প্রচলিত মতে বলা হয় - প্রাণীর ছবি বানানোই হলো আল্লাহর সৃষ্টির অনুকরণ, তাই এটি হারাম। কিন্তু__
১) ছবি বানানো এবং কোনো কিছু 'সৃষ্টি করা' এক বিষয় নয়। সৃষ্টির ফলে একটি বাস্তব বীজ, গাছ বা প্রাণী অস্তিত্ব লাভ করে। অন্যদিকে, ছবির মাধ্যমে কাগজ বা ক্যানভাসে কেবল একটি ছাপ বা নকশা ফুটে ওঠে; যেমনটা আয়নায় বা স্থির পানিতে কোনো কিছুর প্রতিফলন দেখা যায়। পানির প্রতিফলনকে যেমন কেউ 'সৃষ্টি' বলে না, তেমনি কোনো কিছুর ছবিকেও সেই বস্তুর 'সৃষ্টি' বলা যায় না। ২) কোনো চিত্রশিল্পী বা ফটোগ্রাফার কখনোই দাবি করেন না যে তিনি আল্লাহর মতো কোনো কিছু সৃষ্টি করছেন। তিনি কেবল একটি আকৃতি ফুটিয়ে তোলেন। যদি দাবি করতেই হয়, তবে তাকে একটি জ্যান্ত সিংহ বা বাস্তব বস্তু তৈরি করে দেখাতে হবে। যেহেতু কোনো মানুষই কোনো কিছু শূন্য থেকে বাস্তব অস্তিত্বে আনার কথা চিন্তাও করতে পারে না, তাই ছবি বানানোকে কোনো অর্থেই আল্লাহর সৃষ্টির সাথে তুলনা করা যায় না। ৩)হাদিসে বলা হয়েছে -"একটি ধূলিকণা বা শস্যদানা বানিয়ে দেখাও"। লক্ষণীয় যে, আল্লাহ এখানে ধূলিকণার 'ছবি' আঁকার চ্যালেঞ্জ দেননি, বরং 'বাস্তব ধূলিকণা' তৈরির চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন। যদি ছবি আঁকাই অপরাধ হতো, তবে আল্লাহ বলতেন যে তোমরা ছবি আঁকতে পারো, কিন্তু তা করবে না। কিন্তু আল্লাহ এখানে এমন জিনিসের কথা বলেছেন যা মানুষ কখনোই করতে পারবে না। ৪) প্রচলিত মতে বলা হয় প্রাণীর ছবি হারাম কারণ প্রাণ দেওয়া আল্লাহর কাজ। কিন্তু, প্রাণহীন একটি ধূলিকণা বা শস্যদানা তৈরি করাও কেবল আল্লাহরই কাজ। মানুষ যেমন প্রাণ দিতে পারে না, তেমনি একটি বাস্তব মাটি বা পাথরের কণাও সৃষ্টি করতে পারে না। সুতরাং সৃষ্টির সাদৃশ্য যদি ছবি আঁকার মাধ্যমে হয়ে থাকে, তবে গাছপালা বা পাথরের ছবি আঁকাও সমানভাবে হারাম হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রচলিত মতে তা জায়েজ বলা হয়, যা একটি স্ববিরোধিতা। ৫) অনেকে বলেন প্রাণীর সৃষ্টি বড় কাজ, তাই তার ছবি হারাম। অথচ কুরআন বলছে: "আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি মানুষের সৃষ্টির চেয়েও বড় কাজ"। মানুষ সৃষ্টি অপেক্ষা আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি অবশ্যই বড় বিষয়, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না। [সূরা গাফির, ৫৭] যদি বড় সৃষ্টির অনুকরণ করা অপরাধ হতো, তবে আকাশ ও পৃথিবীর ছবি তোলা বা আঁকা মানুষের ছবির চেয়েও বড় অপরাধ হওয়ার কথা ছিল। অথচ সবাই আকাশ-পৃথিবীর ছবিকে জায়েজ মনে করেন। ৬) কেউ কেউ যুক্তি দেন যে 'আল-মুসাব্বির' (রূপদানকারী) আল্লাহর গুণ, তাই মানুষ ছবি আঁকলে তাতে অংশীদারিত্ব হয়। আমরা বলবো- যদি ছবি আঁকলে আল্লাহর গুণে অংশীদারিত্ব হয়, তবে বিচার করলে আল্লাহর 'আল-মুকসিত' (ন্যায়বিচারক) গুণে, ক্ষমা করলে 'আল-গাফুর' গুণে এবং দয়া করলে 'আর-রাহিম' গুণের অংশীদার হওয়ার কথা। কিন্তু মানুষ যখন দয়া বা বিচার করে, তখন তাকে আল্লাহর গুণের সমকক্ষ মনে করা হয় না। তাহলে ছবি আঁকার ক্ষেত্রে কেন এই ভিন্ন চিন্তা? আসলে হাদিসে যে 'ছবি নির্মাতাদের' অভিশাপ দেওয়া হয়েছে, তার উদ্দেশ্য সাধারণ ছবি আঁকা নয়, বরং এর পেছনে অন্য কোনো গভীর প্রেক্ষাপট (যেমন মূর্তিপূজা বা শিরক) রয়েছে।
প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...
Comments
Post a Comment