Skip to main content

Posts

Showing posts from July, 2025

কার্ণিশগুলো নীরব

  আমার শৈশব কেটেছে ঢাকায়। একসময় এই শহরের সকাল শুরু হতো কাকের কা কা ডাকে আর দিন শেষ হতো তাদের সারি সারি বসে থাকা দৃশ্য দিয়ে। ছাদ, বৈদ্যুতিক তার, গাছের ডাল কিংবা জানালার কার্ণিশ কাকেরা যেন সর্বত্র। সেই সময় ঢাকার চেহারায় ছিল এক প্রাকৃতিক ছন্দ আর সেই ছন্দের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল কাক। ভাত খাওয়ার পর উচ্ছিষ্ট বারান্দায় ছুড়ে দিলে মুহূর্তেই ৩-৪টি কাক উড়ে আসত। ওদের ছিল না কোনো দাবি, কেবল শহরের অব্যবস্থাপনার ভেতরেও তারা গড়ে তুলেছিল নিজস্ব ভারসাম্য। আর কাক ছিল বলেই শহরের রাস্তাঘাটে অনেক কিছু পড়ে থাকলেও দুর্গন্ধ ছড়াতো না... এক প্রকার নিঃস্বার্থ পরিচ্ছন্নতাকর্মী ছিল ওরা। কিন্তু সময় পাল্টেছে। ২০১৭ সালে S.S.C. শেষ করে আমি ফিরে এসেছি নিজের শহর রাজশাহীতে। মাঝে মাঝে যখন ঢাকায় যাই, সেই পরিচিত দৃশ্যটা আর দেখি না। বৈদ্যুতিক তারগুলো ফাঁকা, কার্ণিশগুলো নীরব, কাকদের কা কা ডাক যেন হারিয়ে গেছে শহরের কোলাহলের ভেতর। এটা কি শুধুই আমার চোখে ধরা পড়া একটুখানি পরিবর্তন? না, আসলে এই পরিবর্তনের পেছনে আছে অনেক গভীর কারণ। আমরা এখন যা ফেলে দিই, তা আগের মতো সাধারণ খাবার নয়। প্লাস্টিক, কীটনাশক আর রাসায়নিক মিশ্র বর্জ্যগু...

সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে…

  ⏳ সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে… একবার চোখ বন্ধ করে ভাবুন, আর কতদিন বাঁচবেন? কয়েকটা ঘণ্টা? কিছুদিন? হয়তো কয়েকটা বছর। তারপর? সব থেমে যাবে… তবু আমরা রাগ পুষে রাখি, ঘৃণা জমিয়ে রাখি, আফসোসে ডুবে থাকি… ভবিষ্যতের চিন্তায় ব্যস্ত হয়ে পড়ি, অথচ যেটুকু "বর্তমান" আমাদের হাতে আছে, সেটাকেই ভুলে যাই। আমরা যাদের ভালোবাসি, তাদের বলতে ভুলে যাই— "তোমাকে ভালোবাসি", "তোমাকে ধন্যবাদ", "তোমার জন্য আমি গর্বিত" আমরা নিজেদের মনকে জিজ্ঞেস করিনি বহুদিন, "তুমি আসলে কেমন আছো?" সময় কাউকে অপেক্ষা করে না, প্রিয় মুখগুলো ধীরে ধীরে চিরদিনের জন্য জীবন থেকে হারিয়ে যাবে। আমার আপনার ভালো কাজ, সুস্থ সম্পর্ক, কৃতজ্ঞতার প্রতিচ্ছবি থেকে যাবে। আপনি ব্যস্ত থাকলেও সময় চলে যায়… আপনি দুঃখে থাকলেও সময় চলে যায়… আর আপনি যদি সচেতন না থাকেন, তাহলে পুরো জীবনটাই স্রোতের মতো পার হয়ে যাবে, আপনার অজান্তেই। নিজের যত্ন নিন, সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করুন, আশেপাশের মানুষদের প্রতি নিজ দায়িত্বের প্রতি আরেকটু বেশী মনোযোগ দিন।

দিনের শেষে কেন এমন ফাঁকা ফাঁকা লাগে?

  দিনের শেষে কেন এমন ফাঁকা ফাঁকা লাগে? কখনো কি মনে হয়, দিনের শেষে সবকিছু ঠিকঠাক করেও যেন কিছু একটা অপূর্ণ রয়ে গেল? ব্যস্ত সময় কাটানোর পরও মনটা খালি খালি লাগে, যেন কোথাও একটা শূন্যতা থেকে যায়। এটা খুবই স্বাভাবিক অনুভূতি—অনেকেই এটার ভেতর দিয়ে যান, শুধু আপনি নন। কেন এমন হয়? অতিরিক্ত চাপ: দিনের পর দিন কাজের চাপ, দায়িত্বের বোঝা—এসব আমাদের ভেতরের শক্তিটা নিঃশেষ করে দেয়। শরীর ঠিকই চলে, কিন্তু মনের কোথাও যেন ক্লান্তি জমে থাকে। নিজের জন্য সময় না রাখা : শুধু কাজ, কাজ আর কাজ—নিজের জন্য একটু সময় না রাখলে, নিজের ভেতরের চাওয়া-পাওয়া, ছোট ছোট আনন্দগুলো হারিয়ে যায়। সম্পর্কের দূরত্ব: কাছের মানুষের সাথে সময় না কাটালে, মনের ভেতর একাকীত্ব জন্ম নেয়। কারো সাথে মনের কথা ভাগাভাগি না করলে, সেই শূন্যতা আরও বেড়ে যায়। কীভাবে সামলাবেন? 🔹 নিজেকে একটু ভালোবাসুন: দিনের কোনো এক ফাঁকে নিজের জন্য কিছু করুন—প্রিয় গান শুনুন, পছন্দের বই পড়ুন, বা শুধু চুপচাপ প্রকৃতির মাঝে বসে থাকুন। ছোট্ট এই সময়টুকু মনকে অনেকটা হালকা করে দেয়। 🔹 নিজের অনুভূতির কথা শুনুন: কখনো মন খারাপ লাগলে, নিজেকে প্রশ্ন করুন—কী ...

