু করে বাবার সামনে বসে আছি। চোখে পানি অনেকক্ষন ধরে রিপোর্ট কার্ড দেখে বাবা আমাকে বল্লো, তুমি তো ইংরেজী তে অনেক ভালোই করেছো? ১০০ তে ৭২!!! সমাজেও ৮১!! অংকে তো ধরা খেয়ে গেলা! শোন! কাল থেকে অংক আমার সামনে করবা। রেগুলার। অংকে যদি তৃতীয় পার্বিক পরীক্ষায় ৮০ পাও, তোমাকে যে কী কিনে দিবো চিন্তাও করতে পারবা না। আর যদি ফেল করো! তোমার পড়াশুনা বন্ধ। "আমার এক জবান!!!" শুরু হলো বাবার সাথে আমার অংক চর্চা। প্রতি দিন অফিস থেকে ক্লান্ত হয়ে ফিরে উনি বসতেন পাটি গনিত আর বীজগনিত নিয়ে। আমার চেয়ে আমার বাবার পরিশ্রম অনেক বেশী হতো। পরীক্ষার পর রেজাল্ট এলো। আমি প্রচন্ড কষ্ট নিয়ে বাড়ি ফিরলাম আমি অংকে ১০০ তে ৭২ পেয়েছি। বাবা কে রিপোর্ট কার্ড দেখানোর সময় সেই কী কান্না আমার!!! আমার বাবা আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বল্...

প্রাচীন যুগে চীনারা ..

  প্রাচীন যুগে চীনারা যখন শান্তিতে বসবাস করার সিদ্ধান্ত নিল তখন তারা গ্রেট ওয়াল নির্মাণ করলো। চীনারা ভেবেছিল এটার উচ্চতার জন্য কেউ টপকে তাদের আক্রমণ করতে পারবে না। গ্রেট ওয়াল নির্মাণের প্রথম একশো বছরের মধ্যেই চীনারা তিন বার আক্রান্ত হয়। আশ্চর্যের বিষয় কোনোবারই আক্রমণকারীদের দেওয়াল টপকানোর বা ভাঙার প্রয়োজন হয় নাই। কারণ প্রত্যেকবারই আক্রমণকারীরা দেওয়াল পাহারারত রক্ষীদের উৎকোচ দিয়ে সামনের গেট দিয়ে ঢুকে গেছে। চীনারা অনেক পরিশ্রম করে মজবুত দেওয়াল তৈরি করেছিল। কিন্তু তারা দেওয়াল পাহারা দেওয়া রক্ষীদের চরিত্র মজবুত করার জন্য কোন পরিশ্রমই করেনি। তাহলে দেখা যাচ্ছে দেওয়াল মজবুত করার থেকে চরিত্র মজবুত করার প্রশ্নটিই আগে আসে। শুধু দেওয়াল মজবুত করার ফলাফল শূন্য। তাই অনেক আগেই একজন প্রাচ‍্যদেশীয় দার্শনিক বলে গেছেন তুমি যদি কোন সভ্যতা ধ্বংস করতে চাও তাহলে তিনটি কাজ কর- (ক) যে জাতিকে পদানত করতে চাও তার পারিবারিক গঠন আগে ধ্বংস করো। পারিবারিক গঠন ধ্বংস করতে হলে সংসারে মায়ের ভূমিকাকে খাটো করে দেখাও যাতে সে গৃহবধূ পরিচয় দিতে লজ্জাবোধ করে। (খ) শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দাও। এটা করতে হ...

