Skip to main content

জুয়াড়ি কেন জুয়া খেলে?


 আমরা অনেক মানুষই জুয়া খেলি কিন্তু আমরা বুঝি না যে আমরা জুয়া খেলতেছি

আমরা ভাবি আমরা ইনভেস্ট করছি, সুযোগ কাজে লাগাচ্ছি, স্মার্ট ডিসিশন নিচ্ছি। অথচ বাস্তবে আমরা লোভের কাছে নিজেকে ছেড়ে দিচ্ছি। এই জুয়া একদিকে হারাম, আরেকদিকে সরাসরি ক্ষতিকর। খুব সিম্পল একটা উদাহরণ ধরেন অনলাইনে বাইক। কোনো একটা ওয়েবসাইট বলছে, দুই টাকার জিনিস চার টাকায় রিটার্ন দেবে। আমি এক মুহূর্তও ভাবছি না, ঝাঁপিয়ে পড়ছি। তখন আমি নিজেকে বলছি না যে আমি জুয়া খেলছি, আমি বলছি আমি সুযোগ নিচ্ছি। আমি যতক্ষণ লাভ পাচ্ছি, ততক্ষণ সব ঠিক। আমি খুশি, আমি অন্যদেরও বলছি, দেখো কত ভালো। কিন্তু যেই মুহূর্তে লাভ বন্ধ হয়, আমি তখনই বলছি, ও চোর, ও প্রতারক। তখন প্রশ্ন আসে, ও যদি চোর হয়, আমি কে? আমি আসলে একজন লোভী, যে ঝুঁকি বুঝেও চোখ বন্ধ করে খেলেছে। এই লোভের প্যাটার্ন শুধু অনলাইনে না, বাস্তব জীবনেও একই। ফাইনান্সিয়াল ডিসিশনের একটা বড় অংশ আসলে টাকার অঙ্ক না, মানুষের আবেগ। মানুষ যতটা না ভুল করে অংকে, তার চেয়েও বেশি ভুল করে নিজের অনুভূতিকে নিয়ন্ত্রণ না করতে পেরে। শেয়ার মার্কেট থেকে শুরু করে অনলাইন ইনভেস্টমেন্ট, লোন, কেনাকাটা সব জায়গাতেই আবেগ ঢুকে গেলে সিদ্ধান্ত আর যুক্তির থাকে না, থাকে শুধু লোভ, ভয় আর উত্তেজনা। দিনের পর দিন মানুষ নিজের টাকা তো ইনভেস্ট করছেই, সাথে বাবার টাকা, মায়ের টাকা, পেনশনের টাকা, জীবনের সর্বস্ব ঢেলে দিচ্ছে। বাইরে থেকে একে ইনভেস্টমেন্ট মনে হলেও ভেতরে ভেতরে এটা অনেক সময় খাঁটি জুয়া। পার্থক্য শুধু এতটুকু ক্যাসিনোতে খেললে মানুষ জানে সে জুয়া খেলছে, আর এখানে খেললে মানুষ ভাবে সে খুব স্মার্ট কিছু করছে। লোন নেওয়ার বিষয়টাও ঠিক এমন। প্রথমবার লোন নিতে খারাপ লাগে, দ্বিতীয়বার একটু কম, তৃতীয়বার আর লাগে না। এক সময় লোনটাই হয়ে যায় জীবন চালানোর মাধ্যম। ঢাকায় এখন অনেক মানুষ আছে যাদের পুরো লাইফটাই লোনের ওপর দাঁড়িয়ে। আজকে একটা লোন, কালকে আরেকটা, পরশু আবার নতুন লোন। অথচ কেউ থেমে ভাবছে না আমি কি আসলে এটা অ্যাফোর্ড করতে পারি? টেলিভিশনের নিউজে আমরা দেখি, মানুষ বাবা-মায়ের জমানো টাকা আর স্ত্রীর গয়না বিক্রি করে অনলাইন কোম্পানিতে মোটরসাইকেল কিনছে। ৯০ লাখ টাকার বাইক। আশা একটাই, কোম্পানি বাইক দেবে, বিক্রি করে সবাইকে টাকা ফেরত দেওয়া যাবে। এটা আসলে ওয়ার্স্ট পসিবল মানি ম্যানেজমেন্ট। এখানে কোনো প্ল্যান নেই, আছে শুধু লোভ আর আশা। গ্লোবালি সবাই বলে, “Don’t put all your eggs in one basket” মজার বিষয় হলো, মানুষ নিজের তো কোনো এগই রাখছে না। আবার ধার করা ডিম নিয়ে সব এক বাস্কেটে ঢেলে দিচ্ছে। নিজের সেভিংস নাই, নিজের সেফটি নাই, তবুও ইনভেস্টমেন্ট চলছে পুরোদমে। এটাকে মানুষ ইনভেস্টমেন্ট বলে, কিন্তু এটা আসলে ফাইনান্সিয়াল সাইকোলজির ব্যর্থতা। আমি সবসময় ফাইনান্স নিয়ে কথা বলি মূলত এই ফাইনান্সিয়াল সাইকোলজির জন্যই। কারণ আপনি যদি নিজের মনকে না বোঝেন, তাহলে আপনি বারবার ভুল সিদ্ধান্ত নেবেন। জুয়াড়ি কেন জুয়া খেলে? সে কি জানে না এটা ক্ষতিকর? জানে। তবুও খেলে। কারণ সে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। একজন মানুষের বেতন পাঁচ হাজার টাকা, কিন্তু সে পাঁচ লাখ টাকার ঘড়ি কিনছে। কেন? কারণ সে তার ফাইনান্সিয়াল সাইকোলজি বোঝে না। সে জানে এটা ভুল, তবুও থামতে পারে না। এই একই জিনিস আমরা শেয়ার মার্কেটে দেখছি। হাইপ উঠলে মানুষ অ্যাড্রেনালিন রাশে ভরে যায়। আজ কিনবে, কাল বিক্রি করবে। দাম বাড়ছে মানেই সুযোগ। সেখানে যুক্তি নাই, আছে উত্তেজনা। অনলাইন স্কিমেও একই ব্যাপার। শেষ পর্যন্ত কথা একটাই। আপনি লোন নিয়ে যদি এমন কিছু করেন যা আপনি অ্যাফোর্ড করতে পারেন না, সেটা ইনভেস্টমেন্ট না, সেটা আবেগের ফল। বিদেশ ভ্রমণ, বড় কেনাকাটা, ঝুঁকিপূর্ণ স্কিম সবই তখন পুওর মানি ম্যানেজমেন্টে পরিণত হয়। আবেগকে নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে টাকা যতই থাকুক, ফাইনান্সিয়াল শান্তি কখনোই আসবে না।

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...