Skip to main content

অ্যালফা মেইল ধারণা

 


অ্যালফা / সিগমা মেইল মানুষের ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত কোনো সামাজিক আচরণ নয়। “অ্যালফা” বলতে বোঝায় দলের সবচেয়ে শক্তিশালী বা প্রভাবশালী পুরুষ, যে দলকে নেতৃত্ব ও সুরক্ষা দেয় এবং শারীরিক সঙ্গমে অগ্রাধিকার পায়।

প্রাচীন শিকারি মানব সমাজেও অ্যালফার প্রচলন ছিল না। তখন নেতৃত্ব ছিল shared leadership অর্থাৎ সিদ্ধান্ত হত দলগত আলোচনার মাধ্যমে। কেউ এককভাবে কর্তৃত্ব করত না, পুরুষ নারী উভয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, “domination” এর চেয়ে “cooperation” বেশি মূল্যবান ছিল। অ্যালফা মেইল ধারণাটি বন্য প্রাণীদের মাঝে একটি সামাজিক আচরণের ধরন। বিশেষ করে গরিলা, চিম্পান্জি, বানর ও সিংহের মধ্যে এই ব্যাবস্থা দেখা যায়। অ্যালফা হতে হলে প্রথমত আপনাকে বনে জঙ্গলে বাস করতে হবে। আপনার একটা সুসংঘটিত দল থাকতে হবে। এবং দলের প্রত্যেক সদস্য কে সেই বন্য পরিবেশে সুরক্ষা দেবার মত শারীরিক ও আর্থিক সামর্থ্য থাকতে হবে। এরপর গিয়ে আপনি যদি নিজেকে সিংহ দাবি করেন তাহলে অপর তিনটি প্রানি🦍🦧🐒 যেমন গরিলা, চিম্পান্জি ও বানর হবার সম্ভাবনাও আপনার রয়েছে। এখন এইসব অ্যালফা মেইলের যেগুলা শহরে বাস করে সেগুলো অধিকাংশই চিড়িয়াখানায় বন্দি অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। নিজেকে এ্যালফা মেইল দাবি করা শীঘ্রই বন্ধ করুন নইলে কিছুদিন পর চিড়িয়াখানাতে নিজেকে আবিষ্কার করতে পারেন।
=====================================================

স্বাবলম্বী মানে এই না যে আপনার প্রচুর টাকা থাকতে হবে। স্বাবলম্বী বলতে দায়ীত্বশীলতা বোঝানো হয়। অর্থাৎ যে ব্যক্তি পরিস্থিতি ম্যানেজ করতে জানে অল্প টাকা ও সুযোগ সুবিধা ও দুর্বল সামাজিক অবস্থান সত্ত্বেও। যেমন খুব ছোট বয়স থেকে লেখাপড়া না জানা ব্যক্তিও উপার্জন করে নিজের পরিবারের সংসারের খরচ চালায় এবং সুখেই থাকে। সে ব্যক্তিও স্বাবলম্বীর কাতারে পরে। সূরা নূর, আয়াত ৩২: “তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত তাদের বিয়ে দাও… যদি তারা দরিদ্রও হয়, আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহে তাদের অভাবমুক্ত করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময় ও সর্বজ্ঞ।” এখানে বলা হয়েছে যে যদি কেউ দরিদ্র হয়, আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহে তাদের অভাবমুক্ত বা রিজিক বাড়িয়ে দেবেন। অর্থাৎ স্বাবলম্বী হওয়ার সম্ভাবনা ও আল্লাহর পক্ষ থেকে রিজিকের দরজা খোলা থাকে। কিন্তু এটি শর্তসাপেক্ষ; অবশ্যই সে যদি দায়িত্বশীল হয়। দায়িত্বশীলতার ছিটেফোটা যার মধ্যে নেই তাকে বিয়ে দিলে সে নিজের এবং তার স্ত্রীর উভয়ের জীবন নষ্টের কারন হবে।

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...