Skip to main content

কুকুর মুখোশ চেনে না

 মানুষ যদি আপনাকে পছন্দ না করে তাতে কিছুই আসে যায় না। কিন্তু যদি কোনো কুকুর আপনাকে অপছন্দ করে তখন একটু থামা দরকার। কারণ কুকুর বিচার করে কথায় নয়, অনুভবে। সে আপনার পোশাক, পদবি বা কথার জোর দেখে না। সে দেখে আপনি কেমন মানুষ, ভেতরে কী বহন করছেন। এখানেই এই কথাটার গভীরতা লুকিয়ে আছে।

মানুষের পছন্দ-অপছন্দ অনেক সময় স্বার্থ, ভুল বোঝাবুঝি বা পরিস্থিতির ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। আজ যে আপনাকে অপছন্দ করছে, কাল তার প্রয়োজন হলে সে-ই আবার হাসবে। কিন্তু কুকুর এমন নয়। সে হিসাব করে না, অভিনয় জানে না। আপনার আচরণে যদি ভয়, রাগ, নিষ্ঠুরতা বা অস্বস্তি থাকে তাহলে কুকুর সেটা দূর থেকেই টের পায়। তাই কোনো কুকুর যখন কাউকে এড়িয়ে চলে বা গর্জে ওঠে, সেটা অনেক সময় শুধু পশুস্বভাব নয় বরং সতর্ক সংকেত। বাস্তব জীবনে আমরা দেখি, যে মানুষটি রাস্তায় কুকুরকে তাড়া দেয়, ঢিল ছোঁড়ে বা অকারণে ভয় দেখায় তার সামনে কুকুর কখনো শান্ত থাকে না। আবার যে মানুষটি নীরবে দাঁড়িয়ে থাকে, চোখে চোখ না রেখে ধীরে হেঁটে যায়, কুকুর তাকে সহজেই মেনে নেয়। কারণ কুকুর শক্তি বোঝে আবার সহানুভূতিও বোঝে। আপনি কী ভাবছেন সেটা নয়, আপনি কী অনুভব করছেন সেটাই তার কাছে স্পষ্ট। কুকুরের কাছে বিশ্বাস মানে নিরাপত্তা। সে সেই মানুষটাকেই আপন মনে করে, যে তাকে বিপদ নয়, আশ্রয় মনে হয়। তাই অনেক সময় দেখা যায়, কোনো অপরিচিত বাড়িতে ঢুকলে কুকুর হঠাৎ চেঁচিয়ে ওঠে কিন্তু একজন নিরীহ মানুষের পাশে গিয়ে চুপচাপ বসে পড়ে। এই আচরণ কাকতালীয় নয়। এটা দীর্ঘ হাজার বছরের সহাবস্থানের ফল যেখানে কুকুর মানুষের অনুভূতি পড়তে শিখেছে। এই কথাটার শিক্ষা খুব সোজা। মানুষ কী বললো, মানুষ কী ভাবলো, সেটা নিয়ে সব সময় অস্থির হওয়ার দরকার নেই। বরং নিজের আচরণ, মনোভাব আর মানবিকতাকে ঠিক রাখাই আসল। আপনি যদি জীবের প্রতি দয়া দেখান, দুর্বলকে ভয় না দেখান, অকারণে আক্রমণাত্মক না হন তাহলে কুকুর আপনাকে অপছন্দ করবে না। আর কুকুরের এই নিঃশর্ত গ্রহণ অনেক সময় মানুষের হাজারো প্রশংসার চেয়েও বেশি সত্য। শেষ কথা একটাই। মানুষের মন বদলায়, মুখোশ পড়ে। কুকুরের মন বদলায় না, সে মুখোশ চেনে না। তাই মানুষ যদি আপনাকে পছন্দ না করে তাতে ক্ষতি নেই। কিন্তু খেয়াল রাখুন, আপনার আচরণ যেন এমন না হয় যে কোনো কুকুর আপনাকে ভয় পায় বা অপছন্দ করে। কারণ সেখানে কোথাও না কোথাও আমাদের নিজেদেরই প্রশ্নের মুখে দাঁড়াতে হয়।

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...