Skip to main content

Posts

Showing posts from January, 2026

রাজনৈতিক শাসন ব্যবস্থা

  সবাই জেনে রাখুন যে, রাজনৈতিক শাসন ব্যবস্থা শুধুমাত্র দুটি ভিত্তিতে বৈধভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। ১) প্রথমত, যেহেতু আল্লাহ সবকিছুর স্রষ্টা, তাই তিনি যে কোনো ব্যক্তিকে শাসক নিযুক্ত করতে পারেন। এই নিয়োগের বিরোধিতা কখনোই করা যাবে না। যেমন - আল্লাহ তায়ালা বনি ইসরাঈলের জন্য সলকে তাদের শাসক হিসেবে বাছাই করেছিলেন। পরবর্তীতে দাউদ (আ) এবং তার পুত্র সুলাইমান (আ) কেও তিনি বনি ইসরাইলের শাসক হিসেবে বাছাই করেছিলেন। একইভাবে আল্লাহর রাসূল (স) কেও আল্লাহ্‌ তায়ালা বনি ইসমাইল এবং আরবদের শাসক হিসেবে বাছাই করেছিলেন। এ বিষয়ে আমরা এই ভিডিও সিরিজে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছি। কেন রাসুল (সঃ) কে আরবে বিজয় দান করা হয়েছে এবং রিসালাতের বিশেষ বিধানটি কি? যার উপর ভিত্তি করে রাসূল (স) ইসলামি হুকুমত প্রতিষ্ঠা করেছিলেন । তবে আল্লাহ্‌ কর্তৃক এইভাবে সরাসরি শাসক নির্ধারণের কোনো উপায় বর্তমানে আর অবশিষ্ট নেই। কারণ আল্লাহ তায়ালা আসমান হতে ফেরেস্তা প্রেরনের মাধ্যমে এখন আর কোনো ব্যক্তিকে শাসক নির্ধারণ করবেন না। নবী রাসূলদের যামানার পরিসমাপ্তির মাধ্যমে এই পদ্ধতির ইতি ঘটেছে। ২) দ্বিতীয় উপায় হল আমরা মানুষরা পারস্পরিক ...

প্রতিশ্রুতি রক্ষা আল্লাহর হুকুম

  প্রতিশ্রুতি পূরণ করা নবী-রাসুল ও সৎকর্মপরায়ণ মানুষের বিশেষ গুণ এবং সম্ভ্রান্ত মানুষের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা পাপাচারী ও হীন মানুষের চরিত্র। প্রতিশ্রুতি পূরণ করা মুমিনের অন্যতম গুণ। এই গুণ অর্জন না করলে কেউ পরিপূর্ণ মুমিন হতে পারে না। মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের প্রতিশ্রুতি পূরণে যত্নবান হওয়ার আদেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা অঙ্গীকারসমূহ পূর্ণ করো।’ (সুরা-৫ মায়িদা, আয়াত: ১) কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ প্রতিশ্রুতির ব্যাপারে হিসাব নেবেন। পবিত্র কোরআনের ঘোষণা, ‘আর অঙ্গীকার পূর্ণ করো। অবশ্যই প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’ (সুরা–১৭ ইসরা, আয়াত ৩৪) ইসলামে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা ফরজ এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হারাম ও মোনাফেকির লক্ষণ। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) খুব কমই এমন খুতবা দিয়েছেন, যেখানে তিনি এ কথা বলেননি, ‘যার আমানতদারি নেই, তার ইমানও নেই; আর যার ওয়াদা ও প্রতিশ্রুতির মূল্য নেই, তার দ্বীন-ধর্মও নেই।’ (বায়হাকি, শুআবুল ঈমান)। তিনি আরও বলেছেন: ‘মুসলমান সেই ব্যক্তি, যার কথা ও কাজে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে।’ (তিরমিজি) নবী করিম ...

