Skip to main content

পলিএন্ডোক্রাইন মেটাবলিক ওভারিয়ান সিনড্রোম (পিএমওএস)

 

পিএমওএস আদতে কী

এটি নারীর একটি হরমোনজনিত ও বিপাকীয় সমস্যা, যা সাধারণত কিশোরী বয়স থেকে শুরু হয়ে সারা জীবন প্রভাব ফেলতে পারে। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে প্রতি ১০ জন নারীর মধ্যে প্রায় ১ থেকে ২ জন এ সমস্যায় আক্রান্ত।
অধিকাংশ নারী জানেনই না যে তাঁরা এই রোগে ভুগছেন। এই রোগে হরমোনের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কারণ, পিএমওএস মূলত একটি হরমোনের ভারসাম্যহীনতার রোগ। এতে একসঙ্গে একাধিক হরমোন অস্বাভাবিক আচরণ করে।

১. অ্যান্ড্রোজেন (পুরুষ হরমোন)
নারীর শরীরে এই হরমোন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকলে মুখে ও শরীরে অতিরিক্ত লোম, ব্রণ ও মাথার চুল পড়া শুরু হয়।
২. ইনসুলিন
পিএমওএস থাকলে শরীর ইনসুলিন সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে না, এটিকে বলে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স। ফলে রক্তে শর্করা বাড়ে এবং ধীরে ধীরে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি তৈরি হয়।
৩. এলএইচ ও এফএসএইচ
পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত এই দুটি হরমোনের অসামঞ্জস্যের কারণে ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু ঠিকমতো নির্গত হয় না বা ডিম্বস্ফুরণ হয় না। মাসিক অনিয়মিত হয় এবং গর্ভধারণে সমস্যা দেখা দেয়।
৪. থাইরয়েড ও প্রোল্যাকটিন
এই হরমোনগুলোর ভারসাম্যহীনতাও অনেক সময় পিএমওএসের সঙ্গে জড়িত থাকে, যা রোগনির্ণয়কে আরও জটিল করে তোলে।
এই বহুমাত্রিক হরমোনের সমস্যার কারণেই রোগটির নতুন নামে ‘পলিএন্ডোক্রাইন’ শব্দটি যুক্ত হয়েছে, যার অর্থ একাধিক অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি এতে একসঙ্গে আক্রান্ত।

  • অনিয়মিত বা দীর্ঘদিন মাসিক বন্ধ থাকা।

  • মুখে, বুকে বা পেটে অতিরিক্ত লোম।

  • ওজন দ্রুত বাড়া, বিশেষত পেটের চারপাশে।

  • ত্বকে কালো দাগ, বিশেষত ঘাড়ে বা বগলে।

  • ব্রণের সমস্যা।

  • গর্ভধারণে দেরি হওয়া।

  • মানসিক অবসাদ ও ক্লান্তি, রক্তে শর্করার অসামঞ্জস্য।

    হরমোন–বিশেষজ্ঞ বা এন্ডোক্রাইনোলজিস্টের পরামর্শ

    কেন জরুরিপিএমওএস যে কেবল একটি ডিম্বাশয়ের রোগ বা স্ত্রীরোগমাত্র, তা নয়। এটি একটি জটিল বিপাকীয় অবস্থা, নানা ধরনের হরমোন এতে জড়িয়ে আছে। এই উপলব্ধি রোগটির গুরুত্ব অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। যেহেতু এটি মূলত একটি হরমোন ও বিপাকের রোগ, তাই এন্ডোক্রাইনোলজিস্টের (হরমোনবিশেষজ্ঞ চিকিৎসক) পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।সঠিক উপায়ে রক্তের সংশ্লিষ্ট হরমোন পরীক্ষা ও বিশ্লেষণ করে সঠিক কারণ নির্ণয় করা, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, ওজনাধিক্য, থাইরয়েড সমস্যা বা অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির জটিলতা থাকলে তার সঠিক চিকিৎসা নেওয়া ও বিপাকক্রিয়ায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা এ রোগের মূল চিকিৎসা। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও বন্ধ্যত্বের মতো দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা দেখা দিতে পারে।

    পিএমওএস নারীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সুপরিচিত সমস্যা। কিন্তু বিপাকীয় ও হরমোনজনিত অসামঞ্জস্যের কারণে এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী ও জীবনব্যাপী। এই সত্যকে সামনে রেখে বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞানীরা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে একে কেবল ডিম্বাশয়ের রোগ হিসেবে সীমিত করে রাখা ঠিক নয়। এটি কেবল মাসিক–সংক্রান্ত বা সন্তানধারণজনিত সমস্যা হিসেবে না দেখে সামগ্রিকভাবে দেখতে হবে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে এই রোগ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা ও জটিলতা এড়ানো সম্ভব।


    ডা. মারুফা মোস্তারী, সহকারী অধ্যাপক, এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...

নিকটবর্তী মানসিক রোগ

  ১. অস্বাভাবিক আচরণ ও কথাবার্তা ২. খাবারে ও পানিতে কিছু মেশানোর সন্দেহ ৩. ভাংচুর, সন্দেহ প্রবনতা ৪. গায়েবী কথা শোনা ৫. একা হাসা ও কথা বলা ৬. টেনশন, অস্থিরতা, উদ্বেগ, বিষন্নতা, হতাশা, একই চিন্তা ও কাজ বারে বারে করা ৭. খিটখিটে মেজাজ ৮. দীর্ঘমেয়াদী মাথাব্যথা, ঘাড় ও বুক সহ শরীরে বিভিন্ন স্থানে ব্যথা ও জ্বালাপোড়া মাথা ঘোরা, বুক ধরফর, হাত-পা ঝিনঝিন ৯. অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, হিস্টিরিয়া, কথা বন্ধ ১০. অসামাজিক আচরণ মাদকাসক্তি সহিংসতা ও নিজের শরীরে আঘাত করা উপরের সমস্যাগুলোর যেকোন একটা হলে আপনি দ্রুত সময়ের মাঝে নিকটবর্তী মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। ========================================= বিয়ের পর প্রত্যেক পুরুষের semen fluid analysis করা উচিত। ‌ এটা একটা বেসিক infertility টেস্ট যাতে দেখা হয় পুরুষ‌ মানুষটি বাবা হওয়ার যোগ্য কিনা। বিয়ের আগে করলে আরো ভালো। এটি করতে খরচ হয় স্থানভেদে মাত্র এক থেকে দেড় হাজার টাকা।সরকারি হাসপাতালে করলে ১০০ টাকায় করতে পারবেন। আমাদের দেশে কোন দম্পতির বাচ্চা না হলে এখনো অনেক জায়গায় মেয়েদেরকে ব্লেইম করা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যাটা থাকে ...