Skip to main content

Posts

Showing posts from October, 2021

ইসলামের সৌন্দর্য

  চার-পাঁচজন বন্ধু এক জায়গায় বসে আড্ডা দিচ্ছে। আড্ডাটা জমে উঠেছে। এক কাপ চা শেষ করে আরেক কাপ চা অর্ডার করবে সবাই। ঠিক তখন ঘটলো এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। এক বন্ধু ঠুস করে ‘শব্দ দূষণ’ করলো! সবাই তার দিকে তাকিয়ে সে কী হাসাহাসি! একজন আরেকজনের গায়ে গিয়ে পড়ছে! তাকে নিয়ে ঠাট্টা-মশকরা করতে করতে একজন আরেকজনকে হাই-ফাইভ দিচ্ছে। যে শব্দ দূষণ করেছে, তার খুব খারাপ লাগছে। মুহুর্তের মধ্যে সে হাসিরপাত্রে পরিণত হলো। শব্দ দূষণকারী বন্ধুটির মানসিক অবস্থার কথা চিন্তা করুন। চিন্তা করুন সে কতোটা অস্বস্তিবোধ করছে। তার জায়গায় আমি-আপনি হলে আমাদের কেমন লাগতো? জৈবিক একটা কাজ, স্বাভাবিক একটা কাজের জন্য যখন জনসম্মুখে হাসির খোরাক হবো, সেটা নিশ্চয়ই ভালো লাগবে না। ইসলাম এই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয়টার দিকেও নজর রেখেছে। ইসলাম আমাদেরকে জনসম্মুখে লজ্জিত হবার হাত থেকে রক্ষা করতে চায়। ইসলাম চায় না আমরা সবার সামনে হাসিরপাত্রে পরিণত হই। কেউ বায়ু নির্গমন করলে তাকে নিয়ে হাসতে নবিজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিষেধ করেছেন। [সহীহ বুখারী: ৬০৪২] যে কাজটি আমরা সচরাচর করি, সেই কাজ কেউ করলে তাকে নিয়ে ঠাট্টা করতে নবিজী (সাল্লাল্লা...

হাদীস শরীফ বাংলা মর্মবাণী

হাদীস শরীফ বাংলা মর্মবাণী- by Shahid El Bukhari  for free download click below link  https://publication.quantummethod.org.bd/detail/84ff07b4-9c86-11eb-bba2-c59f67db44b8

হাদিস

  আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর যুগে একবার মদীনাবাসী অনাবৃষ্টির কারণে দুর্ভিক্ষে নিপতিত হল। এ সময় কোন এক জুমু’আর দিনে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খুতবা দিয়েছিলেন, তখন এক লোক উঠে দাঁড়াল এবং বলল, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! ঘোড়াগুলো নষ্ট হয়ে গেল, বকরীগুলো ধ্বংস হয়ে গেল। আল্লাহ্‌র দরবারে বৃষ্টির জন্য দু’আ করুন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তৎক্ষণাৎ দু’হাত উঠিয়ে দু’আ করলেন। আনাস (রাঃ) বলেন, তখন আকাশ কাঁচের মত নির্মল ছিল। হঠাৎ মেঘ সৃষ্টিকারী বাতাস শুরু হল এবং মেঘ ঘনীভূত হয়ে গেল। অতঃপর শুরু হল প্রবল বৃষ্টিপাত যেন আকাশ তার দরজা খুলে দিল। আমরা পানি ভেঙ্গে বাড়ী পৌঁছলাম। পরবর্তী শুক্রবার পর্যন্ত অনবরত বৃষ্টিপাত হল। ঐ শুক্রবারে জুমু’আর সময় ঐ ব্যক্তি বা অন্য কেউ দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! গৃহগুলো ধ্বংস হয়ে গেল। বৃষ্টি বন্ধের জন্য আল্লাহ্‌র দরবারে দু’আ করুন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুচকি হাসলেন এবং বললেন, আমাদের আশে পাশে বৃষ্টি হোক। আমাদের উপর নয়। [আনাস (রাঃ) বলেন,] তখন আমি দেখলা...

সঠিক বয়সে বিয়ে করলে কি উপকার

সঠিক   বয়সে বিয়ে করলে কি উপকার আপনি কি জানতে চান।।👇👇 এই সমাজ তোমাকে ভালকিছু দিতে চায়না বরং তোমাকে পাপের সাগরে ডুবাতে চায় এইভাবে শেষ হয়ে যাচ্ছে আমাদের চরিত্র পারছিনা যৌবন কে পবিত্র রাখতে কারণ হচ্ছে যৌবন এক ধরণের ক্ষুদা। ক্ষুদা লাগলে যেমন খাবারের দরকার হয় ঠিক তেমন যৌবনের ক্ষুদা লাগলে বউ দরকার হয়। কিন্তু সমাজ বলছে আগে প্রতিষ্ঠিত হও। তারপর বিয়ের পিড়িতে বসো। অতচ এই আয়াতে আল্লাহ বলেন : وَأَنكِحُوا الْأَيَامَى مِنكُمْ وَالصَّالِحِينَ مِنْ عِبَادِكُمْ وَإِمَائِكُمْ إِن يَكُونُوا فُقَرَاء يُغْنِهِمُ اللَّهُ مِن فَضْلِهِ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ বিয়ে করো,তোমায় প্রতিষ্ঠিত করার দায়িত্ব আমি আল্লাহর......!!!!!!অভাবে আছো অভাব দূর করে দেব। আল্লাহ বলেন ধনী হতে চাও বিয়ে করো। আবার রাসুল (সা.) বলেছেন, ثَلَاثَةٌ حَقٌّ عَلَى اللَّهِ عَوْنُهُمْ: المُجَاهِدُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، وَالمُكَاتَبُ الَّذِي يُرِيدُ الأَدَاءَ، وَالنَّاكِحُ الَّذِي يُرِيدُ العَفَافَ তিন ব্যক্তিকে সাহায্য করা আল্লাহ তায়ালার জন্য কর্তব্য হয়ে যায়। ১। আল্লাহ তায়ালার রাস্তায় জিহাদকারী, ২। চুক্তিবদ্ধ গোলাম যে তার মনিবকে চুক্তি অন...

