Skip to main content

চীনের জন্য এডভান্স রোবটিক্স


 চীনে যেই বিভিন্ন প্রদেশ এবং শহর আছে তাদের নেতা নির্বাচিত হয় না বরং সিলেক্টেড হয় যোগ্যতার ভিত্তিতে।

যেই ভিত্তিতে যোগ্যতা নির্ণয় করা হয় তা হচ্ছে ১ অর্থনৈতিক উন্নয়ন ২ কি পরিমাণ প্রযুক্তিগত উন্নত হতে পেরেছে। যেমন - বিদেশী উন্নত শিল্পের কারখানা সেই দেশে এসেছে, নতুন নতুন কোন কোন প্রযুক্তি স্টার্ট আপ তৈরি হয়েছে এবং নতুন নতুন কি জিনিস বানাতে পেরেছে? ৩ প্রদেশে শান্তি শৃঙ্খলা কেমন ছিল। যেই ব্যক্তি তার নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে যত ভালো ফলাফল বয়ে আনতে পারে সে তত প্রমোশন পায়। অর্থাৎ, আপনার হাতে একটি উপজেলা ছিল। সেই অঞ্চলে আপনি উপরের তিনটি লক্ষ্য খুব ভালো ভাবে অর্জন করতে পেরেছেন। আপনি জেলার দায়িত্ব পাবেন। আরও ভালো করলে আরও উন্নত জেলা যেমন চট্টগ্রামের দায়িত্ব পাবেন। সেখানেও কৃতিত্বের পরিচয় দিলে আপনি কেন্দ্রীয় পলিসি মেকিং এ চান্স পাবেন। সব মিলিয়ে এটি মেধা ও যোগ্যতা ভিত্তিক ব্যবস্থা। কেউ একজন এলাকার শীর্ষ ব্যবসায়ই - সে অনেক টাকা খরচ করে পোস্টার ছাপিয়ে, লোক ভাড়া করে প্রোগ্রাম করে মেয়র হয়ে গেল এই জাতীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সেখানে নেই। ফলে চীনের কেন্দ্র যখন ঠিক করে আমাদের দেশকে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাণ শিল্পে বিশ্ব সেরা হতে হবে তখন প্রতিটি প্রদেশ উঠে পড়ে লাগে কে সবচেয়ে বেশী অবদান রাখতে পারে। তখন প্রদেশের সরকার কোম্পানিকে বলে তার কাছে আসতে, মেধাবীদের হায়ার করতে উঠে পড়ে লাগে। এমনকি একটি প্রদেশ সম্প্রতি বিদেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করে ফেরত গ্র্যাজুয়েটদের কোটি টাকা পর্যন্ত দিতে অফার দিয়েছে। এভাবে সবাই চেষ্টা করে এই শিল্পে ভালো করতে এবং যে সফল হয় সে জাতীয় পর্যায়ে সবার কাছে সম্মানিত হয়। টিভিতে তাঁকে নিয়ে রিপোর্ট করে ইত্যাদি। একইভাবে প্রতিটি প্রদেশ চেষ্টা করে সেরা মেধাবী শিক্ষার্থী তাদের প্রদেশ থেকে তৈরি হোক। ফলে শিক্ষার্থীদের সেরা করার ব্যাপারে সে সিরিয়াস থাকে। এবং প্রতি বছর তাদের প্রদেশের সেরা রেজাল্টধারীদের ব্যানার রাস্তায় টাঙ্গানো হয়। অর্থাৎ কে এলাকার রাজনৈতিক সভাপতি গুণ্ডা মাসাত তাদের ছবি দেখে শিশুরা বড় হয় না বরং এলাকার সেরা মেধাবীর ছবি তাড়া অনুপ্রেরণা হিসেবে নেয়। আবার ধরুন চীনের জন্য এডভান্স রোবটিক্স এবং এআই তে পাল্লা দিয়ে সামনে আগাতে হবে। এখন প্রদেশ যা করে তা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়কে বলবে রিসার্চ করতে। এই ব্যাপারে টাকা লাগলে প্রদেশ নিজেই দিবে। আবার ধরুন আপনি একজন উদ্যোগতা নতুন কোন প্রযুক্তি আনলেন যেমন র‍্যাম তৈরির কারখানা দিবেন (অনেকেইন হয়তো জানেন না যে চীন র‍্যাম তৈরিতে অনেক পিছিয়ে)। তো আপনি আপনার সকল ডকুমেন্ট প্রদর্শন করবেন এবং আঞ্চলিক সরকার বাজেট থেকে আপনার কোম্পানিতে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফাণ্ডের মতন বিনিয়োগ করবে। আপনাদের যৌথ মালিকানার কোম্পানি তারপরে উৎপাদনের যাবে। আপনি যদি সবকিছু সফল হয় আপনি সম্মানিত হবেন। প্রমোশন পাবেন ইত্যাদি। এজন্য প্রতিটি প্রদেশ প্রতিযোগিতা করে কীভাবে টাকাটা সেরা ভাবে ব্যয় করবো। এভাবে তারা একই সাথে টাকার উত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে এবং দেশের জন্য কি করলে উত্তম হবে সেই প্রতিযোগিতা করে নিজের উন্নতি করতে চায়। কেবলমাত্র এই ব্যবস্থার কারণে কেন্দ্রীয় সরকারে যারা আসে তাড়া অত্যন্ত যোগ্য, দেশপ্রেমিক এবং ভবিষ্যতে উন্নয়ন মুখী চিন্তার ব্যক্তি দ্বারা তৈরি হয়। চাটুকার, অসৎ ব্যবসায়ী, অযোগ্য সেলিব্রেটি, গায়ক বাদক, নারী কোটা ইত্যাদি দিয়ে দেশের মাথা ভরা থাকে না। চীনে যে দুর্নীতি নাই তা না। অনেক আছে। আমাদের দেশের মতই। তবে সিস্টেমের কারণে সে এগিয়ে গেছে। আমাদের দেশের মতন উন্নয়নশীল দুর্নীতি প্রবণ দেশের জন্যও তাই এই ধরণের ব্যবস্থা ভালো কাজে দিতে পারে। বর্তমানে যভাবে চলছে তা ভালো কিছু বয়ে আনবে বলে মনে হচ্ছে না।m patwary

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...