সন্তানের করা মামলা

  এই বৃষ্টিস্নাত দিনে ইংলিশ মিডিয়াম পড়ুয়া আলোচিত সেই মেয়েটির বাবা-মার কথা ভাবছি। নিশ্চয় বুকে জমানো সবটুকু আবেগ, ভালোবাসা ও মমতা দিয়ে তারা মেয়েটিকে বড় করছিলেন। ছোটবেলায় মেয়েটি যখন জ্বরে পড়েছে, বাবা-মার অসংখ্য নির্ঘুম রাত নিশ্চয় মেয়ের শিয়রে বসে কেটেছে। মেয়েটি কোনো কিছু পাওয়ার আব্দার করলে বাবা-মা হয়তো হৃদয় উজাড় করে তা দেয়ার চেষ্টা করেছেন। নিজেদের কষ্টার্জিত উপার্জন নিশ্চয় তারা ব্যয় করেছেন মেয়েটির সুস্থ-সবল ও হাসি-আনন্দে বেড়ে ওঠার জন্য। নিজেদের চেয়ে মেয়েকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন সবকিছুতে। মেয়ে বাবা-মার চক্ষু শীতলকারী সন্তান হবে— আর দশজন বাবা-মার মতো এমন স্বপ্ন তারাও নিশ্চয়ই লালন করতেন। কিন্তু কে জানত, জীবনের মাঝপথে এসে ডানাভাঙা পাখির মতো তাদের সকল আশা লুটিয়ে পড়বে মাটিতে! সন্তানের করা মামলায় সেই বাবা-মাকে যখন জনাকীর্ণ আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছিল, অসংখ্য মিডিয়ার সামনে তীর্যক গলায় মেয়েটি যখন বাবা-মাকে ক্রিমিনাল বলছিল, তাদের মনের অবস্থা কেমন হয়েছিল? নিশ্চয় তারা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন। বড় বেশি মায়া হচ্ছে ওই হতবাক বাবা-মার জন্য। আমরা প্রায় সকলেই ছোটবেলায় মা-বাবার শাসনের মধ্য দিয়...

বিনয়ী হতে শেখা

  সন্তানকে যে কোন মূল্যে বিনয়ী হতে শেখাবেন। এই যুগে এটা সন্তানের জন্য সবচেয়ে জরুরী শিক্ষা। তার মাঝে যেন 'আমিত্ব' না থাকে। তাকে ছোটবেলা থেকেই বুঝাবেন, যে তুমি যত বড়ই হও না কেন জীবনে, তুমি আসলে খুবই সামান্য একজন মানুষ। মাথা নিচু রাখতে শিখাবেন। ‌ অন্যদের সম্মান করতে শেখাবেন। ভিন্নমতকে সহ্য করতে শেখাবেন।‌ সাফল্য পেলে বা টাকা পয়সার মালিক হলে সে যেন অন্ধ না হয়ে যায়। তবে, সে যেন হীনমন্যতায় না ভোগে। তাকে বলবেন অনেক বড় হতে, কিন্তু সেটা হতে যেয়ে সে যেন নিজেকে হারিয়ে না ফেলে। দিনে দিনে আমাদের সমাজে নার্সিসিজম অনেক বেড়ে চলেছে। আমিত্ব বেড়ে চলেছে, স্বার্থপরতা বেড়ে চলেছে। সবাই শুধু নিজেকে নিয়ে ভাবে। নিজে বড় হতে চায়। এবং বড় হয়ে অন্যদেরকে ছোট করে দেখে ‌। একটা গোটা সমাজ আমরা তৈরি করেছি যেখানে নার্সিসিস্টদের glorify করা হয়।‌ আপনি যদি সন্তানকে ধার্মিকও বানাতে চান সবার আগে তাকে বিনয়ী হতে শিখান। নামাজ রোজা পরে শিখাবেন, আগে বিনয়ী বানাবেন সন্তানকে। দেখবেন এযুগের ধার্মিক লোকরাও অনেকেই arrogant। বে*য়াদব নার্সিসিটদের কোন ধর্ম নাই। -----------------------------...

চীনের জন্য এডভান্স রোবটিক্স

  চীনে যেই বিভিন্ন প্রদেশ এবং শহর আছে তাদের নেতা নির্বাচিত হয় না বরং সিলেক্টেড হয় যোগ্যতার ভিত্তিতে। যেই ভিত্তিতে যোগ্যতা নির্ণয় করা হয় তা হচ্ছে ১ অর্থনৈতিক উন্নয়ন ২ কি পরিমাণ প্রযুক্তিগত উন্নত হতে পেরেছে। যেমন - বিদেশী উন্নত শিল্পের কারখানা সেই দেশে এসেছে, নতুন নতুন কোন কোন প্রযুক্তি স্টার্ট আপ তৈরি হয়েছে এবং নতুন নতুন কি জিনিস বানাতে পেরেছে? ৩ প্রদেশে শান্তি শৃঙ্খলা কেমন ছিল। যেই ব্যক্তি তার নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে যত ভালো ফলাফল বয়ে আনতে পারে সে তত প্রমোশন পায়। অর্থাৎ, আপনার হাতে একটি উপজেলা ছিল। সেই অঞ্চলে আপনি উপরের তিনটি লক্ষ্য খুব ভালো ভাবে অর্জন করতে পেরেছেন। আপনি জেলার দায়িত্ব পাবেন। আরও ভালো করলে আরও উন্নত জেলা যেমন চট্টগ্রামের দায়িত্ব পাবেন। সেখানেও কৃতিত্বের পরিচয় দিলে আপনি কেন্দ্রীয় পলিসি মেকিং এ চান্স পাবেন। সব মিলিয়ে এটি মেধা ও যোগ্যতা ভিত্তিক ব্যবস্থা। কেউ একজন এলাকার শীর্ষ ব্যবসায়ই - সে অনেক টাকা খরচ করে পোস্টার ছাপিয়ে, লোক ভাড়া করে প্রোগ্রাম করে মেয়র হয়ে গেল এই জাতীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সেখানে নেই। ফলে চীনের কেন্দ্র যখন ঠিক করে আমাদের দেশকে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাণ শ...