একটু ভাবতে শিখি

  আসুন একটু ভাবতে শিখি বিয়েতে খেতে বসেছি। খাবার সামনে আসতেই মনে পড়লো গিফট এনেছি ১০০০/-, রিকশা ভাড়া দিয়েছি ৬০/-। সবমিলিয়ে এই বিয়েতে খরচ করেছি ১০৬০/-। সুতরাং এই খরচ খাওয়ার টেবিলেই তুলতে হবে। এহেন চিন্তা থেকেই ২০দিনের অভুক্তের মতো সব আইটেম প্লেটে নিলাম। খাওয়া শেষে দেখলাম প্লেটের ৬০ ভাগ খাবারই খেতে পারি নাই। এরপরেও আমার কোন আফসোস নাই, কারণ খরচের পয়সা তো উসুল করতে পেরেছি! এমনটা ভেবে হাসিমুখে বিজয়ীর বেশে যখন খাবার টেবিল ছেড়ে আসছি, তখন পেছনে অপচয় করে আসছি একজন পিতার বহু বছরের শ্রমে তিল তিল করে জমানো টাকায় মেয়ের বিয়ে উপলক্ষে আয়োজন করা খাবার। এখানে যখন আমি বিজয়ীর হাসি হাসছি, তখন হয়তো সেই পিতা হিসাব কষছেন, দুঃশ্চিন্তা করছেন এই খাবার আয়োজন করতে গিয়ে হওয়া দেনা নিয়ে। যে মূহুর্তে আমি অপচয় করে সগৌরবে অট্টহাসি দিচ্ছি, সে মূহুর্তেই হয়তো বিশ্বের নানান প্রান্তে খাবারের অভাবে বুকফাটা আর্তনাদ করছে আমারই মতো রক্তমাংসের কোন অসহায় মানুষ। অতএব, প্লিজ..... সামর্থ্য থাকলে গিফট দিবেন, না থাকলে দিবেন না। কিন্তু গিফটের পয়সা উসুলের অজুহাতে বিয়ে বাড়িতে খাবার অপচয় করবেন না এটাই অনুরোধ.... *****************...

আয়াতুল কুরসি

  আয়াতুল কুরসির মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব এবং আয়াতুল কুরসি পাঠের বিশেষ সময়গুলো... . 🍀 আয়াতুল কুরসির সুমহান মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব: . উবাই ইবনু কা‘ব (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘হে আবুল মুনযির (উবাইয়ের ডাকনাম)! তুমি কি বলতে পারো, তোমার জানামতে আল্লাহর কিতাবের কোন্ আয়াতটি সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ?’’ আমি বললাম, ‘আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলই ভাল জানেন।’ (এরপর) তিনি (আবারও) বললেন, ‘‘হে আবুল মুনযির! তুমি বলতে পারো কি, তোমার জানামতে আল্লাহর কিতাবের কোন্ আয়াতটি সর্বশ্রষ্ঠ?’’ এবার আমি বললাম, ‘আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়ূম (আয়াতুল কুরসি—২৫৫ নং আয়াত)।’ উবাই বলেন, এরপর তিনি আমার বুকে (মৃদু) আঘাত করে বললেন, ‘‘হে আবুল মুনযির! ইলম তোমাকে উপকৃত করুক।’’ [মুসলিম, আস-সহিহ: ৮১০] . অন্য বর্ণনায় হাদিসটির বাকি অংশে আরও বলা হয়েছে, ‘‘সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! এর (আয়াতুল কুরসির) জিহ্বা হবে, ঠোঁট হবে এবং এটি আরশের পাদদেশে মালিকের পবিত্রতা বর্ণনা করবে।’’ [আহমাদ, আল-মুসনাদ: ৫/১৪; আবু দাউদ ত্বয়ালিসি, আল-মুসনাদ: ১/২৪; আলবানি, সিলসিলা সহিহাহ: ৩৪১০; হাদিসট...

একজন বাবা

  একজন স্ত্রী ১৭ বৎসর ঘর-সংসার করার পর স্বামীর সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, "পুরুষগণ আল্লাহ প্রদত্ত এক অশেষ নেয়ামত"। কেননা, তারা স্বীয় যৌবনকে নিজ স্ত্রী-সন্তানদের জন্য কুরবান করে দেয়। তাদের উপর ভর করেই আমরা জীবনের সুখ-শান্তি ও অপার সৌন্দর্য উপভোগ করে থাকি। পুরুষ জাতি তো এমন এক স্বত্বা, যারা স্বীয় সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎের জন্য সর্বাত্মক পরিশ্রম করে থাকেন। কিন্তু এমন কঠোর পরিশ্রম আর কুরবানী সত্যেও আমরা তাদের জীবনকে বিষিয়ে তুলি একরাশ হতাশা আর দুঃখ-কষ্ট দিয়ে। যদি ঘরে বসে থাকে তাহলে বলি, অলস ও অকর্মণ্য! যদি সন্তানদের ভুলের জন্য শাসন করে তাহলে বলি, নির্দয় ও হিংস্র! যদি স্ত্রীকে চাকরী করা থেকে বারণ করে তাহলে বলি, সেকেলে বা অনাধুনিক! যদি মায়ের সাথে সুসম্পর্ক রাখে তাহলে বলি, 'মা পাগল' যদি স্ত্রীর সাথে প্রেমময় আচরণ করে তাহলে বলি, বৌ পাগল! এতদসত্যেও একজন পুরুষ পৃথিবীর এমন বীর, যে তার সন্তানদেরকে সর্বক্ষেত্রে নিজের চেয়েও সুখি দেখতে চায়। একজন পিতা এমন এক রোবট, যিনি তার ...

