Skip to main content

রাজনৈতিক শাসন ব্যবস্থা

 সবাই জেনে রাখুন যে, রাজনৈতিক শাসন ব্যবস্থা শুধুমাত্র দুটি ভিত্তিতে বৈধভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

১) প্রথমত, যেহেতু আল্লাহ সবকিছুর স্রষ্টা, তাই তিনি যে কোনো ব্যক্তিকে শাসক নিযুক্ত করতে পারেন। এই নিয়োগের বিরোধিতা কখনোই করা যাবে না। যেমন - আল্লাহ তায়ালা বনি ইসরাঈলের জন্য সলকে তাদের শাসক হিসেবে বাছাই করেছিলেন। পরবর্তীতে দাউদ (আ) এবং তার পুত্র সুলাইমান (আ) কেও তিনি বনি ইসরাইলের শাসক হিসেবে বাছাই করেছিলেন। একইভাবে আল্লাহর রাসূল (স) কেও আল্লাহ্‌ তায়ালা বনি ইসমাইল এবং আরবদের শাসক হিসেবে বাছাই করেছিলেন। এ বিষয়ে আমরা এই ভিডিও সিরিজে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছি। কেন রাসুল (সঃ) কে আরবে বিজয় দান করা হয়েছে এবং রিসালাতের বিশেষ বিধানটি কি? যার উপর ভিত্তি করে রাসূল (স) ইসলামি হুকুমত প্রতিষ্ঠা করেছিলেন । তবে আল্লাহ্‌ কর্তৃক এইভাবে সরাসরি শাসক নির্ধারণের কোনো উপায় বর্তমানে আর অবশিষ্ট নেই। কারণ আল্লাহ তায়ালা আসমান হতে ফেরেস্তা প্রেরনের মাধ্যমে এখন আর কোনো ব্যক্তিকে শাসক নির্ধারণ করবেন না। নবী রাসূলদের যামানার পরিসমাপ্তির মাধ্যমে এই পদ্ধতির ইতি ঘটেছে। ২) দ্বিতীয় উপায় হল আমরা মানুষরা পারস্পরিক আলোচনা এবং সম্মতির মাধ্যমে একজন শাসক নির্বাচন করবো। অর্থাৎ মানুষ একটি সামাজিক চুক্তিতে চুক্তিবদ্ধ হবে এবং এর উপর ভিত্তি করে একজন রাজনৈতিক শাসক নির্ধারণ করবে। জ্ঞান ও যুক্তির দাবী অনুযায়ী এটিই একমাত্র বৈধ ও আইনী পদ্ধতি যা অবশিষ্ট আছে। মানুষকে শাসন করার অধিকার যেহেতু অন্য মানুষের নেই তাই মানুষই নির্ধারণ করবে তাদের শাসক কে হবে। মনে রাখবেন মানুষের সম্মতি নেয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। কিভাবে এই সম্মতির ব্যপারে নিশ্চিত হওয়া যায় তা সময় এবং যুগ নির্ধারণ করেবে। হাজার হাজার বছর পূর্বে একটি গোত্রতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় গোত্র প্রধান বা রাষ্ট্র প্রধান নির্বাচনের ক্ষেত্রে সমাজের মানুষ হতে যেভাবে এই সম্মতি গ্রহন করা হতো বর্তমানে ঠিক একই পন্থায় মানুষের সম্মতি গ্রহণ করতে হবে এমনটা বাধ্যতামূলক বা যৌক্তিক নয়। শাসক নির্বাচন বা নির্ধারণের ক্ষেত্রে মানুষের সম্মতি নেয়াটা উদ্দেশ্য। কিভাবে কোন পদ্ধতিতে মানুষের সম্মতির বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায় তা মানুষ তাদের প্রয়োজনের কারণে নিজেরাই খুঁজে বের করে নিবে। উদাহরণস্বরূপ - বর্তমান আধুনিক বিশ্বে ব্যালট বাক্সে এবং অনলাইনে ভোট গ্রহণের মাধ্যমে জনগণের মতামত গ্রহণ করা হয়ে থাকে। হয়তো ভবিষ্যতে অন্য কোন মাধ্যমে মানুষ তাদের মতামত প্রদান করতে পারবে। সুতরাং, একজন শাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয় আমরা করবো অথবা আল্লাহ নিজে করবেন। আর আল্লাহ এখন কাউকে নিয়োগ দেবেন না, কারণ সেই ঐতিহ্য শেষ হয়ে গেছে। তাই মানুষকেই এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এই অধিকার কেবল তাদের। কোনো ব্যক্তি, কোনো পরিবার অথবা বন্দুকধারী কিছু লোকের নয়। শাসক নির্ধারণের এই দ্বিতীয় পদ্ধতি বিষয়ে আল্লাহ্‌ তায়ালা বলেন – ‘মুসলমানদের কাজকর্ম তাদের পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়।’ (৪২:৩৮)

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...