Skip to main content

Posts

Showing posts from May, 2026

দাম কম পেলে কি কোরবানির চামড়া নষ্ট করা বৈধ হবে

  পবিত্র ঈদুল আজহার সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি বিশাল সামাজিক ও অর্থনৈতিক দায়িত্ব। বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারে এক নজিরবিহীন ধস লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চামড়ার সঠিক মূল্য না পেয়ে রাগে, ক্ষোভে ও হতাশায় অনেক মৌসুমী ব্যবসায়ী বা সাধারণ মানুষ চামড়া মাটির নিচে পুঁতে ফেলছেন। বাহ্যিকভাবে এটিকে একটি অর্থনৈতিক বা বাজার ব্যবস্থাপনার ক্ষতি মনে হলেও, ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে এটি একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ধর্মীয় ও নৈতিক সংকট। আমাদের এই অবহেলার কারণে সমাজের সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলো তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কোরবানির পশু জবাই করার পর তার মাংস যেমন তিন ভাগে বণ্টন করা হয়, তেমনি পশুর চামড়া বা তার বিক্রয়লব্ধ মূল্যের ক্ষেত্রেও শরিয়তের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। চামড়ায় কোরবানিদাতার মালিকানা কোরবানির পশু জবাই করার পর তার মাংস যেমন তিন ভাগে বণ্টন করা হয়, তেমনি পশুর চামড়া বা তার বিক্রয়লব্ধ মূল্যের ক্ষেত্রেও শরিয়তের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। কোরবানিদাতা নিজে চাইলে এই চামড়া প্রক্রিয়াজাত করে ব্যক্তিগত কাজে (যেমন: জায়নামাজ, দস্তরখান বা চামড়ার ব্যাগ তৈরিতে) ব্যবহার করতে পারেন। তবে যদি চামড়াট...

বাংলাদেশে কুরবানীকেন্দ্রিক অর্থনীতির বাজার

  আপনি কি জানেন, বাংলাদেশে কুরবানীকেন্দ্রিক অর্থনীতির বাজার এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে? ইবাদতও যে কখনো কখনো গণমানুষের সংস্কৃতি এবং অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকা শক্তি হয়ে উঠতে পারে, কুরবানী তার বড় উদাহরণ। গত কয়েক বছর ধরেই প্রতি কুরবানীতে এক কোটির ওপর পশু কুরবানী হচ্ছে। এই বিপুলসংখ্যক পশুর বড় অংশ উৎপাদন করে দেশের প্রায় ১৭ লাখ ছোট-বড় খামার। এসব খামারের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত প্রায় এক কোটি মানুষ। ফলে কুরবানীর ঈদ গ্রামীণ অর্থনীতির এক মৌসুমি প্রাণশক্তিতে পরিণত হয়েছে। একসময় এই হিসাব পশুর বাজারে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পরিবহন, পশুখাদ্য, চামড়া, মসলা, কামারশিল্প, ই-কমার্স, ফ্রিজিং, ডিজিটাল পেমেন্ট, অনলাইন কুরবানী সেবা এবং মৌসুমি শ্রমবাজারের বিশাল কর্মযজ্ঞ। আবার নিয়মতান্ত্রিক খামারীদের বাইরেও বিপুলসংখ্যক কৃষক সারা বছর গরু-ছাগল পোষেন কুরবানীর হাটে বিক্রি করবার আশায়। এটাই তাদের আয়ের প্রধান উৎস। এই পশু বিক্রি করে তারা মেয়ের বিয়ে দেন, ঘরের চাল মেরামত করেন, স্ত্রীর চিকিৎসা করান। একটা সময় পার্শ্ববর্তী দেশের গরুতে সয়লাব থাকত আমাদের কুরবানীর বাজার। কিন্তু দিনে দিন...