হাদিস

নু’আয়ম মুজমির (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমি আবূ হুরায়রা (রাঃ)-এর সঙ্গে মসজিদের ছাদে উঠলাম। অতঃপর তিনি উযূ করে বললেনঃ ‘আমি আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের দিন আমার উম্মাতকে এমন অবস্থায় আহ্বান করা হবে যে, উযূর প্রভাবে তাদের হাত-পা ও মুখমণ্ডল উজ্জ্বল থাকবে। তাই তোমাদের মধ্যে যে এ উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে নিতে পারে, সে যেন তা করে।’ (মুসলিম ২/১২, হাঃ ২৪৬, আহমাদ ৯২০৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৩, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৩৮) সহিহ বুখারী, হাদিস নং ১৩৬ হাদিসের মান: সহিহ হাদিস ****************************** ইব্‌নু ‘উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ গায়েবের চাবি হল পাঁচটি, যা আল্লাহ্‌ ছাড়া কেউ জানে না। (১) কেউ জানে না যে, আগামীকাল কী ঘটবে। (২) কেউ জানে না যে, আগামীকাল সে কী অর্জন করবে। (৩) কেউ জানে না যে, মায়ের গর্ভে কী আছে। (৪) কেউ জানে না যে, সে কোথায় মারা যাবে। (৫) কেউ জানে না যে, কখন বৃষ্টি হবে। সহিহ বুখারী, হাদিস নং ১০৩৯ হাদিসের মান: সহিহ হাদিস ****************************************** আবূ হুরায়রা ও হুযায়ফ...

রিজিক নিয়ে কথা

  রিজিক নিয়ে এতো সুন্দর কথা আগে হয়তো কখনো পড়েন নি— রিজিক : রিজিকের সর্বনিম্ন স্তর : ‘টাকা, সম্পদ।’ সর্বোচ্চ স্তর : ‘শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা।’ সর্বোত্তম স্তর : “পুণ্যবান স্ত্রী ও পরিশুদ্ধ নেক সন্তান।” পরিপূর্ণ স্তর : ‘মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি।’ রিজিক খুব গভীর একটি বিষয় যদি আমরা বুঝতে পারি। আমি পুরো জীবনে কত টাকা আয় করবো সেটা লিখিত, কে আমার জীবনসঙ্গী হবে সেটা লিখিত, কবে কোথায় মারা যাবো সেটাও লিখিত। আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে, আমি কতগুলো দানা ভাত দুনিয়াতে খেয়ে তারপর মারা যাবো সেটা লিখিত। একটি দানাও কম না, একটিও বেশি না। ধরেন এটা লিখিত যে আমি সারাজীবনে ১ কোটি টাকা আয় করবো, এই সিদ্ধান্ত আল্লাহ্‌ তায়ালা নিয়েছেন। আমি হালাল উপায়ে আয় করবো না হারাম উপায়ে আয় করবো সেই সিদ্ধান্ত আমার। যদি ধৈর্য ধারণ করি, আল্লাহ্‌ তায়ালার কাছে চাই, তাহলে হালাল উপায়ে ওই ১ কোটি আয় করেই আমি মারা যাবো, হারাম উপায়ে হলেও ওই ১ কোটিই... নাথিং মোর, নাথিং লেস! আমি যেই ফলটি আজকে দেশে বসে খাচ্ছি, সেটা হয়ত বিদেশ থেকে ইমপোর্ট করা। ওই গাছে যখন মুকুল হয়েছে তখনই এটা নির্ধারিত যে সেটি...

কোভিড ভ্যাক্সিন

  সারাদেশে গণহারে ভ্যাক্সিন দেয়া শুরু হয়েছে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন কমন প্রশ্নঃ * আমার ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, এলার্জি বা হাপানী আছে। ভ্যাক্সিন দিতে পারব? q #উত্তরঃ অবশ্যই পারবেন। এসব রোগ যাদের আছে, তারা সবার আগেই ভ্যাক্সিন নেয়া উচিত। কারণ এরা রিস্ক জোনে আছে। * আমার কোভিড পজিটিভ ছিল বা লক্ষ্মণ ছিল তবে পরীক্ষা করাইনি। ভ্যাক্সিন দিতে পারব? #উত্তরঃ অবশ্যই পারবেন তবে পজিটিভ হওয়া বা জ্বর কাশি লক্ষ্মণ দেখা দেয়ার ২৮ দিন পর। * গর্ভবতী মা এবং দুগ্ধ পান করাচ্ছেন এমন মায়েরা ভ্যাক্সিন নিতে পারবে? #উত্তরঃ বাচ্চা দুধ খায় এমন মা রা যেকোন সময় ভ্যাক্সিন নিতে পারবে। তবে গর্ভবতী মা রা গর্ভের ১৩ থেকে ৩৩ সপ্তাহের মধ্যে ভ্যাক্সিন নিতে পারবে যা সম্পূর্ণ নিরাপদ। * ভ্যাক্সিন দিলে নাকি হার্টের সমস্যা হচ্ছে বা অনেকে মারা যাচ্ছে? #উত্তরঃ সামান্য জ্বর বা ব্যথা দেখা দেয়া যেকোন ভ্যাক্সিনের কমন সাইড ইফেক্ট। মারা যাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। খুবই অল্প সংখ্যক রুগীর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট একটি ভ্যাক্সিন দেয়ার পর সামান্য হার্টের প্রদাহ দেখা দিয়েছিল, তবে দ্রুত সুস্থও হয়ে গিয়েছে। অতএব এসব অমুলক চিন্তা থেকে বিরত থাকাই...

