Skip to main content

Posts

Showing posts from June, 2021

কুসংস্কার

একবার নজর বুলিয়ে নিতে পারলে ভাল হবে: কিছু কুসংস্কার তুলে ধরা হলো। এগুলি তাওহীদের উপর প্রভাব ফেলে। ১) ছোট বাচ্চাদের দাঁত পড়লে ইঁদুরের গর্তে দাঁত ফেলতে বলা হয়, দাঁত ফেলার সময় বলতে শিখানো হয়, “ইঁদুর ভাই, ইঁদুর ভাই, তোর চিকন দাঁত টা দে, আমার মোটা দাঁত টা নে।” ২) দুজনে ঘরে বসে কোথাও কথা বলতে লাগলে হঠাৎ টিকটিকির আওয়াজ শুনা যায়, তখন একজন অন্যজনকে বলে উঠে “দোস্ত তোর কথা সত্য, কারণ দেখছস না, টিকটিকি ঠিক ঠিক বলেছে।” ৩) বন্ধু মহলে কয়েকজন বসে গল্প-গুজব করছে, তখন তাদের মধ্যে কেউ উপস্থিত না হলে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা বাদ হতে থাকে, এমতাবস্থায় সে উপস্থিত হলে, কেউ কেউ বলে উঠে “দোস্ত তোর হায়াত আছে।” কারণ একটু আগেই তোর কথা বলছিলাম। ৪) পাখি ডাকলে বলা হয় ইষ্টি কুটুম (আত্মীয়)আসবে। ৫) কোন ব্যক্তি বাড়ি হতে বাহির হলে যদি তার সামনে খালি কলস পড়ে যায় বা কেউ খালি কলস নি...

সাদাকায়ে জা'রিয়াহ!

  ধরুন আপনার কাছে ১০০ টাকা আছে। হাতে কিছু সময়ও আছে। একদিন বিকেলে এই টাকা দিয়ে ২০ টা সিঙ্গাড়া কিনে এলাকার এক ছোট ছেলেকে বললেন, শোনো, আজকে আসরের নামাজের পর ছোট্র ছোট্র বাচ্চাকাচ্চা সবাই মসজিদে এসো! একটা করে সিংগাড়া খাওয়ার দাও'য়াত, হুঁ! . দেখবেন, হৈ হৈ করে একঝাঁক পোলাপাইন মসজিদে এসে রেডি। এইসব পিচ্চিরা কিচিরমিচির করছে মসজিদের বারান্দায় আপনাকে ঘিরে। এখন আপনার প্রজেক্ট শুরু করবেন। সেটা কি? 🕳️এই বাচ্চারা, কে কে অজু করতে পারো? - আমি, আমি, আমি, আমি.... (অনেকে এম্নেই হাত তুলবে! সেও পারে!!) 🕳️কে কে নামাজ পড়তে পারো? - আমি, আমি, আমি, আমি.... (অনেকে এম্নেই হাত তুলবে) 🗨️বাব্বাহ! মাশায়াল্লাহ! সবাই পারো তো। খুউব ভাল। আচ্ছা সোনাপাখিরা চলোতো একটু দেখি, কেমন করে তোমরা অজু করো? সবাই একটা করে সিট নিয়ে ওজু খানায় বসে পরো!! তাড়াতাড়ি সিংগাড়া কিন্তু ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে... জলদি... আমরা ওজু করা শিখে নেই...কেমন! এই যে এইভাবে এইভাবে। বিসমিল্লাহ বলো... হ্যাঁ মুখ ধুয়েছো... তারপরে হাত..উঁহু কনুই সহ... এইভাবে....এইভাবে...সুন্দর...মনে থাকবে এভাবে ওজু করতে হয়! আমাদের ওজু শিখা শে...ষ!! . চলো এবার সিংগাড়া খাই সবাই! ...

