Skip to main content

Posts

Showing posts from July, 2026

বিস্কুটের নামে বিষ খাচ্ছেন কি?

  বিস্কুটের নামে বিষ খাচ্ছেন কি? আজকে একজন বেকারী মালিক ফোন দিয়ে বললেন, " ভাই আমার ইচ্ছা করে দূরে কোথাও চলে যাই। আর ব্যবসা করতে ভালো লাগে না।" আমি বললাম, "কেন? ব্যবসা করা অতি উত্তম কাজ। আপনার কি ভালো লাগে না?" তিনি মন খারাপ করে চুপ করে রইলেন। তারপরে বললেন, "বাংলাদেশে কোন রং স্বাস্থ্য সম্মত না। এগুলো আমাদের বিস্কুটে দিতে হচ্ছে। সাথে এমনিয়াম সল্ট দিতে হচ্ছে। বিভিন্ন বাজে ফ্লেভার দিতে হচ্ছে যা স্বাস্থ্য সম্মত না।" আমি জিজ্ঞেস করলাম কেন দিচ্ছেন তাহলে? তিনি বললেন, " অ্যামোনিয়া না দিলে বিস্কুট ফোলা ফাঁপা এবং পাতলা হয় না। রং না দিলে কাস্টমার পছন্দ করে না। মার্কেটে সবাই এগুলো পছন্দ করে। আমি এসব না দিলে যেই খরচ পড়ে সেই দামে কেউই নিরাপদ বিস্কুট পছন্দ করে না। সবাই সস্তায় এই মান চায়। বাজারে চলে এগুলো। দাম সেভাবে সেট। আমার এত টাকা ইনভেস্ট করার পর সব মিলিয়ে দেখি এই সেক্টরেই সমস্যা। সৎ মানুষের জন্য এই ব্যবসা না। আমার এত টাকা লোকসান যাবে কিন্তু তারপরেও মনে হয় চলে যাই। কনসালট্যান্সি আমাকে অনেক কিছু শিখিয়ে দেয়। আপনি দেখবেন ইদানিং গ্রামে ক্যান্সার বেশ...

সিঙ্গাপুর কীভাবে দুর্নীতি দমন করলো?

  সিঙ্গাপুর কীভাবে দুর্নীতি দমন করলো? ১৯৫০–৬০ দশকে সিঙ্গাপুর আজকের মতো পরিচ্ছন্ন ছিল না। পুলিশ, কাস্টমস, লাইসেন্স অফিস—প্রায় সবখানেই ঘুষ ছিল দৈনন্দিন বাস্তবতা। কিন্তু তারা শুধু কথা বলেনি—কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছে। ✔️ স্বাধীন দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা CPIB গঠন করা হয়—যার এখতিয়ার ছিল স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীকেও তদন্ত করার। ✔️ লি কুয়ান ইউ নিজের ঘনিষ্ঠ মন্ত্রী ও সহকর্মীদেরও রেহাই দেননি। “আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়”—এটি স্লোগান নয়, ছিল বাস্তব নীতি। ✔️ সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন বিশ্বমানের করা হয়—যাতে সৎ থাকার আর্থিক প্রণোদনা থাকে। ✔️ ছোট-বড় নির্বিশেষে শাস্তি ছিল দ্রুত, কঠোর ও অনিবার্য। 📉 ফলাফল? আজ সিঙ্গাপুর ধারাবাহিকভাবে বিশ্বের সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি। বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য সিঙ্গাপুরের থেকে কি শেখার অনেক কিছু আছে না? ---------------------------------------- আজকে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ স্টার্ট আপ MedEasy গল্প শুনে অবাক হয়ে গেলাম। প্রতিষ্ঠাতা আরেফিন ভাইয়ের সাথে কথা হচ্ছিল। তিনি বললেন ওনাদের কোন ঋণ নেই। ইনভেস্ট নিয়ে সব করেছেন। এমনকি সিঙ্গাপুরের ইনভেস্টররা ওনাকে বলে...

