Skip to main content

Posts

বিস্কুটের নামে বিষ খাচ্ছেন কি?

  বিস্কুটের নামে বিষ খাচ্ছেন কি? আজকে একজন বেকারী মালিক ফোন দিয়ে বললেন, " ভাই আমার ইচ্ছা করে দূরে কোথাও চলে যাই। আর ব্যবসা করতে ভালো লাগে না।" আমি বললাম, "কেন? ব্যবসা করা অতি উত্তম কাজ। আপনার কি ভালো লাগে না?" তিনি মন খারাপ করে চুপ করে রইলেন। তারপরে বললেন, "বাংলাদেশে কোন রং স্বাস্থ্য সম্মত না। এগুলো আমাদের বিস্কুটে দিতে হচ্ছে। সাথে এমনিয়াম সল্ট দিতে হচ্ছে। বিভিন্ন বাজে ফ্লেভার দিতে হচ্ছে যা স্বাস্থ্য সম্মত না।" আমি জিজ্ঞেস করলাম কেন দিচ্ছেন তাহলে? তিনি বললেন, " অ্যামোনিয়া না দিলে বিস্কুট ফোলা ফাঁপা এবং পাতলা হয় না। রং না দিলে কাস্টমার পছন্দ করে না। মার্কেটে সবাই এগুলো পছন্দ করে। আমি এসব না দিলে যেই খরচ পড়ে সেই দামে কেউই নিরাপদ বিস্কুট পছন্দ করে না। সবাই সস্তায় এই মান চায়। বাজারে চলে এগুলো। দাম সেভাবে সেট। আমার এত টাকা ইনভেস্ট করার পর সব মিলিয়ে দেখি এই সেক্টরেই সমস্যা। সৎ মানুষের জন্য এই ব্যবসা না। আমার এত টাকা লোকসান যাবে কিন্তু তারপরেও মনে হয় চলে যাই। কনসালট্যান্সি আমাকে অনেক কিছু শিখিয়ে দেয়। আপনি দেখবেন ইদানিং গ্রামে ক্যান্সার বেশ...
Recent posts

সিঙ্গাপুর কীভাবে দুর্নীতি দমন করলো?

  সিঙ্গাপুর কীভাবে দুর্নীতি দমন করলো? ১৯৫০–৬০ দশকে সিঙ্গাপুর আজকের মতো পরিচ্ছন্ন ছিল না। পুলিশ, কাস্টমস, লাইসেন্স অফিস—প্রায় সবখানেই ঘুষ ছিল দৈনন্দিন বাস্তবতা। কিন্তু তারা শুধু কথা বলেনি—কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছে। ✔️ স্বাধীন দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা CPIB গঠন করা হয়—যার এখতিয়ার ছিল স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীকেও তদন্ত করার। ✔️ লি কুয়ান ইউ নিজের ঘনিষ্ঠ মন্ত্রী ও সহকর্মীদেরও রেহাই দেননি। “আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়”—এটি স্লোগান নয়, ছিল বাস্তব নীতি। ✔️ সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন বিশ্বমানের করা হয়—যাতে সৎ থাকার আর্থিক প্রণোদনা থাকে। ✔️ ছোট-বড় নির্বিশেষে শাস্তি ছিল দ্রুত, কঠোর ও অনিবার্য। 📉 ফলাফল? আজ সিঙ্গাপুর ধারাবাহিকভাবে বিশ্বের সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি। বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য সিঙ্গাপুরের থেকে কি শেখার অনেক কিছু আছে না? ---------------------------------------- আজকে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ স্টার্ট আপ MedEasy গল্প শুনে অবাক হয়ে গেলাম। প্রতিষ্ঠাতা আরেফিন ভাইয়ের সাথে কথা হচ্ছিল। তিনি বললেন ওনাদের কোন ঋণ নেই। ইনভেস্ট নিয়ে সব করেছেন। এমনকি সিঙ্গাপুরের ইনভেস্টররা ওনাকে বলে...