~মিনির গল্প~

  ~মিনির গল্প~ তালিবুল হাক্ক "মিনি! তুমি শুধু একটা বিড়াল ছিলে না, তুমি ছিলে আমার পরিবারের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।" আল্লাহ তায়ালা তোমাকে হেফাজত করুন, ইনশাআল্লাহ, বি ইযনিল্লাহ। আমি জানি, তোমার অনেক কষ্ট হচ্ছে। তোমাকে যেন এক অনিশ্চিত হায়নার শহরে ফেলে আসা হলো... এমন এক জায়গায়, যেখানে মানবতার মুখোশ পরা প্রাণীগুলো হায়নার চেয়েও হিংস্র। তুমি আমাদের চিনতে, জানতে, বিশ্বাস করতে শিখেছিলে। “মিনি” বলে ডাক দিলেই দৌড়ে আসতে আমার কাছে। খুনসুটি করতে তোমার ভাইদের সঙ্গে, একসাথে ঘুমাতে, খাবার ভাগ করে খেতে। সেই ছোট ছোট মুহূর্তগুলো ছিল অনেক বড় ভালোবাসা। আমি ঘুমিয়ে থাকলে তুমি নিঃশব্দে এসে খোঁজ নিতে... আমি টের পেতাম, তোমার নিঃশব্দ ভালোবাসা। তুমি কতটা মিশুক ছিলে! মাশাআল্লাহ। কিন্তু এখন সবই যেন থেমে গেছে। আর “মিনি” বলে ডাক দিলেই তুমি আসবে না। বিছানায় ঘুমাবে না। ব্যালকনিতে বসে বাতাসের গন্ধ নিবে না। তোমার স্পর্শ, তোমার চোখের ভাষা সব যেন স্মৃতি হয়ে গেল। আমি জানি, আমি হেরে গেছি। তুমি এখন বড় হয়েছো। হয়তো ক’দিন পরেই বাচ্চা দেবে। আর এই ভয়েই সবাই দূরে সরে গেল। আমিও… অবশেষে নিজেকে বেছে নিলাম। হ্যাঁ, চাইলেই ...

ভিয়েতনামের সাথে বাংলাদেশের তুলনা

  ভিয়েতনামের সাথে বাংলাদেশের তুলনা করা বোকামি হচ্ছে। ভিয়েতনাম বলেছে আমেরিকার সকল পণ্য তার দেশে বিনা শুল্কে ঢুকতে পারবে কিন্তু তার দেশ থেকে আমেরিকাতে পণ্য গেলে ২০% শুল্ক দিতে হবে। দ্বিতীয়ত ভিয়েতনাম চীনের একেবারে নিকটবর্তী একটি দেশ। সম্প্রতি চীনা কোম্পানিগুলো তাই তাদের সব মাল তৈরি করে ভিয়েতনামে পাঠিয়ে দিতো। তারপর সেখানে সেগুলো কেবল এসেম্বলি হতো এবং মেড ইন ভিয়েতনাম লেখা থাকতো। এভাবে চীন শুল্ক এড়াতো। কিন্তু বর্তমানে ভিয়েতনাম চুক্তি করেছে এমন ক্ষেত্রে ৪০% শুল্ক দিবে সে। এই রকম চুক্তি কি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য? দ্বিতীয়ত বাংলাদেশ কী আমেরিকাকে নিজ দেশে মুক্ত বাণিজ্য করতে দিয়ে নিজে শুল্ক খাওয়ার চুক্তি করবে? এই ধরণের কার্যক্রম আদতে কতটা লাভজনক হবে এবং ভূ রাজনীতির সমীকরণে কি পরিবর্তন আনবে তা বোঝা জরুরী। একটা কথা মনে রাখতে হবে যে চীন এবং ভিয়েতনাম পরস্পর ভূ রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। সেহেতু সে নিরাপত্তা জনিত কারণে আমেরিকার কোলে ঘেঁষতে চায়। এদিকে চীনে বিরুদ্ধে দাঁড়াতে আমেরিকার একটি ল্যান্ডিং পোস্ট লাগে। সেইটার জন্য ভিয়েতনাম অতি জরুরী স্থান। তার উপর ট্রান্সশিপমেন্ট (উপরে যা ব্যাখ্যা করেছি)...

শকুনের সংখ্যা দ্রুত কমতে শুরু করে...

  নব্বইয়ের দশকে ভারত এক ভয়াবহ পরিবেশ সংকটের মুখোমুখি হয়, যখন হঠাৎ করেই শকুনের সংখ্যা দ্রুত কমতে শুরু করে। তখন কেউ বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি কারণ শকুনকে তেমন প্রয়োজনীয় প্রাণী বলে মনে করা হতো না। কিন্তু এই প্রাণীগুলোর অভাবেই শুরু হয় বড় বিপর্যয়। মৃত পশুর দেহ পড়ে থাকত, যা আগে খেয়ে পরিষ্কার করে দিত শকুনেরা। ফলস্বরূপ, জীবাণুর বিস্তার ঘটে এবং বন্য কুকুরের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে থাকে। এই বন্য কুকুর মানুষকে কামড়াতে শুরু করে, বাড়ে জলাতঙ্কের মতো মারাত্মক রোগ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে ভারতে প্রায় ৪৭ মিলিয়ন কুকুরের কামড়ের ঘটনা রেকর্ড হয় এবং মারা যায় প্রায় ৩৪,০০০ মানুষ। শুধু জনস্বাস্থ্যের দিক থেকেই ক্ষতি হয়েছিল প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার। অনেক গবেষণার পর ২০০৩ সালে জানা যায়, গবাদি পশুর ব্যথানাশক হিসেবে ব্যবহৃত ডাইক্লোফেনাক নামক ওষুধই শকুনদের মৃত্যুর জন্য দায়ী। মৃত গরুর শরীরে থাকা এই ওষুধের বিষক্রিয়া শকুনের শরীরে কিডনি বিকল করে দেয় ফলে তারা মারা যেতে থাকে। তখনই ভারত সরকার পশু চিকিৎসায় ডাইক্লোফেনাক নিষিদ্ধ করে। এই ঘটনা সবাইকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, যেসব প্রাণীকে আমরা ...