পলিএন্ডোক্রাইন মেটাবলিক ওভারিয়ান সিনড্রোম (পিএমওএস)

  পিএমওএস আদতে কী এটি নারীর একটি হরমোনজনিত ও বিপাকীয় সমস্যা, যা সাধারণত কিশোরী বয়স থেকে শুরু হয়ে সারা জীবন প্রভাব ফেলতে পারে। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে প্রতি ১০ জন নারীর মধ্যে প্রায় ১ থেকে ২ জন এ সমস্যায় আক্রান্ত। অধিকাংশ নারী জানেনই না যে তাঁরা এই রোগে ভুগছেন। এই রোগে হরমোনের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কারণ, পিএমওএস মূলত একটি হরমোনের ভারসাম্যহীনতার রোগ। এতে একসঙ্গে একাধিক হরমোন অস্বাভাবিক আচরণ করে। ১. অ্যান্ড্রোজেন (পুরুষ হরমোন) নারীর শরীরে এই হরমোন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকলে মুখে ও শরীরে অতিরিক্ত লোম, ব্রণ ও মাথার চুল পড়া শুরু হয়। ২. ইনসুলিন পিএমওএস থাকলে শরীর ইনসুলিন সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে না, এটিকে বলে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স। ফলে রক্তে শর্করা বাড়ে এবং ধীরে ধীরে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি তৈরি হয়। ৩. এলএইচ ও এফএসএইচ পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত এই দুটি হরমোনের অসামঞ্জস্যের কারণে ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু ঠিকমতো নির্গত হয় না বা ডিম্বস্ফুরণ হয় না। মাসিক অনিয়মিত হয় এবং গর্ভধারণে সমস্যা দেখা দেয়। ৪. থাইরয়েড ও প্রোল্যাকটিন এই হরমোনগুলোর ভারসাম্যহীনতাও অনেক সময় পিএমওএসের সঙ্গে জড়িত থাকে, যা রোগনির্ণয়ক...

হাঁপানি সম্পর্কে যা জানা জরুরি

  অ্যাজমা বা হাঁপানি একটি দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগ। এই রোগে প্রধানত ফুসফুসের ক্ষুদ্র শ্বাসনালিগুলো আক্রান্ত হয়। প্রদাহের কারণে শ্বাসনালি সংকুচিত হয়ে যায়, ফলে বাতাস চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। রোগীরা সাধারণত কাশি, শোঁ শোঁ শব্দ, শ্বাসকষ্ট ও বুকে চাপ বা ভারী অনুভূতির মতো উপসর্গ নিয়ে আসেন। এসব উপসর্গ কখনো একসঙ্গে, কখনো আলাদাভাবে দেখা দিতে পারে। বেশি ঝুঁকিতে যাঁরা অ্যাজমা যে কারও হতে পারে। তবে কিছু মানুষের ঝুঁকি বেশি থাকে। পরিবারের অন্য সদস্যদের বিশেষ করে মা-বাবা বা ভাই-বোনের অ্যাজমা থাকলে ঝুঁকি বেশি হয়। যাঁদের অন্যান্য অ্যালার্জিজনিত রোগ আছে, যেমন একজিমা বা অ্যালার্জিক রাইনাইটিস। যাঁরা বেশি বায়ুদূষণ, ধুলা বা ধোঁয়ার সংস্পর্শে থাকেন। শৈশবের শুরুর কিছু ঘটনা ফুসফুসের বিকাশকে প্রভাবিত করে ও অ্যাজমার ঝুঁকি বাড়ায়। যেমন কম ওজন নিয়ে জন্ম, সময়ের আগে জন্ম, তামাকের ধোঁয়া ও অন্যান্য বায়ুদূষণের সংস্পর্শ এবং ভাইরাসজনিত শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ। পরিবেশে উপস্থিত বিভিন্ন অ্যালার্জেন ও জ্বালাময় উপাদান অ্যাজমার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ঘরের ভেতর ও বাইরের বায়ুদূষণ, গৃহস্থালির ধূলিকণা, ছত্রাক ...

