Skip to main content

টাইম ট্রাভেল!

 টাইম ট্রাভেল!

------------------ আমি আপনাদের আরেকটা উদাহরণ দেই। এটা খুবই অসাধারণ! এটা হলো একটা… (অনেক্ষণ চুপ) এই রূপান্তরটি টাইম ট্রাভেল নিয়ে। আমি জানি না এটা আপনাদের ঠিকভাবে বোঝাতে পারবো কি না। কিন্তু যদি বুঝতে পারেন, আপনাদের খুবই ভালো লাগবে। আমি খুব করে চাচ্ছি যেন আপনাদের ভালো করে বোঝাতে পারি। আয়াতটি শুরু হচ্ছে জান্নাতে কী হবে তা নিয়ে। আয়াতটি দুনিয়া দিয়ে শুরু হয়নি। শুরু হয়েছে আখিরাত আর জান্নাত নিয়ে। আর এটা “তোমাদের” দিয়ে শুরু হয় নি, “তাদের” দিয়ে শুরু হয়েছে। তো এটা “তোমরা” না, অন্য কেউ। فٰكِهِينَ بِمَآ ءَاتٰىهُمْ رَبُّهُمْ وَوَقٰىهُمْ رَبُّهُمْ عَذَابَ الْجَحِيمِ (৫২:১৮) তারা ফল খাবে, অনেক উপভোগ করবে। তারা হাসবে। মুখে মস্ত বড় হাসি। যেন তারা Mangosteen বা এমন কিছু খেয়েছে। তারা শুধুই হাসছে, আল্লাহ তাদের যা দিয়েছেন সে কারণে। আর তিনি তাদের ভয়াবহ আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করেছেন। তারা এখন বোধ করছে নিরাপদ, সুরক্ষিত এবং আনন্দিত। আপনারাই তারা। তারা কি এখন নাকি ভবিষ্যতে? ভবিষ্যতে। তো এটা “তারা” আর ভবিষ্যতে। এর মানে আপনাদের চাইতে দু’ধাপের দূরত্বে আছে। প্রথম ধাপের দূরত্ব হলো, এটা আপনারা না, অন্য কেউ। দ্বিতীয় ধাপ- এটা বর্তমানে না, ভবিষ্যতে। তো এটা সময় ও স্থানের সাপেক্ষের দূরত্ব। আপনাদের থেকে অনেক দূর। এরপর সাথে সাথেই আল্লাহ বলছেন, كُلُوا وَاشْرَبُوا هَنِيٓـًٔۢا খাও, আর পান করো ! তৃপ্তি সহকারে। (52:19)“তারা খাবে আর তারা পান করবেন তৃপ্তি সহকারে” এমন না! তিনি বলছেন, খাও আর পান করো তৃপ্তি সহকারে। কখন আপনি বলেন, “খাও আর পান করো?” সামনে কেউ থাকলে নাকি সামনে কেউ না থাকলে? সামনে কেউ থাকলে! কিন্তু আল্লাহ কথা বলছেন আমার আপনার সাথে! কিন্তু তিনি তো আমার ব্যাপারে বলছিলেন না। তিনি তো জান্নাতে অন্য কারও কথা বলছিলেন! আর হঠাৎ করেই তিনি আমাকে বলছেন, “খাও আর পান করো তৃপ্তি সহকারে”। কেন? কারণ তিনি এই আয়াতে আমাকে বাধ্য করেছেন, আপনাকে বাধ্য করেছেন নিজেকে জান্নাতে কল্পনা করতে। আর আল্লাহ আমাকে বলছেন খেতে আর পান করতে, ভাবনাহীনভাবে। এক সেকেন্ডের মাঝে। আয়াতটি শুরু হতে ভাবছিলাম, জান্নাতের সেই লোকগুলো আমার থেকে কতো দূর! ইশ আমিও যদি তাদের একজন হতে পারতাম! আর আয়াতের অর্ধেকে আসতেই তিনি কিন্তু বলছেন না, “ওয়া ক্বালা লাহুম! সায়াক্বুলু লাহুম! ওয়াক্বীলা লাহুম!” “আর তাদের বলা হবে…” – এতো সময় নেই এর! না না! তুমি তুমি! খাও, পান করো! তুমি খাও আর পান করো!! ভাবনাহীন! এখন আমি নিজেকে জান্নাতে কল্পনা করছি, আর আল্লাহ আমাকে খেতে আর পান করতে বলছেন! ভাবনাহীনভাবে! খাবাবের প্যাকেটে হালাল লেখা খুঁজে দেখতে হবে না। শুধু খাও! এখন আমি কি নিজেকে বর্তমানে কল্পনা করছি নাকি ভবিষ্যতে? আপনাদের কিন্তু সময়টি খেয়াল রাখতে হবে। কোথায় কল্পনা করছি? আমি নিজেকে কল্পনা করছি…? ভবিষ্যতে। আল্লাহ আমাকে ভবিষ্যতে কী বলছেন? তিনি বলছেন, “খাও আর পান করো ভাবনাহীন بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ “খাও আর পান করো নিশ্চিন্তে। যে সুন্দর সুন্দর আমল করতে তার বিনিময়ে।” 