আসুন
একটু ভাবতে শিখিবিয়েতে খেতে বসেছি। খাবার সামনে আসতেই মনে পড়লো গিফট এনেছি ১০০০/-, রিকশা ভাড়া দিয়েছি ৬০/-। সবমিলিয়ে এই বিয়েতে খরচ করেছি ১০৬০/-। সুতরাং এই খরচ খাওয়ার টেবিলেই তুলতে হবে। এহেন চিন্তা থেকেই ২০দিনের অভুক্তের মতো সব আইটেম প্লেটে নিলাম। খাওয়া শেষে দেখলাম প্লেটের ৬০ ভাগ খাবারই খেতে পারি নাই। এরপরেও আমার কোন আফসোস নাই, কারণ খরচের পয়সা তো উসুল করতে পেরেছি! এমনটা ভেবে হাসিমুখে বিজয়ীর বেশে যখন খাবার টেবিল ছেড়ে আসছি, তখন পেছনে অপচয় করে আসছি একজন পিতার বহু বছরের শ্রমে তিল তিল করে জমানো টাকায় মেয়ের বিয়ে উপলক্ষে আয়োজন করা খাবার। এখানে যখন আমি বিজয়ীর হাসি হাসছি, তখন হয়তো সেই পিতা হিসাব কষছেন, দুঃশ্চিন্তা করছেন এই খাবার আয়োজন করতে গিয়ে হওয়া দেনা নিয়ে। যে মূহুর্তে আমি অপচয় করে সগৌরবে অট্টহাসি দিচ্ছি, সে মূহুর্তেই হয়তো বিশ্বের নানান প্রান্তে খাবারের অভাবে বুকফাটা আর্তনাদ করছে আমারই মতো রক্তমাংসের কোন অসহায় মানুষ। অতএব, প্লিজ.....
সামর্থ্য থাকলে গিফট দিবেন, না থাকলে দিবেন না। কিন্তু গিফটের পয়সা উসুলের অজুহাতে বিয়ে বাড়িতে খাবার অপচয় করবেন না এটাই অনুরোধ....
*************************************************************
এক লোক একটা আস্ত বড় পশু গ্রীল করে তার মেয়েকে বললেন– 'আমাদের আত্মীয়স্বজন, পাড়াপ্রতিবেশী আর প্রিয়জনদের ভোজের জন্য ডেকে নিয়ে এসো'।
মেয়ে রাস্তায় গিয়ে চিৎকার করতে থাকলো– 'আমাদের বাসায় আগুন লেগেছে। আপনারা আগুন নিভাতে সাহায্য করুন'। কিছুক্ষণ পরে অল্প কিছু সংখ্যক মানুষ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসলো। বাকিরা এমন ভাব করলো যেনো তারা কিছু শুনতেই পায়নি! যারা আসলেন তারা পেট পুরে মজাদার সেই খাবার খেলেন। মেয়েটির বাবা খুব আশ্চর্য্য হয়ে মেয়েকে জিজ্ঞেস করলেন– 'এই যে অল্প সংখ্যক মানুষ যারা এসেছেন তাদেরকে প্রায় কাউকেই আমি চিনিনা এবং অনেককেই কখনোও দেখিনি। আমাদের আপনজনরা সব কোথায়?'। মেয়েটি উত্তর দিলো– 'এই যে যারা এসেছেন, তারা কিন্তু খাবার খেতে আসেননি বরং এসেছেন আমাদের বাসায় আগুন নিভানোর কাজে সাহায্য করতে। তারাই আসলে আমাদের আতিথেয়তার যোগ্য'। নীতিবাক্যঃ যারা তোমার বিপদের সময় তোমার পাশে থাকেনি, তারা তোমার আনন্দের অংশীদারী হওয়ার যোগ্যতাও রাখেনা। ©সংগৃহীত
Comments
Post a Comment