পাসওয়ার্ড

  আচ্ছা ধরুন, আপনার হাতে একটা স্মার্টফোন আছে। সেই স্মার্টফোন দিয়ে আপনার ফেইসবুক লগইন করা আছে। ধরুন, আপনি মনের আনন্দে রিকশায় বসে ফেইসবুক চালাচ্ছেন। এমতাবস্থায় আপনার রিকশাটা গর্তে পড়ল আর আপনার ফোনটা হাত থেকে পড়ে টুকরো টুকরো হয়ে গেল। এই ফোনে তো আপনার ফেইসবুক আইডি লগইন করা ছিল। এখন ফোন ভেঙে যাওয়ার সাথে সাথে কি আপনার শখের ফেইসবুক আইডিও নষ্ট হয়ে গেল? আপনার এতদিনের ভার্চুয়াল লাইফ, এত এত ফ্রেন্ড -ফলোয়ার, এ সবকিছু কি ফোন ভেঙে যাওয়ার সাথে সাথেই নষ্ট হয়ে গেল? নাহ। আপনি যখন বাসায় এসে আপনার ল্যাপটপে মেইল আর পাসওয়ার্ড দিয়ে লগ ইন করবেন, দেখবেন আপনার সব ভার্চুয়াল তথ্য আবার চলে এসেছে আপনার কাছে। এই কাজটি যদি মার্ক জাকারবার্গ পারে, আল্লাহ পারবেন না কেন? মানুষের শরীরটাকে ফোনের সাথে তুলনা করুন। আর রূহটাকে তুলনা করুন ফেইসবুক আইডির সাথে। এখন আপনার দৈহিক শরীর নষ্ট হয়ে গেলেও, পরকালে যখন আপনার এই রূহটাকে আপনারই প্রতিকপিতে লগ ইন করানো হবে, তখন কি আপনার শরীরকে ফিরে পাওয়া যাবে না? কাজটা কি আল্লাহর জন্য খুব কঠিন? নাহ, এটা আল্লাহর জন্য খুবই সহজ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তারা বলে, যখন আমরা অস্থিতে পরিণত ও চূর্ণ-বিচূ...

২০ সপ্তাহের ভ্রুণের একটি চিত্র

এটি ২০ সপ্তাহের ভ্রুণের একটি চিত্র, যা এখনও জন্মগ্রহণ করেনি! এই যে নাক, কান, চোখ, ভ্রু, ঠোঁট দেখতে পাচ্ছেন, এগুলো হাজার হাজার, কোটি কোটি কোষ বিভাজিত হওয়ার ফসল। আচ্ছা এখন বলুন তো, কিভাবে এই কোষগুলো এতো নিখুঁত ভাবে হাত, পা, আঙুল, চোখ, কান, ঠোঁট ইত্যাদি বানিয়ে যাচ্ছে? এরা কি পৃথিবীর সবচেয়ে বড়ো ইন্জিনিয়ারিং কলেজে পড়েছে? নাকি সবচেয়ে বড় ডাক্তারি ডিগ্রি হাসিল করেছে? ধরুন আপনাকে ৫২ কোটি কোষ দেওয়া হলো, আপনি এমন একটা নাক বা কান বানিয়ে দেখাতে পারবেন? কখনোই পারবেন না। তাহলে ভেবে দেখুন, কি করে এই বুদ্ধিমত্তাহীন কোষগুলো এমন অসম্ভব বুদ্ধিদীপ্ত কাজগুলো করে যাচ্ছে, যেটা আপনি আমি চাইলেও করতে পারি না! তাহলে কি এর দ্বারায় এটা প্রমাণিত হয় না যে, ভ্রুণ গঠনের পিছনে একজন মহাজ্ঞানী স্রষ্টার হাত রয়েছে! সুবহানাল্লাহ...! আর এ সম্পর্কে আল্লাহ পাক বলেন - "আল্লাহ তোমাদেরকে মায়ের গর্ভ থেকে বের করেছেন। তোমরা কিছুই জানতে না। তিনি তোমাদের কর্ণ, চক্ষু ও অন্তর দিয়েছেন, যাতে তোমরা অনুগত্য স্বীকার করো।" (সূরা আন নাহল,৭৮) collected

একটা জীবনের দাম কত?

