জীবনটা কিন্তু বেশ অদ্ভুত! প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তির হিসাব মিলাতে বসলে অনেকেরই মনে প্রশ্ন জাগতে বাধ্য সত্যিই কি শূন্যতাগুলোর জন্য আমি নিজেই দায়ী নই? সত্যিই কি যা এখন আমার কাছে আছে, তাই আমি চেয়েছিলাম? আশপাশের বহু মানুষের মাঝে এই আফসোসটা আমরা হরদম শুনি - বয়সটা যদি আর কয়েকদিন কম হতো জীবনটা নতুন করে শুরু করতাম! এমন মানুষের সংখ্যা হাতে গুনে শেষ করা যাবেনা, যারা কর্পোরেট চাকরি করতে করতে বিরক্ত, যারা নিজ পেশায় ত্যক্ত, যারা সফল হয়েও হতাশ, যারা ধনী হয়েও মানসিক অশান্তিতে ভুগছেন! কিন্তু কেন? ৩০ মিনিটের জন্য নিজের সব কাজ বন্ধ করে দিয়ে একটি খাতা কলম নিয়ে বসে পড়ুন। ১-২-৩ দিয়ে লেখা শুরু করুন তো। জীবনে আসলে কোন কোন জিনিসগুলো আপনি চেয়েছিলেন যা আপনি এখন করতে সক্ষম, কিন্তু সময়ের অভাবে বা এনার্জীর অভাবে করা হচ্ছে না? পরবর্তী লেখাগুলো শুধুমাত্র তাদের জন্য যারা এই ৩০ মিনিট সময় জীবনকে দিয়েছেন। প্রথমত, আপনাকে চিন্তা করতে হবে আপনার পরিকল্পনা কতটুকু বাস্তবসম্মত। আপনার বর্তমান নীতিবোধ, মূল্যবোধ, সামাজিক অবস্থা এবং প্রয়োজন অনুসারে আপনি আপনার স্বপ্ন পূরণের পিছে কতটুকু কষ্ট করতে রাজি আছেন, সেটি মনস্থির করুন। দ্বিতীয়ত, আমাদের অনেকেরই এমন একটি ভবিষ্যতের স্বপ্ন ছিল যা আমাদের বর্তমান থেকে অনেকখানিই আলাদা! পারিপার্শ্বিকতার নানা চাপের কারণে অনেক সময় আমাদের অনেক এমন পথ বেছে নিতে হয়, যা আসলে আমাদের জন্য কষ্টকর। কিন্তু একটা সময় সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও, আমরা আমাদের স্বপ্নগুলোকে যেন ভুলেই যাই! নিজের স্বপ্ন গুলোকে সফল করার জন্য, আগে সেই স্পৃহাকে আবার জাগিয়ে তুলতে হবে! তৃতীয়ত, নতুন ভাবে কোন কিছু শুরু করার আগে আপনাকে অবশ্যই আপনার বর্তমানের অবস্থানটি বুঝতে হবে। আমরা অনেক সময় কিছু পার্থিব প্রাপ্তির ভীড়ে, নিজেকে অনেক বড় মনে করি। চারপাশের একটি মিথ্যা ক্ষমতার বেড়াজালে নিজেকেই আবদ্ধ করে ফেলি! বর্তমান সফলতা ও আপনার সুখকে এক দাঁড়িপাল্লায় রাখলে, প্রকৃত অবস্থান আপনি অনুভব করতে পারবেন। চতুর্থত, আপনাকে কিছু জিনিস ত্যাগ করার মত মানসিকতা রাখতে হবে। আমরা সবাই জানি, কিছু পাওয়ার আশা করলে, কিছু না কিছু ছেড়ে এগোতে হবে, কিন্তু তবুও মন কেন জানি মানে না! তাই ত্যাগ স্বীকারে আপনি মানসিকভাবে প্রস্তুত কিনা সিদ্ধান্ত নিয়ে নিন। পঞ্চমত, আপনাকে নতুন ভাবে কিছু শুরু করার আগে, সম্ভাব্য সমস্যাগুলো মোকাবেলা করার মত পরিকল্পনা রাখতে হবে। আমরা একটি বাড়ির ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপনের সময় যেমন বাসা কত তলা হবে, ইট-বালি-সিমেন্ট কোথা থেকে আসবে সবকিছু মাথায় রেখে পরিকল্পনা করি, তেমন নতুন কিছু শুরু করার সময় অবশ্যই তাতে কি কি সমস্যা হতে পারে, কি কি লাগবে, তখন আমি কি করতে পারি - এগুলো মাথায় রাখতে হবে; না হলে আপনার স্বপ্ন বাস্তবতার রূপ নেয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে। শুরু করার আগে অবশ্যই কিছু কথা মাথায় রাখুন - ** যে কোন কিছু শুরু করাটাই সবচেয়ে কষ্টের ** স্বল্পমেয়াদী কোন লাভ, আপনার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার চেয়ে বড় হতে পারে না ** কোন গুণ বা প্রতিভাই ছোট নয় ** স্বপ্ন বাস্তবায়নের শুরু যেকোনো বয়সে, যেকোনো সময়ে সম্ভব গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বের প্রতিটি মানুষ গড়ে প্রতি ৮ ঘন্টায় ১ ঘন্টা সময় ব্যয় করে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করতে। তবু যদি সেই পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ না নেয় তবে তা আসলেই দুঃখজনক! শেষ নি:শ্বাসে আফসোস থাকার মত হাহাকার দুনিয়াতে খুব কম আছে! আসুন না, নিজের স্বপ্নগুলোকে আরেকবার সুযোগ দেই!
source-lifespring limited
Comments
Post a Comment