সর্বোত্তম গৃহের খোঁজে

  ‘মুহাম্মদ (সা.)-এর দৃষ্টান্ত হলো ভাগাড়ে গজিয়ে ওঠা খেজুরগাছের ন্যায়!’ পাঠক, বাক্যটি হৃদয়কে কী প্রচণ্ড আঘাতই না করে! তাই না? আনসারদের কতিপয় লোক নবীজির নিকট এসে নবীজিকে এ কথাই বললেন। তাঁরা বললেন, ‘আমরা আপনার জাতির কয়েকজনের কথা শুনলাম।’ এ কথার পরিপ্রেক্ষিতে নবীজি (সা.) কী উত্তর দিয়েছিলেন? ‘হে মানবমণ্ডলী! আমি কে’? তাঁরা বললেন, ‘আপনি আল্লাহর রাসুল (সা.)।’ তিনি বললেন, ‘আমি মুহাম্মদ ইবনে আবদিল্লাহ ইবনে আবদিল মুত্তালিব। আল্লাহ-তাআলা সব সৃষ্টিকে সৃষ্টি করেছেন, আর আমাকে বানিয়েছেন তাঁর সর্বোত্তম সৃষ্টি হিসেবে। সৃষ্টিকুলকে দুভাগে বিভক্ত করে আমাকে রেখেছেন সর্বোত্তম ভাগে; তারপর তিনি তাদের বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত করে আমাকে রেখেছেন সর্বোত্তম গোত্রে; তারপর তিনি তাঁদের বিভিন্ন গৃহে বিভক্ত করে আমাকে রেখেছেন সর্বোত্তম গৃহে। গৃহ বিবেচনায় আমি তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি, আবার ব্যক্তিসত্তার দিকে দিয়েও আমি তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩,৬০৭ ও ৩,৬০৮) আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিবের একটি পুত্রসন্তান ভূমিষ্ঠ হয়েছে। তারা তার নাম রেখেছে মুহাম্মদ। লোকেরা কানাঘুষা শুরু করল এবং বলল,...

আয়তুল কুরসি থেকে লাইফ লেসন

  আয়তুল কুরসি থেকে লাইফ লেসন 💢১. মেন্টাল লোড কমিয়ে ফেলুন (টেনশন ট্রান্সফার) আল্লাহ হলেন ‘আল-কাইয়ুম’—তিনি সব ম্যানেজ করছেন। যখনই কাজের চাপে মাথা খারাপ অবস্থা হবে, নিজেকে মনে করিয়ে দিন—পৃথিবীটা আপনি চালাচ্ছেন না। যিনি চালাচ্ছেন, তিনি সদা জেগে আছেন। নিজের সাধ্যমতো চেষ্টা করে ফলাফলের চিন্তাটা ‘ডিলিট’ করে দিন। মনটা হালকা লাগবে। 💢২. মালিকানা বোধ ছাড়ুন (ডিটাচমেন্ট) ‘আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সব তাঁর’ আপনার পকেটের ফোনটা, গায়ের জামাটা—আসলে আপনার না। আপনাকে কিছুদিনের জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হয়েছে। লিজ নেওয়া জিনিসের মতো। এটা ভাবলে দেখবেন, কোনো কিছু হারালে বা নষ্ট হলে আর বুক ফেটে কান্না আসছে না। 💢৩. নিজের সমস্যাকে ছোট করে দেখুন (পারসপেক্টিভ) যিনি বিশাল আসমান-জমিন সামলাতে গিয়ে ক্লান্ত হন না, আপনার ছোটখাটো সমস্যা তাঁর কাছে কিছুই না। যখনই মনে হবে আপনি শেষ, তখন আকাশের দিকে তাকান। ভাবুন, এই বিশাল গ্যালাক্সি যিনি সামলাচ্ছেন, আপনার ভাড়ার টাকা বা অফিসের ঝামেলার সমাধান করা তাঁর জন্য এক সেকেন্ডের ব্যাপার। শুধু ভরসাটা রাখুন। ওয়ালা ইয়াউদুহু হিফজুহুমা। ওয়া হুয়াল-আলিউল-আজিম (মাসুদ শরীফ ভাই...