চাকরি ছেড়ে ব্যাবসা

  ব্যাংক অফিসার চাকরি ছেড়ে ব্যাবসা শুরু করতে চান। কিন্তু কি করবেন বুঝতে পারছেন না। আমার কাছে এসেছেন। দীর্ঘ শ্বাস ফেলে শুরু করলাম। অতীত বর্তমান, পছন্দ অপছন্দ সহ বিভিন্ন প্রশ্ন করতে করতে যেই মুহূর্তে মনে হলো ওনার জন্য পারফেক্ট ব্যবসা খুঁজে পেয়েছি তার পরেই একটি কথা শুনে বুঝলাম না অল্পের জন্য এইটা পারফেক্ট না। একটু হতাশ লাগছিল। ইতিমধ্যে ৪০ মিনিট শেষ। তিনি এবার বললেন আমি তিনটি ব্যবসা ভেবে রেখেছি। শোনেন তো। প্রথমে যেটি বললেন সেটি আমি সাথে সাথে বললাম বাদ। এই ব্যবসা হবে না। তার পরের উত্তর মোটামুটি কিন্তু শেষে যা বললেন আমি তা নিয়ে আলোচনা করতে করতে এক পর্যায়ে বললাম - বসে আছেন কেন? এখনি নেমে যান। প্রতি ঘন্টা দেরি। কি ছিল সেই ব্যবসা? এটি ছিল বাইক এর পার্টস এর ব্যবসা। কিন্তু এটা কেন এত পছন্দ হলো? তার কারণ এটি ওনার সাথে যায়। বিভিন্ন কারণে। আমরা অনেক সময় বাহির থেকে দেখে বোঝার ও ব্যবসা শুরু করার চেষ্টা করি। যেমন ওই ব্যাক্তি আম বিক্রি করে ধনী হয়েছে আমিও আম বেচবো। সে কন্টেন্ট বানিয়ে ধনী হতে পেরেছে। আমিও করবো। কিন্তু বাস্তবে প্রোডাক্ট বা ব্যাবসা আপনার ভিতরে। অভিজ্ঞতাতে। আশে পাশের সম্পর্কে এ...

এক ইহুদি পণ্ডিতের ইসলাম গ্রহণের কাহিনি

  মহানবী (সা.) কখনো কারও সঙ্গে রূঢ় আচরণ করতেন না, এমনকি কোনো অমুসলিমের সঙ্গেও না এবং সাহাবিদেরও এ ব্যাপারে সচেতন করেছেন।  আসমা (রা.) বলেন, নবীজির যুগে আমার অমুসলিম মা আমার কাছে এলেন। আমি তখন নবীজিকে জিজ্ঞেস করলাম, তাঁর সঙ্গে ভালো ব্যবহার করব কি না? তিনি বললেন, “হ্যাঁ”।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৯৭৮) জায়েদ নামের এক ইয়াহুদি পণ্ডিত ছিলেন। প্রচুর সম্পদ ছিল তাঁর। একপর্যায়ে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নবীজির সঙ্গে অনেক যুদ্ধেও অংশ নেন।  তিনি নিজেই তাঁর ইসলাম গ্রহণের ঘটনা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি প্রথমবার যখন নবীজিকে দেখি, তখনই তাঁর নবুয়তের সমূহ নিদর্শন আমার সামনে স্পষ্ট হয়ে যায়। তবে শুধু দুটি নিদর্শন আমি বুঝতে পারিনি। একটি হলো তাঁর ধৈর্য সব সময় রাগের ওপর বিজয়ী থাকবে। অপরটি হলো, মূর্খ লোকদের কঠোরতা সত্ত্বেও তাঁর ধৈর্য অটুট থাকবে।’জায়েদ বলেন, ‘আমার ইচ্ছা জাগল কোনোভাবে নবীজির সঙ্গে এমন কোনো কাজ করব, যাতে অপর দুটি নিদর্শনও আমার সামনে স্পষ্ট হয়ে যায়।’ একদিন নবীজি (সা.) ঘর থেকে হজরত আলীর সঙ্গে বের হন। তখন গ্রাম থেকে এক ব্যক্তি বাহনে চড়ে তাঁর কাছে এসে বলল, ‘আল্লাহর রাসুল, অমুক মহ...

বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করার পাপ ও তার শাস্তি

  নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের অন্যতম উপকরণ। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কর্তৃক অধিক মুনাফার আশায় খাদ্য বা জরুরি পণ্য লুকিয়ে রেখে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করাকে মজুতদারি বলা হয়। ইসলাম ব্যবসা-বাণিজ্যকে উৎসাহিত করেছে, কিন্তু মানুষের দুর্দশাকে পুঁজি করে অন্যায় মুনাফা অর্জনকে কঠোরভাবে নিন্দা করেছে। মজুতদার ব্যক্তি পাপাচারী ইসলামের দৃষ্টিতে ব্যবসার অন্যতম একটি উদ্দেশ্য হলো মানুষের কল্যাণসাধন। মজুতদারি এ উদ্দেশ্যের পরিপন্থী। কারণ, মজুতদার নিজের লাভের জন্য মানুষের কষ্টকে দীর্ঘায়িত করে। যখন কোনো ব্যবসায়ী মানুষের প্রয়োজনীয় দ্রব্য আটকে রেখে মূল্যবৃদ্ধির অপেক্ষা করে, তখন সে পাপাচারী হিসেবে গণ্য হয়। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি মজুতদারি করে, সে পাপী।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৬০৫) মজুতদারির পার্থিব শাস্তি মজুতদারির মাধ্যমে সাময়িকভাবে অধিক মুনাফা অর্জিত হলেও এর ভয়াবহ পরিণাম অনেক ক্ষেত্রে দুনিয়াতেই ভোগ করতে হয়। মানুষের অভিশাপ ও অন্যায় উপার্জনের কারণে অনেক মজুতদার শেষ পর্যন্ত ব্যাবসায়িক সুনাম, সামাজিক মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্থিতি হারিয়ে ফেলে। তার ওপর নেমে আসে শারীরিক ...

আশরাফ হাকিমি এত এত ব্যায়াম করেন

  স্পেনের বিখ্যাত রিয়াল মাদ্রিদের যুব একাডেমি ‘লা ফাব্রিকা’ থেকে উঠে আসা এই ফুটবলার আজ বিশ্বমঞ্চের অন্যতম তারকা। জার্মানির বরুশিয়া ডর্টমুন্ড ও ইতালির ইন্টার মিলান ঘুরে ফ্রান্সের পিএসজি দলের অন্যতম কান্ডারি। তরুণদের আইকন হয়ে ওঠা হাকিমির এই অতিমানবীয় গতি ও স্ট্যামিনার পেছনে আছে কঠোর পরিশ্রম, সুনির্দিষ্ট ব্যায়াম এবং নিয়মতান্ত্রিক খাদ্যাভ্যাস। হাকিমির সেই ফিটনেস–রহস্য জানুন। মাঠ কাঁপানোর আগের প্রস্তুতি যেকোনো ম্যাচ বা কঠিন অনুশীলনের আগে শরীর প্রস্তুত করা এবং ইনজুরি এড়ানো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। হাকিমি শুরুতেই হালকা জগিং ও দৌড় দিয়ে শরীর গরম করেন। এরপর শুরু হয় ‘ডাইনামিক স্ট্রেচিং’। এর মধ্যে থাকে— লেগ সুইং হিপ সার্কেল হাই নিস ওয়াকিং লাঞ্জেস মাঠের মূল অনুশীলনে নামার আগে তিনি বল নিয়ে ড্রিবলিং, এক পায়ে হার্ডল জাম্প এবং হেডিংয়ের অনুশীলনও সেরে নেন। এই ডাইনামিক মুভমেন্টগুলো তাঁর শরীরের নমনীয়তা বাড়াতে এবং পেশির সচলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। গতি ও ক্ষিপ্রতার মূলমন্ত্র স্পেনে জন্ম নেওয়া অভিবাসী মা–বাবার সন্তান হাকিমির খেলার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো মুহূর্তের মধ্যে গতি বাড়িয়ে দিক পরিবর্তন করার ক্ষমতা। এই...

