Skip to main content

যৌন বিকৃতি থেকে সুরক্ষায় বাবা-মায়ের করণীয় কি?

 রামিশা হত্যাকান্ডে বিকৃত যৌনাচারের মনোবৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা এবং যৌনাচার থেকে শিশুদের সুরক্ষায় বাবা-মায়ের করণীয়?

বাংলাদেশে সম্প্রতি রামিশা নামে ৮ বছরের একটি নিষ্পাপ শিশুকে একটা পাষন্ড পুরুষ বিকৃত যৌনাচারের জন্য খুন করে দেহ থেকে মাথা আলাদা করে। ঐ পুরুষের নিজ স্ত্রী ও তাকে এ কাজে সহায়তা করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটা বাংলাদেশে খুব আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং অভিভাবকদের দুশ্চিন্তায় ফেলে দেয়। আসলে এ ধরনের ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এমন অনেক ঘটনা আমাদের দেশে ঘটেছে। রামিশার ওপর ঘটে যাওয়া এই নৃশংস ও অবর্ণনীয় ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক এবং পুরো সমাজের জন্য একটি চরম সতর্কবার্তা। একটি শিশুর সঙ্গে এমন নির্মম বিকৃত আচরণ এবং হত্যাকাণ্ড মানুষের বিবেককে গভীরভাবে নাড়া দেয়। বিশেষ করে যখন দেখা যায় কোনো অপরাধীর আপন স্ত্রীও এই ধরনের পাশবিক কাজে সহায়তা করছে, তখন বিষয়টি আরও বেশি ভাবিয়ে তোলে। ​এই ধরনের জঘন্য অপরাধের পেছনে অপরাধীদের মনস্তত্ত্ব এবং কারণগুলো মনোবৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশদভাবে বিশ্লেষণ করা হলো: ​১. পেডোফিলিয়া এবং স্যাডিজম (Pedophilia and Sadism) ​মনোবিজ্ঞানে শিশুদের প্রতি এই ধরনের যৌন আকর্ষণ এবং বিকৃত আচরণকে মূলত দুটি চরম মানসিক বিকৃতির সংমিশ্রণ হিসেবে দেখা হয়: ​পেডোফিলিয়া (Pedophilia): এটি একটি গুরুতর মানসিক ও যৌন বিকৃতি (Sexual Perversion), যেখানে একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি শিশুদের প্রতি তীব্র যৌন আকর্ষণ অনুভব করে। তারা শিশুদেরকে তাদের যৌন লালসা মেটানোর বস্তু বা object হিসেবে দেখে। ​যৌন নিপীড়নমূলক স্যাডিজম (Sexual Sadism): যখন যৌন বিকৃতির সঙ্গে চরম নৃশংসতা যুক্ত হয়, তখন তাকে স্যাডিজম বলে। এই ধরনের অপরাধীরা ভুক্তভোগীর চরম কষ্ট, ভয়, কান্না, চিৎকার এবং শারীরিক ক্ষতি করার মাধ্যমে এক ধরনের বিকৃত মানসিক ও যৌন আনন্দ লাভ করে। রামিশার ক্ষেত্রে দেহ থেকে মাথা আলাদা করার মতো নৃশংসতা চরম পর্যায়ের 'স্যাডিস্টিক সাইকোপ্যাথি'র লক্ষণ। ​২. সাইকোপ্যাথি এবং অ্যান্টিসোশ্যাল পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার ​এই ধরনের অপরাধীদের মধ্যে কোনো ধরনের সহানুভূতি (Empathy), অপরাধবোধ (Guilt), বা অনুশোচনা থাকে না। ​মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এদের অ্যান্টিসোশ্যাল পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার (ASPD) বা সাইকোপ্যাথ (Psychopath) বলা হয়। এরা সমাজ বা ধর্মের কোনো নিয়ম-কানুন তোয়াক্কা করে না। নিজের ক্ষণস্থায়ী বিকৃত ইচ্ছা পূরণের জন্য এরা যেকোনো স্তরে নামতে পারে এবং ধরা পড়ার ভয়ে বা স্রেফ বিকৃত আনন্দ পেতে ভুক্তভোগীকে নির্মমভাবে খুন করতেও দ্বিধাবোধ করে না। ​৩. স্ত্রীর সহযোগিতার মনস্তত্ত্ব: (Shared Psychosis) ​সাধারণ মানুষের মনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন জাগে—একজন নারী বা স্ত্রী কীভাবে তার স্বামীকে