মৃত্যু নিয়ে এতো সুন্দর লেখা....

  মৃত্যু নিয়ে এতো সুন্দর লেখা আগে পড়িনি একটু পড়েই দেখুন না। জাযাকাল্লাহ। পরলোকগত কুয়েতি লেখক আব্দুল্লাহ যারাল্লাহ র মৃত্যুর আগে লিখে যাওয়া কিছু অনুভূতি - "মৃত্যু নিয়ে আমি কোনো দুশ্চিন্তা করবো না, আমার মৃতদেহের কি হবে সেটা নিয়ে কোন অযথা আগ্রহ দেখাবো না। আমি জানি আমার মুসলিম ভাইয়েরা করণীয় সবকিছুই যথাযথভাবে করবে।" তারা প্রথমে আমার পরনের পোশাক খুলে আমাকে বিবস্ত্র করবে, আমাকে গোসল করাবে, (তারপর) আমাকে কাফন পড়াবে, আমাকে আমার বাসগৃহ থেকে বের করবে, আমাকে নিয়ে তারা আমার নতুন বাসগৃহের (কবর) দিকে রওনা হবে, আমাকে বিদায় জানাতে বহু মানুষের সমাগম হবে, অনেক মানুষ আমাকে দাফন দেবার জন্য তাদের প্রাত্যহিক কাজকর্ম কিংবা সভার সময়সূচী বাদ দিবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে অধিকাংশ মানুষ এর পরের দিনগুলোতে আমার এই উপদেশগুলো নিয়ে গভীর ভাবে চিন্তা করবে। আমার (ব্যক্তিগত) জিনিষের উপর আমি অধিকার হারাবো আমার চাবির গোছাগূলো, আমার বইপত্র, আমার ব্যাগ, আমার ‍জুতোগুলো। হয়তো আমার পরিবারের লোকেরা আমাকে উপকৃত করার জন্য আমার ব্যবহারের জিনিসপত্র দান করে দেবার বিষয়ে একমত হবে, এ বিষয়ে তোমরা নিশ্চিত...

মৌমাছি

  সুবহানাল্লাহ ,ওয়ালহামদুলিল্লাহ... এটা মৌমাছির ছবি, মাইক্রোস্কোপে জুম করে হাই রেজুলেশন ক্যামেরায় তোলা হয়েছে সম্ভবত। পবিত্র কোরআনে ‘নাহল’ নামে একটি সূরা অবতীর্ণ হয়েছে। এই সূরাটি পবিত্র কোরআনের ১৬তম সূরা। সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং এর আয়াত সংখ্যা ১২৮টি। এই সূরার ৬৮ আয়াতের থেকে এর নামকরণ করা হয়েছে। আমরা আগে জানতাম মৌমাছি মধু সংগ্রহ করে বিভিন্ন ফুল থেকে অতঃপর তা মৌচাকে মজুদ করে রাখে সরাসরি। আসলে তা নয়, বিজ্ঞান কিছুদিন আগে প্রমাণ করেছে মৌমাছির শরীর থেকে মধু বের হয়। অথচ পবিত্র কোরআন প্রায় সাড়ে ১৪ শ’ বছর আগেই বলে দিয়েছে মধু মৌমাছির শরীর থেকে বের হয়। পবিত্র কোরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে, وَأَوْحَى رَبُّكَ إِلَى النَّحْلِ أَنِ اتَّخِذِي مِنَ الْجِبَالِ بُيُوتًا وَمِنَ الشَّجَرِ وَمِمَّا يَعْرِشُونَ অর্থ: ‘আপনার পালনকর্তা মধু মক্ষিকাকে আদেশ দিলেন: পর্বতগাহ্রে, বৃক্ষ এবং উঁচু চালে গৃহ তৈরি কর। (সূরা: নাহল, আয়াত: ৬৮)। ثُمَّ كُلِي مِن كُلِّ الثَّمَرَاتِ فَاسْلُكِي سُبُلَ رَبِّكِ ذُلُلاً يَخْرُجُ مِن بُطُونِهَا شَرَابٌ مُّخْتَلِفٌ أَلْوَانُهُ فِيهِ شِفَاء لِلنَّاسِ إِنَّ فِي ذَلِكَ ...

ওর নাম পরী

  ওর নাম পরী। বয়স সাত-আট হবে। ঘরে অসুস্থ মা। তাই রাস্তায় রাস্তায় ফুল বিক্রি করে সংসার চালায়। তোমার নামটি পরী কেন? জানতে চাইলাম আমি। - ছোট কালে আমি দুধের লাহান সাদা আছিলাম। তাই মায় নামডা রাখছে। অহন রইদে রইদে ফুল বেইচা কালা হইয়া গেছি ছ্যার। বলেই হাসি দিল পরী। কচি মুখের হাসি এ যেন মেঘের কোলে রোদ। বাবা কোথায় প্রশ্ন করলাম? - হুনছি আমি গেদা কালে বাপে মইরা গেছে। পরীর চোঁখের কোণে পানি টলমল করছে; তা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠতে লাগল। তাই কথা ঘুরিয়ে বললাম, পরী, তুমি বড় হয়ে কি হতে চাও? পড়া-লেখা করছো তো? - ছ্যার, মায়ের অসুখ সাইরা গেলেই ইস্কুলে যামু। অহন যাইবার পারি না। মিনমিন করে উওর দিল পরী। আমি ইস্কুলে গেলে মায় না খাইয়া মইরা যাইব। পরী একটু থেমে আবার শুরু করল, - ছ্যার, আমি বই পইরা বড় হমু। আর মায়রে কাজ করবার দিমু না। মায়রে মরুগের গোস্ত কিনা খাওয়ামু। আমি যেন কোথায় হারিয়ে গেলাম! শুধু শুনেই যাচ্ছি ওর মিষ্টি কথার অন্তরালে বিষাদ ভরা জীবনের গল্প। - আমার মায়রে অনেক দিন হয় রোগে দরছে। মায় কইছিল মরুগের গোস্ত খাইব। টেকা হয় নাই। তয় ছ্যার ফুল বেইচা টেকা মায়রে দিলে ১ টেকা দেয় মাদানের খাইবার দায়। অই...