পায়রা বন্দর নির্মান করতে গিয়ে

  পায়রা বন্দর নির্মান করতে গিয়ে মোট পনেরো হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে তারপরেও সেখানে ভিড়তে পারছে না বিদেশী জাহাজ। কারণ, নদীর গভীরতা ৬ মিটার। বড় জাহাজ আসতে নদীকে গভীর হতে হবে ১০ মিটার। তো বানালি কেন? আর বানালাই যদি এখন সমাধান কী? সমাধান হিসেবে বলল নদী খনন করতে হবে। এর জন্য তীব্র ডলার সংকটের মাঝেও ছয় হাজার কোটি টাকা রিজার্ভ থেকে খরচ করে ড্রেজিং করা হলো। বিশাল এই খরচের পরেও একটি জাহাজ ভিড়তে আসলো না। কেন আসলো না? কারণ তখন জেটি নির্মাণ বাকই ছিল। ছোট জেটিতে বড় জাহাজ আসবে না। এবার জেটি নির্মাণ করা শুরু হলো যতক্ষণে জেটি নির্মাণ কাজ শেষ হলো ততক্ষণে আবার নদীতে পলি পড়ে গভীরতা নেমে আসলো ৬ মিটারে। অর্থাৎ, আগে যেই ছয় হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছিল তা একেবারে জলে গেছে। পরিপূর্ণ অপচয়। আপনি টাকা খরচ করেছেন জাহাজ আনতে। কিন্তু নদী আগের মতন হয়ে গেছে। এখন আবার খুঁড়তে হবে। এর মাঝে একটি জাহাজও আসে নাই। এবারে বোঝা গেছে আমি কেন সরকারী উন্নয়নের তথা কর, ভ্যাট ও শুল্ক বিরোধী? সত্যি কথা বলতে ইসলামের মডেল হচ্ছে প্রাইভেট উদ্যোগের। সেখানে সরকার কিছু করবে না ব্যক্তি করবে এবং সরকার কর ভ্যাট নিবে না। কারণ একজন ব্যক্ত...

প্রযুক্তি খাতকে বেসরকারি পর্যায়ে নিয়ে আসা

  চীন এমন কিছু পেরেছে যা গেম চেঞ্জিং - প্রযুক্তি খাতকে বেসরকারি পর্যায়ে নিয়ে আসা। ব্যাখ্যা করা যাক বিষয়টি কী এবং কেন এত গুরুত্বপূর্ণ। উন্নয়নশীল দেশের সাথে উন্নত দেশের পার্থক্য হচ্ছে উন্নয়নশীল দেশে উন্নয়ন হয় সরকারি। এই যেমন ভারতের কথা চিন্তা করেন। তারা কোন কিছু নতুন করে আবিষ্কার করতে পারে না। বরং বিদেশের জিনিস নিজেরা বানানোর চেষ্টা করে আর তারপরেও যত বড় বড় প্রযুক্তি অর্জন আছে তার সব মূলত সরকারি। একটি দেশের নাগরিক এবং কর্পোরেশনের মূল ধারা উদ্ভাবনে নিয়োজিত করতে পারছে না। কেবল ভারত না। বিশ্বের ১০০ টি উন্নয়নশীল দেশের ১০০ টি তেই এই সমস্যা। এমনকি রাশিয়াতেও। এইটা একটা ক্রিটিকাল ব্লক যা অনেকে অতিক্রম করতে পারে নাই। সেই জায়গা চীন অতিক্রম করেছে। বর্তমানে এন্ড্রয়েডের বিকল্প, মাইক্রোসফটের বিকল্প তৈরি করেছে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান - হুয়া ওয়েই। উন্নত চিপ ডিজাইন করছে শাওমি। Ev তে বিশ্বসেরা কোম্পানি byd প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান। ড্রোনে বিশ্বের সেরা কোম্পানি প্রাইভেট। এআই তে আমেরিকার বিকল্প বলতে আছে ডিপসিক তাও বেসরকারি। আছে বিশ্ব সেরা ব্যাটারি নির্মাটা CATL যেই সকল খাতে এখনও বেসরকার...

১২ দিনের বোম্বিং

  ১২ দিনের বোম্বিং দ্বারা ইরানে যত মানুষ মারা গেছে (৬১০) তার কয়েক গুণ বেশি মানুষ মারা গেছে কেবল জুলাই মাসের পাঁচ দিনে। একবার চিন্তা করেন - আমাদের দেশের দরিদ্র মানুষেরা কি পরিমাণ ত্যাগ নিরবে আমাদের জন্য করে গেছে। মোহাইমিন পাটোয়ারী ============================================================ মানুষের জীবন কত অনিশ্চিত চিন্তা করেন। ধানমন্ডিতে এক জায়গায় গাড়িতে করে গিয়েছিলাম। গাড়ি রেখে স্ত্রী সন্তান নিয়ে ডাক্তারের কাছে গেলাম। কিছুক্ষণ পর কল আসলো গাড়ির উপর পাথর মারা হয়েছে ফ্রন্ট গ্লাস ভেঙে গেছে। তাড়াতাড়ি এসে বুঝলাম ভাগ্য ভালো যে এইটা গাড়িতে পড়েছে। চোদ্দ তলা ভবনের ছাদের থেকে হাতের তালুর সাইজের পাথর মারা হয়েছে। মাথার উপর পড়তে পারতো কারো আমার বা আমার বাচ্চার উপর পড়তে পারতো। বাঁচার কোন সম্ভাবনা ছিল না সেক্ষেত্রে। খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম অল্প বয়সের ছেলে খেলা হিসেবে মেরেছে এই পাথর। তার বাবা পরে গ্লাস ঠিক করে দিয়েছে। কিন্তু যদি এই জিনিস কারো গায়ে পড়তো শত চিৎকার করে কি কিছু ফেরত পাওয়া যেতো? আল্লাহ যে নিরাপদ রাখছেন প্রতিদিন সেইটা সুযোগ। ভালো কাজ করার সুযোগ। আর কিছু না। m patwa...

আপনার পোষা পাখিটা

  আপনার পোষা পাখিটা যখন ঠোঁট নেড়ে নেড়ে মিষ্টি শব্দ করে ডাকে, তখন ওর মনের ভেতরও অনেক আশা থাকে "আজকে নতুন কী খাবো?" শুধু বীজ আর দানাদার খাবার খাইয়ে যদি আপনি ভাবেন যে আপনার দায়িত্ব শেষ তাহলে আপনি ভুল ভাবছেন! পাখিও মানুষদের মতোই নতুন নতুন স্বাদের দিকে ঝুঁকতে চায়। ওদেরও লাগে সুস্বাদু, রঙিন আর পুষ্টিকর কিছু, যেটা ওদের শরীর ভালো রাখবে, মন খুশি করবে। তাই প্রতিদিনের খাবারে যোগ করুন তাজা ফল আর সবজি। যেমন ধরুন, আপেল (বীজ ছাড়া), কলার টুকরো, গাজরের পাতলা স্লাইস কিংবা ব্রকোলির ছোট ছোট ফুল। এগুলো শুধু খেতে ভালো না বরং পাখির শরীরের জন্য দারুণ উপকারী। গাজরে থাকে বিটা-ক্যারোটিন, যা শরীরে গিয়ে ভিটামিন A-তে রূপ নেয়। এই ভিটামিন পাখির চোখের জ্যোতি বাড়ায় এবং পালক চকচকে করে তোলে। আবার আপেলে থাকে ফাইবার, যা হজমশক্তি ঠিক রাখে। "ব্রকোলি, পালং শাক, কর্ন"এগুলোর মাঝেও আছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, ভিটামিন B ইত্যাদি পুষ্টিকর উপাদান। গবেষণায় দেখা গেছে, বন্য পাখিরা প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় নানা রকম গাছের ফল, ফুল, পাতা খায়। National Wildlife Federation–এর মতে, এই বৈচিত্র্যই তাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং...