হান্টা ভাইরাস কী, কীভাবে ছড়ায়

  হান্টা ভাইরাস কী হান্টা ভাইরাস মূলত একটি জুনোটিক বা প্রাণীবাহিত ভাইরাস, যা সাধারণত ইঁদুর বা এ–জাতীয় বন্য প্রাণীর মাধ্যমে মানুষের দেহে সংক্রমিত হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, এটি কোনো একক ভাইরাস নয়, বরং একগুচ্ছ ভাইরাস, যা বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নামে পরিচিত। ইতিহাস হান্টা ভাইরাসের নামকরণ হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার হান্টান নদীর নামানুসারে। ১৯৫০-এর দশকে কোরিয়ান যুদ্ধের সময় প্রথম এই ভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণ দেখা দেয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এ ভাইরাসের একটি নতুন রূপ ‘হান্টা ভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোম’ (এইচপিএস) শনাক্ত হয়, যা ফুসফুসকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। কীভাবে ছড়ায় এটি মূলত ইঁদুরের লালা, মূত্র বা মল থেকে ছড়ায়। যখন ইঁদুরের বর্জ্য শুকিয়ে ধুলার সঙ্গে বাতাসে মিশে যায়, তখন শ্বাসের মাধ্যমে সেই দূষিত বাতাস মানুষের ফুসফুসে প্রবেশ করলে সংক্রমণ ঘটে। এ ছাড়া আক্রান্ত ইঁদুরের কামড় বা দূষিত কোনো খাবার খেলেও এই রোগ হতে পারে। বিরল ক্ষেত্রে ‘অ্যান্ডিস ভাইরাস’ নামের হান্টা ভাইরাসের একটি ধরন মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে। লক্ষণ ও সমস্যা হান্টা ভাইরাসের প্রধান দুটি রূপ হলো— ১. এ...

যৌন বিকৃতি থেকে সুরক্ষায় বাবা-মায়ের করণীয় কি?

  রামিশা হত্যাকান্ডে বিকৃত যৌনাচারের মনোবৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা এবং যৌনাচার থেকে শিশুদের সুরক্ষায় বাবা-মায়ের করণীয়? বাংলাদেশে সম্প্রতি রামিশা নামে ৮ বছরের একটি নিষ্পাপ শিশুকে একটা পাষন্ড পুরুষ বিকৃত যৌনাচারের জন্য খুন করে দেহ থেকে মাথা আলাদা করে। ঐ পুরুষের নিজ স্ত্রী ও তাকে এ কাজে সহায়তা করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটা বাংলাদেশে খুব আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং অভিভাবকদের দুশ্চিন্তায় ফেলে দেয়। আসলে এ ধরনের ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এমন অনেক ঘটনা আমাদের দেশে ঘটেছে। রামিশার ওপর ঘটে যাওয়া এই নৃশংস ও অবর্ণনীয় ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক এবং পুরো সমাজের জন্য একটি চরম সতর্কবার্তা। একটি শিশুর সঙ্গে এমন নির্মম বিকৃত আচরণ এবং হত্যাকাণ্ড মানুষের বিবেককে গভীরভাবে নাড়া দেয়। বিশেষ করে যখন দেখা যায় কোনো অপরাধীর আপন স্ত্রীও এই ধরনের পাশবিক কাজে সহায়তা করছে, তখন বিষয়টি আরও বেশি ভাবিয়ে তোলে। ​এই ধরনের জঘন্য অপরাধের পেছনে অপরাধীদের মনস্তত্ত্ব এবং কারণগুলো মনোবৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশদভাবে বিশ্লেষণ করা হলো: ​১. পেডোফিলিয়া এবং স্যাডিজম (Pedophilia and Sadism) ​মনোবিজ্ঞানে শিশুদের প্রতি এই ধরনের যৌন আকর্ষণ এবং বিকৃত আচর...

মশাবাহিত রোগ জাপানিজ এনসেফালাইটিস

  জাপানিজ এনসেফালাইটিস একটি মারাত্মক ভাইরাস সংক্রমণ, যা সরাসরি মানুষের মস্তিষ্ককে আক্রমণ করে। এটি মূলত ‘ফ্লাভিভাইরাস’ গোত্রের একটি ভাইরাস। অনেকেই প্রশ্ন করেন, এটি কি বাংলাদেশে হতে পারে? উত্তর—হ্যাঁ। বাংলাদেশে, বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে এই রোগের প্রকোপ মাঝেমধ্যেই দেখা যায়। মূলত গ্রামীণ বা আধা শহর এলাকায়, যেখানে ধানখেত এবং জলাশয় বেশি, সেখানে এই ভাইরাসের বিস্তার ঘটে। পরিসংখ্যান বাংলাদেশে এটি প্রথম শনাক্ত হয় ১৯৭৭ সালে, ময়মনসিংহ অঞ্চলে। তখন অনেক মানুষ আক্রান্ত হলেও সঠিকভাবে কতজন আক্রান্ত, কতজন সুস্থ এবং কতজনের মৃত্যু হয়েছে, তা জানা যায়নি। ২০০৩–২০০৫ সালে বাংলাদেশের ৪টি হাসপাতালে পরিচালিত এক গবেষণায় ৪৯২ জন এনসেফালাইটিস রোগীর মধ্যে ২০ জনের জাপানিজ এনসেফালাইটিস নিশ্চিত হয় এবং তাঁদের মধ্যে দুজন মারা যান। ২০০৭–২০১৬ সালের বড় হাসপাতালভিত্তিক নজরদারিতে ৬ হাজার ৫২৫ জন মেনিনজাইটিস/এনসেফালাইটিস রোগীর মধ্যে ৫৪৮ জনের জাপানিজ এনসেফালাইটিস শনাক্ত হয়। এই গবেষণায় মৃত্যুর মোট সংখ্যা আলাদা করে উল্লেখ করা হয়নি। সাম্প্রতিক ২০২৬ সালে ‘ল্যানসেট ইনফেকশান ডিজিজ’ অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর ১ লাখ...