নিরানব্বইটি স্বর্ণমুদ্রা

  এক রাজা একদিন তার উজিরকে জিজ্ঞেস করলেন,"আচ্ছা বলেনতো অধিকাংশ মানুষ অসুখী কেন?" উজির কিছুক্ষণ নিরব থেকে রাজাকে বললেন, "এই প্রশ্নের উত্তরের জন্য আপনাকে একটি ছোট কাজ করতে হবে।" রাজা বললেন,"কি কাজ?" উজির বললেন,"আপনাকে একটি থলেতে নিরানব্বইটি স্বর্ণমুদ্রা রাখতে হবে। সাথে একটি কাগজে লিখে রাখতে হবে, যাতে লেখা থাকে থলেতে ১০০টি স্বর্ণমুদ্রা রয়েছে। তারপর থলিটি রাতে আপনার কোন কর্মচারীর ঘরের সামনে রেখে আসুন।" রাজা উজিরের কথা মত তাই করলেন। মুদ্রা ভরা থলেটি একজন রাজকর্মচারী ঘরে সামনে রেখে এলেন। কর্মচারী রাতে প্রকৃতির ডাকে ঘর থেকে বের হলে দেখতে পেলেন ঘরের সামনে একটি থলে পড়ে আছে। থলেটা ঘরে নিয়ে খোলার পর স্বর্ণমুদ্রা গুনা শুরু করলো। গুনে নিরানব্বইটি স্বর্ণমুদ্রা পেল। কিন্তু কাগজে লেখা ১০০টি স্বর্ণমুদ্রা। আরো কয়েকবার গুনেও স্বর্ণমুদ্রা ৯৯টিই পেল। একটি মুদ্রা না পেয়ে সেই কর্মচারী ঘরের সবাইকে ঘুম থেকে উঠিয়ে স্বর্ণমুদ্রা খোঁজার কাজে লাগিয়ে দিল। সবাই মিলে সারারাত খোঁজাখুঁজি করেও স্বর্ণমুদ্রাটি আর পেলেন না। এদিকে রাজা আর উজির আড়ালে দাঁড়িয়ে সবকিছু লক্ষ করছিলেন। সক...

ইন্দোনেশিয়ান এক যুবতী মেয়ে ..

  ইন্দোনেশিয়ান এক যুবতী মেয়ে সৌদির বাসার গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতো। হঠাৎ একদিন তার মালিক খেয়াল করলেন। তার গৃহকর্মী, বারবার বাথরুমে যাচ্ছে! 'গৃহকর্ত্রী একজন সৌদিয়ান মহিলা। ক্যান্সার রোগী। উনি তার সেবা শুশ্রূষার জন্য এই মেয়েকে এনেছেন ইন্দোনেশিয়া থেকে। কিন্তু গৃহকর্মী মেয়েটা বাথরুমে গিয়ে অনেকক্ষণ সময় নেয়। বিধ্বস্ত চেহারা। চোখমুখ মলিন উষ্কখুষ্ক, কান্না ভেজা থাকে। 'গৃহকর্ত্রী এই বিষয় বারবার লক্ষ করে। অবশেষে ওই মেয়েকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার এমন অবস্থা কেন..? 'মেয়েটি বলল, 'মেডাম আমার একটা দুধের শিশু দেশে রেখে এসেছি। এইজন্য আমার দুধ জমে গিয়ে সমস্যার সৃষ্টি করে, তাই জমাট দুধ বের করে ফেলে দিতে বারবার বাথরুমে যেতে হয়। গৃহকর্ত্রী বললেন, তুমি এমন দুধের শিশু রেখে বিদেশে কেনো আসলে? ' মেয়ে বলল, ম্যাডাম অনেক দিন ধরে বিদেশে আসার চেষ্টা করছি, কিন্তু ভিসা হচ্ছিল না। তারপর বাচ্চাটা জন্ম নেয়ার পর হঠাৎ করে ভিসা হয়ে গেলো। চরম অভাব অনটনের সংসার। পরিবারের কথা ভেবে, বাচ্চাটা রেখে চলে আসতে বাধ্য হলাম। ' কাজের মেয়ের কথা শুনে গৃহকর্ত্রীর মর্মাহত, গভীর চিন্তায় পড়ে গেলেন। তারপর কাজের মেয়েক...