আসুন, গাছকে ভালোবাসি

  আমি অনেক বছর ধরে এই মাটিতে দাঁড়িয়ে আছি। আমার বয়স যতই বাড়ে, স্মৃতি তার চেয়েও গভীর হয়। এই সময়ের মধ্যে আমি বহু প্রাণীর আশ্রয়স্থল হয়েছি। পাখিরা আমার ডালে বাসা বাঁধে, তাদের ছানাগুলো আমারই কোলে চোখ মেলে পৃথিবী দেখে। মৌমাছিরা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে আমার শরীরে বাসা বানায়। ছোট পোকামাকড়, কীটপতঙ্গ, এমনকি কেঁচোরাও আমার শিকড়ের নিচে বাস করে। আমি তাদের আশ্রয় দিই, খাবার দিই, বাঁচার অবলম্বন দিই। তবুও আমার কোনো অভিযোগ নেই। আমি কাউকে তাড়াই না বরং সবাইকে নিয়েই গর্বে বাঁচি। কারণ আমি জানি, এই পৃথিবীটা কেবল মানুষের নয়, এটা আমাদের সবার। কিন্তু তোমরা মানুষ! তোমাদের দৃষ্টি যেন শুধু নিজের প্রয়োজনেই আটকে থাকে। এত জমি, এত দালানকোটা, এত প্রযুক্তি তবুও একটা গাছের ঠাঁই রাখতে পারো না? প্রতিদিন তোমরা হাজার হাজার গাছ কেটে ফেলছো, যেন গাছ কাটা একটা সাধারণ কাজ। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছো, একটা গাছ কাটা মানে শুধুই কাঠ হারানো নয়? এতে একটা বাসা ভেঙে যায়, পাখি ছানা হারায়, মৌমাছি মধুর উৎস হারায়, মাটির নিচে থাকা প্রাণীরা আশ্রয় হারায়। এক গাছ কাটলে হাজার প্রাণী অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। গাছের ছায়া, পাতা, ফল, মাটির জলধারণ ক্ষমতা...

আমার পথ চলা আমার পথে

  আমার পথ চলা আমার পথে যেন বেলা শেষে আকাশ কার মোহে আমার স্বপ্ন আমার সাথে যেন স্বপ্নে ফিরে আসে স্বপ্ন হয়ে খুঁজে পায় জীবনের তীর জীবনকে কোনো স্বপ্ন ভেবে আমি কার আশাতে ছুটে চলি পথে পথে যেন কার মায়াতে বাধা পড়েছে জীবন যে কত সুখ কল্পনা কত মিথ্যে প্রলোভন কষ্টের প্রতিটি ক্ষণ শোনায় তার আহ্বান আমার আলোয় আলোকিত হতে চেয়ে আধাঁরে মিলিয়ে আমার স্বপ্ন আমার সাথে যেন স্বপ্নে ফিরে আসে স্বপ্ন হয়ে খুঁজে পায় জীবনের তীর জীবনকে কোনো স্বপ্ন ভেবে আমি কার আশাতে ছুটে চলি পথে পথে যেন কার মায়াতে বাধা পড়েছে জীবন যে কত সুখ কল্পনা কত মিথ্যে প্রলোভন কষ্টের প্রতিটি ক্ষণ শোনায় তার আহ্বান আমি আজ নেই তবু কত সুর ওঠে বেজে তোমার ঐ গানের মাঝে এই পথ গেছে মিশে আমার বেলা শেষে স্বপ্ন ফিরে আসে পৃথিবীর দূর দেশে জীবনকে কোনো… artcell

“রানীসুলভ” বিড়াল

  আমরা যারা বিড়াল ভালোবাসি, তাদের একটা বড় দুর্বলতা হলো ওদের আদর করে কোলে নেওয়া। নরম তুলতুলে শরীরটা একবার কোলে তুললেই মনে হয় পৃথিবীর সব শান্তি যেন সেখানে মিশে আছে! কিন্তু সাবধান, সব বিড়াল সেই শান্তিতে ভেসে যেতে চায় না! অনেক বিড়ালের জন্য হঠাৎ কোলে তোলা মানে একপ্রকার “আপদ”। গবেষণা বলছে, বিড়ালকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোলে তুললে মানসিক চাপ বেড়ে যায় এবং ভবিষ্যতে সে আপনাকে এড়িয়ে চলতে পারে (Finka et al., 2019, Journal of Veterinary Behavior)। তাই প্রথমেই বিড়ালের শরীরের ভাষা বুঝতে শিখুন। ও লেজ নাড়াচ্ছে কি না, কান পেছনে নিয়ে নিচ্ছে কি না, চোখ বড় করে বিরক্ত দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে কি না... এসব লক্ষণ বলছে, "এই মুহূর্তে আমাকে একা থাকতে দাও!" Finka ও তার সহগবেষকরা ২০২২ সালে একটি গবেষণায় বলছেন, বিড়ালকে কোলে নেওয়ার সঠিক কৌশল হচ্ছে "CAT" পদ্ধতি... C মানে Choice and Control, অর্থাৎ ওর সম্মতি; A মানে Attention to body language, অর্থাৎ ওর সিগন্যাল বোঝা; আর T মানে Touch appropriately, অর্থাৎ যত্নসহকারে আদর করা। এই নিয়মগুলো মানলেই বিড়াল নিজ থেকেই আপনার কোলে এসে আরাম করে বসব...