"একটি ধূলিকণা বা শস্যদানা বানিয়ে দেখাও"

  প্রচলিত মতে বলা হয় - প্রাণীর ছবি বানানোই হলো আল্লাহর সৃষ্টির অনুকরণ, তাই এটি হারাম। কিন্তু__ ১) ছবি বানানো এবং কোনো কিছু 'সৃষ্টি করা' এক বিষয় নয়। সৃষ্টির ফলে একটি বাস্তব বীজ, গাছ বা প্রাণী অস্তিত্ব লাভ করে। অন্যদিকে, ছবির মাধ্যমে কাগজ বা ক্যানভাসে কেবল একটি ছাপ বা নকশা ফুটে ওঠে; যেমনটা আয়নায় বা স্থির পানিতে কোনো কিছুর প্রতিফলন দেখা যায়। পানির প্রতিফলনকে যেমন কেউ 'সৃষ্টি' বলে না, তেমনি কোনো কিছুর ছবিকেও সেই বস্তুর 'সৃষ্টি' বলা যায় না। ২) কোনো চিত্রশিল্পী বা ফটোগ্রাফার কখনোই দাবি করেন না যে তিনি আল্লাহর মতো কোনো কিছু সৃষ্টি করছেন। তিনি কেবল একটি আকৃতি ফুটিয়ে তোলেন। যদি দাবি করতেই হয়, তবে তাকে একটি জ্যান্ত সিংহ বা বাস্তব বস্তু তৈরি করে দেখাতে হবে। যেহেতু কোনো মানুষই কোনো কিছু শূন্য থেকে বাস্তব অস্তিত্বে আনার কথা চিন্তাও করতে পারে না, তাই ছবি বানানোকে কোনো অর্থেই আল্লাহর সৃষ্টির সাথে তুলনা করা যায় না। ৩)হাদিসে বলা হয়েছে -"একটি ধূলিকণা বা শস্যদানা বানিয়ে দেখাও"। লক্ষণীয় যে, আল্লাহ এখানে ধূলিকণার 'ছবি' আঁকার চ্যালেঞ্জ দেননি, বরং 'বাস্তব ধূলি...

জীবনে একবার ‘সালাতুত তাসবিহ’ কি পড়তেই হবে

  নফল নামাজগুলোর মধ্যে ‘সালাতুত তাসবিহ’ একটি অনন্য ও ফজিলতপূর্ণ ইবাদত। এই নামাজ গুনাহ ক্ষমা ও আত্মশুদ্ধির জন্য বিশেষভাবে প্রসিদ্ধ। বেশ কিছু হাদিসে এই নফল নামাজের ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। এখানে কয়েকটি হাদিস উল্লেখ করা হলো। তিনটি হাদিস এক.  আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর বরাতে হাদিসে আছে, একদিন নবীজি (সা.) আমার পিতা আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব (রা.)-কে বললেন, ‘চাচাজান, আমি কি আপনাকে উত্তম তাসবিহ শিক্ষা দেব না, যখন আপনি তা সম্পাদন করবেন, আল্লাহ আপনার পূর্বাপর, নতুন-পুরাতন, ইচ্ছা-অনিচ্ছায় ছোট-বড় সকল প্রকার পাপ ক্ষমা করবেন। তা হলো, চার রাকাত নামাজ। প্রতি রাকাতে সুরা ফাতিহা এবং পরে একটি সুরা পড়বেন। প্রথম রাকাতে কিরাত পড়া হলে দাঁড়ানো অবস্থায় পনেরো বার বলবেন, “সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার”। তারপর রুকু করবেন এবং রুকু অবস্থায় পড়বেন দশবার। রুকু হতে সোজা হয়ে দাঁড়াবেন এবং এ অবস্থায় তাসবিহ পড়বেন দশবার। তারপর সিজদায় নত হবেন এবং দশবার তাসবিহ পড়বেন। তারপর সিজদা থেকে মাথা তুলে (দুই সিজদার মধ্যবর্তী সময়ে) তাসবিহ দশবার পড়বেন। তারপর আবার সিজদায় যাবেন এবং সে ...

