ভিয়েতনামের সাথে বাংলাদেশের তুলনা করা বোকামি হচ্ছে। ভিয়েতনাম বলেছে আমেরিকার সকল পণ্য তার দেশে বিনা শুল্কে ঢুকতে পারবে কিন্তু তার দেশ থেকে আমেরিকাতে পণ্য গেলে ২০% শুল্ক দিতে হবে। দ্বিতীয়ত ভিয়েতনাম চীনের একেবারে নিকটবর্তী একটি দেশ। সম্প্রতি চীনা কোম্পানিগুলো তাই তাদের সব মাল তৈরি করে ভিয়েতনামে পাঠিয়ে দিতো। তারপর সেখানে সেগুলো কেবল এসেম্বলি হতো এবং মেড ইন ভিয়েতনাম লেখা থাকতো। এভাবে চীন শুল্ক এড়াতো। কিন্তু বর্তমানে ভিয়েতনাম চুক্তি করেছে এমন ক্ষেত্রে ৪০% শুল্ক দিবে সে। এই রকম চুক্তি কি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য? দ্বিতীয়ত বাংলাদেশ কী আমেরিকাকে নিজ দেশে মুক্ত বাণিজ্য করতে দিয়ে নিজে শুল্ক খাওয়ার চুক্তি করবে? এই ধরণের কার্যক্রম আদতে কতটা লাভজনক হবে এবং ভূ রাজনীতির সমীকরণে কি পরিবর্তন আনবে তা বোঝা জরুরী। একটা কথা মনে রাখতে হবে যে চীন এবং ভিয়েতনাম পরস্পর ভূ রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। সেহেতু সে নিরাপত্তা জনিত কারণে আমেরিকার কোলে ঘেঁষতে চায়। এদিকে চীনে বিরুদ্ধে দাঁড়াতে আমেরিকার একটি ল্যান্ডিং পোস্ট লাগে। সেইটার জন্য ভিয়েতনাম অতি জরুরী স্থান। তার উপর ট্রান্সশিপমেন্ট (উপরে যা ব্যাখ্যা করেছি) ঠেকানো জরুরী। এই সবকিছু মিলিয়ে উপরের চুক্তি করা হয়েছে যা একান্ত একপাক্ষিক। বাংলাদেশের জন্য কি ব্যাপারগুলো খাটে বা সুবিধাজনক? এমন চুক্তি কি চীনের সাথে দূরত্ব তৈরি করবে না? তখন সে বলবে আমাকে শুল্ক মুক্ত সুবিধা দিতে হবে অন্যথায় তুমি আমেরিকা নিয়ে থাকো। এই সবকিছু না চিন্তা করে কেবল সোশ্যাল মিডিয়াতে একটা আবেগী চিত্র দিয়ে মানুষকে বোকা বানানো উচিৎ না। ভূ-রাজনীতি সুচিন্তিত সিদ্ধান্তের ময়দান। পাগলের খেলা না! মোহাইমিন পাটোয়ারী

Comments
Post a Comment