খুতবা চলাকালে পুলিশ যখন গু*লি চালাচ্ছিল

  ১৯ তারিখ জুমার খুতবা চলাকালে পুলিশ যখন গু*লি চালাচ্ছিল, এই ছেলেটা সামনে এগিয়ে যায় কথা বলতে, যাতে কিছুক্ষণের জন্য হলেও সংঘর্ষ বন্ধ থাকে। আমরা কয়েকজন তখন আজমপুর বিডিআর মার্কেট কাচাবাজার মসজিদের দেয়াল ধরে ইট হাতে দাঁড়িয়ে দেখছি সব। সবাইকে অবাক করে দিয়ে হাসিমাখা ছেলেটার সামনে এসেই তারা কোমড়ে বন্দুক ঠেকিয়ে সবার সামনে গু*লি করে দেয়। খুব সম্ভবত পেটের ডানপাশ থেকে নাড়ি*ভুঁড়ি বের হয়ে আসলে সে নিজের এক হাত দিয়ে তা চেপে ধরে ঐখানেই পড়ে যায়। খোঁজ নিয়ে জানতে পারি ছেলেটার নাম রাতুল, নওয়াব হাবিবুল্লাহর ছাত্র। এ যাত্রায় বেঁচে ফিরলেও চিকিৎসার অভাবে বেডে পড়ে কাতরাচ্ছে। উত্তরা ক্রিসেন্ট থেকে সিএমএইচ, পরিপূর্ণ চিকিৎসা কোথাও পায়নি। ঘাতক পুলিশেরও কিছু ছবি পেয়েছি যা এই পোস্টে সংযুক্ত করে দিচ্ছি। গু*লি চলার পড়ে মসজিদের মিম্বার থেকে খুতবায় ইমাম সাহেবের ঘোষনা আসে, "যারা বাইরে গু*লি চালাচ্ছেন, তাদের জন্য আমি জাহান্নামের সুসংবাদ দিচ্ছি" শুধু আখেরাতে নয়, দুনিয়াতেও আমরা এদের জীবন জাহান্নাম বানায় দিতে চাই। লেখা : Arifin Rafi

পথ কুকুরদের জন্য

  জানেন কি? ভুটান এখন এমন একটা কাজ করে দেখিয়েছে যেটা অনেক বড় বড় দেশও এখনও করতে পারেনি। ২০২৪ সালের মধ্যে ভুটান তাদের দেশের ১০০% পথ কুকুরকে ভ্যাক্সিনেটেড এবং স্টেরিলাইজড করেছে। মানে, রাস্তায় যেসব কুকুর ঘোরাঘুরি করে তাদের সবাইকে র‍্যাবিসসহ অন্যান্য রোগের টিকা দেওয়া হয়েছে আর জন্মনিয়ন্ত্রণও করা হয়েছে যেন ভবিষ্যতে এদের সংখ্যা আর না বাড়ে। এটা শুধু একটা পশু কল্যাণমূলক কাজ না বরং পুরো দেশের জনস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও মানবিক মূল্যবোধের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। এই বিশাল কাজটা তারা করেছে "National Dog Population Management and Rabies Control Project" (NDPM & RCP) নামের একটা প্রকল্পের মাধ্যমে। ভুটানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, গৃহস্থালি ও পশুসম্পদ বিভাগ আর আন্তর্জাতিক সংস্থা Humane Society International (HSI) একসাথে কাজ করেছে এই উদ্যোগে। ২০০৯ সাল থেকেই তারা পরিকল্পনা নিয়েছে আর ধাপে ধাপে দেশের প্রতিটি অঞ্চলের কুকুরদের নিয়ে কাজ শুরু করেছে। এই পুরো প্রক্রিয়া চলেছে একটা সুন্দর ও মানবিক পদ্ধতিতে, যার নাম "Catch, Neuter, Vaccinate and Release" বা সংক্ষেপে CNVR। মানে, কুকুরদের প্রথমে ধরেছে, ...

আশুরার চেতনায় নির্মিত হোক দুঃশাসনমুক্ত সমাজ

  আশুরা! এক হৃদয়বিদারক ইতিহাসের নাম। কারবালার প্রান্তরে ঘটে যাওয়া অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে ন্যায় এবং সত্যের আত্মত্যাগের জ্বলন্ত উদাহরণ। ইসলামের ইতিহাসে এ দিনটি গভীর বেদনার, একই সঙ্গে উদ্দীপনারও। এটি শুধু শোক আর স্মরণের দিন নয়; বরং এটি প্রতিবাদের, প্রতিরোধের এবং চেতনার দিন। যে চেতনা দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সত্যের ঝান্ডা উঁচিয়ে ধরতে শেখায়, অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে মাথা নত না করে শহীদ হতে শিক্ষা দেয়। হিজরি ৬১ সালের ১০ মহররম, কারবালা প্রান্তরে নবীজি (সা.)-এর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র হুসাইন (রা.) ও তার পরিবারসহ ৭২ জন সাথি অন্যায় শাসকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে শহীদ হন। তাদের অপরাধ ছিল একটিই, তা হলো জালিমের বায়াত না করা এবং সত্য ও ইনসাফকে সমর্থন করা। তারা রক্ত দিয়ে ইতিহাস লিখে গেছেন যে, সত্যের পথ কখনোই চুপ করে থাকার নয়, অন্যায়কে মেনে নেওয়া ঈমানের পরিপন্থী। কারবালার শহীদরা আমাদের দেখিয়ে গেছেন, জীবন হারানো যায়, কিন্তু অন্যায়ের কাছে মাথা নত করা যায় না। তারা আমাদের শিখিয়েছেন, শুধু ভাষণে নয়, বাস্তব জীবনে সত্য ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য আত্মত্যাগ করতে হয়। আর এই শিক্ষা গ্রহণ করেই গড়ে তুলতে হবে একটি দুঃশাসন...