  একটা জীবনের দাম কত? খুবই স্বাভাবিক একটা উত্তর হচ্ছে, 'একটা মানুষের উপর কী কোন টাকার ট্যাগ বসানো যায় নাকি?' কিন্তু একটু চিন্তা করে দেখেন। একটা উদাহরণ শেষ পর্যন্ত ফলো করলে হয়তো আপনি মানুষের জীবনের মূল্যকে একটা ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে পাবেন। মনে করেন ২০ বছরের এক যুবক এক কারখানায় কাজ করে। পরিবারকে সাহায্য করতে হয় বলে পড়াশোনা আর আগাবে না, তাই ১০,০০০টাকা বেতনে সে ফ্যাক্টরিতে কাজ করে। একদিন যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে তার মেশিনে আটকে গিয়ে সে মারা গেল। পরের দিন হয়তোবা ঘোষণা আসবে যে তার পরিবারকে ১ লক্ষ টাকা দিয়ে সাহায্য করা হয়েছে। অনেকে হয়তোবা ১ লাখের কথা শুনে অধ্যায় শেষের শান্তি পাবেন। কিন্তু আসলেও কী চ্যাপ্টার ক্লোসড? একটু হিসাব করে দেখেন। যুবকটা মাসে ১০,০০০ করে বছরে ১,২০,০০০টাকা পরিবারকে দিত। সে যদি ৬০ বছর বয়সে রিটায়ার করতো, তাহলে আরও ৪০ বছরে সে ৪৮ লাখ টাকা পরিবারকে দিত। বেতন বৃদ্ধি, ইনফ্লেশন আর সবচেয়ে বড় কথা পরিবারের ইমোশনাল ক্ষতির হিসাব করলে সেটা কোটির অংক ক্রস করে যাবে। যেই ক্ষতি ৮ ডিজিটের, সেটার ক্ষতিপূরণে ৬ ডিজিটের খবর আসলে আমরা মেনে নেই কেন তাহলে? অনেকে এই সহজ ...

একাকিত্ব, মন খারাপ

  আমার একাকিত্বের কারণ কি আমি নিজে? আমাদের অনেকের মনেই অনেক রাগ -দুঃখ- ক্ষোভ জমা থাকে। নিজের একাকিত্বের জন্য আমরা নানা সময়ে, নানা মানুষকে দোষারোপ করে থাকি। কিন্তু, কখনো কি নিজেকে প্রশ্ন করে দেখেছি যে, সবাই আমাকে ছেড়ে চলে যাওয়া বা আমার সাথে থাকতে না চাওয়ার পিছনে, আমারই কোন বৈশিষ্ট্য দায়ী কিনা? কখনো কি নিচের প্রশ্নগুলো নিজেকে করা হয়েছে - ❓আমি কি শুধু নিজেকে নিয়ে ভাবি? ❓আমি কি আলোচনার সময় শুধু নিজেই কথা বলতে পছন্দ করি, নাকি অন্যের কথা শুনতেও সমান স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি? ❓ আমি কি নিজের স্বার্থ ত্যাগ করে অন্যের জন্য কিছু করতে প্রস্তুত? ❓দিনে কতক্ষণ সময় আমি নিজেকে এবং কতক্ষণ সময় বাকিদের নিয়ে চিন্তা করি? ❓কথা বলার সময় আমি কি শুধুই হতাশার কথা বলি? ❓সব সময় নিজের একাকীত্বের জন্য কি আমি অন্যকে দায়ী করি? ❓আমি কি সব সময় মনে করি যে, আমার সাথে অন্যায় হচ্ছে? ❓ যে কোন ঘটনার দোষ কি আমি অন্যের কাঁধে চাপাতে পছন্দ করি? ❓ গঠনমূলক সমালোচনা কি আমি গ্রহণ করতে পারি? এসব প্রশ্নের উত্তরের মাধ্যমে যদি আমাদের আত্মকেন্দ্রিক বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠে, তবে এই বৈশিষ্ট্যগুলোই একাকিত্বের জন্য যথেষ্ট! এর থেকে ব...