কাকে ভোট দেওয়া উচিত, জানালেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

  ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার পাশাপাশি নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে। অনেকেই জানতে চাচ্ছেন, জাতীয় নির্বাচনে কাকে ভোট দেওয়া উচিত। এ প্রসঙ্গে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে পরামর্শ দিয়েছেন প্রখ্যাত ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ। তিনি বলেন, ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে কাকে ভোট দিলে সৎ এবং যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়া হবে, এটা আপনার বিবেককে জিজ্ঞাসা করবেন। আপনি যদি সঠিকটা উদ্ধার করার চেষ্টা করেন, কিন্তু এরপর দেখলেন যে, না আপনি আসলে যেটাকে সঠিক মনে করেছেন সেটা সঠিক হয় নাই, লোকটা রাইট পার্সন না- এ জন্য আল্লাহর কাছে আপনার কোনো দায় থাকবে না।তবে চেষ্টা করতে হবে, যে কয়জন আছে এর মাঝে সবচেয়ে ভালো সৎ-যোগ্য মানুষ কে। সে জিতবে কী জিতবে না এটা আপনার দেখার বিষয় না। আমাদের দেশের বেশিভাগ মানুষ এই জায়গাটায় এসে ভুল করে। মনে করে যে, তাকে ভোট দিয়ে লাভটা কী! ভোট নষ্ট হবে। ভোট নষ্ট হয় না উল্লেখ করে আহমাদুল্লাহ বলেন, একটা ভালো মানুষ যদি অল্প কয়টা ভোটও পায়, তাহলে সে এটার ওপর ভিত্তি করে সামনে আরও কয়টা পাবে,তারপর আবার আরও কয়েকটা পাবে। কিন্তু আপনি যদি ভোট দেওয়ার রাস্তাটা বন্ধ করেন অথবা সে ভোট ...

পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যস্ত প্রাণী

  আপনি কি কখনো ভেবেছেন, যদি পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যস্ত প্রাণীটা নিজের গুরুত্ব বুঝতে পারত, তাহলে সে কি গর্ব করত? সম্ভবত না। মৌমাছি গর্ব করে না। সে কাজ করে। আর ঠিক এখানেই আমাদের বাস্তব জীবনের সাথে তার সবচেয়ে গভীর মিল। আমরা অনেক সময় নিজেদের ছোট ভাবি, মনে করি আমাদের উপস্থিতি বা কাজের তেমন কোনো মূল্য নেই। ঠিক মৌমাছির মতোই আমরা বুঝতে পারি না, আমাদের প্রতিদিনের পরিশ্রম আসলে কার জীবনে কত বড় প্রভাব ফেলছে। মৌমাছি জানে না তার পরাগায়নের কারণে মানুষের খাবার জন্ম নিচ্ছে, সে শুধু নিজের দায়িত্ব পালন করে যায়। বাস্তব জীবনেও আমরা যখন সৎভাবে নিজের কাজটা করে যাই তখনই অজান্তে অনেক কিছু গড়ে উঠতে থাকে। মৌমাছি কখনো শোরগোল তোলে না, নিজের কষ্ট বা অবদান প্রকাশ করে না। সে নীরবে কাজ করে কিন্তু সেই নীরব কাজ ছাড়া পৃথিবীর ভারসাম্য ভেঙে পড়বে। আমাদের সমাজেও এমন অসংখ্য মানুষ আছে যারা আলোচনায় থাকে না কিন্তু পরিবার, প্রতিষ্ঠান বা সমাজ তাদের ওপরই দাঁড়িয়ে আছে। বাবা-মা, শিক্ষক, শ্রমজীবী মানুষ কিংবা সংগ্রামরত তরুণরা সবাই কোনো না কোনোভাবে মৌমাছির মতো নীরব যোদ্ধা। মৌমাছি বড় ফল পাওয়ার জন্য ছোট কাজকে অবহেলা করে না। প্রতিটি ফুলে ...