সোশ্যাল মিডিয়াতে ইনকাম ও তার বাস্তবতা

  📲 সোশ্যাল মিডিয়াতে ইনকাম ও তার বাস্তবতা 🎥 বাস্তবতা না বুঝে রিলস বানানোর নামে জীবনের ভারসাম্য হারানো… বর্তমানে বহু তরুণ-তরুণী ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা ইউটিউবে ভিডিও বানিয়ে ইনকাম করার আশায় দিনরাত সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যস্ত। সকাল-বিকেল রিলস বানানো, এডিটিং, ভিউ বাড়ানো নিয়ে এতটাই ডুবে থাকে যে পরিবার, পড়াশোনা, চাকরি এমনকি সম্পর্কও উপেক্ষিত হয়ে যায়। 📉 ফলাফল: সংসারে অশান্তি, আত্মবিশ্বাসে ভাটা, ক্যারিয়ারে অনিশ্চয়তা। 🔍 সোশ্যাল মিডিয়া ইনকামের প্রকৃত চিত্র (বাংলাদেশ-ভারত ভিত্তিক সমীক্ষা) ✅ মাত্র ৫-১০% মানুষ নিয়মিত ইনকাম করে ❌ বাকিরা ইনকামের আশায় সময় ও শ্রম নষ্ট করে ✅ যাদের কাছে পরিকল্পনা, দক্ষতা ও ধৈর্য আছে, তারা সফল হয় ❌ ভিউ/লাইক কম হলে মানসিক হতাশা দেখা দেয় 🧩 যে বিষয়গুলো অনেকেই ভুল বোঝে 1. সবাই ইনফ্লুয়েন্সার হতে পারে না 👉 প্রতিভা, ধারাবাহিকতা এবং সত্যিকারের কনটেন্ট দরকার। 2. ভিউ মানেই টাকা না 👉 ফেসবুকে ইনকাম করতে হলে রয়েছে অনেক নিয়ম ও সীমাবদ্ধতা (যেমন: Reels Bonus, Ad Monetization, Affiliate Marketing)। 3. কেবল ভিডিও বানিয়ে ইনকাম আসবে এ ধারণা ভুল 👉 রেগুলার ও মানসম্মত কনটেন্ট,...

আজকের এই হয়রানি

  ৪০ ডলার দিয়ে ছেলের জন্য খেলনা ড্রোন অর্ডার করেছিলাম আলি এক্সপ্রেসে। কাস্টমস এ আটকা পড়েছিল ঈদের আগে। আজকে ছাড়াতে গিয়েছিলাম, বিশ টাকার রাজস্ব স্ট্যাম্প চাইলো পাঁচশো টাকা, দামাদামি করে দিলাম আড়াইশো টাকা। এরপর ভোটার আইডি আর আবেদনসহ পাঁচ নম্বর কামরা থেকে গেলাম ছয় নম্বর কামরায়। সেখানে মুরুব্বি বললেন, "একটু বসেন।" এত সুন্দর আচরণ করলেন, মনে হলো নেহাতই ভালো লোক। আশ্বস্ত হলাম; মনে হলো এই লোক থাকতে আর কোন চিন্তা নাই। পনের বিশ মিনিট পর পিয়ন আসলে উনাকে দিয়ে আমার বক্সটা খোঁজে বের করলেন। আমাকে বললেন পাঁচ নম্বরে গিয়ে কর্মকর্তা কে ডেকে আনতে। উনি বক্স খোলে দেখবেন ভেতরে কী আছে। কর্মকর্তাকে ডেকে আনলাম, বক্স খোলা হলো। দেখে সাইন করে চলে গেলেন, আমিও সাইন করলাম। আমি ভাবলাম, মামলা শেষ। একটু আগে যিনি বলেছিলেন, "আপনার কি টাকা বেশি হইছে? কেন এদেরকে টাকা দেন? সরকার বেতন দেয় না আমগো?" তিনিই পিয়নকে খাম্বার আড়ালে পাঠালেন। চাচায় বললো, "কিছু খরচাপাতি দেন।" আমি বললাম, "নগদ টাকা নাই আপনার বিকাশ নম্বর দেন।" পাশ থেকে মুরুব্বি বললেন, "বিকাশে নিও না, পরে ঝামেলা হবে।" ...

বিসিএস দিয়া কাস্টমসে চাকরি

  কেন আমাদের দেশ কিছু তৈরি করার বদলে সবকিছু কিনে ফেলতে চায় তার একটি বড় কারণ হচ্ছে দুর্নীতি। ধরুন, বাংলাদেশের মিসাইল দরকার। এখন যদি বিদেশ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারের মিসাইল আমরা কিনে ২০% পকেটে পুরতে পারি এক কোপে বিলিয়নিয়ার। সেই তুলনায় বছরের পর বছর বিজ্ঞানী তৈরি করে, শিল্প গড়ে, প্রাইভেট সেক্টর শক্তিশালী করে, বাণিজ্য ও লাইসেন্স সহজনীকরণ করে একটা কিছু গড়ে তোলা অনেক সময়, ধৈর্য ও কষ্টের কাজ। এত কষ্ট না করে এক কোপে নিজে ধনী হলাম; মানুষকেও খুশি করলাম একেবারে সর্বশেষ প্রযুক্তি দিয়ে বিষয়টা জয়-জয় পরিবেশ না? সেজন্যই বাংলাদেশের উন্নতি হয় না, কেবল ডলার রিজার্ভ শেষ হয়। আর বিদেশে কালো টাকা পাচার হয়। তাই নৈতিক শিক্ষা বিজ্ঞান শিক্ষার আগে জরুরী। নৈতিকতাহীন জাতিকে আপনি যত শিক্ষা, বুদ্ধি বা অর্থ দেন তারা এইটা সঠিক কাজে লাগাতে পারবে না। বোঝা গেল বিষয়টা? m patwary বিসিএস দিয়া কাস্টমসে চাকরি পাইছিলো এক ভাই। বেতন বলে ৩৮ হাজার টাকা।ভাইরে জিগাইলাম, এত কম বেতনে সংসার চলব? ভাই কইছিলো,তিন বছর কষ্ট কইরা এই চাকরি পাইছি। কষ্টের টাকায় বরকত আছে। এক বছর পর আজকে হঠাৎ ভাইর সাথে দেখা। গল্প শুনাইলো ঢাকায...