সম্পর্ক, দুশ্চিন্তা

  সম্পর্কই যেমন সমাজের মূল ভিত্তি এবং আমাদের মানসিক স্বস্তির কারণ, তেমনি অনেক সময় এই সম্পর্ক হয়ে দাঁড়ায় মানসিক অশান্তির মূল কারণ! দুশ্চিন্তা, হতাশা, বিষন্নতার মূল কারণগুলো পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাবে, অধিকাংশের পিছনেই আছে বিভিন্ন সম্পর্কের মতভেদ এবং ভাঙ্গন - গড়নের গল্পের কাহিনী! সম্পর্কের মানসিক চাপের কারণ হতে পারেন আপনি নিজে, আপনার পার্টনার, উভয়ই অথবা পারিপার্শ্বিকের প্রভাব। প্রথমত, অধিকাংশ সম্পর্কের সমস্যাই আপনি নিজের কিছু বৈশিষ্ট্য বা ব্যক্তিত্বের কিছু জায়গা শুধরে নিলে ঠিক করা সম্ভব। যেমন, অল্পতে রেগে যাওয়া, যাচ্ছেতাই ব্যবহার বা গালিগালাজ করা, পার্টনারকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে কথা বলা, অকারণে সন্দেহ করা, তার সবটুকু সময়ের উপর নিজের অধিকার চাওয়া, অবাস্তব চাহিদা রাখা ইত্যাদি একটি সম্পর্কের ধ্বংসের জন্য কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে! অধিকাংশই যেহেতু একজন ব্যক্তির নিজের সমস্যা, তাই এগুলো নিজে অথবা একজন প্রফেশনাল ব্যক্তির সাহায্য নিয়ে কাটিয়ে তোলার চেষ্টা করা সম্ভব। দ্বিতীয়ত, হতে পারে সম্পর্কের মূল সমস্যাটির কারন আপনার পার্টনার। যেমন তার অতিরিক্ত রাগ, গালিগালাজ করা, পরকীয়ার সম্পর্ক,...

কৃতজ্ঞতা

  কথায় বলে - 'সুখ একটি মরীচিকা'। ভালোভাবে চিন্তা করলে কথাটা কিন্তু অনেকাংশেই সত্যি! আসলে সুখ সম্পূর্ণভাবে আমাদের ভেতরের একটি অনুভূতি; চাইলেই যেমন কারো কিছুই না থেকেও, সে সুখী থাকতে পারেন, তেমনি আবার অনেক কিছু থেকেও একজন ব্যক্তি অসুখী হতে পারেন। ব্যক্তি হিসেবে আমাদের আফসোসের শেষ নেই! "কেন আমার জীবনে এটা হল না!?" "কেন আমি ওটা পেলাম না!" "সবাই তো আমার চেয়ে ভালো আছে!!" "ও এটা পেলে আমি কেন পাব না!?" কিন্তু এই আফসোসের পিছে ছুটতে ছুটতে আমাদের জীবনের অর্জনগুলোর কথা মনে আছে কি? যে জিনিসগুলো আমরা না চাইতেই পেয়েছি, সেগুলোর জন্য কেন জানি এক মুহুর্ত কৃতজ্ঞতা বলার সময়ও আমাদের হয়ে ওঠে না! কি আশ্চর্য বিষয় তাই না!? কিন্তু হঠাৎ করেই যখন আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ি, তখন স্বাস্থ্যের গুরুত্ব বুঝতে পারি। আবার হঠাৎ কিছু হারিয়ে ফেললে, বুঝতে পারি যা আমার কাছে ছিল, তা কতটাই না মূল্যবান ছিল! আপনজন চলে গেলে বোঝা যায় তাদের শুধুমাত্র উপস্থিতি কতটুকু ছিল! কিন্তু যা আমাদের কাছে এখন আছে, তার জন্য প্রতিদিন কতবার সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি খেয়াল আছে কি? গব...

