Skip to main content

স্ট্র্যাটেজিক রিয়ালিটি

 


একটা কঠিন সত্য স্বীকার করতে হবে। ইসরাইল এখনও শক্তিশালী। কিন্তু গত ৫০ বছর ধরে যে একচেটিয়া আধিপত্য তারা ভোগ করেছে, সেই যুগ প্রায় শেষের দিকে।

এটা আবেগ না, এটা স্ট্র্যাটেজিক রিয়ালিটি। এক সময় দৃশ্যটা ছিল ভিন্ন ইসরাইল ছিল আকাশের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রক শক্তি সিরিয়ার আকাশ যেন ছিল “ফ্রি এয়ারস্পেস।” প্রতিবেশীরা দেখত, বুঝত, কিন্তু থামাতে পারত না। এখন সেই চিত্র বদলাচ্ছে। ✔ তুরস্কের ড্রোন সুপিরিয়রিটি তুরস্ক এখন আর শুধু বক্তৃতার দেশ নয়। তারা ড্রোন ওয়ারফেয়ারের বাস্তব মাস্টার। লিবিয়া, নাগোর্নো-কারাবাখ, ইউক্রেন সব জায়গায় তুর্কি ড্রোন প্রমাণ করেছে যে কম খরচে, নির্ভরযোগ্য এবং নেটওয়ার্কড যুদ্ধ কৌশলে এগুলো অত্যন্ত কার্যকর। আজ ড্রোন মানে শুধু নজরদারি নয়, ড্রোন মানেই কৌশলগত শক্তি। এই জায়গায় তুরস্ক ইসরাইলের একচেটিয়া অবস্থান ভেঙে দিয়েছে। ✔ সিরিয়ায় তুরস্কের রাডার: অদৃশ্য আকাশযুদ্ধের সমাপ্তি তুরস্ক সিরিয়ায় রাডার স্থাপন করছে। এর ফলে কে আকাশে কোথা দিয়ে উড়ছে, কোন রুট ব্যবহার করছে, কখন অপারেশন চলছে এগুলো আর আগের মতো অদৃশ্য থাকছে না। এটাই ইসরাইলের বড় অস্বস্তির জায়গা। ✔ GCC দেশগুলোর আধুনিক এয়ার ফোর্স GCC দেশগুলো এখন F-35 সহ আধুনিক ফাইটার জেট সংগ্রহ করছে। তাদের মূল লক্ষ্য ইসরাইল নয়, কিন্তু ফলাফল পরিষ্কার ইসরাইল আর একমাত্র “হাই-টেক এয়ার পাওয়ার” হিসেবে একচ্ছত্র সুবিধা ভোগ করছে না। ✔ আমেরিকা আর আগের মতো নিঃশর্ত নয় এক সময় আমেরিকা ছিল ইসরাইলের নিশ্চিত ঢাল। আজ বাস্তবতা বদলেছে। যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব অভ্যন্তরীণ সংকট, চীন ও রাশিয়ার প্রতিযোগিতা এবং বৈশ্বিক ভারসাম্যের দিকে বেশি মনোযোগী। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে “ফ্রি চেক” দেওয়ার যুগ শেষ হয়ে গেছে। সমর্থন এখনও আছে, কিন্তু তা আর নিঃশর্ত নয়। ✔ রাশিয়া: নিরপেক্ষ স্বার্থকেন্দ্রিক অবস্থান রাশিয়া সিরিয়ায় উপস্থিত আছে, কিন্তু তারা কারও পক্ষ নেয় না। তারা কেবল নিজেদের স্বার্থ দেখে। অর্থাৎ ইসরাইল আর দুই সুপারপাওয়ারকে একই সাথে পুরোপুরি নিজের পক্ষে রাখতে পারছে না। তাহলে কি ইসরাইল শেষ হয়ে যাচ্ছে? না, তা নয়। ইসরাইল এখনো শক্তিশালী। তবে আগের মতো অবাধ এবং একচ্ছত্র আধিপত্য আর নেই। এটাকে পতন বলা যাবে না, বরং শক্তির ভারসাম্য বদলাচ্ছে। আর ইতিহাস বলে, যখন শক্তির সমীকরণ বদলায়, তখনই নতুন যুগের শুরু হয়।

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...

নিকটবর্তী মানসিক রোগ

  ১. অস্বাভাবিক আচরণ ও কথাবার্তা ২. খাবারে ও পানিতে কিছু মেশানোর সন্দেহ ৩. ভাংচুর, সন্দেহ প্রবনতা ৪. গায়েবী কথা শোনা ৫. একা হাসা ও কথা বলা ৬. টেনশন, অস্থিরতা, উদ্বেগ, বিষন্নতা, হতাশা, একই চিন্তা ও কাজ বারে বারে করা ৭. খিটখিটে মেজাজ ৮. দীর্ঘমেয়াদী মাথাব্যথা, ঘাড় ও বুক সহ শরীরে বিভিন্ন স্থানে ব্যথা ও জ্বালাপোড়া মাথা ঘোরা, বুক ধরফর, হাত-পা ঝিনঝিন ৯. অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, হিস্টিরিয়া, কথা বন্ধ ১০. অসামাজিক আচরণ মাদকাসক্তি সহিংসতা ও নিজের শরীরে আঘাত করা উপরের সমস্যাগুলোর যেকোন একটা হলে আপনি দ্রুত সময়ের মাঝে নিকটবর্তী মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। ========================================= বিয়ের পর প্রত্যেক পুরুষের semen fluid analysis করা উচিত। ‌ এটা একটা বেসিক infertility টেস্ট যাতে দেখা হয় পুরুষ‌ মানুষটি বাবা হওয়ার যোগ্য কিনা। বিয়ের আগে করলে আরো ভালো। এটি করতে খরচ হয় স্থানভেদে মাত্র এক থেকে দেড় হাজার টাকা।সরকারি হাসপাতালে করলে ১০০ টাকায় করতে পারবেন। আমাদের দেশে কোন দম্পতির বাচ্চা না হলে এখনো অনেক জায়গায় মেয়েদেরকে ব্লেইম করা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যাটা থাকে ...