বসে আছি একা

  বসে আছি একা কাঁচা রোদ বিকেলে উদাস বৃষ্টি শেষে রূপালী আকাশ মেঘে জানালাতে ঝিলমিল সোনালী আভায় ঝিরঝির বহে হিমেল বাতাস সোনালী আভায় সাথে ফিরি আমি মেঘে মেঘান্তরে হিমেল বাতাসে ডানা মেলি আমি দূরে দূরান্তরে বসে আছি একা কাঁচা রোদ বিকেলে উদাস বৃষ্টি শেষে রূপালী আকাশ মেঘে জানালাতে ঝিলমিল সোনালী আভায় ঝিরঝির বহে হিমেল বাতাস পাখিরা সব মেতেছে আজ কুঞ্জবনে মাতাল করেছে এই মন গানে গানে নিবিড়ে আজ কেটে যায় এ ক্ষণ প্রজাপতি হয়ে ফিরবো ফুলে ফুলে তবু কেন এত ব্যথা জাগে মনে অশ্রুধারা হৃদয়! বসে আছি একা কাঁচা রোদ বিকেলে উদাস বৃষ্টি শেষে রূপালী আকাশ মেঘে জানালাতে ঝিলমিল সোনালী আভায় ঝিরঝির বহে হিমেল বাতাস পাখিরা সব মেতেছে আজ কুঞ্জবনে মাতাল করেছে এই মন গানে গানে নিবিড়ে আজ কেটে যায় এ ক্ষণ প্রজাপতি হয়ে ফিরবো ফুলে ফুলে তবু কেন এত ব্যথা জাগে মনে অশ্রুধারা হৃদয়! বসে আছি একা কাঁচা রোদ বিকেলে উদাস বৃষ্টি শেষে রূপালী আকাশ মেঘে জানালাতে ঝিলমিল সোনালী আভায় ঝিরঝির বহে হিমেল বাতাস সোনালী আভায় সাথে ফিরি আমি মেঘে মেঘান্তরে হিমেল বাতাসে ডানা মেলি আমি দূরে দূরান্তরে সোনালী আভায় সাথে ফিরি আমি মেঘে মেঘান্তরে সেই হিমেল বাতাসে ডানা ম...

আপনার সন্তান কোন ভুল করে ফেললে

  আপনার সন্তান কোন ভুল করে ফেললে প্রথমে তাকে শাসন করবেন না। বরং বুকে জড়িয়ে ধরে বলুন, যে‌ বাবা-মা সব অবস্থায় তোমার পাশে আছে।‌তার ভরসার জায়গা হোন। ছোটরা অনেক ভুল করে ফেলে। ভুল মানুষের সাথে সম্পর্কে জড়ায়। নেশায় জড়িয়ে যায়। প*র্ণ আসক্ত হয়ে যায়। নিজের প্রাইভেট ছবি অন্যকে দিয়ে ফেলে। ‌ দুষ্ট বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে খারাপ কাজ করে। সে যাই করুক না কেন, সে যেন আপনার কাছে ফিরে আসতে পারে। সে যেন বাবা মাকে ভয় না পায়। অপরাধ করলে বাবা-মার কাছে নিঃসংকোচে বলতে পারে। আপনার শাসনের চাইতেও অনেক বেশি দরকার একটা ভরসার জায়গা। সে যেন বুঝে বাবা-মা সকল বিপদে আপদে, দুঃখে কষ্টে আমার পাশে আছে। আমরা কেউ নিখুঁত নই। বড়রাও অনেক কাজ করি যা করা উচিত নয়। ছোটরা তো করবেই। ‌ আপনার সন্তানের ভরসার জায়গা হয়ে দেখুন, সে বিপথে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে। বিপথে গেলেও সে আবার ফিরে আসবে। বাংলাদেশের অনেক বাবা-মা বেশি শাসন করতে যেয়ে বাচ্চাদের ভরসার জায়গা হয়ে উঠতে পারে না। এই ভুলটি করবেন না। নিজ সন্তানকে বুকের একদম মাঝখানে আগলে রাখুন। তাকে জড়িয়ে ধরে বলুন, যে বাবা তুমি ভুল সঠিক যাই কর...

আকাশকে জিজ্ঞেস করি

  আকাশকে জিজ্ঞেস করি তোমায় রাঙ্গায় কে কার হাতেরই ছোঁয়াতে মেঘ জেগে ওঠে নীল সাদার খেলাতে আমি হারিয়ে যাই জীবনের কষ্টের মাঝে কি সুখ খুঁজে পাই চাইনা আমি সোনার চামচ আমারই মুখে চাইনা আমি অসীম খ্যাতি আমার জগতে আকাশের এই শূন্যতায় কত কি আছে এক নিঃশ্বাসে মিশে যাই আকাশের সাথে প্রায় ইচ্ছা করে আমার রাতের বেলাতে ঘাসের মেঝেতে শুয়ে তারাদের দেখতে সারা বিশ্ব হয়ে যায় আমার নিজের ঘর খোলা আকাশের নিচে সবাই যাযাবর চাইনা আমি সোনার চামচ আমারই মুখে চাইনা আমি অসীম খ্যাতি আমার জগতে আকাশের এই শূন্যতায় কত কি আছে এক নিঃশ্বাসে মিশে যাই আকাশের সাথে... watson brothers

শেফালী জেরিওয়ালার মৃত্যু

  শেফালী জেরিওয়ালার মৃত্যু নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। সৃষ্টিকর্তা তাকে পরপারে ভালো রাখুক। উনার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আমার কোন আগ্রহ নেই। কিন্তু ওনার মৃত্যুর পর উনাকে এমন ভাবে গ্লোরিফাই করা হচ্ছে যেন রেখা বা হেমা মালিনী উচ্চতার কোন অভিনেত্রী মারা গেছেন। অথচ উনি ছিলেন শরীর সর্বস্ব একজন আইটেম গানের মডেল। তার 'কাটা লাগা' গানটি যখন ২০০২ সালে বের হয় তখন আমরা দশম শ্রেণীতে পড়ি। ওই সময় এ ধরনের গান একদমই ছিল নতুন । আইটেম গানের শুরু তখন থেকেই বলা যায়। যার ধারাবাহিকতা এখনো চলছে। এখনকার বাণিজ্যিক সিনেমাগুলোতে আইটেম গান থাকবেই। একটা মেয়ে তার শরীরের নানা ভাজ দেখিয়ে পুরুষের মনোরঞ্জন করবে এটাই এখন শিল্প। ‌ ভালো অভিনেত্রীদের চাইতে আইটেম গানের শিল্পীদের কদর এখন বেশি। এর শুরুটা করেছিলেন শেফালী। আমাদের দেশে তাসনিয়া ফারিন, সাবিলা নূরের মত ভালো অভিনেত্রীরাও এখন আইটেম গান করছেন। তারাও বুঝে গেছেন আলোচনায় থাকতে গেলে এটা ছাড়া গতি নাই। ‌ তারা জানে যে তারা যদি ভদ্রভাবে অভিনয় করে তাহলে তাদের নাম খ্যাতি বেশিদূর আগাবে না। তার চাইতে ‌গ্ল্যামারাস নায়িকা হলেই বরং তারকা খ্যাতি বেশি। অথচ আফসানা ...