ছেলেকে দেওয়া একজন আদর্শ বাবার উপদেশঃ

  ছেলেকে দেওয়া একজন আদর্শ বাবার উপদেশঃ ১. জুতা সেলাই বা রং করতে চাইলে মেরামতকারীর দোকানের সামনে পা বাড়িয়ে দিওনা, বরং জুতাটা খুলে নিজে একবার মুছে দিও। ২. কখনও কাউকে কামলা, কাজের লোক বা বুয়া বলে ডেকোনা। মনে রেখো তারাও কারো না কারো ভাই, বোন, মা, বাবা। তাদেরকে সম্মান দিয়ে ডেকো। ৩. বয়স, শিক্ষা, পদ বা পদবীর দিক দিয়ে কেউ ছোট হলেও কখনও কাউকে ছোট করে দেখোনা। নইলে তুমি ছোট হয়ে যাবে। ৪. পড়াশুনা করে জীবনে উন্নতি করো, কিন্তু কারো ঘাড়ে পা দিয়ে উপরে উঠার চেষ্টা করো না। ৫. কাউকে সাহায্য করে পিছনে ফিরে চেওনা, সে লজ্জা পেতে পারে। ৬. সব সময় পাওয়ার চেয়ে দেয়ার চেষ্টা করো বেশি । মনে রেখো, প্রদানকারির হাত সর্বদা উপরেই থাকে। ৭. এমন কিছু করোনা যার জন্য তোমার এবং তোমার পরিবারের উপর আঙুল ওঠে। ৮. ছেলে হয়ে জন্ম নিয়েছো, তাই দায়িত্ব এড়িয়ে যেওনা। ৯. তোমার কি আছে তোমার গায়ে লেখা নেই। কিন্তু তোমার ব্যবহারে দেখা যাবে তোমার পরিবার কোথায় আছে। ১০. কখনও মার কথা শুনে বউকে এবং বউয়ের কথা শুনে মাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিও না। কাউকে ফেলতে পারবে না। ১১. কারও বাসায় নিমন্ত্রন খেতে গেলে বাসায় দু-মুঠো ভাত খেয়ে যেও। অ...

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পরিবারে ইসলাম

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পরিবারে ইসলাম টনি ব্লেয়ার ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তার আমলেই ব্রিটেনের সাথে ইরাক ও আফগানিস্তানের লম্বা যুদ্ধ হয়েছে। তার নিজের স্ত্রীর বোনই যদি মুসলিম হয়ে যায় তাহলে সেটা তো টনি ব্লেয়ারের চূড়ান্ত আফসোস। কিন্তু এটা নতুন না, উমর (রা) হতে যে ইতিহাসের শুরু এটা তারই পুনরাবৃত্তি। যার কথা বলছি তার বর্তমান নাম সারা, তার দুলাভাইই টনি ব্লেয়ার। সাংবাদিকতার কাজে গিয়েছিলেন ফিলিস্তিনে। তিনি বলেন, "আল্লাহ আমাকে ফিলিস্তিনে পাঠিয়েছেন। আর ফিলিস্তিনিরা আমাকে আল্লাহর কাছে ফেরত পাঠিয়েছে"। সেখানে তিনি দেখলেন- কেউ পঙ্গু, কেউ খোড়া, কারো বা মারা গেছে সন্তান। আরেকটা জিনিসের অভাবও তিনি দেখলেন সেখানে। নিরাশার। কারোর যেন কোনো হতাশাও নেই। একবার রোজার মাসে তিনি একটা ফিলিস্তিনি বাসায় যান। তিনি বলেন- “সে বাসায় চার দেয়াল আর একটা ছাদ ছাড়া কোনো আসবাব ছিলো না। কিন্ত তা সত্তেও বাসার মহিলা আমাকে এমন ভাবে অভ্যর্থনা দিয়েছিলো যেন মনে হচ্ছে আমি তাজমহলে এসেছি। এতোটা অমায়িক ছিলো তারা”। তিনি দেখলেন এত গরিবি নিয়েও তারা সারাদিন না খেয়ে আছে (রোজা আরকি)। এমনকি তারা তাদের ইফতারের বেশিরভাগ খাবারই তার...

যারা আমাদের মুল্য বুঝে

  👉মৃত্যুর পূর্বে একজন পিতা তার সন্তানকে কাছে ডেকে বললেন,'এই নাও!এই ঘড়িটা আজ আমি তোমাকে দিলাম। আমাকে দিয়েছিলেন তোমার দাদা।ঘড়িটা দুইশত বছর আগের। তবে,ঘড়িটা নেওয়ার আগে তোমাকে একটা কাজ করতে হবে'। 👉ছেলেটা বললো, কি কাজ? 👉"এই ঘড়িটা নিয়ে রাস্তার পাশের ঘড়ির দোকানে যাবে।তাদের বলবে যে এই ঘড়িটা তুমি বিক্রি করতে চাও'। 👉ছেলেটা তাই করলো।ঘড়িটা রাস্তার পাশের একটা ঘড়ির দোকানে বিক্রি করতে নিয়ে গেলো।সে ফিরে এলে তার বাবা বলল,ঘড়ির দোকানদার কত টাকা দিতে চাইলো ঘড়িটার বিনিময়ে? 👉ছেলেটা বললো 'একশো টাকা মাত্র'।ঘড়িটা নাকি অনেক পুরাতন তাই'। 👉বাবা বললেন,এবার পাশের কফি শপে যাও।তাদেরকে বলো যে তুমি এই ঘড়িটা বিক্রি করতে চাও'। 👉ছেলেটা তা ই করলো। ঘড়িটা নিয়ে পাশের এক কফি শপে গেলো।ফিরে এলে তার বাবা জানতে চাইলো ' কি বললো ওরা'? 👉ওরা তো এটা নিতেই চাইলো না।বললো, এত পুরনো, নোংরা ঘড়ি দিয়ে আমাদের কি হবে? 👉বাবা হাসলেন,বললেন 'এবার তুমি এই ঘড়ি নিয়ে জাদু ঘরে যাও।তাদেরকে বলো যে ঘড়িটা আজ থেকে দুই'শতো বছর আগের'। 👉ছেলেটি এবারও তাই করলো।ঘড়িটা নিয়ে জাদুঘরে গেলো। ফিরে এলে তার বা...