খরগোশ ও কচ্ছপের গল্পের বাকি অংশ

  খরগোশ ও কচ্ছপের গল্পের বাকি অংশ 😲😲 সেই আদি আমল থেকে খরগোশ আর কচ্ছপের গল্প আমরা সবাই জানি। কিন্তু মজার বিষয় হল আমরা ১ম অধ্যায় টা বেশি শুনেছি। গল্পের আরো ৩ টি অধ্যায় আছে। হয়তো কেও শুনেছি, কেও শুনিনি। 🔴১ম অধ্যায়ঃ এই অধ্যায়ে খরগোশ ঘুমিয়ে যায়, আর কচ্ছপ জিতে যায়। প্রথমবার খরগোশ হেরে যাওয়ার পর বিশ্লেষণ করে দেখল হারার মূল কারণ- 'খরগোশ এর অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস।' 🟢সারাংশঃ খরগোশ থেকে পেলাম- অতি আত্মবিশ্বাস যে কারো জন্য ই ক্ষতিকর। কচ্ছপ থেকে পেলাম - লেগে থাকলে সাফল্য আসবেই। 🔴২য় অধ্যায়ঃ হেরে যাওয়ার পর খরগোশ আবারো কচ্ছপকে দৌড় প্রতিযোগিতা করতে বলে। কচ্ছপ এতে রাজী ও হয়। এবার খরগোশ না ঘুমিয়ে দৌড় শেষ করল। কচ্ছপ ও আস্তে আস্তে দৌড় শেষ করল। 🟢সারাংশঃ খরগোশ থেকে পেলাম - দ্রুত এবং অবিচল ভাবে নিজের কাজে মন থাকলে দ্রুত সফল হওয়া যায়। কচ্ছপ থেকে পেলাম - ধীর স্থির ভাবে চলাফেরা ভালো, তবে গতি ও নির্ভরতা বেশী ভালো। 🔴৩য় অধ্যায়ঃ কচ্ছপ এবার হেরে যাওয়ার তার একটু মন খারাপ হল। সে আবারো খরগোশ কে আরেকটি দৌড় প্রতিযোগিতার আমন্ত্রন জানালো। খরগোশ ও নির্দিধায় রাজী হয়ে গেল।...

মায়েরা যারা স্বচ্ছল পরিবারের..

  আপনারা মায়েরা যারা স্বচ্ছল পরিবারের বৌ, তাদের বলছি মুরগীর দুই রান দুই সন্তানের পাতে দিয়ে, একটা উরু স্বামীকে দিয়ে আরেকটা নিজে নিন.... নাহলে শেষ বয়সের রক্তশূন্যতায় আপনার অতীব ভদ্র সন্তান আপনাকে যত যত্ন ই করুক, আপনার old bone marrow আর পুরনো কার্যক্ষমতা আর ফেরত পাবে না। বাচ্চাদেরকে দুধের গ্লাস কানায় কানায় পূর্ণ না করে নিজের জন্য একটুখানি নিন, না হলে শেষ বয়সে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ছেলের জন্য বিরিয়ানি রান্না করার Calcium , Vertebrae তে থাকবে না, তখন বড় ডাক্তার ছেলের এনে দেয়া বিদেশি বড়ি খেয়ে লাভ নাই। গরীব মায়েদের আমার কিছু বলার নাই, কিন্তু মধ্যবিত্ত আর উচ্চবিত্ত পরিবারের মায়েরা ইচ্ছে করে নিজের যত্ন না করে যে মাহাত্ম্য দেখানোর চেষ্টা করে, তা আসলে একটা গর্হিত অপরাধ। আপনি যদি আসলেই সন্তান কে ভালবেসে থাকেন, তাহলে নিজেকে সুস্থ্য সুন্দর রাখুন,নিয়ম মেনে চলুন, নিজের জীবন কে উপভোগ করুন, সন্তানের সাথে আরও অনেকদিন বেঁচে থাকার চেষ্টা করুন। এই উপমহাদেশের সমাজ ভালো মায়ের যে standard তৈরি করে দিয়েছে-তা একটা ভুলে ভরা প্রহসন ছাড়া কিছুই না। যদি আপনি আপনার স্বামীর সাথে অসুখী হন, সে যদ...