Skip to main content

বিচারহীনতা এবং জবাবদিহিতা

 


"২০১২ সালে চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের গার্ডার ধ্বসে পড়ে ১৩ জন নিহত হয়েছিল ... সে সময় সিডিএ এর নির্বাহী প্রকৌশলীসহ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল ... ১০ বছর কেটে গেছে ... বিচার হয় নাই ... এটা জেনে নিশ্চয়ই অবাক লাগছে না? তাই না? ... এটাই !!

আজকে বিআরটির যে প্রকল্পের গার্ডার পড়ে একটা পরিবারের ৪ জন মারা গেল - যতটুকু জানি, সেই প্রকল্প শুরু হয়েছিল ২০১২ সালে, শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৬ সালে ... ১০ বছরেও সেই প্রকল্পের কাজ অর্ধেকও শেষ হয় নি ... ঠিকাদারী চলছে, খরচ বাড়ছে, কাজ শেষ হচ্ছে না ... আবারো, এটা জেনেও নিশ্চয়ই অবাক লাগছে না? ... আরেহ! এটাই তো স্বাভাবিক এই দেশে !! দুটো মানুষ গত শনিবার বিয়ে করেছে ... সেই দম্পতি, ছেলের বাবাসহ পরিবারের সদস্য দুই শিশুকে নিয়ে প্রাইভেট কারে করে উত্তরার ব্যস্ত রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলো তারা ... ক্রেন থেকে গার্ডার পড়ে গাড়িটা শেষ, মূহুর্তে চারটা মানুষ নাই, একটা পরিবার নাই ... কি নির্লিপ্তভাবে লিখে ফেললাম ... লেখার মধ্যে ঐ পরিবারের বাকিদের আহাজারির শব্দ নাই যে !! কেন একটা ব্যস্ত রাস্তায় কোন রকম সেফটি প্রোটোকল ছাড়া প্রজেক্টের কাজ চলছিল? যে ক্রেন থেকে গার্ডার তোলা হচ্ছিল, সেটার কি ঐ ক্রেনের ভারবহন ক্ষমতা ছিল? কোন দক্ষ লোক কি সেই ক্রেন চালাচ্ছিল? এই প্রজেক্টের দায়িত্বে কে? ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কে? ইঞ্জিনিয়ার কোথায়? সেফটি কনসালটেন্ট কোথায়? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আসবে না ... কারণ এই দেশে কোন জবাবদিহিতা নাই ... কখনোই ছিল না ... ছিল না দেখেই এই দেশে গার্মেন্টসে ফায়ার সেফটি থাকে না, মানুষ আটকে থেকে পুড়ে মরে ... বেপরোয়া ট্রাক বাস এসে পিষে দিয়ে যায় রাস্তায়, কোনদিন বিচার হয় না ... গার্ডার ভেঙ্গে পড়ে, বিচার হয় না দশ বছরেও ... মাঝে দিয়ে একটা করে পরিবার শেষ হয়ে যায় ... আর আমরা যারা এখনও শেষ হই নি, আমরা হা হুতাশ করি !! বিচারহীনতা এবং জবাবদিহিতার অভাবে যেসব দুর্ঘটনা হয়, আমি সেগুলোকে দুর্ঘটনা বলি না, 'মার্ডার' বলি ... এটাও তেমনই ... প্লেন অ্যান্ড সিম্পল মার্ডার !! অবশ্য আমাদের নিয়তি বোধহয় এমনই ... রাস্তায় বের হলে ট্রাক-বাস পিষে দিয়ে যাবে, ব্যস্ত রাস্তায় মাথার ওপর গার্ডার ভেঙ্গে পড়বে, এটিএম বুথে আততায়ী এসে ছুরি মেরে যাবে ... আর কোনভাবে বেঁচে গেলে দৈন্যতা আর অভাব এসে খুন করে যাবে নিত্যদিনের বাজারে ... প্রতিদিন প্রতিনিয়ত !!" ©Mushfiqur Rahman Ashique


Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...