কুকুর মুখোশ চেনে না

  মানুষ যদি আপনাকে পছন্দ না করে তাতে কিছুই আসে যায় না। কিন্তু যদি কোনো কুকুর আপনাকে অপছন্দ করে তখন একটু থামা দরকার। কারণ কুকুর বিচার করে কথায় নয়, অনুভবে। সে আপনার পোশাক, পদবি বা কথার জোর দেখে না। সে দেখে আপনি কেমন মানুষ, ভেতরে কী বহন করছেন। এখানেই এই কথাটার গভীরতা লুকিয়ে আছে। মানুষের পছন্দ-অপছন্দ অনেক সময় স্বার্থ, ভুল বোঝাবুঝি বা পরিস্থিতির ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। আজ যে আপনাকে অপছন্দ করছে, কাল তার প্রয়োজন হলে সে-ই আবার হাসবে। কিন্তু কুকুর এমন নয়। সে হিসাব করে না, অভিনয় জানে না। আপনার আচরণে যদি ভয়, রাগ, নিষ্ঠুরতা বা অস্বস্তি থাকে তাহলে কুকুর সেটা দূর থেকেই টের পায়। তাই কোনো কুকুর যখন কাউকে এড়িয়ে চলে বা গর্জে ওঠে, সেটা অনেক সময় শুধু পশুস্বভাব নয় বরং সতর্ক সংকেত। বাস্তব জীবনে আমরা দেখি, যে মানুষটি রাস্তায় কুকুরকে তাড়া দেয়, ঢিল ছোঁড়ে বা অকারণে ভয় দেখায় তার সামনে কুকুর কখনো শান্ত থাকে না। আবার যে মানুষটি নীরবে দাঁড়িয়ে থাকে, চোখে চোখ না রেখে ধীরে হেঁটে যায়, কুকুর তাকে সহজেই মেনে নেয়। কারণ কুকুর শক্তি বোঝে আবার সহানুভূতিও বোঝে। আপনি কী ভাবছেন সেটা নয়, আপনি কী অনুভব করছেন সেটাই তার কাছে স্পষ্ট...

বন্দিত্বের যন্ত্রণা দেখে আমরা আনন্দ পাই?

  এক মুহূর্ত কল্পনা করুন, আপনি ভিড়ের মাঝে দাঁড়িয়ে আছেন। সবাই আপনাকে ঘিরে তাকিয়ে আছে, কেউ ছবি তুলছে, কেউ ইশারা করছে, কেউ হাসছে। আপনি অস্বস্তিতে দাঁত কামড়াচ্ছেন, চোয়াল শক্ত করছেন। আর বাইরে থেকে কেউ যদি বলে “দেখো, লোকটা কত হাসিখুশি!” তাহলে কেমন লাগবে? ঠিক এই জায়গাটাতেই মানুষ আর প্রাইমেটদের অনুভূতির ভুল বোঝাবুঝি শুরু হয়। মানুষের কাছে দাঁত দেখা মানেই হাসি, খুশি, আনন্দ। কিন্তু বানর, শিম্পাঞ্জি, বেবুনদের জগতে দাঁত দেখানো মানে ভয়, বিরক্তি বা মানসিক চাপ। তারা কথা বলতে পারে না তাই শরীরের ভাষায় জানায় “আমাকে ছেড়ে দাও”, “আমি নিরাপদ বোধ করছি না”। এই আচরণটা বিশেষ করে চিড়িয়াখানার প্রাইমেটদের মধ্যে বেশি দেখা যায় কারণ তারা দিনের পর দিন ছোট জায়গায় বন্দি থাকে, স্বাভাবিক পরিবেশ থেকে দূরে। বাস্তব চিত্রটা আরও কঠিন। চিড়িয়াখানায় ঘুরতে আসা মানুষ খাঁচার সামনে দাঁড়িয়ে হাসে, ছবি তোলে, কখনো আঙুল দেখিয়ে ইশারা করে। প্রাইমেট দাঁত বের করলে মানুষ ধরে নেয়, সে হাসছে বা মজা করছে। অথচ প্রাণীটা তখন চরম স্ট্রেসে থাকে। এই ভুল বোঝাবুঝি তার বিরক্তি আরও বাড়িয়ে দেয়। মানুষ যেখানে বিনোদন খুঁজে পায় সেখানে প্রাণীটা মানসিকভাবে ভে...

