আপনার পোষা পাখিটা যখন ঠোঁট নেড়ে নেড়ে মিষ্টি শব্দ করে ডাকে, তখন ওর মনের ভেতরও অনেক আশা থাকে "আজকে নতুন কী খাবো?" শুধু বীজ আর দানাদার খাবার খাইয়ে যদি আপনি ভাবেন যে আপনার দায়িত্ব শেষ তাহলে আপনি ভুল ভাবছেন! পাখিও মানুষদের মতোই নতুন নতুন স্বাদের দিকে ঝুঁকতে চায়। ওদেরও লাগে সুস্বাদু, রঙিন আর পুষ্টিকর কিছু, যেটা ওদের শরীর ভালো রাখবে, মন খুশি করবে। তাই প্রতিদিনের খাবারে যোগ করুন তাজা ফল আর সবজি। যেমন ধরুন, আপেল (বীজ ছাড়া), কলার টুকরো, গাজরের পাতলা স্লাইস কিংবা ব্রকোলির ছোট ছোট ফুল। এগুলো শুধু খেতে ভালো না বরং পাখির শরীরের জন্য দারুণ উপকারী। গাজরে থাকে বিটা-ক্যারোটিন, যা শরীরে গিয়ে ভিটামিন A-তে রূপ নেয়। এই ভিটামিন পাখির চোখের জ্যোতি বাড়ায় এবং পালক চকচকে করে তোলে। আবার আপেলে থাকে ফাইবার, যা হজমশক্তি ঠিক রাখে। "ব্রকোলি, পালং শাক, কর্ন"এগুলোর মাঝেও আছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, ভিটামিন B ইত্যাদি পুষ্টিকর উপাদান। গবেষণায় দেখা গেছে, বন্য পাখিরা প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় নানা রকম গাছের ফল, ফুল, পাতা খায়। National Wildlife Federation–এর মতে, এই বৈচিত্র্যই তাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং প্রাকৃতিকভাবে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে। তাই পোষা পাখির ক্ষেত্রেও ফল ও সবজির গুরুত্ব কোন অংশে কম নয়। তবে এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের কথা বলা দরকার... তা হলো মিনেরাল ব্লক। এই ব্লক দেখতে যেমন ছোট, কাজে তেমনি বিশাল! এটা এক ধরনের শক্ত পাথরের মতো বস্তু, যার মধ্যে থাকে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, জিঙ্ক, আয়রনসহ নানা প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান। আপনি যখন এটা খাঁচার ভেতর ঝুলিয়ে দেন তখন পাখি ঠোঁট দিয়ে কুটকুট করে খায়। এতে ওর চঞ্চু (ঠোঁট) ঠিকঠাক শেপে থাকে কারণ অনেক সময় চঞ্চু বড় হয়ে গেলে খাবার খেতে কষ্ট হয়। এছাড়া এই ব্লক শরীরের হাড় মজবুত করে, ডিম পাড়া পাখির ডিম শক্ত করে আর শরীরের স্বাস্থ্যের ভারসাম্য ঠিক রাখে। BirdCare Foundation ও Cornell Lab of Ornithology–এর গবেষণা অনুযায়ী, যেসব পাখির খাবারে ফল-সবজি ও মিনেরাল ব্লক নিয়মিত থাকে তারা অন্যদের তুলনায় বেশি সতেজ থাকে, কম অসুস্থ হয় এবং তাদের পালক হয় আরও উজ্জ্বল। একজন পাখিপ্রেমী হিসেবে আপনার উচিত ওদের খাবার তালিকায় প্রতিদিন একটু রঙ, একটু পুষ্টি আর একটু ভালোবাসা যোগ করা। খাবারের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারেন এভাবে... ৫০% বীজ বা দানাদার খাবার, ২৫% ফল ও সবজি, ১৫% মিনেরাল ব্লক বা কাটলবোন আর ১০% হতে পারে occasional treat (যেমন egg food বা পাখির জন্য নির্ধারিত স্ন্যাক)। মনে রাখবেন, পাখিকে নতুন ফল বা সবজি খাওয়াতে গেলে ধীরে ধীরে পরিচয় করান। হুট করে সব দিলে খেতে চাইবে না কিন্তু একটু ধৈর্য ধরলে ও একসময় অভ্যস্ত হয়ে উঠবে। আপনার পাখি যেন শুধু বেঁচে না থাকে... সুখে, শান্তিতে আর একটুখানি রাজকীয় ভঙ্গিতে বাঁচে। আর সেটা তখনই সম্ভব যখন ওর খাবার থাকবে পুষ্টিকর, বৈচিত্র্যময় আর আপনার ভালোবাসায় ভরপুর। তাই পাখিকে আজই দিন কিছু মজার ফল, টাটকা সবজি আর একখানা মিনেরাল ব্লক... দেখবেন ওর ঠোঁটে ফুটে উঠবে খুশির একটা ছোট্ট "চিক"!