গভীর নিদ্রায় মগ্ন

  ~গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গভীর নিদ্রায় মগ্ন~ ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট, ইন্ডিয়ান লেখক ও গণমাধ্যম পরামর্শক সুদীপ চক্রবর্তী গণঅভ্যুত্থানের বিপ্লবী রূপান্তরের চূড়ান্ত পর্বে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যান। তখন তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ইউল্যাব-এ সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। তবে তাঁর আসল উদ্দেশ্য যে শিক্ষকতা নয়, গোয়েন্দাবৃত্তি তা পর্যবেক্ষকমলে অনেকেরই জানা ছিল। ঢাকায় ফ্যাসিবাদের যুগে দায়িত্বপালনকারী ইন্ডিয়ান হাইকমিশন হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার কথা ভুলে যাবার নয়। যিনি সেদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয় থেকে অবসরের পর হিন্দু মৌলবাদী ক্ষমতাসীন বিজেপি’র নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন এবং ইন্ডিয়ার রাজ্যসভার সদস্যও মনোনীত হয়েছেন। তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু এই সুদীপ চক্রবর্তী। মেয়ো কলেজে পড়ার সময়কার শৈশবের বন্ধু, দু’জনের মধ্যে মতাদর্শ, রাজনীতি এবং সাংস্কৃতিক বন্ধন দীর্ঘদিনের। পর্যবেক্ষক মহল মনে করে, ঢাকায় সুদীপ চক্রবর্তীর উপস্থিতি ছিল কৌশলগত। বিজেপিপন্থী কূটনীতিক হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যাবার পর তার তৈরি করা অ্যাসেটদের (এজেন্টদের) দেখভালের দায়িত্ব ছিল এই শিক্ষকের ছদ্মবেশধা...

‘বিষাদ-সিন্ধু’: কারবালার ইতিহাস না সাহিত্যিক কল্পনা

   বাংলা সাহিত্যে কারবালার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রচিত সবচেয়ে প্রভাবশালী গ্রন্থ নিঃসন্দেহে বিষাদ-সিন্ধু । ১৮৮৫ থেকে ১৮৯১ সালের মধ্যে তিন খণ্ডে প্রকাশিত মীর মশাররফ হোসেনের এই উপন্যাস বাঙালি মুসলিম সমাজে কেবল একটি সাহিত্যকর্ম হিসেবে থাকেনি, বরং মহররম ও কারবালার মূল বয়ানে পরিণত হয়েছে। কিন্তু ইতিহাসের সাপেক্ষে পড়লে একটি স্বাভাবিক প্রশ্ন ওঠে: মীর মশাররফ হোসেন কি ইতিহাস লিখেছিলেন, নাকি ইতিহাসের পটভূমিতে দাঁড়িয়ে একটি সাহিত্যিক কল্পনা গড়ে তুলেছিলেন? ইমাম হাসান (রা.) সেই জয়নবকে বিয়ে করেন এবং এখান থেকেই উমাইয়াদের সঙ্গে রাসুল পরিবারের শত্রুতা চূড়ান্ত রূপ নেয়—ঐতিহাসিক দলিলে এই আখ্যানের কোনো ভিত্তি পাওয়া যায় না। সাহিত্য ও ইতিহাসের মধ্যকার দূরত্ব ইতিহাস আর উপন্যাসের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য আছে। ইতিহাস নির্ভর করে প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ ও প্রামাণিক দলিলের ওপর; উপন্যাস নির্ভর করে লেখকের কল্পনা ও জীবনদর্শনের ওপর। মীর মশাররফ হোসেন নিজেই ‘বিষাদ-সিন্ধু’র ভূমিকায় স্বীকার করেছেন যে উপন্যাসের প্রয়োজনে তাঁকে কল্পনার সহায় নিতে হয়েছে। সমস্যাটি অন্যত্র। সাধারণ পাঠক যখন ঘরে ঘরে এই বই পড়তে শুরু...