গাছের ছায়া আর ধানের ঘ্রাণ

  ছোটবেলায় আমরা যেসব গ্রাম বা খোলা মাঠে বেড়িয়েছি, সেখানে গাছের ছায়া আর ধানের ঘ্রাণ আমাদের মনকে এক অদ্ভুত প্রশান্তি দিত। সূর্য যখন সোনালী আলো ছড়িয়ে দেয়, গাছের পাতায় শিশিরের কণার ঝিলিক চোখে পড়ে, তখন মনে হয় পৃথিবী কত সুন্দর। পাখির কুজন, নদীর হালকা ঝরঝর শব্দ, বনে হাওয়ার নরম স্পর্শ সব মিলিয়ে এক ধরনের আনন্দের পরিবেশ তৈরি করতো যা কেবল চোখে নয়, হৃদয়েও ধ্বনিত হতো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমরা সেই সবুজের কাছে হারিয়ে যেতে শুরু করেছি। শহরের কংক্রিটের ভিড়, ব্যস্ত রাস্তা, দূষিত বাতাস... এগুলো আমাদের প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ কমিয়ে দিয়েছে। নদী আজ অনেকটাই কলুষিত, বনাঞ্চল হ্রাস পেয়েছে আর প্রাকৃতিক সবুজ কমে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে “সবুজ হরিয়াল” শুধু স্মৃতির কথা মনে করিয়ে দেয়। এক সময় আমরা প্রকৃতির সঙ্গে এত মিলেমিশে ছিলাম যে তার ছায়ায় বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আরাম পেতাম। তবুও প্রকৃতি হারায়নি। গ্রামের কোনো, পাহাড়ের ঢলে বা শহরের ছোট্ট বাগানে আজও সেই সবুজের ছোঁয়া পাওয়া যায়। প্রতিটি গাছ আমাদের শ্বাসের অক্সিজেন দেয়, প্রাণে প্রাণ আনে আর আমাদের মনে আনন্দের অনুভূতি জাগায়। ছ...

নিজের যত্ন নেওয়া

  আপনি এখন হয়তো কাজের চাপ, দায়িত্ব, মানসিক টানাপোড়েন আর ভেতরের অজানা ক্লান্তিতে আটকে আছেন। সময়ের অভাবে নিজের যত্ন নেওয়াটা যেন বিলাসিতা মনে হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই নিজের যত্ন না নেওয়ার কারণেই আপনি ধীরে ধীরে ক্ষতির দিকে যাচ্ছেন, যেটা অনেক সময় আমরা বুঝতেই পারি না। এই অবহেলার প্রথম ক্ষতিটা পড়ে শরীর আর মনে। বিশ্রাম ছাড়া, মানসিক শান্তি ছাড়া, নিজের জন্য সময় না রেখে চলতে থাকলে শরীর দুর্বল হয়, ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়, চিন্তা আর হতাশা বাড়ে। দীর্ঘদিন এই চাপ চলতে থাকলে মন আর শরীর দুটোই ক্লান্ত হয়ে পড়ে, কাজের আগ্রহ কমে যায়, জীবনের প্রতি ভালো লাগাটাও ধীরে ধীরে কমে আসে। আপনি হয়তো বাইরে থেকে শক্ত দেখাচ্ছেন কিন্তু ভেতরে ভেতরে নিজেকে ভেঙে ফেলছেন। এর পরের ক্ষতিটা হয় আপনার কাজের উপর। আমরা অনেক সময় মনে করি, বেশি সময় কাজ করলেই সফলতা আসবে। কিন্তু বাস্তবতা উল্টো। বিরতি ছাড়া কাজ করলে মনোযোগ কমে যায়, ভুল বাড়ে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দুর্বল হয়। আপনি যতই চেষ্টা করুন, ক্লান্ত মন কখনো ভালো ফল দিতে পারে না। এতে আপনার পরিশ্রম বাড়ে কিন্তু ফল কমে যায়। এই জায়গাটাতেই বেশিরভাগ মানুষ ধীরে ধীরে হতাশ হয়ে পড়ে। এখ...

