Skip to main content

নিজের যত্ন নেওয়া

 আপনি এখন হয়তো কাজের চাপ, দায়িত্ব, মানসিক টানাপোড়েন আর ভেতরের অজানা ক্লান্তিতে আটকে আছেন। সময়ের অভাবে নিজের যত্ন নেওয়াটা যেন বিলাসিতা মনে হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই নিজের যত্ন না নেওয়ার কারণেই আপনি ধীরে ধীরে ক্ষতির দিকে যাচ্ছেন, যেটা অনেক সময় আমরা বুঝতেই পারি না।

এই অবহেলার প্রথম ক্ষতিটা পড়ে শরীর আর মনে। বিশ্রাম ছাড়া, মানসিক শান্তি ছাড়া, নিজের জন্য সময় না রেখে চলতে থাকলে শরীর দুর্বল হয়, ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়, চিন্তা আর হতাশা বাড়ে। দীর্ঘদিন এই চাপ চলতে থাকলে মন আর শরীর দুটোই ক্লান্ত হয়ে পড়ে, কাজের আগ্রহ কমে যায়, জীবনের প্রতি ভালো লাগাটাও ধীরে ধীরে কমে আসে। আপনি হয়তো বাইরে থেকে শক্ত দেখাচ্ছেন কিন্তু ভেতরে ভেতরে নিজেকে ভেঙে ফেলছেন। এর পরের ক্ষতিটা হয় আপনার কাজের উপর। আমরা অনেক সময় মনে করি, বেশি সময় কাজ করলেই সফলতা আসবে। কিন্তু বাস্তবতা উল্টো। বিরতি ছাড়া কাজ করলে মনোযোগ কমে যায়, ভুল বাড়ে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দুর্বল হয়। আপনি যতই চেষ্টা করুন, ক্লান্ত মন কখনো ভালো ফল দিতে পারে না। এতে আপনার পরিশ্রম বাড়ে কিন্তু ফল কমে যায়। এই জায়গাটাতেই বেশিরভাগ মানুষ ধীরে ধীরে হতাশ হয়ে পড়ে। এখন আবার ছবিটায় ফিরে আসুন। শান্ত গ্রামের পরিবেশে বসে থাকা বিড়ালটি কোনো দুশ্চিন্তায় নেই। সে জানে কখন থামতে হয়, কখন নিজের দিকে মন দিতে হয়। সে নিজের শরীর নিজেই পরিষ্কার করছে, ধীরে, মনোযোগ দিয়ে। এই দৃশ্যটাই আপনার বর্তমান জীবনের একদম বিপরীত ছবি। আর এখানেই লুকিয়ে আছে সমাধান। গভীর গবেষণা আর বাস্তব অভিজ্ঞতা বলে, নিয়মিত নিজের জন্য সময় রাখলে মানসিক চাপ কমে, চিন্তা ও হতাশা নিয়ন্ত্রণে থাকে, শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং কাজের দক্ষতা উন্নত হয়। নিজের যত্ন মানে শুধু বিশ্রাম নয়, এটা মস্তিষ্ককে নতুন করে শক্তি দেয়, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ায় এবং জীবনের প্রতি ভালো দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে। সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো, বর্তমান মুহূর্তে থাকা। বিড়াল অতীত নিয়ে আফসোস করছে না, ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয় পাচ্ছে না। সে এখন যা করছে, সেটাতেই পুরো মনোযোগ। গবেষণায় প্রমাণিত, যারা বর্তমানকে গুরুত্ব দেয় তারা কম দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়, মানসিকভাবে স্থির থাকে এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও তুলনামূলক ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, বিরতি নিয়ে কাজ করা। একটানা কাজ নয় বরং নির্দিষ্ট সময় কাজ করে ছোট বিরতি নিলে মন সতেজ থাকে, কাজের মান বাড়ে এবং ক্লান্তি কম হয়। এতে আপনি কম সময়ে বেশি ভালো ফল পেতে পারেন, নিজের ওপর রাগ বা বিরক্তিও জমে না। নিজের যত্ন নেওয়া কোনো দুর্বলতা নয়, এটা টিকে থাকার শক্তি। আপনি যদি নিজের জন্য একটু সময় দেন, বর্তমানকে গুরুত্ব দেন আর চাপের মাঝে থামতে শেখেন তাহলে আপনার ক্ষতি ধীরে ধীরে কমবে। তার জায়গায় আসবে মানসিক শান্তি, শারীরিক সুস্থতা, কাজের গতি আর জীবনের প্রতি নতুন ভালোবাসা।

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...