আমার একাকিত্বের কারণ কি আমি নিজে?
আমাদের অনেকের মনেই অনেক রাগ -দুঃখ- ক্ষোভ জমা থাকে। নিজের একাকিত্বের জন্য আমরা নানা সময়ে, নানা মানুষকে দোষারোপ করে থাকি। কিন্তু, কখনো কি নিজেকে প্রশ্ন করে দেখেছি যে, সবাই আমাকে ছেড়ে চলে যাওয়া বা আমার সাথে থাকতে না চাওয়ার পিছনে, আমারই কোন বৈশিষ্ট্য দায়ী কিনা? কখনো কি নিচের প্রশ্নগুলো নিজেকে করা হয়েছে - ❓আমি কি শুধু নিজেকে নিয়ে ভাবি? ❓আমি কি আলোচনার সময় শুধু নিজেই কথা বলতে পছন্দ করি, নাকি অন্যের কথা শুনতেও সমান স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি? ❓ আমি কি নিজের স্বার্থ ত্যাগ করে অন্যের জন্য কিছু করতে প্রস্তুত? ❓দিনে কতক্ষণ সময় আমি নিজেকে এবং কতক্ষণ সময় বাকিদের নিয়ে চিন্তা করি? ❓কথা বলার সময় আমি কি শুধুই হতাশার কথা বলি? ❓সব সময় নিজের একাকীত্বের জন্য কি আমি অন্যকে দায়ী করি? ❓আমি কি সব সময় মনে করি যে, আমার সাথে অন্যায় হচ্ছে? ❓ যে কোন ঘটনার দোষ কি আমি অন্যের কাঁধে চাপাতে পছন্দ করি? ❓ গঠনমূলক সমালোচনা কি আমি গ্রহণ করতে পারি? এসব প্রশ্নের উত্তরের মাধ্যমে যদি আমাদের আত্মকেন্দ্রিক বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠে, তবে এই বৈশিষ্ট্যগুলোই একাকিত্বের জন্য যথেষ্ট! এর থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলে - ১.দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করুন ২. দায়িত্বশীল আচরণ করুন এবং নিজ কাজের দায়িত্বভার গ্রহণ করতে শিখুন ৩. হিংসাত্মক মনোভাব পরিহার করে, সুস্থ প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব প্রতিযোগিতা ফুটিয়ে তুলুন ৪. অন্যের প্রশংসা করতে শিখুন ৫. অন্যের থেকে অতিরিক্ত চাহিদা করা বন্ধ করুন ৬. বিভিন্ন মানুষের সাথে মিশে তাদের থেকে কিছু শিখতে চেষ্টা করুন ৭.স্বার্থহীনভাবে বন্ধুত্ব করুন ৮. সবার সাথে ভালো ব্যবহার করুন ৯. আলোচনার সময় শুধু নিজেই কথা না বলে, অন্যদের ব্যাপারে প্রশ্ন করুন ১০.ক্ষমা চান ১১.সাহায্য করুন নিজের চিন্তাধারার পরিবর্তন, ঘুচিয়ে দিতে পারে একাকিত্ব! ---------------------------------------------------------------
১. মন খারাপ সাধারণত হয় ক্ষণস্থায়ী, কিন্ত বিষন্নতা দীর্ঘদিন থাকে। টানা ১৪ দিন ব্যাপী মন খারাপ থাকলে, অবশ্যই তা বিষন্নতা কিনা দেখা উচিত।
২. মন খারাপের সময় সাধারণত প্রিয় কাজগুলো করতে ভালো লাগে, এবং পছন্দের কাজগুলোতে ধীরে ধীরে মন খারাপ কেটে যায়। কিন্তু বিষন্নতায় কখনোই, কোনো কিছুই ভালো লাগে না, এমনকি যে কাজগুলো আগে পছন্দ ছিল তাও না!
৩. স্বাভাবিক মন খারাপের জন্য কখনোই জীবনযাত্রা বা কাজকর্ম ব্যাহত হয় না। কিন্তু বিষণ্ণতা এমন একটি সমস্যা, যার কারণে মানুষ স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারেনা, বা করলেও কষ্ট হয়।
৪. স্বাভাবিক মন খারাপে ঘুরতে গেলে বা বাইরে গেলে ভালো লাগলেও, বিষন্নতায় সার্বক্ষণিক এবং সব জায়গায় সমানভাবে বিদ্যমান।
৫. মন খারাপের পিছনে অবশ্যই কোন না কোন কারণ থাকে। বিষন্নতা যেমন কোন কারণে হতে পারে, তেমনি কারণ ছাড়াও কিন্তু হতে পারে!
৬. মন খারাপ একটি স্বাভাবিক অনুভূতি, কিন্তু বিষন্নতা অস্বাভাবিক এবং একটি মানসিক সমস্যা।
৭. স্বাভাবিক মন খারাপের চেয়ে বিষন্নতায় মন খারাপের মাত্রা সাধারণত বেশি হয়।
৮. মন খারাপের জন্য অধিকাংশ সময়ই চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু বিষন্নতায় চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, কখনো তা সাইকোথেরাপি বা ওষুধ, কখনো বা উভয়ই।
source-lifespring limited

Comments
Post a Comment