সংকট মোকাবিলায় হোসাইন (রা.)-এর জীবন থেকে ৭ শিক্ষা

  ইতিহাসের কিছু ঘটনা সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে চিরন্তন শিক্ষায় পরিণত হয়। কারবালা তেমনই একটি ঘটনা। এর কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন নবীজি (সা.)-এর দৌহিত্র হোসাইন (রা.), যিনি অবিচল ইমান, নৈতিক দৃঢ়তা, আত্মমর্যাদা ও ত্যাগের এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, যা যুগে যুগে মানুষের সংকট মোকাবিলার অনুপ্রেরণা হয়ে আছে। ১. নৈতিক দৃঢ়তা ৬১ হিজরির ১০ মহররম কারবালার প্রান্তরে হোসাইন (রা.) এমন কঠিন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হন, যেখানে দৃশ্যমান বাস্তবতায় বিজয়ের সব পথ রুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবু নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে তিনি আপস করেননি। সংখ্যায় অল্প হওয়া কিংবা পার্থিব ক্ষতির আশঙ্কা তাঁকে সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। শিক্ষা: নৈতিক মূল্যবোধের প্রশ্নে দৃঢ় থাকা একজন মুমিনের মৌলিক বৈশিষ্ট্য। ব্যক্তি ও সমাজজীবনে নানা চাপ, ভয় ও প্রলোভনের মুখেও নীতিগত অবস্থান অটুট রাখতে পারলেই প্রকৃত চরিত্রের পরিচয় দেওয়া সম্ভব। ২. সংকটকালে ধৈর্য ও সহনশীলতা কারবালা প্রান্তরে পানির সরবরাহ বন্ধ, পরিবার ও সঙ্গীদের অবরুদ্ধ অবস্থা এবং মৃত্যুর অবশ্যম্ভাবী আশঙ্কার মধ্যেও হোসাইন (রা.) ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। প্রতিকূলতার চাপে তিনি...

হালাল ক্যারিয়ার গঠনে ইসলামের ৫ নীতি

  জীবিকা নির্বাহের জন্য চাকরি, ফ্রিল্যান্সিং বা যেকোনো পেশা বেছে নেওয়া মানুষের জীবনের একটি বড় অংশ। অনেকেই মনে করেন ইসলাম কেবল ব্যবসা–বাণিজ্যের নিয়ম নির্ধারণ করেছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে চাকরিজীবী, করপোরেট কর্মী ও নিয়োগকর্তাদের জন্যও শরিয়ত দিয়েছে অমোঘ কিছু নীতিমালা। কর্মক্ষেত্রে সততা বজায় রাখা ও কর্মীর অধিকার নিশ্চিত করা ইসলামের দৃষ্টিতে কেবল পেশাগত দায়িত্ব নয়; বরং এটি একটি বড় ইবাদত। কর্মক্ষেত্রে সততা ও হালাল ক্যারিয়ার গড়ে তোলার এমন পাঁচটি সোনালি ইসলামি নীতি নিচে আলোচনা করা হলো। ১. শর্তের প্রতি শতভাগ অনুগত থাকা যেকোনো সংস্থায় যোগ দেওয়ার সময় যে কাজের বিবরণ (জব ডেসক্রিপশন) ও শর্তাবলি নির্ধারণ করা হয়, তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা প্রত্যেক কর্মীর ধর্মীয় দায়িত্ব। কোনো ব্যক্তি যদি নির্দিষ্ট বেতনের বিনিময়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়, তবে অলসতা বা অবহেলার কারণে কাজের সময় নষ্ট করলে তার বেতন থেকে বরকত কমে যায় এবং সে আমানতের খেয়ানতকারী হিসেবে গণ্য হয়। (ইবনে কুদামাহ, আল–মুগনি, ৬/৪৩, মাকতাবাতুল কাহেরা, কায়রো, ১৯৬৮) নিয়োগকর্তা বা বসের জন্য সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো কর্মীর কাজের মূল্যায়ন করা এবং ত...