Skip to main content

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পরিবারে ইসলাম

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পরিবারে ইসলাম


টনি ব্লেয়ার ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তার আমলেই ব্রিটেনের সাথে ইরাক ও আফগানিস্তানের লম্বা যুদ্ধ হয়েছে। তার নিজের স্ত্রীর বোনই যদি মুসলিম হয়ে যায় তাহলে সেটা তো টনি ব্লেয়ারের চূড়ান্ত আফসোস। কিন্তু এটা নতুন না, উমর (রা) হতে যে ইতিহাসের শুরু এটা তারই পুনরাবৃত্তি। যার কথা বলছি তার বর্তমান নাম সারা, তার দুলাভাইই টনি ব্লেয়ার। সাংবাদিকতার কাজে গিয়েছিলেন ফিলিস্তিনে। তিনি বলেন, "আল্লাহ আমাকে ফিলিস্তিনে পাঠিয়েছেন। আর ফিলিস্তিনিরা আমাকে আল্লাহর কাছে ফেরত পাঠিয়েছে"। সেখানে তিনি দেখলেন- কেউ পঙ্গু, কেউ খোড়া, কারো বা মারা গেছে সন্তান। আরেকটা জিনিসের অভাবও তিনি দেখলেন সেখানে। নিরাশার। কারোর যেন কোনো হতাশাও নেই। একবার রোজার মাসে তিনি একটা ফিলিস্তিনি বাসায় যান। তিনি বলেন- “সে বাসায় চার দেয়াল আর একটা ছাদ ছাড়া কোনো আসবাব ছিলো না। কিন্ত তা সত্তেও বাসার মহিলা আমাকে এমন ভাবে অভ্যর্থনা দিয়েছিলো যেন মনে হচ্ছে আমি তাজমহলে এসেছি। এতোটা অমায়িক ছিলো তারা”। তিনি দেখলেন এত গরিবি নিয়েও তারা সারাদিন না খেয়ে আছে (রোজা আরকি)। এমনকি তারা তাদের ইফতারের বেশিরভাগ খাবারই তারা ওনাকে দিয়ে দেয়। তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, 'এটা কেমন ধর্ম যেটা অভাবীদেরও না খাইয়ে রাখে''। এর উত্তরে সেই মহিলা বললো- “আমরা রোজা রাখি যাতে আমরা গরীব-দুঃখীদের কষ্ট বুঝতে পারি”। এই উত্তর শুনে তার মনে হলো, “যে ধর্ম এই এমন মানুষদেরও দুঃখীদের কষ্ট বুঝতে শিখায়, সেটা আমার চাই”। ফিলিস্তিনে তিনি দেখেছিলেন, সবার বাসায় কিছু থাকুক না থাকুক কুরআন থাকতোই। একটা মজার ব্যাপার বলি, পড়াশুনা করে ইসলাম গ্রহণের পর তার ১০ আর ৮ বছর বয়সের মেয়ে তাকে ৩ টা লিখিত প্রশ্ন করে। তার মধ্যে দুটো হলো- মুসলিম হলে কি তুমি মদ খাবে? মুসলিম হলে কি তুমি বক্ষ উন্মোচক (ছোটখাটো) কাপড় পরবে? মেয়েরা জানিয়েছিলো, তিনি ছোটখাটো কাপড় পরলে তা তাদের কাছেই খারাপ লাগতো। কলঙ্কমুক্ত শিশুদের অদ্ভূত ফিতরাত! দুটো প্রশ্নের উত্তরই ‘না’ দেয়ার পর তার ছোট্ট দুটো মেয়ে আনন্দে বলে উঠলো – “আমরা ইসলামকে ভালোবাসি। আমরাও মুসলিম হবো’!

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...