তারাই (আল্লাহর) নৈকট্যপ্রাপ্ত

  একটি ভালো দিন...আপনি সকালে উঠে মসজিদে গেলেন। কিছু কুরআন তিলাওয়াত করলেন। অন্তর বিগলিত করে অকৃত্রিম কিছু দোয়া করলেন। কিছু খারাপ কাজ আপনার অভ্যাসের অংশ হয়ে গিয়েছে কিন্তু আজ সেগুলো থেকেও দূরে থাকলেন। মানুষকে কষ্ট দিয়ে কোনো কথা বললেন না। কোনোভাবে কারো কোনো ক্ষতি করলেন না। এভাবে যোহর পর্যন্ত পৌঁছে গেলেন। এখন, অনুভব করছেন আপনি আগের চেয়ে আল্লাহর অনেক কাছাকাছি আছেন। অন্তরে এক ধরণের স্বর্গীয় প্রশান্তি অনুভব করছেন। নিজের উদ্বেগ উৎকণ্ঠাগুলো কোথায় যেন হারিয়ে গেছে। এরপর... কেমন করে যেন মনোবল কমে গেল। ভাবলেন, আমার হাতে কিছুটা ফ্রি সময় আছে। মুভি বা কিছু একটা দেখে একটু বিনোদন করি এবং শুরু করলেন। ব্যাস! সিরাতল মুস্তাকিম থেকে অন্যদিকে মোড় নিলেন। শয়তান বিশাল এক সুযোগ পেয়ে গেলো। শয়তান সাথে সাথে আপনাকে অনুসরণ করা শুরু করে, পথভ্রষ্ট করার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাতে থাকে। আপনি হয়ে পড়েন তার এক নম্বর প্রজেক্ট। সে সবকিছু ছেড়ে আপনার পেছনে লাগে। এতক্ষণ সে কিন্তু পারেনি। কারণ, আমাদের রাসূল (স) বলেছেন— "আল্লাহর জিকির হলো 'হিসনুল হাসিন' একটি সংরক্ষিত দুর্গ যা তোমাদেরকে বিতাড়িত শয়তান থেকে রক্ষা করবে।...

নিজের যত্নও একটি ইবাদত

  নিজের যত্ন শুধু শারীরিক স্বাস্থ্যের বিষয় নয়, বরং মানসিক, আধ্যাত্মিক ও সামাজিক সুস্থতার একটি অংশ, যা আমাদের আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও দায়িত্ব পালনের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। নিজের যত্ন মানে নিজের শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক সুস্থতার জন্য সময় ও মনোযোগ দেওয়া। একজন মা যদি শিশুর যত্ন নিতে গিয়ে নিজেকে ভুলে যান এবং যত্নের অভাবে মানসিক ও শারীরিকভাবে ক্লান্ত বোধ করেন, তাহলে তিনি একসময় ভালো মা হওয়ার সুযোগ হারাবেন। নিজের যত্ন তাঁকে আরও ভালো মুসলিম, মা, স্ত্রী, কর্মী এবং বন্ধু হতে সহায়তা করে। এটি তাঁকে শান্ত ও সুখী রাখবে, ফলে প্রকারান্তরে তাঁর সন্তান আরও ভালো থাকবে। নিশ্চয় তোমার নিজের ওপর তোমার শরীরের হক আছে। তাই রোজা রাখো এবং রোজা ভাঙো, নামাজ পড়ো এবং ঘুমাও। সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ১,৩৬৯ ইসলামে নিজের যত্নকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, কারণ নিজের প্রতি যত্নশীল হওয়া আল্লাহর দেওয়া শরীর ও মনের আমানত রক্ষার অংশ। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয় তোমার নিজের ওপর তোমার শরীরের হক আছে। তাই রোজা রাখো এবং রোজা ভাঙো, নামাজ পড়ো এবং ঘুমাও।’ (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ১,৩৬৯) এই হাদিসটি স্পষ্টভাবে নিজের শারীরিক ...