এই ধরনের কাজে সাহায্য করতে পারে? মনোবিজ্ঞানে এর কিছু সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা রয়েছে: ​Shared Psychosis: এটি এমন একটি বিরল মানসিক অবস্থা, যেখানে একজন তীব্র মানসিক বিকৃতি বা ডিলিউশনে আক্রান্ত ব্যক্তির (স্বামী) মানসিক প্রভাব অন্য একজন সুস্থ বা দুর্বল চিত্তের মানুষের (স্ত্রী) ওপর এমনভাবে পড়ে যে, সেও সেই বিকৃত চিন্তাভাবনা ও অপরাধকে স্বাভাবিক মনে করতে শুরু করে। ​চরম আনুগত্য ও ভয়: অনেক সময় স্ত্রী নিজে মানসিকভাবে দুর্বল, অতিমাত্রায় নির্ভরশীল কিংবা স্বামীর দ্বারা দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতিত হতে পারেন। স্বামীর প্রতি চরম ভয় বা অন্ধ আনুগত্যের কারণে তারা নিজেদের বিবেক হারিয়ে ফেলে অপরাধের সহযোগী হিসেবে কাজ করে। ​শিশুদের ওপর বিকৃত যৌনাচারের মূল কারণসমূহ: ​এই ধরনের বিকৃতির পেছনে একক কোনো কারণ থাকে না, বরং এটি জৈবিক, মনস্তাত্ত্বিক এবং সামাজিক উপাদানের একটি জটিল মিশ্রণ। ​শৈশবের ট্রমা বা অপব্যবহার: গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক বিকৃত অপরাধী নিজেই শৈশবে কোনো না কোনো ধরনের যৌন বা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। সেই অপূর্ণ ট্রমা বা ক্ষোভ পরবর্তীতে প্রাপ্তবয়স্ক বয়সে অন্যের ওপর (বিশেষ করে দুর্বল শিশুদের ওপর) নিয়ন্ত্রণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। ​ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণের লিপ্সা (Power and Control): শিশুদের ওপর বিকৃত নির্যাতনের অন্যতম প্রধান কারণ হলো ক্ষমতা প্রদর্শন। শিশুরা সহজে প্রতিরোধ গড়তে পারে না, তাদের সহজে ভয় দেখানো ও নিয়ন্ত্রণ করা যায়। অপরাধী নিজের বাস্তব জীবনের ব্যর্থতা বা হীনম্মন্যতা ঢাকতে একজন দুর্বল শিশুর ওপর চরম নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে বিকৃত আনন্দ পায়। ​পর্নোগ্রাফির অপব্যবহার এবং ফ্যান্টাসি: ইন্টারনেটে সহজে ডার্ক ওয়েব বা বিকৃত পর্নোগ্রাফির (বিশেষ করে চাইল্ড পর্নোগ্রাফি) সহজলভ্যতা মানুষের স্বাভাবিক যৌন চেতনাকে ধ্বংস করে দেয়। ক্রমাগত এই ধরনের উপাদান দেখতে দেখতে অপরাধীদের মনে বিকৃত ফ্যান্টাসি তৈরি হয়, যা তারা বাস্তবে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করে। ​মাদকাসক্তি এবং নৈতিক স্খলন: অতিরিক্ত মাদক বা অ্যালকোহল সেবন মানুষের মস্তিষ্কের সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সাময়িকভাবে বা স্থায়ীভাবে নষ্ট করে দেয়। এর ফলে মানুষের ভেতরের আদিম ও পাশবিক প্রবৃত্তির ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। ​বিচারেরহীনতার সংস্কৃতি ও সামাজিক অবক্ষয়: আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা কারণ। আমরা দেখেছি অনেক ধর্ষক রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় কিছুদিনের মধ্যে আইনকে কাইন্না আঙুল দেখিয়ে জামিন নিয়ে বের হয়ে আসে এবং পূনরায় একই অপরাধে জড়িত হয়। কিন্তু যখন সমাজে এই ধরনের অপরাধের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হয় না, তখন অপরাধীদের মনে এক ধরনের ‘অভয় অরণ্য’ তৈরি হয়। তারা মনে করে পার পেয়ে যাওয়া সম্ভব, যা তাদের