বুজুর্গ ব্যক্তি

এক বুজুর্গ ব্যক্তি শয়তানকে দেখে বলল, আমাকে এমন একটা কাজ শিক্ষা দাও যাতে আমি তোমার ন্যায় শয়তান এবং তোমার খাঁটি শিষ্য হতে পারি। শয়তান আশ্চর্য হয়ে বলল আজ পর্যন্ত আমার কাছে এরূপ আশ্চর্যজনক দরখাস্ত কেউ করেনি। আচ্ছা তুমি তা শিক্ষা করে কি করবে..? ওই ব্যক্তি উত্তর করলো আমার একান্ত ইচ্ছা আমি তোমার খাঁটি শিষ্য হই। শয়তান বলল বাস্তবিকই যদি তুমি আমার শিষ্য হতে চাও, তবে দুটি কাজ তোমার করতে হবে। ১/ নামাজ ত্যাগ করতে হবে, এবং ২/ সত্য - মিথ্যা কসম খেতে থাকবে। এতে কোন প্রকার দ্বিধাবোধ করবে না। এ কাজটি করতে পারলে তোমার আমার মধ্যে কোন প্রভেদ থাকবেনা , এবং তুমি আমার খাঁটি শিষ্য হতে পারবে। বুজুর্গ ব্যক্তি এর কথা শুনে বলল খোদার কসম। ওই কাজ দুটি একটিও আমি সারা জীবনে করব না। শয়তান বলল আমি তো এতদিন জগদ্বাসীকে দোকা দিয়ে আসছিলাম। কিন্তু আজ তুমি আমার ওস্তাদ হয়ে গেলে, আমি তো তোমার নিকট ধোকা খেলাম। আমি প্রতিজ্ঞা করছি নিজের মনের কথা কোনদিন কাউকে বলব না এবং ধোঁকাও খাব না।। *************************************************************** 👉মৃত্যুর পূর্বে একজন পিতা তার সন্তানকে কাছে ডেকে বললেন,'এই নাও!এই...

বাবার বাড়ি, স্বামীর বাড়ি

  একটা বাবার বাড়ি,একটা স্বামীর বাড়ি। মেয়েদের নিজের বাড়ি কোনটা? যদিও নারী পুরুষ সবার বাড়িই অস্থায়ী,আসল বাড়ি ওপারে। তবু মনে একটা কষ্টকর ভাব! আমার কোনো বাড়ি নেই। আসলেই কি তাই? আসলে কিন্তু তা নয়। প্রথমত: বাবা যে বাড়িটা তিলতিল করে গঁড়ে তুলেছেন ওই বাড়িতে দুই ভাগের এক অংশ আমার আছে উত্তরাধিকার সুত্রে। অথচ না আমি ওখানে থাকছি আর না আমার প্রয়োজন আছে। দ্বিতীয়ত: স্বামীর বাড়ি। স্বামী শুধু নামেই মালিক। ঘরটা কিন্তু আমার। একটা ঘর ততক্ষণ পর্যন্ত ঘর হয় না যতক্ষণ না একজন নারীর ছাঁয়া পড়ে। এইতো গেলো সাধারণ দৃষ্টিপাত। এবার দেখুন কুরআনের দৃ‌ষ্টিপাত। কুরআনে যেখানেই আল্লাহ স্ত্রী আর ঘরের কথা বলেছেন,আল্লাহ বলেছেন স্ত্রীর ঘর। ইউসুফ আলাইহিস সালামের ব্যাপারে যখন আল্লাহ তাআলা আলোচনা করেছেন,তখন বলেছেন, وَرَاوَدَتْهُ الَّتِي هُوَ فِي بَيْتِهَا عَن نَّفْسِهِ যে নারীর ঘরে তিনি থাকতেন, সে তাকে ফুসলানোর চেষ্টা করলো। [ইউসুফ: ২৩] আল্লাহ বলেননি যে শাসকের ঘরে তিনি থাকতেন তার স্ত্রী... আসলে তো ইউসুফ আলাইহিস সালাম থাকতেন আযীযে মিশরের ঘরেই। আবার নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের আল্ল...

সাহাবী আবূ হুরাইরাহ রাযি.