প্রোবায়োটিক

  বর্তমানে এই করোনা পরিস্থিতিতে জীবন যাত্রায় এসেছে পরিবর্তন। আমাদের সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শারীরিক সুস্থতাটাও নিশ্চিত করতে হবে।বিশেষজ্ঞদের মতে বাড়াতে হবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার এক্ষেত্রে খুব উপকারী। প্রোবায়োটিক হলো ভালো ব্যাকটেরিয়া যা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার সাথে লড়াই করে আমাদের মেটাবলিজম বৃদ্ধিতে সহায়তা করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ২০ শতকের গোড়ার দিকে রাশিয়ান নোবেল বিজ্ঞানী এলি মেচনিকফ প্রথম এই প্রোবায়োটিক সম্পর্কে ধারনা দেন।আমাদের শরীরে আনুমানিক ৪০০ রকমের জীবানু বাস করে। অর্থাৎ একজন মানুষ গড়ে ৩-৪ কেজি আন্ত্রিক জীবাণু থাকে।প্রোবায়োটিক গ্রহন করলে আন্ত্রিক জীবাণু ভালো থাকে যা পরিপাক নালীর কার্যক্রমকে ভালো রাখে। পরিপাক ক্রিয়া উন্নত করতে,ক্ষতিকর জীবানু সংক্রমণ প্রতিরোধে,রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে,এমোনিয়া নামক বিষাক্ত পদার্থ বের করতে এমন কি ভিটামিন তৈরিতেও প্রোবায়োটিক এর ভূমিকা অপরিসীম। অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাবন এবং খাদ্যাভ্যাস, সিগারেট ও মদ্যপানের বদভ্যাস, এন্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং নানা অসুখের কারনেও প্রোবায়োটিক কমে যেতে পারে আমাদের শরী...

অশ্লীলভাষী

ধরুন কেউ ইসলামকে আক্রমণ করে কিছু লিখলেন, কিংবা কোন নারী নিজের অশ্লীল ছবি শেয়ার করেছেন- সেখানে মন্তব্যের সুযোগ পেয়ে আপনি অশালীন ও বাজে উক্তি বা তাকে নিয়ে নোংরা মন্তব্য করলেন। আপনার জানা থাকা উচিত, এটা মুর্খতা এবং গুনাহ। খোদ ইসলামই এসবকে সমর্থন করে না। বরং এ ধরণের মন্তব্যে ইসলাম এবং মুসলমানদের দুর্নাম হয়। অথচ শয়তান এই নোংরামোকে আপনার কাছে 'ইসলামের খেদমত' হিসেবে উপস্থাপন করছে। এমন আচরণে প্রকৃত মুসলমানরা বিব্রত হন। মহান আল্লাহ কুরআনে হাকীমে (৬/১০৮) শির্কে লিপ্তদের গালি দিতে নিষেধ করেছেন। আল্লাহর রাসুল (সা:) বলেছেন-মুমিন কখনো অশ্লীলভাষী-গালিবাজ ও কটু মন্তব্যকারী হয় না। (তিরমিজি, ১৯৭৭) এ ধরণের পোস্টে যুক্তিনির্ভর ও শালীনভাবে নিজের বক্তব্য ও মতামত তুলে ধরুন। সে সামর্থ না থাকলে নিরব থাকুন। জেদের বশবর্তী হয়ে কটু মন্তব্য করলে প্রবৃতির পূজা হয়, ইসলামের সেবা হয় না। এতে মানুষ ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয় না, বরং ইসলাম থেকে আরো দুরে সরে যায়। ড. খোন্দকার আবদুল্লাহ জাহাঙ্গির (রহ:) যথার্থই বলেছিলেন-ইসলামের প্রতি আমাদের আবেগ অনেক বেশি, জ্ঞান কম। মহান আল্লাহ আমাদের প্রকৃত মুমিনের গুণাবলী অর্জনের তাউ...