ইনসুলিন ব্যবহারকারীরা হজে গিয়ে যা মনে রাখবেন

  প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক ডায়াবেটিক রোগী পবিত্র হজ পালন করেন। তাঁদের অনেকেই টাইপ-১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। তাঁরা সরাসরি ইনসুলিনের ওপর নির্ভরশীল। টাইপ-২ ডায়াবেটিক রোগীদের অনেকেও ইনসুলিন নেন। হজের সময় ভিনদেশের তপ্ত আবহাওয়া এবং বদলে যাওয়া জীবনপদ্ধতির কারণে ইনসুলিন ব্যবহারকারীদের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়।  হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকি হজের সময় অনেক হাঁটতে হয়। এ ছাড়া পরিবেশে তাপমাত্রা বেড়ে গেলে ইনসুলিন দ্রুত রক্তে মিশে যায়। এতে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। অর্থাৎ রক্তে গ্লুকোজ কমে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। গ্লুকোজ বৃদ্ধিজনিত জটিলতা উষ্ণ আবহাওয়ায় শরীরে ইনসুলিন সঞ্চিত থাকে কম। ফলে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। এ ছাড়া হাজিদের অনেকে এ সময় খেজুরসহ নানা মিষ্টিজাতীয় ফল খান। নানাবিধ কারণে ডায়াবেটিকের রোগীরা সময়মতো ইনসুলিন গ্রহণ করেন না। ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে অনেকে ইনসুলিন নেওয়া ছেড়ে দেন। ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধিজনিত জটিলতা দেখা দিতে পারে। ইনসুলিন সংরক্ষণ ● ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ইনসুলিন সংরক্ষণ করতে হবে। ● হোটেলের ফ্রিজ হতে পারে ইনসুলিন সংরক্ষণের ...

খাওয়ার আগে ও পরের দোয়া

  ইসলামে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ও আধ্যাত্মিকতার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। খাওয়া-দাওয়ার মতো দৈনন্দিন কাজও এর ব্যতিক্রম নয়। ইসলামে খাওয়ার আগে ও পরে দোয়া পড়ার বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে, যা মুসলিমদের জন্য শুধু শিষ্টাচারই নয়, বরং আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও আধ্যাত্মিক সংযোগের একটি মাধ্যম। মুসলিম পরিবারে শিশুদের ছোটবেলা থেকেই এই দোয়া ও শিষ্টাচার শেখানো হয়, যাতে এটি তাদের জীবনের অংশ হয়ে যায় এবং প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরও এই অভ্যাস অটুট থাকে। যারা খাওয়ার আগে আল্লাহর নাম নিতে ভুলে যায়, তাদের খাবারে শয়তান শরিক হতে পারে। খাওয়ার আগে ‘বিসমিল্লাহ’ বলা শয়তানের হস্তক্ষেপ থেকে রক্ষা করে এবং খাবারকে বরকতময় করে। দোয়ার তাৎপর্য খাওয়ার আগে ও পরে দোয়া পড়া মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর একটি সুন্নাহ। এই দোয়া পড়ার পেছনে গভীর আধ্যাত্মিক ও ব্যবহারিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, এটি আল্লাহ তাআলার দেওয়া রিজিকের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি মাধ্যম। খাদ্য ও পানীয় আল্লাহর নেয়ামত, এবং দোয়ার মাধ্যমে মুসলিমরা এই নেয়ামতের প্রতি শুকরিয়া আদায় করে। দ্বিতীয়ত, ইমাম মুসলিম বর্ণিত একটি হাদিসে বলা হয়েছে,...