চাকরি ছেড়ে ব্যাবসা

  ব্যাংক অফিসার চাকরি ছেড়ে ব্যাবসা শুরু করতে চান। কিন্তু কি করবেন বুঝতে পারছেন না। আমার কাছে এসেছেন। দীর্ঘ শ্বাস ফেলে শুরু করলাম। অতীত বর্তমান, পছন্দ অপছন্দ সহ বিভিন্ন প্রশ্ন করতে করতে যেই মুহূর্তে মনে হলো ওনার জন্য পারফেক্ট ব্যবসা খুঁজে পেয়েছি তার পরেই একটি কথা শুনে বুঝলাম না অল্পের জন্য এইটা পারফেক্ট না। একটু হতাশ লাগছিল। ইতিমধ্যে ৪০ মিনিট শেষ। তিনি এবার বললেন আমি তিনটি ব্যবসা ভেবে রেখেছি। শোনেন তো। প্রথমে যেটি বললেন সেটি আমি সাথে সাথে বললাম বাদ। এই ব্যবসা হবে না। তার পরের উত্তর মোটামুটি কিন্তু শেষে যা বললেন আমি তা নিয়ে আলোচনা করতে করতে এক পর্যায়ে বললাম - বসে আছেন কেন? এখনি নেমে যান। প্রতি ঘন্টা দেরি। কি ছিল সেই ব্যবসা? এটি ছিল বাইক এর পার্টস এর ব্যবসা। কিন্তু এটা কেন এত পছন্দ হলো? তার কারণ এটি ওনার সাথে যায়। বিভিন্ন কারণে। আমরা অনেক সময় বাহির থেকে দেখে বোঝার ও ব্যবসা শুরু করার চেষ্টা করি। যেমন ওই ব্যাক্তি আম বিক্রি করে ধনী হয়েছে আমিও আম বেচবো। সে কন্টেন্ট বানিয়ে ধনী হতে পেরেছে। আমিও করবো। কিন্তু বাস্তবে প্রোডাক্ট বা ব্যাবসা আপনার ভিতরে। অভিজ্ঞতাতে। আশে পাশের সম্পর্কে এ...

এক ইহুদি পণ্ডিতের ইসলাম গ্রহণের কাহিনি

  মহানবী (সা.) কখনো কারও সঙ্গে রূঢ় আচরণ করতেন না, এমনকি কোনো অমুসলিমের সঙ্গেও না এবং সাহাবিদেরও এ ব্যাপারে সচেতন করেছেন।  আসমা (রা.) বলেন, নবীজির যুগে আমার অমুসলিম মা আমার কাছে এলেন। আমি তখন নবীজিকে জিজ্ঞেস করলাম, তাঁর সঙ্গে ভালো ব্যবহার করব কি না? তিনি বললেন, “হ্যাঁ”।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৯৭৮) জায়েদ নামের এক ইয়াহুদি পণ্ডিত ছিলেন। প্রচুর সম্পদ ছিল তাঁর। একপর্যায়ে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নবীজির সঙ্গে অনেক যুদ্ধেও অংশ নেন।  তিনি নিজেই তাঁর ইসলাম গ্রহণের ঘটনা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি প্রথমবার যখন নবীজিকে দেখি, তখনই তাঁর নবুয়তের সমূহ নিদর্শন আমার সামনে স্পষ্ট হয়ে যায়। তবে শুধু দুটি নিদর্শন আমি বুঝতে পারিনি। একটি হলো তাঁর ধৈর্য সব সময় রাগের ওপর বিজয়ী থাকবে। অপরটি হলো, মূর্খ লোকদের কঠোরতা সত্ত্বেও তাঁর ধৈর্য অটুট থাকবে।’জায়েদ বলেন, ‘আমার ইচ্ছা জাগল কোনোভাবে নবীজির সঙ্গে এমন কোনো কাজ করব, যাতে অপর দুটি নিদর্শনও আমার সামনে স্পষ্ট হয়ে যায়।’ একদিন নবীজি (সা.) ঘর থেকে হজরত আলীর সঙ্গে বের হন। তখন গ্রাম থেকে এক ব্যক্তি বাহনে চড়ে তাঁর কাছে এসে বলল, ‘আল্লাহর রাসুল, অমুক মহ...

বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করার পাপ ও তার শাস্তি

  নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের অন্যতম উপকরণ। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কর্তৃক অধিক মুনাফার আশায় খাদ্য বা জরুরি পণ্য লুকিয়ে রেখে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করাকে মজুতদারি বলা হয়। ইসলাম ব্যবসা-বাণিজ্যকে উৎসাহিত করেছে, কিন্তু মানুষের দুর্দশাকে পুঁজি করে অন্যায় মুনাফা অর্জনকে কঠোরভাবে নিন্দা করেছে। মজুতদার ব্যক্তি পাপাচারী ইসলামের দৃষ্টিতে ব্যবসার অন্যতম একটি উদ্দেশ্য হলো মানুষের কল্যাণসাধন। মজুতদারি এ উদ্দেশ্যের পরিপন্থী। কারণ, মজুতদার নিজের লাভের জন্য মানুষের কষ্টকে দীর্ঘায়িত করে। যখন কোনো ব্যবসায়ী মানুষের প্রয়োজনীয় দ্রব্য আটকে রেখে মূল্যবৃদ্ধির অপেক্ষা করে, তখন সে পাপাচারী হিসেবে গণ্য হয়। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি মজুতদারি করে, সে পাপী।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৬০৫) মজুতদারির পার্থিব শাস্তি মজুতদারির মাধ্যমে সাময়িকভাবে অধিক মুনাফা অর্জিত হলেও এর ভয়াবহ পরিণাম অনেক ক্ষেত্রে দুনিয়াতেই ভোগ করতে হয়। মানুষের অভিশাপ ও অন্যায় উপার্জনের কারণে অনেক মজুতদার শেষ পর্যন্ত ব্যাবসায়িক সুনাম, সামাজিক মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্থিতি হারিয়ে ফেলে। তার ওপর নেমে আসে শারীরিক ...