জিহ্বা দিয়ে ১৯ টি মারাত্বক পাপ

  আমাদের জিহ্বা দিয়ে ১৯ টি মারাত্বক পাপ সংঘিত হতে পারে !! সেগুলো হচ্ছে নিম্নোরূপঃ-- ১) কারও নাম খারাপ করে ডাকা / নাম ব্যাঙ্গ করা। ২) খারাপ ঠাট্টা বা বিদ্রূপ করা। ৩) অশ্লীল ও খারাপ কথা বলা। ৪) কাউকে গালি দেয়া। ৫) কারও নিন্দা করা। ৬) অপবাদ দেয়া। ৭) চোগলখুরী করা। ৮) বিনা প্রয়োজনে গোপনীয়তা ফাঁস করে দেয়া। ৯) মোনাফিকী করা ও দুই মুখে (দ্বিমুখী) কথা বলা। ১০) বেহুদা ও অতিরিক্ত কথা বলা। ১১) বাতিল ও হারাম জিনিস নিয়ে আলোচনা করে আনন্দ লাভ করা। ১২) কারও গীবত করা। ১৩) খারাপ উপনামে ডাকা। ১৪) কাউকে অভিশাপ দেয়া। ১৫) কাউকে সামনা-সামনি বা সম্মুখে প্রশংসা করা। ১৬) মিথ্যা স্বপ্ন বলা। ১৭) অনর্থক চিৎকার বা চেঁচামিচি করা। ১৮) জীহ্বা দিয়ে হারাম বস্তুর স্বাদ নেয়া, গ্রহন করা বা খাওয়া। ১৯) জীহ্বা দিয়ে খরাপ অর্থে কাুউকে কোন ভঙ্গি করা বা দেখানো। পরিশেষে বলব, আমরা যেন নিম্নোক্ত হাদিসটির উপর আমল করতে উদ্যোগী হই- ★সাহাল ইবনে সায়াদ (রা:) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ্ (স:) বলেছেন, "যে ব্যক্তি দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী অঙ্গ ( জিহ্বা ) এবং দুই পায়ের মধ্যবর্তী অঙ্গ ( লজ্জাস্থান ) হেফাজতের নিশ্চয়তা দেবে, আমি তা...

লুমাযাহ।

  স্ত্রী গরমে ঘেমে অনেক সময় নিয়ে চা-নাস্তা বানিয়ে নিয়ে এসেছে। শ্বশুর, শাশুড়ি সবাই বসে খাচ্ছে। স্বামী চায়ে চুমুক দিয়ে বিরক্ত হয়ে বলছে, “নাহ, এখনও তুমি মা’র মত চা বানাতে শিখলে না। কতবার বললাম মা’র কাছ থেকে দেখো কতখানি লিকার দিতে হয়। মা! ওকে দেখিয়ে দিয়েন তো কীভাবে চা বানাতে হয়।” — এ হচ্ছে #লুমাযাহ । > এরা সুযোগ পেলেই মানুষের মুখের উপর তার বদনাম করে। > কারও কোনো দোষ ধরার সুযোগ পেলে সহজে ছেড়ে দেয় না। > সারাদিন একে ধমকানো, ওকে খোঁচা মারা, একে গালি দেওয়া, ওকে ব্যঙ্গ করা, এগুলো হচ্ছে এদের স্বভাব। > এদের নিজেদের দোষের কোনো শেষ নেই। নিজের দোষ ঢাকার জন্য এরা সবসময় অন্যের দোষ নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এদের জিভ হচ্ছে একটা #ধারালো_অস্ত্র । এই অস্ত্র দিয়ে সারাদিন এরা একের পর এক মানুষের হৃদয় ক্ষতবিক্ষত করতে থাকে। ... আত্মীয় বেড়াতে এসেছে। গল্প করার ফাঁকে জিজ্ঞেস করলো, “আপনার মেয়ে কেমন আছে? ওর বাচ্চাগুলো ভালো আছে?” মা উত্তর দিলেন, “গত সপ্তাহে শুনলাম ওরা অসুস্থ। দেখি শুক্রবারে ফোন করলে বুঝতে পারবো কী অবস্থা?” আত্মীয় অবাক হয়ে বললেন, “শুক্রবারে? আপনার মেয়ে প্রতিদিন আপনাকে ফোন করে না? ...