  (সাহাবি- তাবেয়িরা) শুধু দেখেছে দ্বীনদারিতা! সুপাত্রে কন্যাদানের এক অনুপম দৃষ্টান্ত!! সাঈদ ইবনু মুসাইয়িব রাহি. একজন সুপ্রসিদ্ধ তাবিয়ী। ইলম, আমল, তাকওয়া—সব বিষয়ে ছিলেন অনন্য। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, তিনি ছিলেন বিখ্যাত সাহাবী আবূ হুরাইরাহ রাযি. এর জামাতা। তাবিয়ী সাঈদ ইবনু মুসাইয়িব রাহি. এর এক কন্যা ছিলো। রূপ, গুণ, নম্রতা ভদ্রতা, উত্তম চরিত্রসহ যাবতীয় উত্তম বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিলেন। তার এসব বৈশিষ্ট্যের কথা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে খলীফা হিশাম বিন আব্দুল মালিকের কানে এ সংবাদ পৌঁছে যায়। খলীফা তাকে পুত্রবধূ করার ইচ্ছা করলেন। এ লক্ষ্যে তিনি সাঈদ ইবনু মুসাইয়িব রাহি. এর নিকট দূত মারফত প্রস্তাব পাঠালেন। দূত সাঈদ ইবনু মুসাইয়িব রাহি. এর সামনে প্রস্তাব পেশ করা মাত্রই তিনি অস্বীকার করে বসলেন। দূত অস্বীকারের কারণ জানতে চাইলে তিনি বললেন, আমি তার চরিত্রের ব্যাপারে সন্তুষ্ট নই। দূত প্রথমে তাঁকে ফুসলাতে লাগলেন। বললেন, আপনি কার প্রস্তাব নাকচ করছেন, একটু চিন্তা করুন। তিনি হচ্ছেন আমীরুল মুমিনীন। তাঁর সুনাম সুখ্যাতি জগৎস্বীকৃত। অর্থ সম্পদের তো কোনো শেষ নেই। সাঈদ ইবনু মুসাইয়িব রাহি. জবাবে বলল...

আল্লামা কাশগরী রহ

  "আমি লক্ষ্য করতাম, মাঝে মাঝেই তিনি কেমন যেন উদাস হয়ে যেতেন। অনেক সময় একান্তে বসে তাকে কাঁদতে দেখেছি। তার এমনই একটা দুর্বল মুহূর্তে আমি তাঁকে ধরে ফেলেছিলাম। শেষপর্যন্ত অনেকটা বাধ্য হয়েই তিনি তাঁর বুকের ভাজ কিছুটা লাঘব করেছিলেন আমাদের দু'একজনের সামনে। ধরা গলায় বলেছিলেন, "কাশগরের সর্বাপেক্ষা বড় আমির ছিলেন আমার আব্বা। তিনি ছিলেন একজন বড় আলেম এবং খুব শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি। আমার বড় এক ভাই এবং দুই বোন ছিল। বিপ্লব সাধিত হওয়ার পর সারাদেশের গণ্যমান্য সব মুসলিম নেতৃবৃন্দের সাথে আমার আব্বাকেও গ্রেফতার করে নিয়ে গেল কমিউনিষ্ট সন্ত্রাসীরা। অল্প কয়েকদিনের ব্যবধানে ওরা আমার বড় ভাই এবং দুইবোনকেও ধরে নিয়ে গেল। তারা আর ফিরে এলেন না। কোথায় তাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে, এখবর উদ্ধার করা যায়নি। আমাদের বাগান, খামার, পশু পাল এবং সহায়-সম্পদের সবকিছুই দখল করে নেয়া হয়েছিল। আমাকে এবং আমার আম্মাকে খামারের একটা ছোট বাড়ি দেওয়া হল থাকার জন্য। আম্মা ততদিনে শোকে-বেদনায় মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন। আমার বয়স তখন চৌদ্দ-পনেরো বছর। ভালো মন্দ সব কিছুই বুঝবার ক্ষমতা হয়েছে। বিশেষত আমরা...

আমাদের হৃদয়গুলো

  আমাদের হৃদয়গুলো সব আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে। তাই, কারও হৃদয়ের পরিবর্তন চাইলে শুধু সেই ব্যক্তির পেছনে না ছুটে আল্লাহর কাছে তার জন্য দু‘আ করে যান। তিনি যদি তার হৃদয়টাকে বদলে দেন, তাহলে সবই ঠিকঠাক হয়ে যাবে। . উল্লেখ্য, এখানে নারী-পুরুষের বিবাহবহির্ভূত হারাম প্রেম-ভালোবাসা উদ্দেশ্য নয়। এর বাইরেও অনেক কিছু থাকে মানুষের জীবনে। . কখনও এমন হতে পারে, ভুল বোঝাবুঝির ফলে অথবা অকারণে পরিচিত কেউ অচেনা মানুষের মত আচরণ করা শুরু করেছে বা কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে কিংবা খুব বাজেভাবে উপেক্ষা (ignore) করছে। এমতাবস্থায় সম্পর্কটা স্বাভাবিক করার জন্য চেষ্টার পাশাপাশি আল্লাহকে বলুন, তিনি যেন এই লোকের অন্তরটা কোমল করে দেন। . অনেক সময় যৌক্তিক কোনো কারণ ছাড়াই কেউ আপনার উপর প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়ে আপনার ক্ষতি করা শুরু করতে পারে বা বিভিন্নভাবে আপনাকে হয়রানি করতে পারে। এমতাবস্থায় আল্লাহর স্মরণাপন্ন হোন, যাতে তিনি ওই ব্যক্তির মন থেকে আপনার প্রতি থাকা ক্রোধ মুছে দেন। . আপনার আপনজন ইসলাম থেকে দূরে। তাকে দ্বিনের পথে আনার জন্য দু‘আ করুন। . আপনার কাছে এসব ব্যাপার ফেইস করা কঠিন মনে হলেও আল্লাহর কাছে সবই সহজ; তাঁর অভিধানে ‘কঠিন...