আপনার পোষা পাখিটা যখন ঠোঁট নেড়ে নেড়ে মিষ্টি শব্দ করে ডাকে, তখন ওর মনের ভেতরও অনেক আশা থাকে "আজকে নতুন কী খাবো?" শুধু বীজ আর দানাদার খাবার খাইয়ে যদি আপনি ভাবেন যে আপনার দায়িত্ব শেষ তাহলে আপনি ভুল ভাবছেন! পাখিও মানুষদের মতোই নতুন নতুন স্বাদের দিকে ঝুঁকতে চায়। ওদেরও লাগে সুস্বাদু, রঙিন আর পুষ্টিকর কিছু, যেটা ওদের শরীর ভালো রাখবে, মন খুশি করবে। তাই প্রতিদিনের খাবারে যোগ করুন তাজা ফল আর সবজি। যেমন ধরুন, আপেল (বীজ ছাড়া), কলার টুকরো, গাজরের পাতলা স্লাইস কিংবা ব্রকোলির ছোট ছোট ফুল। এগুলো শুধু খেতে ভালো না বরং পাখির শরীরের জন্য দারুণ উপকারী। গাজরে থাকে বিটা-ক্যারোটিন, যা শরীরে গিয়ে ভিটামিন A-তে রূপ নেয়। এই ভিটামিন পাখির চোখের জ্যোতি বাড়ায় এবং পালক চকচকে করে তোলে। আবার আপেলে থাকে ফাইবার, যা হজমশক্তি ঠিক রাখে। "ব্রকোলি, পালং শাক, কর্ন"এগুলোর মাঝেও আছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, ভিটামিন B ইত্যাদি পুষ্টিকর উপাদান। গবেষণায় দেখা গেছে, বন্য পাখিরা প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় নানা রকম গাছের ফল, ফুল, পাতা খায়। National Wildlife Federation–এর মতে, এই বৈচিত্র্যই তাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং প্রাকৃতিকভাবে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে। তাই পোষা পাখির ক্ষেত্রেও ফল ও সবজির গুরুত্ব কোন অংশে কম নয়। তবে এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের কথা বলা দরকার... তা হলো মিনেরাল ব্লক। এই ব্লক দেখতে যেমন ছোট, কাজে তেমনি বিশাল! এটা এক ধরনের শক্ত পাথরের মতো বস্তু, যার মধ্যে থাকে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, জিঙ্ক, আয়রনসহ নানা প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান। আপনি যখন এটা খাঁচার ভেতর ঝুলিয়ে দেন তখন পাখি ঠোঁট দিয়ে কুটকুট করে খায়। এতে ওর চঞ্চু (ঠোঁট) ঠিকঠাক শেপে থাকে কারণ অনেক সময় চঞ্চু বড় হয়ে গেলে খাবার খেতে কষ্ট হয়। এছাড়া এই ব্লক শরীরের হাড় মজবুত করে, ডিম পাড়া পাখির ডিম শক্ত করে আর শরীরের স্বাস্থ্যের ভারসাম্য ঠিক রাখে। BirdCare Foundation ও Cornell Lab of Ornithology–এর গবেষণা অনুযায়ী, যেসব পাখির খাবারে ফল-সবজি ও মিনেরাল ব্লক নিয়মিত থাকে তারা অন্যদের তুলনায় বেশি সতেজ থাকে, কম অসুস্থ হয় এবং তাদের পালক হয় আরও উজ্জ্বল। একজন পাখিপ্রেমী হিসেবে আপনার উচিত ওদের খাবার তালিকায় প্রতিদিন একটু রঙ, একটু পুষ্টি আর একটু ভালোবাসা যোগ করা। খাবারের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারেন এভাবে... ৫০% বীজ বা দানাদার খাবার, ২৫% ফল ও সবজি, ১৫% মিনেরাল ব্লক বা কাটলবোন আর ১০% হতে পারে occasional treat (যেমন egg food বা পাখির জন্য নির্ধারিত স্ন্যাক)। মনে রাখবেন, পাখিকে নতুন ফল বা সবজি খাওয়াতে গেলে ধীরে ধীরে পরিচয় করান। হুট করে সব দিলে খেতে চাইবে না কিন্তু একটু ধৈর্য ধরলে ও একসময় অভ্যস্ত হয়ে উঠবে। আপনার পাখি যেন শুধু বেঁচে না থাকে... সুখে, শান্তিতে আর একটুখানি রাজকীয় ভঙ্গিতে বাঁচে। আর সেটা তখনই সম্ভব যখন ওর খাবার থাকবে পুষ্টিকর, বৈচিত্র্যময় আর আপনার ভালোবাসায় ভরপুর। তাই পাখিকে আজই দিন কিছু মজার ফল, টাটকা সবজি আর একখানা মিনেরাল ব্লক... দেখবেন ওর ঠোঁটে ফুটে উঠবে খুশির একটা ছোট্ট "চিক"!

Comments
Post a Comment