এক মুহূর্ত কল্পনা করুন, আপনি ভিড়ের মাঝে দাঁড়িয়ে আছেন। সবাই আপনাকে ঘিরে তাকিয়ে আছে, কেউ ছবি তুলছে, কেউ ইশারা করছে, কেউ হাসছে। আপনি অস্বস্তিতে দাঁত কামড়াচ্ছেন, চোয়াল শক্ত করছেন। আর বাইরে থেকে কেউ যদি বলে “দেখো, লোকটা কত হাসিখুশি!” তাহলে কেমন লাগবে? ঠিক এই জায়গাটাতেই মানুষ আর প্রাইমেটদের অনুভূতির ভুল বোঝাবুঝি শুরু হয়।
মানুষের কাছে দাঁত দেখা মানেই হাসি, খুশি, আনন্দ। কিন্তু বানর, শিম্পাঞ্জি, বেবুনদের জগতে দাঁত দেখানো মানে ভয়, বিরক্তি বা মানসিক চাপ। তারা কথা বলতে পারে না তাই শরীরের ভাষায় জানায় “আমাকে ছেড়ে দাও”, “আমি নিরাপদ বোধ করছি না”। এই আচরণটা বিশেষ করে চিড়িয়াখানার প্রাইমেটদের মধ্যে বেশি দেখা যায় কারণ তারা দিনের পর দিন ছোট জায়গায় বন্দি থাকে, স্বাভাবিক পরিবেশ থেকে দূরে। বাস্তব চিত্রটা আরও কঠিন। চিড়িয়াখানায় ঘুরতে আসা মানুষ খাঁচার সামনে দাঁড়িয়ে হাসে, ছবি তোলে, কখনো আঙুল দেখিয়ে ইশারা করে। প্রাইমেট দাঁত বের করলে মানুষ ধরে নেয়, সে হাসছে বা মজা করছে। অথচ প্রাণীটা তখন চরম স্ট্রেসে থাকে। এই ভুল বোঝাবুঝি তার বিরক্তি আরও বাড়িয়ে দেয়। মানুষ যেখানে বিনোদন খুঁজে পায় সেখানে প্রাণীটা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। এটা শুধু জ্ঞান ঘাটতির বিষয় না, এটা আমাদের মানসিকতার প্রতিফলন। আমরা প্রায়ই নিজের অনুভূতিকে সব জীবের অনুভূতির মানদণ্ড বানাই। কিন্তু প্রকৃতি মানুষের মতো কাজ করে না। প্রত্যেক প্রাণীর নিজস্ব ভাষা, নিজস্ব ভয় আর নিজস্ব সীমা আছে। সেটা না বুঝে তাদের কষ্টকেও আমরা হাসির খোরাক বানাই। শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা খুব সহজ। আমরা কি সত্যিই সভ্য, যদি অন্য একটি জীবের বন্দিত্বের যন্ত্রণা দেখে আমরা আনন্দ পাই? প্রাণীর মুখে দাঁত যদি আমাদের হাসায় তাহলে হয়তো আমাদেরই ভেতরে কোথাও বোঝার জায়গাটা দুর্বল। প্রকৃত সভ্যতা শুরু হয় তখনই যখন আমরা অন্য প্রাণের অস্বস্তিকেও গুরুত্ব দিতে শিখি।
প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...
Comments
Post a Comment