সুস্থ জীবনের জন্য নবীজি (সা.)–এর কয়েকটি সুন্নাহ

  আজকের দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে প্রযুক্তি ও সমাজের পরিবর্তনের সঙ্গে নতুন রোগের উদ্ভব এবং পুরোনো রোগের পুনরুত্থান দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসজনিত রোগ, যা পানি, খাদ্য ও বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়। রোগ মোকাবিলায় শক্তিশালী জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অভ্যাস প্রয়োজন। মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নাহ আমাদেরকে এমন পদ্ধতি শিখিয়েছে, যা আধুনিক স্বাস্থ্যবিধির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। পবিত্রতা ইমানের অর্ধেক আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তিনি তাঁদের ভালোবাসেন, যাঁরা তাঁর দিকে ফিরে আসেন এবং নিজেদের পবিত্র রাখেন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২২২) নবী মুহাম্মদ (সা.) বলেন, ‘পবিত্রতা ইমানের অর্ধেক।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২২৩) এই বাণী থেকে বোঝা যায়, ইসলামে শারীরিক ও আধ্যাত্মিক পবিত্রতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। নবীজির জীবনাচরণে আমরা এমন অনেক অভ্যাস দেখতে পাই, যা আজকের বিজ্ঞানও স্বাস্থ্যকর বলে প্রমাণ করেছে। হাঁচি-কাশিতে মুখ ঢাকার সুন্নাহ হাঁচি বা কাশির সময় মুখ ঢাকা আধুনিক স্বাস্থ্যবিধির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ২০১৪ সালে এমআইটির (ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজ...

মহানবী (সা.) যেভাবে বয়োজ্যেষ্ঠদের যত্ন নিতেন

  মহানবী (সা.) বয়োজ্যেষ্ঠদের যত্ন নিতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি নিজে যে নীতি শিখিয়েছিলেন, তা নিজের জীবনে প্রয়োগ করে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ইসলামে বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি দায়িত্ব নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যদি কোনো যুবক বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিকে তাঁর বয়সের কারণে সম্মান করে, তবে আল্লাহ তার বৃদ্ধ বয়সে তাকে সম্মান করার জন্য কাউকে নিযুক্ত করবেন।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২,০২২) বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান করতে তিনি যুবসমাজকে উৎসাহিত করেছেন, যাতে প্রজন্মের মধ্যে দূরত্ব কমে এবং ভালোবাসা ও বোঝাপড়ার পরিবেশ সৃষ্টি করে। হাদিসে ‘বয়োজ্যেষ্ঠ’ শব্দটি সাধারণভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, যা জাতি বা ধর্মের সীমাবদ্ধতা ছাড়াই সব বয়োজ্যেষ্ঠের প্রতি সম্মান প্রকাশ করে। সে আমাদের মধ্যে নয়, যে আমাদের শিশুদের প্রতি দয়া করে না এবং আমাদের বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি সম্মান দেখায় না। সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১,৯১৯ আরেকটি হাদিসে তিনি বলেছেন, ‘যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তাঁর শপথ করে বলছি, আল্লাহ দয়াবান ব্যক্তি ছাড়া কারো ওপর তাঁর রহমত প্রদান করেন না।’ সাহাবিরা বললেন, ‘আমরা সবাই দয়াবান।’ নবীজি (সা.) বললেন, ‘শুধু একে অপরে...

