Skip to main content

পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যস্ত প্রাণী

 আপনি কি কখনো ভেবেছেন, যদি পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যস্ত প্রাণীটা নিজের গুরুত্ব বুঝতে পারত, তাহলে সে কি গর্ব করত?

সম্ভবত না। মৌমাছি গর্ব করে না। সে কাজ করে। আর ঠিক এখানেই আমাদের বাস্তব জীবনের সাথে তার সবচেয়ে গভীর মিল। আমরা অনেক সময় নিজেদের ছোট ভাবি, মনে করি আমাদের উপস্থিতি বা কাজের তেমন কোনো মূল্য নেই। ঠিক মৌমাছির মতোই আমরা বুঝতে পারি না, আমাদের প্রতিদিনের পরিশ্রম আসলে কার জীবনে কত বড় প্রভাব ফেলছে। মৌমাছি জানে না তার পরাগায়নের কারণে মানুষের খাবার জন্ম নিচ্ছে, সে শুধু নিজের দায়িত্ব পালন করে যায়। বাস্তব জীবনেও আমরা যখন সৎভাবে নিজের কাজটা করে যাই তখনই অজান্তে অনেক কিছু গড়ে উঠতে থাকে। মৌমাছি কখনো শোরগোল তোলে না, নিজের কষ্ট বা অবদান প্রকাশ করে না। সে নীরবে কাজ করে কিন্তু সেই নীরব কাজ ছাড়া পৃথিবীর ভারসাম্য ভেঙে পড়বে। আমাদের সমাজেও এমন অসংখ্য মানুষ আছে যারা আলোচনায় থাকে না কিন্তু পরিবার, প্রতিষ্ঠান বা সমাজ তাদের ওপরই দাঁড়িয়ে আছে। বাবা-মা, শিক্ষক, শ্রমজীবী মানুষ কিংবা সংগ্রামরত তরুণরা সবাই কোনো না কোনোভাবে মৌমাছির মতো নীরব যোদ্ধা। মৌমাছি বড় ফল পাওয়ার জন্য ছোট কাজকে অবহেলা করে না। প্রতিটি ফুলে বসা, প্রতিটি ফোঁটা মধু জমানোই তার সাফল্যের পথ। আমাদের জীবনেও বড় অর্জন আসে ছোট ছোট চেষ্টা থেকে। প্রতিদিন একটু ভালো হওয়া, একটু শেখা, একটু ধৈর্য রাখা... এই ছোট বিষয়গুলোই একসময় বড় পরিবর্তনের জন্ম দেয়, যদিও শুরুতে তার কোনো দৃশ্যমান ফল দেখা যায় না। আরেকটি বড় শিক্ষা হলো সহযোগিতা। মৌমাছি একা কাজ করে না, পুরো কলোনি মিলে কাজ করে। কেউ খাবার সংগ্রহ করে, কেউ বাচ্চাদের দেখাশোনা করে, কেউ বাসা রক্ষা করে। বাস্তব জীবনেও একা সবকিছু করা সম্ভব নয়। অন্যকে জায়গা দেওয়া, সহযোগিতা করা আর একসাথে এগিয়ে যাওয়াই টেকসই সাফল্যের ভিত্তি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিলটা হলো ধৈর্য আর ধারাবাহিকতা। মৌমাছি তাড়াহুড়ো করে না, হাল ছাড়ে না। সে নিজের গতিতে কাজ করে যায়। আমাদের জীবনেও যদি আমরা নিজেকে ছোট ভেবে থেমে না যাই, যদি নিয়মিত নিজের কাজটা সৎভাবে করে যাই তাহলে একসময় বুঝতে পারব "ক্ষুদ্রতা কখনো অক্ষমতা নয়।" ঠিক মৌমাছির মতোই, নীরব পরিশ্রম একদিন নিজেই তার মূল্য প্রমাণ করে দেয়।

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...