বন্ধ্যত্বের কারণ না পাওয়া গেলে কী করতে হবে

  সন্তানধারণের পরিকল্পনার পর কোনো কোনো দম্পতি অল্প সময়ের চেষ্টাতেই সফল হন। কারও আবার দীর্ঘ সময় লাগে। যাঁরা এক বছর জন্ম নিয়ন্ত্রণপদ্ধতির ব্যবহার ছাড়া চেষ্টা করেও সন্তানধারণে ব্যর্থ হন, তাঁদের ক্ষেত্রে এর কারণ নির্ণয়ের জন্য কিছু পরীক্ষা–নিরীক্ষার প্রয়োজন হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে বন্ধ্যত্বের কারণ নির্ধারণ করতে পারেন। সে অনুযায়ী দম্পতিদের চিকিৎসা দেন তাঁরা। প্রাকৃতিকভাবে গর্ভধারণের জন্য ন্যূনতম কয়েকটি শর্ত পূরণ করা জরুরি। সেগুলো জেনে রাখা উচিত। স্ত্রীর ডিম্বাণু তৈরি ও নিঃসরণ ঠিকঠাক হতে হবে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বলে ওভুলেশন। দুটি ফেলোপিয়ান টিউবের অন্তত একটি খোলা থাকতে হবে। এই টিউব দিয়েই ডিম্বাণু, শুক্রাণু ও ভ্রূণ চলাচল করে এবং জরায়ুতে এসে ভ্রূণ প্রতিস্থাপিত হয়। জরায়ুর ধারণ করার ক্ষমতা থাকতে হবে। জরায়ুর একেবারে ভেতরের আস্তরণ (এন্ডোমেট্রিয়াম) যেন ভ্রূণ প্রতিস্থাপনের জন্য উপযুক্ত থাকে। স্বামীর শুক্রাণু স্বাভাবিক মাত্রায় থাকতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশনা অনুসারে ‘সিমেন অ্যানালাইসিস’ (শুক্রাণু বিশ্লেষণ) করে এ রিপোর্ট করা হয়। স্বামীর সহবাসে...

কিডনি বিকল হওয়ার অন্যতম কারণ লুপাস

  বিশ্বজুড়ে কিডনি বিকল হওয়ার অন্যতম কারণ লুপাস বা এসএলই। লুপাসে আক্রান্ত রোগীদের ৫০ শতাংশ জীবনে কখনো না কখনো কিডনিজনিত জটিলতায় আক্রান্ত হন। তাঁদের মধ্যে ৩০ শতাংশের কিডনি বিকল হয়ে ডায়ালাইসিস পর্যন্ত যেতে হয়। লুপাস থেকে যখন কিডনিতে প্রদাহ হয়, তখন একে লুপাস নেফ্রাইটিস বলে। আজ ১০ মে বিশ্ব লুপাস দিবস। লুপাস একধরনের অটোইমিউন রোগ, অর্থাৎ এতে শরীরের রোগ প্রতিরোধী কোষগুলো নিজেরই শরীরের বিভিন্ন কোষ ও কলাকে ভুলে আক্রমণ করে বসে এবং ক্ষতি করতে থাকে। মাথার চুল থেকে পায়ের পাতা অবধি যেকোনো কোষ বা কলা এর দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। এ রোগে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় অল্পবয়সী মেয়েরা। তবে যেকোনো বয়সী মানুষ আর ছেলেদেরও এ রোগ হতে পারে। কীভাবে বুঝবেন লুপাসের রোগীদের কিডনি আক্রান্ত হওয়ার শুরুতে তেমন লক্ষণ না–ও থাকতে পারে। এটি তাঁদের নিয়মিত পরীক্ষায় ধরা পড়ে। লুপাসে আক্রান্ত ব্যক্তির প্রস্রাবে ফেনা যাওয়া, প্রস্রাবের রং পরিবর্তন, মুখ – চোখ ফুলে যাওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি দেখা দিলে দ্রুত কিডনির পরীক্ষা করতে হবে। লুপাসে আক্রান্ত ৫০% রোগী জীবনে কখনো না কখনো কিডনিজনিত জটিলতায়...