52:19 তো ভবিষ্যতে উল্লেখ করছেন আমি যা করতাম… … অতীতে। যেটার মানে আসলে… বর্তমান। ঠিক না? কারণ আল্লাহ যদি ভবিষ্যতে বলেন, “তুমি অতীতে অসাধারণ কাজ করেছো।” সেই অতীতটির মানে হলো এখন। মানে এই এক আয়াতে আমি পুরো সময় আর স্থান ভ্রমণ করে এলাম। ভ্রমণ করে এলাম! আর আয়াত শেষ হতে হতে উপলব্ধি করলাম কিছু। আল্লাহ চান আমি নিজেকে জান্নাতে কল্পনা করি। যখন আমি জান্নাতের ফল খাচ্ছি আমাকে বলা হচ্ছে, “এটা হলো তোমার আমলের বিনিময়।” কখনকার? এই এখনকার। আয়াতটি যদি আপনি বুঝতে পারেন তাহলে আমল শুরু করে দিবেন কখন? এখনই! এই আয়াতে আল্লাহ্‌র উপহারগুলো কি কি? আল্লাহর উপহার হলো, আপনি খেতে পারবেন। আর আর কি পারবেন? পান করতে। আর ভাবনাহীনভাবেই। এটা আসল উপহার না। এই আয়াতে আসল উপহার হলো—আপনি আল্লাহ্‌র সাথে সরাসরি কথা বলবেন। আল্লাহ আপনাকেই বলবে, “খুব ভালো কাজ করেছো।” আপনার শিক্ষক যখন আপনার কাছে এসে বলে, “খুব ভালো।” শিক্ষকের কাছে এটা কিছুই না। শিক্ষার্থীর কাছে এটাই সব। শুধু একটা ছোট্ট প্রশংসা। আপনি জানেন না এই ছোট্ট প্রশংসা কি করতে পারে। ছোট্ট একটি জিনিস। আপনাদের একটি গল্প বলি। আমি নিজেও… আমি কখনোই নিজেকে শিক্ষকতা করবো এমনভাবে দেখিনি। আমি প্রযুক্তিবিদ্যা পড়েছি, সেটাও চলছিল ভালো। একদিন এক মসজিদে হালাকায় চারজন ছিল। আমাকে কিছু বক্তৃতা দিতে বলা হলো। আমিও সেটা করলাম। তখন এক ভাই, তাঁকে খুবই সম্মান করতাম। বলতে গেলে প্রযুক্তিতে তিনি আমার গুরু ছিলেন। তিনি জিপিএ ৪.০ পাওয়া গ্র্যাজুয়েট ছিলেন MIT এর মাস্টার্স প্রোগ্রামে। হ্যাঁ! আমি পাঁচ মিনিট মাত্র আলোচনা করলাম। আর তিনি বললেন, “তুমি কি জানো? তুমি তো প্রকৃতিগতভাবেই একজন শিক্ষক (natural teacher)। তোমার শিক্ষকতা করা উচিত।" আপনাদের বলছি, এই পেশায় প্রবেশ করার আমার সবচাইতে বড় কারণ ছিল এই কয়েকটা শব্দ। শুধু ওই কথাগুলো…! শব্দের ক্ষমতা আপনারা জানেন না। বিশেষ করে যদি শব্দগুলো আপনার পছন্দের কারও কাছ থেকে আসে। আপনি জানেনও তা কি করতে পারে! ঠিক আছে? তাই প্রশংসায় কৃপণতা করবেন না। আপনার বাচ্চাদের ক্ষেত্রে তো আরও বেশী করবেন না। ঠিক আছে? বন্ধুদের ক্ষেত্রেও। বিশেষত যারা আপনাকে সম্মান করে। তাদের মধ্যে কোন ভালো কিছু দেখলেই তারিফ করুন, গ্রহন করুন এবং সাহস দিন। বুঝতে পারছেন? তো আল্লাহ বলছেন, كُلُوا وَاشْرَبُوا هَنِيٓـًٔۢا بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ “খাও আর পান করো! খুব ভালো কাজ করেছো তোমরা।” শুধু আল্লাহ্‌র কাছ থেকে শোনা, আমি ভালো করেছি…! উফ! জানি না আর কখনো খাবার খাওয়ার প্রয়োজনই বা পড়বে কি না। “ইয়া আল্লাহ! সত্যি?!!” (খুশি হয়ে) সুবহানআল্লাহ! - নোমান আলী খান - ডিভাইন স্পীচ ৬ এর অংশবিশেষ

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...