ছেলেটাকে অনেক সময় বালিশ ছাড়া ঘুমাতো হতো। দুই একটা থাকলে গুজে দিত সহকর্মীদের মাথার নিচে। একদা জাবির বালিশের থেকে মাথা তুলে দেখলো অদূরে সে ঘুমাচ্ছে ফ্লোরে। আস্তে করে তার মাথার নিচে নিজের বালিশ দিয়ে এসে শুয়ে পড়লো। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলো জাবিরের মাথার নিচে বালিশ। হাদি ফ্লোরে ঘুমাচ্ছে। আরেক দিন জাবির ধোয়ার জন্য সারা সপ্তাহের কাপড় বালতিতে রেখে ছিল। হাদি ঢোকার পর আধা ঘন্টা বের হয় না। যখন বের হলো সব ধুয়ে রাখলো এবং কাপড় শুকাতে নিজে নিয়ে গেল। একটা কথা অনেকে বলেছে যে তারা হাদি হতে চায় কিন্তু ইনকিলাব মঞ্চের কেউ এই কথা বলেনি। কারণ চাইলেই সবাই সব হতে পারে না। তার উপর যেই পড়াশোনা তার করা ছিল। সেইটা কত জন ধৈর্য নিয়ে করতে পারে? আবেগ এক জিনিস অধ্যবসায় আরেক জিনিস। আমি নিজের যাত্রা যদি বলি এর পিছে দশ বছর লাইব্রেরীতে এক টানা পড়াশোনা ছিল। তার উপর এত রকম সার্কেলে আলোচনা। এত প্রশ্নের উত্তর মোকাবেলা করা, কত জায়গায় স্পিচ। কিন্তু আমি হাদি হতে পারি নাই। সে একজনই। এগুলো যুগের উপহার । খুব দুঃখজনক যে এমন রত্ন আমরা হারিয়েছি..m patwary
===================================================
বর্তমান সময়ে যারা নতুন করে রাজনীতিতে আসতে চায়, নেতৃত্ব দিতে চায় তাদের অনেকেই “Survival of the most adaptable & cooperative” এই ধারণায় বিশ্বাসী। অর্থাৎ, যে নেতা পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে পারে, মানুষকে সাথে নিয়ে চলতে পারে, শুধু নিজের নয় জনগনের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবে।
এই দর্শন নিঃসন্দেহে মানবিক ও প্রগতিশীল। কিন্তু বাস্তবতা হলো সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থ হয়ে, নিজেকে একেবারে অনিরাপদ রেখে কাজ করলে যেকোনো মুহূর্তে আপনি হামলা, ষড়যন্ত্র বা চরম ক্ষতির শিকার হতে পারেন। ইতিহাস বলে, শুধু ভালো মানুষ হওয়া অনেক সময় টিকে থাকার জন্য যথেষ্ট নয়।
এখানেই আসে “Survival of the fittest” ধারণার প্রয়োজনীয়তা। আদিম যুগে এই নীতিই মানুষকে বাঁচতে শিখিয়েছে। শক্তিশালী হওয়া, ঝুঁকি বুঝতে পারা, বিপদের মুখে নিজেকে রক্ষা করতে পারা। বিপদ এড়ানোর জন্য পূর্ব প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। এই বৈশিষ্ট্য আজও প্রাণীকূলে বিদ্যমান, এবং মানুষও এর বাইরে নয়। তবে সমস্যা হলো শুধু এই দর্শনে বিশ্বাস করলে আপনি স্বার্থপর বলে বিবেচিত হবেন। মানুষ আপনাকে বিশ্বাস করবে না, অনুসারীরা দূরে সরে যাবে, নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট হবে।
তাই একজন বাস্তববাদী নেতার জন্য একটিমাত্র দর্শন যথেষ্ট নয়।
তাকে দুটো ধারণাই একসাথে ধারণ করতে হবে। আপনি পুরোপুরি নিঃস্বার্থও হতে পারবেন না, আবার পুরোপুরি স্বার্থপরও হতে পারবেন না। আপনাকে হতে হবে “স্বার্থ-সচেতন”। অর্থাৎ এতটা নরম ও সরল যে আপনি মানুষের ক্ষতি করবেন না, আবার এতটা শক্ত ও কঠোর যে নিজের ক্ষতি হতে দেবেন না।
বর্তমানে সমাজে পজিটিভ পরিবর্তন আনতে হলে যেকোনো মূল্যে আপনাকে বেচেঁ থাকা শিখতে হবে।a s taj

Comments
Post a Comment