আজকে বিআরটির যে প্রকল্পের গার্ডার পড়ে একটা পরিবারের ৪ জন মারা গেল - যতটুকু জানি, সেই প্রকল্প শুরু হয়েছিল ২০১২ সালে, শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৬ সালে ... ১০ বছরেও সেই প্রকল্পের কাজ অর্ধেকও শেষ হয় নি ... ঠিকাদারী চলছে, খরচ বাড়ছে, কাজ শেষ হচ্ছে না ... আবারো, এটা জেনেও নিশ্চয়ই অবাক লাগছে না? ... আরেহ! এটাই তো স্বাভাবিক এই দেশে !!
দুটো মানুষ গত শনিবার বিয়ে করেছে ... সেই দম্পতি, ছেলের বাবাসহ পরিবারের সদস্য দুই শিশুকে নিয়ে প্রাইভেট কারে করে উত্তরার ব্যস্ত রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলো তারা ... ক্রেন থেকে গার্ডার পড়ে গাড়িটা শেষ, মূহুর্তে চারটা মানুষ নাই, একটা পরিবার নাই ... কি নির্লিপ্তভাবে লিখে ফেললাম ... লেখার মধ্যে ঐ পরিবারের বাকিদের আহাজারির শব্দ নাই যে !!
কেন একটা ব্যস্ত রাস্তায় কোন রকম সেফটি প্রোটোকল ছাড়া প্রজেক্টের কাজ চলছিল?
যে ক্রেন থেকে গার্ডার তোলা হচ্ছিল, সেটার কি ঐ ক্রেনের ভারবহন ক্ষমতা ছিল?
কোন দক্ষ লোক কি সেই ক্রেন চালাচ্ছিল?
এই প্রজেক্টের দায়িত্বে কে? ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কে? ইঞ্জিনিয়ার কোথায়? সেফটি কনসালটেন্ট কোথায়?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আসবে না ... কারণ এই দেশে কোন জবাবদিহিতা নাই ... কখনোই ছিল না ... ছিল না দেখেই এই দেশে গার্মেন্টসে ফায়ার সেফটি থাকে না, মানুষ আটকে থেকে পুড়ে মরে ... বেপরোয়া ট্রাক বাস এসে পিষে দিয়ে যায় রাস্তায়, কোনদিন বিচার হয় না ... গার্ডার ভেঙ্গে পড়ে, বিচার হয় না দশ বছরেও ... মাঝে দিয়ে একটা করে পরিবার শেষ হয়ে যায় ... আর আমরা যারা এখনও শেষ হই নি, আমরা হা হুতাশ করি !!
বিচারহীনতা এবং জবাবদিহিতার অভাবে যেসব দুর্ঘটনা হয়, আমি সেগুলোকে দুর্ঘটনা বলি না, 'মার্ডার' বলি ... এটাও তেমনই ... প্লেন অ্যান্ড সিম্পল মার্ডার !!
অবশ্য আমাদের নিয়তি বোধহয় এমনই ... রাস্তায় বের হলে ট্রাক-বাস পিষে দিয়ে যাবে, ব্যস্ত রাস্তায় মাথার ওপর গার্ডার ভেঙ্গে পড়বে, এটিএম বুথে আততায়ী এসে ছুরি মেরে যাবে ... আর কোনভাবে বেঁচে গেলে দৈন্যতা আর অভাব এসে খুন করে যাবে নিত্যদিনের বাজারে ... প্রতিদিন প্রতিনিয়ত !!"
©Mushfiqur Rahman Ashique
Comments
Post a Comment