অপরাধপ্রবণতাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। ​ যৌন বিকৃতি থেকে সুরক্ষায় বাবা-মায়ের করণীয় কি? শিশুদের এই ধরনের ভয়াবহ বিকৃতি, নির্যাতন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন আচরণের হাত থেকে নিরাপদ রাখতে বাবা-মায়ের সচেতনতা ও সক্রিয় ভূমিকাই সবচেয়ে বড় রক্ষাকবজ। বর্তমান যুগে শুধু ঘরোয়া সুরক্ষা নয়, বরং সামাজিক ও ডিজিটাল মাধ্যমের ঝুঁকিগুলো বিবেচনা করে পদক্ষেপ নিতে হবে। ​নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো বাবা-মায়ের ঠিক কী কী করা উচিত: ​১. Good Touch & Bad Touch (নিরাপদ ও অনিরাপদ স্পর্শ) শেখানো ​একেবারে ছোটবেলা থেকেই (৩-৪ বছর বয়স থেকে) শিশুকে সহজ ভাষায় শরীরের ব্যক্তিগত অংশ সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে। ​পোশাকের নিয়ম (Swimsuit Rule): শিশুকে বোঝান যে, সাঁতার কাটার সময় শরীরে যে অংশগুলো ঢাকা থাকে, সেগুলো তার অত্যন্ত ব্যক্তিগত অঙ্গ। মা-বাবা বা চিকিৎসক (বিশেষ প্রয়োজনে মা-বায়ের উপস্থিতিতে) ছাড়া অন্য কেউ এই অংশগুলো দেখতে বা স্পর্শ করতে পারবে না। ​স্পষ্ট 'না' বলতে শেখানো: শিশুকে শেখান যে, চেনা হোক বা অচেনা—কেউ যদি তাকে এমনভাবে স্পর্শ করে যা তার ভালো লাগছে না বা অস্বস্তি দিচ্ছে, তবে সে যেন সাথে সাথে উচ্চস্বরে চিৎকার দিয়ে 'না' বলে এবং সেখান থেকে সরে আসে। ​২. কোনো গোপন বিষয় না রাখার শিক্ষা (No Secrets Rule) ​অপরাধীরা সাধারণত শিশুদের ভয় দেখায় বা উপহারের লোভ দেখিয়ে বলে, "এই কথা যেন আম্মু-আব্বু না জানে, এটা আমাদের সিক্রেট।" ​শিশুকে স্পষ্ট করে বলুন, "আমাদের মধ্যে কোনো সিক্রেট বা গোপন কথা থাকবে না।" তাকে বোঝান যে, কেউ যদি কোনো বিষয় বাবা-মায়ের কাছে লুকিয়ে রাখতে বলে, সেটাই সবচেয়ে আগে এসে বাবা-মাকে জানাতে হবে। শিশুকে আশ্বস্ত করুন যে, সে যাই বলুক না কেন, আপনারা তার ওপর রাগ করবেন না, তাকে মারবেন বরং তাকে বিশ্বাস করবেন, উৎসাহিত করার জন্য পুরষ্কার দিবেন। ​৩. বন্ধুভাবাপন্ন সম্পর্ক এবং মন দিয়ে শোনার অভ্যাস (Friendly Relation & Active listening) ​দৈনিক খোলামেলা আলাপ করুন। প্রতিদিন শিশুর সাথে কিছুটা সময় কাটান। সে সারাদিন কী করল, কার সাথে খেলল, কেউ তাকে কোনো অদ্ভুত কথা বলেছে কি না—তা গল্পচ্ছলে জেনে নিন। ​আচরণের পরিবর্তন লক্ষ করা: যদি দেখেন শিশু হঠাৎ খুব চুপচাপ হয়ে গেছে, একাকী থাকছে, আঁতকে উঠছে, বিছানায় প্রস্রাব করছে, বা নির্দিষ্ট কোনো মানুষের সামনে যেতে ভয় পাচ্ছে—তবে তা অবহেলা করবেন না। এগুলো মানসিক ট্রমার লক্ষণ হতে পারে। ​৪. অন্ধবিশ্বাস পরিহার করা ​আমাদের সমাজে পরিচিত বা আত্মীয়-স্বজনদের দ্বারা শিশুরা সবচেয়ে বেশি অনিরাপদ স্পর্শের শিকার হয়। ​অতিরিক্ত বিশ্বাস না করা সে যেই হোক। ঘরের কাজের লোক, দূর সম্পর্কের আত্মীয়, গৃহশিক্ষক, প্রতিবেশী বা পরিচিত কোনো পুরুষের কাছে শিশুকে কখনো দীর্ঘ সময়ের জন্য একা রেখে যাবেন না। ​জোর করে কোলে বা রুমে পাঠাবেন না। শিশু যদি নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির কাছে যেতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে, তবে তাকে জোর করবেন না। তার অনিচ্ছার পেছনের কারণটা বোঝার চেষ্টা করুন। ​৫. ডিজিটাল নিরাপত্তা ও