Skip to main content

বুদ্ধিমত্তার সর্বোচ্চ এবং সবচেয়ে বিরল রূপ

 


বুদ্ধিমত্তার সর্বোচ্চ স্তর IQ নয়, লজিক নয়, মেমোরি বা মনে রাখার ক্ষমতা নয়। নিউরোসায়েন্টিস্টদের মতে, বুদ্ধিমত্তার সর্বোচ্চ এবং সবচেয়ে বিরল রূপটি হলো মেটাকগনিশন (Metacognition)

মেটাকগনিশনের অর্থ হল আপনি আপনার চিন্তাভাবনাগুলো খেয়াল করেন, নিজের প্রতিক্রিয়াগুলো নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, কোনোকিছু নিয়ে আবেগজনিত তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেন না, নিজের বিশ্বাসকে আঁকড়ে ধরে না রেখে নতুন তথ্য অনুযায়ী নিজেকে আপডেট করেন। যার মানে হল নিজের চিন্তাভাবনা সম্পর্কে চিন্তা করা। অর্থাৎ আপনি যা চিন্তা করছেন তা সঠিক কি ভুল তা সম্পর্কে নিজেকে প্রশ্ন করার ক্ষমতা অর্জন করতে পারা। বেশিরভাগ মানুষ কখনোই এটি গড়ে তুলতে পারে না। নিউরোসায়েন্টিস্ট Anil Seth এবং মনোবিজ্ঞানী Robert Sternberg দুজনেরই মতে প্রতিবার যখন আপনি বলেন “একটু থামি, আমি কেন এমন প্রতিক্রিয়া দিলাম?” বিষয়টা তো সামনের জনের দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েও দেখা উচিত ঠিক তখনই আপনার মস্তিষ্ক বদলাতে শুরু করে। নিউরোসায়েন্টিস্টরা গবেষণায় দেখেছেন, যখন আপনি নিজের চিন্তাকে পর্যবেক্ষণ করেন, তখন মস্তিষ্কের একটি অংশ সক্রিয় হয় যার নাম Anterior Prefrontal Cortex (BA10)। এই অংশটি কোনোরকম কাজের জন্য বা আবেগের জন্য সক্রিয় হয় না, বরং এটা সক্রিয় হয় যখন আপনি নিজের ভেতরটা নিজের আত্মা পর্যবেক্ষণ করেন। বেশিরভাগ মানুষ তাদের মানসিক “সফটওয়্যার” অটোমেটিকভাবে চালায়। অর্থাৎ যা ছোটবেলা হতে শুনে এসেছে, যা বড়রা তাকে শিখিয়েছে তাতেই বিশ্বাস করে এবং সে অনুযায়ী সকল কার্যক্রম পরিচালনা করে এমনকি ক্যারিয়ার পর্যন্ত চয়েস করে। নিজের বিশেষত্বে, নিজের আলাদা গুনে কখনো মনোযোগ দেয় না। মেটাকগনিশন পুরোপুরি আলাদা। এটা এমন একটি কম্পিউটারের মতো,যেটি চলমান অবস্থায় নিজের প্রোগ্রাম নিজেই সম্পাদনা করতে পারে।এই কারণেই আত্মসচেতন মানুষ অন্যদের তুলনায় দ্রুত বিকশিত হয়। আপনার মন যেসব মানুষের কথার সংস্পর্শে আসে, যেসব বই আপনি পড়েন, যেসব কনটেন্ট দেখেন, সেগুলো সবই আপনার মানসিক প্রোগ্রামিংয়ের অংশ হয়ে যায়। আপনি যদি সত্যিই আরও বুদ্ধিমান হতে চান,তাহলে আপনার মস্তিষ্কে কী “ফিড” দিচ্ছেন সেটা আপগ্রেড করুন। জীবন আপগ্রেড হয়ে যাবে।
-------------------------------------------------------------
অন্যের দোষ ধরলে ব্রেইনে তাৎক্ষণিক ডোপামিন নিঃসরন হয় ফলে কিছুক্ষণের জন্য খুব ভালো অনুভূতি হয়। এটা সাময়িক এবং লোভনীয় । ডোপামিনের নিঃসরন কমে যাবার সাথে সাথেই আবার হতাশা অনুভূত হয়। এমন চিন্তাধারায় ব্রেইন ও শরীর কমফোর্ট জোনে থাকে তাই এই অভ্যাস মানুষকে হতাশাগ্রস্ত জীবন যাপনে অভ্যস্ত করিয়ে ফেলে। ভুলত্রুটির জন্য নিজের দোষ ধরলে ও সেটা ঠিক করার দায়ীত্ব নিজের ঘাড়ে নিলে মস্তিষ্কে Actual বা গুড স্ট্রেস তৈরি হয়, এই স্ট্রেস মস্তিষ্ককে পরবর্তী বার যেকোনো ভুল হলে সহজেই সমাধান করার জন্য প্রস্তুত করে তোলে। যেটা একজন ব্যক্তিকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করে তোলে। এইরকম ব্যক্তিরাই মূলত হতাশামুক্ত ও মানসিকভাবে সুখী জীবনযাপন করে থাকেন। #abusufiantaj #Astaj

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...

নিকটবর্তী মানসিক রোগ

  ১. অস্বাভাবিক আচরণ ও কথাবার্তা ২. খাবারে ও পানিতে কিছু মেশানোর সন্দেহ ৩. ভাংচুর, সন্দেহ প্রবনতা ৪. গায়েবী কথা শোনা ৫. একা হাসা ও কথা বলা ৬. টেনশন, অস্থিরতা, উদ্বেগ, বিষন্নতা, হতাশা, একই চিন্তা ও কাজ বারে বারে করা ৭. খিটখিটে মেজাজ ৮. দীর্ঘমেয়াদী মাথাব্যথা, ঘাড় ও বুক সহ শরীরে বিভিন্ন স্থানে ব্যথা ও জ্বালাপোড়া মাথা ঘোরা, বুক ধরফর, হাত-পা ঝিনঝিন ৯. অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, হিস্টিরিয়া, কথা বন্ধ ১০. অসামাজিক আচরণ মাদকাসক্তি সহিংসতা ও নিজের শরীরে আঘাত করা উপরের সমস্যাগুলোর যেকোন একটা হলে আপনি দ্রুত সময়ের মাঝে নিকটবর্তী মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। ========================================= বিয়ের পর প্রত্যেক পুরুষের semen fluid analysis করা উচিত। ‌ এটা একটা বেসিক infertility টেস্ট যাতে দেখা হয় পুরুষ‌ মানুষটি বাবা হওয়ার যোগ্য কিনা। বিয়ের আগে করলে আরো ভালো। এটি করতে খরচ হয় স্থানভেদে মাত্র এক থেকে দেড় হাজার টাকা।সরকারি হাসপাতালে করলে ১০০ টাকায় করতে পারবেন। আমাদের দেশে কোন দম্পতির বাচ্চা না হলে এখনো অনেক জায়গায় মেয়েদেরকে ব্লেইম করা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যাটা থাকে ...