সম্মানীকে সম্মান দেওয়ার সৌন্দর্য

  আব্বাসি খলিফা মামুন তার দুই ছেলেকে জ্ঞানার্জনের জন্য পাঠিয়েছিলেন সেকালের বিখ্যাত পণ্ডিত ইমাম ফাররা (রহ.)-এর কাছে। দুই শাহজাদা তাঁর কাছ থেকে দিনরাত জ্ঞান আহরণ করতে থাকে। একদিন ইমাম ফাররা (রহ.) কোনো প্রয়োজনে বাইরে বেরোচ্ছিলেন। দুই ছাত্র শিক্ষকের জুতা এগিয়ে দিতে দৌড়ে এলো। এ নিয়ে তাদের দুজনের মধ্যে রীতিমতো প্রতিযোগিতা শুরু হয়। কেউ শিক্ষকের পাদুকা বহনের সৌভাগ্য ছাড়তে রাজি নয়। অবশেষে তারা সম্মত হলো, প্রত্যেকে একটি করে জুতা এগিয়ে দেবে। হলোও তাই। দুজনই একটি করে জুতা শিক্ষকের পায়ের দিকে এগিয়ে দিল। এ সংবাদ খলিফা মামুনের কাছে পৌঁছালে ইমাম ফাররা (রহ.)-কে ডেকে পাঠালেন খলিফা। দরবারে এলে ইমাম ফাররা (রহ.)-কে খলিফা প্রশ্ন করলেন, ‘কে সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি?’ইমাম ফাররা (রহ.) বললেন, ‘মুসলিম জনসাধারণের খলিফা হিসেবে আপনার চেয়ে অধিক সম্মানিত কোনো ব্যক্তির কথা তো আমার জানা নেই।’ খলিফা বললেন, ‘কেন নয়? যার জুতা এগিয়ে দিতে সিংহাসনের ভাবী অধিকারী দুই শাহজাদা প্রাণপণ চেষ্টা করে এবং প্রত্যেকে একটি করে জুতা এগিয়ে দিয়ে তাদের বিবাদের ফয়সালা করে, তার চেয়ে অধিক মর্যাদাবান আর কে আছে?’ ইমাম ফাররা (রহ.) বললেন, ‘জাহা...

টাইম ট্রাভেল!

  টাইম ট্রাভেল! ------------------ আমি আপনাদের আরেকটা উদাহরণ দেই। এটা খুবই অসাধারণ! এটা হলো একটা… (অনেক্ষণ চুপ) এই রূপান্তরটি টাইম ট্রাভেল নিয়ে। আমি জানি না এটা আপনাদের ঠিকভাবে বোঝাতে পারবো কি না। কিন্তু যদি বুঝতে পারেন, আপনাদের খুবই ভালো লাগবে। আমি খুব করে চাচ্ছি যেন আপনাদের ভালো করে বোঝাতে পারি। আয়াতটি শুরু হচ্ছে জান্নাতে কী হবে তা নিয়ে। আয়াতটি দুনিয়া দিয়ে শুরু হয়নি। শুরু হয়েছে আখিরাত আর জান্নাত নিয়ে। আর এটা “তোমাদের” দিয়ে শুরু হয় নি, “তাদের” দিয়ে শুরু হয়েছে। তো এটা “তোমরা” না, অন্য কেউ। فٰكِهِينَ بِمَآ ءَاتٰىهُمْ رَبُّهُمْ وَوَقٰىهُمْ رَبُّهُمْ عَذَابَ الْجَحِيمِ (৫২:১৮) তারা ফল খাবে, অনেক উপভোগ করবে। তারা হাসবে। মুখে মস্ত বড় হাসি। যেন তারা Mangosteen বা এমন কিছু খেয়েছে। তারা শুধুই হাসছে, আল্লাহ তাদের যা দিয়েছেন সে কারণে। আর তিনি তাদের ভয়াবহ আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করেছেন। তারা এখন বোধ করছে নিরাপদ, সুরক্ষিত এবং আনন্দিত। আপনারাই তারা। তারা কি এখন নাকি ভবিষ্যতে? ভবিষ্যতে। তো এটা “তারা” আর ভবিষ্যতে। এর মানে আপনাদের চাইতে দু’ধাপের দূরত্বে আছে। প্রথম ধাপের দূরত্ব হলো, এটা আপনা...