স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ ​বর্তমান যুগে ইন্টারনেটের মাধ্যমেও শিশুরা সাইবার-গ্রুমিং (Cyber Grooming) বা বিকৃত মানসিকতার মানুষের ফাঁদে পড়ে। ​মোবাইল, ল্যাপটপ বা টিভিতে 'Parental Control' লক এবং ফিল্টার ব্যবহার করুন, যাতে শিশুরা কোনো প্রাপ্তবয়স্ক বা বিকৃত কনটেন্ট দেখতে না পারে। ​উন্মুক্ত স্থানে ডিভাইসের ব্যবহার করার জন্য শিশুদের উৎসাহিত করুন। শিশুকে বন্ধ দরজার পেছনে একা মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার করতে দেবেন না। বসার ঘর বা যেখানে সবার যাতায়াত আছে, সেখানে ডিভাইস ব্যবহার করতে দিন। ​সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সতর্কতা: ফেসবুকে বা অন্য কোথাও শিশুর ছবি, বা ঘরের ঠিকানা বা নিয়মিত লোকেশন শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন। অপরাধীরা এগুলো ব্যবহার করে শিশুর ওপর নজর রাখতে পারে। ​৬. সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সতর্কতা ​স্কুল ও ডে-কেয়ার যাচাই: শিশু যে স্কুলে বা কোচিংয়ে যাচ্ছে, সেখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন, সিসিটিভি ক্যামেরা আছে কি না এবং সেখানকার পরিবেশ কতটা নিরাপদ—তা নিয়মিত খোঁজ নিন। ​যৌন শিক্ষার সঠিক ধারণা: বয়স বাড়ার সাথে সাথে (বয়ঃসন্ধিকালে) কৌতূহলবশত শিশুরা যেন ভুল উৎস থেকে যৌনতা বা সম্পর্কের বিষয়ে বিকৃত ধারণা না পায়, সে জন্য বাবা-মাকেই সঠিক ও বৈজ্ঞানিক ধারণা দিতে হবে। ​সর্বোপরি, শিশুকে বোঝাতে হবে যে তার শরীরটা একান্তই তার নিজের। নিজের সুরক্ষার জন্য সচেতন হওয়া কোনো লজ্জার বিষয় নয়, বরং অধিকার। বাবা-মায়ের একটু বাড়তি সতর্কতা ও সচেতনতাই পারে একটি শিশুকে নিরাপদ ও সুস্থ শৈশব উপহার দিতে। মো: আকবর হোসেন চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানী, ফ্লোরিডা, আমেরিকা

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...

নিকটবর্তী মানসিক রোগ

  ১. অস্বাভাবিক আচরণ ও কথাবার্তা ২. খাবারে ও পানিতে কিছু মেশানোর সন্দেহ ৩. ভাংচুর, সন্দেহ প্রবনতা ৪. গায়েবী কথা শোনা ৫. একা হাসা ও কথা বলা ৬. টেনশন, অস্থিরতা, উদ্বেগ, বিষন্নতা, হতাশা, একই চিন্তা ও কাজ বারে বারে করা ৭. খিটখিটে মেজাজ ৮. দীর্ঘমেয়াদী মাথাব্যথা, ঘাড় ও বুক সহ শরীরে বিভিন্ন স্থানে ব্যথা ও জ্বালাপোড়া মাথা ঘোরা, বুক ধরফর, হাত-পা ঝিনঝিন ৯. অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, হিস্টিরিয়া, কথা বন্ধ ১০. অসামাজিক আচরণ মাদকাসক্তি সহিংসতা ও নিজের শরীরে আঘাত করা উপরের সমস্যাগুলোর যেকোন একটা হলে আপনি দ্রুত সময়ের মাঝে নিকটবর্তী মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। ========================================= বিয়ের পর প্রত্যেক পুরুষের semen fluid analysis করা উচিত। ‌ এটা একটা বেসিক infertility টেস্ট যাতে দেখা হয় পুরুষ‌ মানুষটি বাবা হওয়ার যোগ্য কিনা। বিয়ের আগে করলে আরো ভালো। এটি করতে খরচ হয় স্থানভেদে মাত্র এক থেকে দেড় হাজার টাকা।সরকারি হাসপাতালে করলে ১০০ টাকায় করতে পারবেন। আমাদের দেশে কোন দম্পতির বাচ্চা না হলে এখনো অনেক জায়গায় মেয়েদেরকে ব্লেইম করা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যাটা থাকে ...