ভবিষ্যতের পরিকল্পনা

  জীবনটা কিন্তু বেশ অদ্ভুত! প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তির হিসাব মিলাতে বসলে অনেকেরই মনে প্রশ্ন জাগতে বাধ্য সত্যিই কি শূন্যতাগুলোর জন্য আমি নিজেই দায়ী নই? সত্যিই কি যা এখন আমার কাছে আছে, তাই আমি চেয়েছিলাম? আশপাশের বহু মানুষের মাঝে এই আফসোসটা আমরা হরদম শুনি - বয়সটা যদি আর কয়েকদিন কম হতো জীবনটা নতুন করে শুরু করতাম! এমন মানুষের সংখ্যা হাতে গুনে শেষ করা যাবেনা, যারা কর্পোরেট চাকরি করতে করতে বিরক্ত, যারা নিজ পেশায় ত্যক্ত, যারা সফল হয়েও হতাশ, যারা ধনী হয়েও মানসিক অশান্তিতে ভুগছেন! কিন্তু কেন? ৩০ মিনিটের জন্য নিজের সব কাজ বন্ধ করে দিয়ে একটি খাতা কলম নিয়ে বসে পড়ুন। ১-২-৩ দিয়ে লেখা শুরু করুন তো। জীবনে আসলে কোন কোন জিনিসগুলো আপনি চেয়েছিলেন যা আপনি এখন করতে সক্ষম, কিন্তু সময়ের অভাবে বা এনার্জীর অভাবে করা হচ্ছে না? পরবর্তী লেখাগুলো শুধুমাত্র তাদের জন্য যারা এই ৩০ মিনিট সময় জীবনকে দিয়েছেন। প্রথমত, আপনাকে চিন্তা করতে হবে আপনার পরিকল্পনা কতটুকু বাস্তবসম্মত। আপনার বর্তমান নীতিবোধ, মূল্যবোধ, সামাজিক অবস্থা এবং প্রয়োজন অনুসারে আপনি আপনার স্বপ্ন পূরণের পিছে কতটুকু কষ্ট করতে রাজি আছেন, সেটি ম...

মিউজিক যার ধর্ম ছিলো

  মিউজিক যার ধর্ম ছিলো রাহিম জাং এর জন্ম হয়েছে লন্ডনের একটি ধর্মহীন পরিবারে। জন্মগতভাবে তার মা ছিলো খ্রিস্টান আর বাবা ছিলো মুসলিম। কিন্তু তাদের জীবনে ইসলামের ছিটেফোটা ছিলো না। এমনকি একটা সময় তার মা ধর্মের উপর বিতৃষ্ণ হয়ে যান। বিশেষত ইসলামের বিরুদ্ধে। রাহিম কে তার পূর্বাবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, “আমি কোনো ধর্ম মানতাম না তখন। কিন্তু সবকিছুর উপরে আমার আসল ধর্ম ছিলো মিউজিক। মিউজিক ছিলো আমার জন্য সবকিছু"। বাবা মা-র ইচ্ছা উপেক্ষা করে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। কাজ করেছেন কিছু সেরা রেকর্ড আর্টিস্ট এবং বিখ্যাত আন্তর্জাতিক রেকর্ড কম্পানির সাথে। একটা সময় তার জীবনে কিছু সমস্যা হতে লাগলো। অর্থাৎ, তিনি মনের গহীন থেকে এক ধরণের শূন্যতা অনুভব করছিলেন। একদিন তিনি পাগলপ্রায় হয়ে গিয়ে স্রষ্টার সাথে একটা চুক্তি করেন- “হে স্রষ্টা! তুমি যদি আমার এই অবস্থায় আমাকে সাহায্য করো তাহলে আমি সব ধরণের খারাপ কাজ ৩ সপ্তাহের জন্য ছেড়ে দিবো এবং আমি আজকে কুরআন পড়ে দেখবো”। সেদিনই তিনি কুরআন খুলে, অনেকটা অলৌকিক ভাবে যে আয়াতটা সামনে পেলেন সেটা হলো, “নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে রয়েছে স্বস্তি।...

হাইপোগ্লাইসেমিয়া-ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করা স্বল্পতা

  ডায়াবেটিস রোগীদের কিছু জরুরি অবস্থা আছে যার মধ্যে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বা রক্তে শর্করা স্বল্পতা অন্যতম। এই জরুরি অবস্থায় তাৎক্ষণিক সঠিক ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন সহজ ভাষায় বলতে গেলে রক্তে সর্বনিম্ন স্বাভাবিক যে সুগারের মাত্রা থাকে তারচেয়ে যদি কমে যায় তখন তাকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলা হয়। তবে সাধারণত ২.৫ মিলিমোলের কম হয়ে গেলে এ ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কী কী লক্ষণ থাকে? ১. অসুস্থ বোধ করা ২. খুব বেশি খিদে পাওয়া ৩. বুক ধড়ফড় করা ৪. বেশি বেশি ঘাম হওয়া ৫. শরীর কাঁপতে থাকা ৬. শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা ৭. অস্বাভাবিক আচরণ করা ৮. অজ্ঞান হয়ে যাওয়া ইত্যাদি। কেন এবং কখন এসব লক্ষণ দেখা দেয়? ক. ওষুধের (ট্যাবলেট বা ইনসুলিন) পরিমাণ বেশি হলে। খ. খাবার খুব কম খেলে বা খেতে ভুলে গেলে। গ. ইনসুলিন নেয়ার পর খুব দেরি করে খাবার খেলে। ঘ. হঠাৎ বেশি ব্যায়াম বা দৈহিক পরিশ্রম করলে। হাইপোগ্লাইসেমিয়া হলে কী করা উচিত? ১. প্রতিক্রিয়া দেখামাত্রই রোগী চা-চামচের ৪-৮ চামচ গ্লুকোজ বা চিনি এক গ্লাস পানিতে গুলে খেয়ে নেবেন বা কেউ তাকে খাইয়ে দেবেন। যদি এসব না পান তবে হাতের কাছে মিষ্টিজাতীয় খাবার যা আছে তা-ই তাড়াতাড়ি খেয়ে ফে...