Skip to main content

লুমাযাহ।

 


স্ত্রী গরমে ঘেমে অনেক সময় নিয়ে চা-নাস্তা বানিয়ে নিয়ে এসেছে।

শ্বশুর, শাশুড়ি সবাই বসে খাচ্ছে। স্বামী চায়ে চুমুক দিয়ে বিরক্ত হয়ে বলছে, “নাহ, এখনও তুমি মা’র মত চা বানাতে শিখলে না। কতবার বললাম মা’র কাছ থেকে দেখো কতখানি লিকার দিতে হয়। মা! ওকে দেখিয়ে দিয়েন তো কীভাবে চা বানাতে হয়।” — এ হচ্ছে #লুমাযাহ। > এরা সুযোগ পেলেই মানুষের মুখের উপর তার বদনাম করে। > কারও কোনো দোষ ধরার সুযোগ পেলে সহজে ছেড়ে দেয় না। > সারাদিন একে ধমকানো, ওকে খোঁচা মারা, একে গালি দেওয়া, ওকে ব্যঙ্গ করা, এগুলো হচ্ছে এদের স্বভাব। > এদের নিজেদের দোষের কোনো শেষ নেই। নিজের দোষ ঢাকার জন্য এরা সবসময় অন্যের দোষ নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এদের জিভ হচ্ছে একটা #ধারালো_অস্ত্র। এই অস্ত্র দিয়ে সারাদিন এরা একের পর এক মানুষের হৃদয় ক্ষতবিক্ষত করতে থাকে। ... আত্মীয় বেড়াতে এসেছে। গল্প করার ফাঁকে জিজ্ঞেস করলো, “আপনার মেয়ে কেমন আছে? ওর বাচ্চাগুলো ভালো আছে?” মা উত্তর দিলেন, “গত সপ্তাহে শুনলাম ওরা অসুস্থ। দেখি শুক্রবারে ফোন করলে বুঝতে পারবো কী অবস্থা?” আত্মীয় অবাক হয়ে বললেন, “শুক্রবারে? আপনার মেয়ে প্রতিদিন আপনাকে ফোন করে না? আমার মেয়ে প্রতিদিন সকালে ফোন করে সবার আগে আমার খোঁজ নেয়। আপনি এত কষ্ট করে মেয়ে বড় করে বিয়ে দিলেন, আর মেয়েটা আপনাকে দিনে একটা ফোনও করতে পারে না?” মা আমতা আমতা করে বললেন, “না, না, ব্যাপারটা সেরকম না। ও ঘর-সংসার, চাকরি নিয়ে অনেক ব্যস্ত থাকে। প্রতিদিন কি আর ফোনে কথা বলা যায়?” আত্মীয় তার নিজের মেয়ের সাথে আরও কিছু তুলনা করে চলে গেলেন। তারপর মা সারাদিন #বিষণ্ণতায়_ভুগলেন আর বাবা’র কাছে অভিযোগ করতে থাকলেন, “দিনে একটা ফোনও করতে পারে না? এই মেয়ের জন্য আমি রক্ত পানি করেছি? একে আমি নয় মাস পেটে ধরেছি? নিজের বাবা-মা’র থেকে ওর সংসার আজ বেশি বড় হয়ে গেলো?” —সেই আত্মীয় হচ্ছে #হুমাযাহ। > এরা মানুষে-মানুষে সম্পর্ক বিষিয়ে দিতে পেশাদারি দক্ষতা অর্জন করেছে। > এদের বিষাক্ত জিভের ছোবলে সুখী পরিবারের মধ্যেও মুহূর্তের মধ্যে আগুন ধরে যায়। ... হুমাযাতিল লুমাযাহ হচ্ছে এমন এক ধরনের মানুষ, • যে অন্যকে তুচ্ছ, তাচ্ছিল্য করে। • মানুষের দিকে তাচ্ছিল্য ভরে আঙ্গুল দেখায়। • চোখের ইশারা করে ব্যাঙ্গ করে। • কারও চরিত্রের কোনো দিক নিয়ে ব্যঙ্গ করে। • কারও মুখের উপর তার বিরুদ্ধে মন্তব্য করে। • কারও পেছনে তার দোষ বলে বেড়ায়। • এর নামে ওর কাছে কথা লাগায়। • মানুষে-মানুষে সম্পর্কে ফাটল ধরায়। —এটা তারা একবার দুইবার করে না। বরং এরকম করা তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এরা হচ্ছে #হুমাজাতিল_লুমাযাহ।[১৮][৭] এদের সাথে আল্লাহ তায়ালা কী করবেন, তার ভয়ংকর বর্ণনা সামনে আসছে। এই আয়াতে আল্লাহ তায়ালা এদেরকে অভিশাপ দিচ্ছেন যে, এরা ধ্বংস হয়ে যাক। মহাবিশ্বের #সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকে #অভিশাপ_পাওয়া এক ভয়ংকর ব্যাপার। এর পরিণাম নিশ্চিত ধ্বংস এবং অনন্তকালের জন্য প্রচণ্ড কষ্ট। এমন কষ্ট যা কেউ কোনোদিন কল্পনাও করতে পারবে না ! 😔😔😔

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...

নিকটবর্তী মানসিক রোগ

  ১. অস্বাভাবিক আচরণ ও কথাবার্তা ২. খাবারে ও পানিতে কিছু মেশানোর সন্দেহ ৩. ভাংচুর, সন্দেহ প্রবনতা ৪. গায়েবী কথা শোনা ৫. একা হাসা ও কথা বলা ৬. টেনশন, অস্থিরতা, উদ্বেগ, বিষন্নতা, হতাশা, একই চিন্তা ও কাজ বারে বারে করা ৭. খিটখিটে মেজাজ ৮. দীর্ঘমেয়াদী মাথাব্যথা, ঘাড় ও বুক সহ শরীরে বিভিন্ন স্থানে ব্যথা ও জ্বালাপোড়া মাথা ঘোরা, বুক ধরফর, হাত-পা ঝিনঝিন ৯. অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, হিস্টিরিয়া, কথা বন্ধ ১০. অসামাজিক আচরণ মাদকাসক্তি সহিংসতা ও নিজের শরীরে আঘাত করা উপরের সমস্যাগুলোর যেকোন একটা হলে আপনি দ্রুত সময়ের মাঝে নিকটবর্তী মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। ========================================= বিয়ের পর প্রত্যেক পুরুষের semen fluid analysis করা উচিত। ‌ এটা একটা বেসিক infertility টেস্ট যাতে দেখা হয় পুরুষ‌ মানুষটি বাবা হওয়ার যোগ্য কিনা। বিয়ের আগে করলে আরো ভালো। এটি করতে খরচ হয় স্থানভেদে মাত্র এক থেকে দেড় হাজার টাকা।সরকারি হাসপাতালে করলে ১০০ টাকায় করতে পারবেন। আমাদের দেশে কোন দম্পতির বাচ্চা না হলে এখনো অনেক জায়গায় মেয়েদেরকে ব্লেইম করা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যাটা থাকে ...