Skip to main content

“রানীসুলভ” বিড়াল

 


আমরা যারা বিড়াল ভালোবাসি, তাদের একটা বড় দুর্বলতা হলো ওদের আদর করে কোলে নেওয়া। নরম তুলতুলে শরীরটা একবার কোলে তুললেই মনে হয় পৃথিবীর সব শান্তি যেন সেখানে মিশে আছে! কিন্তু সাবধান, সব বিড়াল সেই শান্তিতে ভেসে যেতে চায় না! অনেক বিড়ালের জন্য হঠাৎ কোলে তোলা মানে একপ্রকার “আপদ”। গবেষণা বলছে, বিড়ালকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোলে তুললে মানসিক চাপ বেড়ে যায় এবং ভবিষ্যতে সে আপনাকে এড়িয়ে চলতে পারে (Finka et al., 2019, Journal of Veterinary Behavior)।

তাই প্রথমেই বিড়ালের শরীরের ভাষা বুঝতে শিখুন। ও লেজ নাড়াচ্ছে কি না, কান পেছনে নিয়ে নিচ্ছে কি না, চোখ বড় করে বিরক্ত দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে কি না... এসব লক্ষণ বলছে, "এই মুহূর্তে আমাকে একা থাকতে দাও!" Finka ও তার সহগবেষকরা ২০২২ সালে একটি গবেষণায় বলছেন, বিড়ালকে কোলে নেওয়ার সঠিক কৌশল হচ্ছে "CAT" পদ্ধতি... C মানে Choice and Control, অর্থাৎ ওর সম্মতি; A মানে Attention to body language, অর্থাৎ ওর সিগন্যাল বোঝা; আর T মানে Touch appropriately, অর্থাৎ যত্নসহকারে আদর করা। এই নিয়মগুলো মানলেই বিড়াল নিজ থেকেই আপনার কোলে এসে আরাম করে বসবে। কোলে তোলার সঠিক ভঙ্গিও খুব গুরুত্বপূর্ণ। Cornell University College of Veterinary Medicine-এর মতে, বিড়ালকে কোলে তোলার সময় অবশ্যই দুই হাত ব্যবহার করতে হবে, একটি হাত দিয়ে বুকের নিচে আলতো ভালো দিতে হবে, অন্যটি দিয়ে ওর পিছনের অংশ ধরতে হবে। শুধু গলা বা ঘাড় ধরে তোলা একেবারেই অনুচিত, এতে বিড়াল ভয় পেয়ে যেতে পারে বা শারীরিক আঘাত পেতে পারে। বিশেষ করে ছোট বিড়াল বা বয়স্ক বিড়ালের ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্ক হতে হবে কারণ ওদের হাড় তুলনামূলক নরম এবং শরীর দুর্বল হতে পারে। American Association of Feline Practitioners (AAFP) জানাচ্ছে, বিড়ালের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা ওর মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার জন্য অত্যন্ত জরুরি। আরেকটি মজার তথ্য হলো, গবেষণায় দেখা গেছে বেশিরভাগ বিড়াল নিজের ইচ্ছায় কোলে উঠলে অনেক বেশি শান্ত ও বন্ধুসুলভ থাকে। কেউ কেউ আবার দিনের নির্দিষ্ট সময়েই কোলে আসতে চায় যেমন খাওয়ার আগে বা ঘুমের ঠিক আগে এবং ওরা শরীরের নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় ছোঁয়া পছন্দ করে যেমন মাথার পাশ, গলার নিচ ও পিঠের মাঝখান। তাই না বুঝে পেটের দিক স্পর্শ করলে অনেক বিড়াল খেপে যেতে পারে! এটা যেন কারও গোপন জায়গায় জোর করে হাত দেওয়ার মতোই! সবশেষে বলব, বিড়ালকে কোলে নেওয়া মানে শুধুই আদর নয়, এটা ওর প্রতি সম্মান দেখানোর একটা উপায়। বিড়াল একেবারে রাজকীয় প্রাণী! ওকে বুঝে, ভালোবেসে, ধৈর্য ধরে কাছে টানতে হয়। আপনি যদি ওর ভাষা বোঝেন, ইচ্ছাগুলোকে সম্মান করেন আর সঠিকভাবে আদর করতে পারেন তাহলে একদিন দেখবেন, সেই “রানীসুলভ” বিড়ালই আপনাকে আপন করেই নিয়েছে। তথ্যসূত্র: * Finka, L. R., Ellis, S. L. H., & Stavisky, J. (2019). Journal of Veterinary Behavior. * Finka et al. (2022). The CAT touch protocol – Scientific Reports. * Turner, D. C., & Bateson, P. (2000). The Domestic Cat: The Biology of its Behaviour. * Cornell University College of Veterinary Medicine. * American Association of Feline Practitioners (AAFP).

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...