মসজিদুল আকসা

  ॥ হামাগুড়ি দিয়ে হলেও আমরা পৌঁছুব ইনশাআল্লাহ ॥ মসজিদুল আকসা বা বাইতুল মুকাদ্দাস ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম মসজিদ। যেটি জেরুসালেমের পুরনো শহরে অবস্থিত। এটা মুসলমানদের কাছে ‘বায়তুল মোকাদ্দাস বা ‘আল আকসা’ মসজিদ নামে পরিচিত। ইসলামি স্থাপনার প্রাচীন এই নমুনাটি মুসলমান, খ্রিস্টান ও ইহুদি তিন ধর্মাবলম্বীদের কাছে সমানভাবে পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ। ঈসা (আ.) এবং মরিয়ম (আ.) এর সাথে প্রাচীনতম ইবাদত গৃহ বায়তুল মুকাদ্দাস বা মসজিদে আকসার সম্পর্ক সুনিবিড়ভাবে জড়িত। মুসলিমদের কাছে আল আকসা মসজিদ নামে পরিচিত স্থাপনাটি ইহুদিদের কাছে ‘টেম্পল মাউন্ট’ নামে পরিচিত। আল আকসা হচ্ছে- ইসলামের প্রথম কেবলা এবং মক্কা ও মদিনার পর তৃতীয় পবিত্র স্থান। মসজিদুল আকসায় এক রাকাত নামাজ আদায় করলে ২৫০ অন্য বর্ণনায় ৫০০ রাকাতের সাওয়াব পাওয়া যায়। শেষ জামানার ঘটনাবলির কারণেও এ এলাকাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চলেই দাজ্জাল ও ঈসা (আ.) এর আগমন ঘটবে। বিশ্বনবী (সা.) মিরাজের রাতে মসজিদুল হারাম থেকে আল-আকসা মসজিদে এসেছিলেন এবং এখান থেকেই তিনি ঊর্ধ্বাকাশের দিকে যাত্রা করেন। বিশ্বনবী (সা.) মিরাজ গমনের প্রাক্কালে এই মসজিদে সব নবী–রাসুলে...

ভালো কাজের প্রশংসা

  "কাউকে খুব বেশি গুরুত্ব দিয়ে যখন মূল্য পাচ্ছেন না, তখন গুরুত্ব দেয়াটা একটু কমিয়ে দিন... নিজেকে একটু সময় দিন, ব্যস্ত রাখুন... একটু নড়েচড়ে বসুন !! . আপনার দেয়া গুরুত্বটা যখন কারোর উপর খুব বেশি হয়ে যায়, তখন অপর মানুষটা নিজেকে একটু অন্যরকম ভাববে, ভাব নিবে এটাই স্বাভাবিক... এতে তার কোনো দোষ নেই, বরং দোষটা শুধু আপনারই কারণ আপনি প্রয়োজনের তুলনায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন !! প্রতিবারই যখন আপনার দিক থেকে বেশি গুরুত্ব পেয়ে যাচ্ছে তখন অপর মানুষটা আপনাকে নিয়ে ভাবতে সময় পাচ্ছে না... বারবার যখন আপনার ফোন পেয়েই সে কথা বলে যাচ্ছে তখন আপনাকে মিস করে ফোন দেয়ার সুযোগ পাচ্ছে না... আপনাকে নিয়ে ভাবতে পারছে না !! . অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো না... অতিরিক্ত কোনো কিছু করার ফল সব সময়ই খারাপ হয়... আপনি খেয়াল করলে দেখবেন যাকে আপনি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন, সে সবার আগে আপনার কাছ থেকে হারিয়ে গিয়েছে... যে জিনিষটা বেশি যত্ন করেছেন, সেটাই সবার আগে নষ্ট হয়ে গিয়েছে !! . প্রতিটা সম্পর্কের মাঝে একটা ভারসাম্য থাকতে হয়... একজন খুব বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে অপরজন দিচ্ছে না, তাহলে সেই সম্পর্ক একটা সময় দুজনের কাছেই বিরক্তিকর হয়ে যায়....

বিবেক কে সুস্থ রাখুন:

  বিবেক কে সুস্থ রাখুন: ★৩০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ক্রিকেট খেলতে পারি, কিন্তু এসি ছাড়া তারাবীহ নামাজ পড়তে পারি না! ★রেস্টুরেন্টে খেয়ে ওয়েটারকে ১০০ টাকা বকশিস দিতে পারি, কিন্তু রেস্টুরেন্টের সামনে রৌদ্রে দাড়িয়ে থাকা ভিক্ষুকটিকে ১০ টাকা দিতে পারি না! ★ বাড়ির দারোয়ান কে ৭ হাজার টাকা বেতন দিতে পারি, কিন্তু মসজিদের ইমাম সাহেবের ৩০০ টাকা বেতন দিতে পারিনা! ★ঈদের শপিং এ নিজের বাচ্চার জন্য ১০ হাজার টাকা বাজেট রাখতে পারি, কিন্তু বাড়িতে কাজের মেয়েটির জন্য ১ হাজার টাকা বাজেট রাখতে পারি না! ★শপিং মলে মানসম্মানের ভয়ে দরাদরি না করে ১ হাজার টাকার জিনিস দেড় হাজার টাকায় কিনতে পারি, কিন্তু তরকারি বাজারে ৩০ টাকার টমেটো ৩২ টাকা চাইলেই বিক্রেতাকে মেরে বসি! ★২০০ টাকার বাস ভাড়া ২০০০ টাকা দিয়ে কার নিয়ে যেতে পারি, কিন্তু রিক্সাওয়ালা ১০ টাকার ভাড়া ১৫ টাকা চাইলেই থাপ্পর দিতে দেরি করি না! ★শরীর পরিস্কার রাখার জন্য হাজার টাকার সাবান/ ফেইসওয়াস ব্যবহার করতে পারি, কিন্তু সম্পদ পরিস্কার/পবিত্র করার জন্য দরিদ্রকে যাকাত দিতে পারি না! কোথায় মানবতা, কোথায় মনুষত্ব?😥😥 ----- ♦️যৌন চাহিদা হচ্ছে ক্ষ...

অরিয়েন্টালিজম

  অরিয়েন্টালিজম - এডওয়ার্ড ডব্লিউ সাঈদ  এডওয়ার্ড সাঈদ-এর অরিয়েন্টালিজম ভূমিকা ও ভাষান্তর ফয়েজ আলম  গত শতকের অস্থির, দ্রুত পরিবর্তনমুখী বুদ্ধিবৃত্তিক আবহে এডওয়ার্ড সাঈদ ছিলেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টিশীল চিন্তাবিদদের একজন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর, বিশেষত ষাট ও সত্তরের দশকে সকল ধরনের ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের কাছে আনত অসম্ভব একটা মানব-বিশ্বে সাঈদের আবির্ভাব প্রচণ্ড আলোড়নের মতো, যা নাড়িয়ে দেয় পশ্চিমের সাংস্কৃতিক আধিপত্য ও দমনের দীর্ঘ, স্থিতিশীল আয়োজন-উন্নত বিশ্বের সাংস্কৃতিক প্রভাবনের সূত্রে অর্জিত ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের মূল-ভিত্তির কৃত্রিম গ্রন্থিগুলো খুলে খুলে দেখায় এবং এভাবে অনুন্নত অঞ্চলগুলোর, বিশেষ করে প্রাক্তন উপনিবেশিত দেশসমহের মানুষদের চিন্তাভঙ্গির দীর্ঘকালীন উপনিবেশিক অনবর্তনের মধ্যে সুচিত করে অবমুক্তি ও বিকাশের তীব্র সম্ভাবনা। সাহিত্যের ছাত্র ও অধ্যাপক হয়েও আর্থ-রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সকল কর্তৃত্বকেই তিনি চিহ্নিত করেন, বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে আক্রমণ করেন, তার স্বরূপ উন্মোচন করে দেখান। সমকালে আধুনিক মনোভাবের ধীর কিন্তু নিশ্চিত বিলুপ্তি এবং নতুন চিন্তাভঙ্গির ব...